বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি আশ্চর্য যাত্রা উপক্রমনিকা-০৩

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৩ প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনাটা ভালো ভাবেই উতরে গেল । রাণী আসার পর থেকে রাজা ভীষণ খুশী । আগের সেই ঔদাসীন্যতার ছিটেফোটাও এখন আর তার মাঝে নেই । রাজকার্যেও গতি এসেছে । ভালোই কেটে যাচ্ছিল দিন । একদিন রাজা তার সভাসদদের নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন, কিভাবে প্রজাদের অসুবিধা না করে রাজকোষের আয় আরো খানিকটা বাড়ানো যায় তা নিয়ে । এমন সময় এক সুফী তার দরবারে প্রবেশ করল । পরনে সফেদ জোব্বা, বুক পর্যন্ত নেমে আসা দাড়ি, হাতে লাঠি, কাঁধে ঝোলা । চেহারায় ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু চোখে- মুখে আশ্চার্য রকমের ঔজ্বল্ল্য । রাজা তার দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে চাইতেই সে বলল- আমি একজন পরিব্রাজক । দেশে দেশে ঘুরে বেড়াই । অনেকদূর হেঁটে এসে আমি ক্লান্ত । আজকের দিনটা আপনাদের কাছে আশ্রয় চাই । আগেই বলেছিলাম, দেশটির মানুষরা খুব অতিথি পরায়ণ । রাজা তাকে সাদরে প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানালেন । ব্যক্তিগত দাসীকে আদেশ দিলেন মুসাফিরের জন্য বিশ্রাম আর আহারের ব্যবস্থা করতে । এবং সেই সাথে সূফীকে বলে দিলেন- তিনি যতদিন ইচ্ছা এখানে থাকতে পারেন । সপ্তাহ গড়িয়ে মাস পার হল । সূফী এখনো প্রাসাদেই আছেন । ইতিমধ্যে রাজার সাথে তার ভালই খাতির হয়েছে । বিশাল তার জ্ঞানের ভান্ডার । হেন কোন বিষয় নেই যা তিনি জানেন না । রাজাকে তো রীতিমত তার গুণমুগ্ধ বলা চলে । প্রতিদিন সূফীর সাথে তার কিছু সময় না কাটালেই যেন নয় । সূফীর অতি ভক্তি ভাব মন্ত্রীর কাছে ভাল ঠেকল না । তিনি রাজাকে সাবধান করে দিলেন । কিন্তু রাজা মন্ত্রীর পরামর্শকে খুব একটা গ্রাহ্য করল না । বৃদ্ধ সূফী তার আর কিই বা ক্ষতি করতে পারে ? একদিন সূফী রাজাকে নিয়ে শিকারে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করল । রাজাও সানন্দে রাজি হলেন । সূফী রাজাকে তাদের এই যাত্রার ব্যাপারটা মন্ত্রীর কাছে গোপন রাখতে অনুরোধ করল । কারণ হিসেবে বলল- মন্ত্রী হয়ত তাদের যাত্রার ব্যাপারে আপত্তি তুলতে পারেন । সূফীর ব্যাপারে মন্ত্রীর মনোভাব রাজা জানতেন, তাই হাসিমুখে তিনি এই শর্তটাও মেনে নিলেন । দুদিন পর, এক সকালে রাজা আর সূফী সবার অগোচরে ঘোড়া নিয়ে শিকারে বেরিয়ে গেলেন । কে জানে, এটাই হয়ত হবে রাজার জীবনে শেষ আনন্দ যাত্রা ! জঙ্গলে ঢুকতেই তারা এক মায়া হরিণ দেখতে পেলেন, আপন মনে ঘাস খাচ্ছে । দুজন চোখাচোখি করে হরিণটাকে ঘিরতে দুদিকে চলে গেলেন । কাছাকাছি যখন পৌঁছেছেন, হরিণটা সম্ভাব্য বিপদ টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করল । কিন্তু সূফীর তীরের অব্যর্থ নিশানা, যা তার চেহারা আর বেশভূষার সাথে সম্পূর্ণ বেমানান । এক আঘাতেই হরিণ লুটিয়ে পড়ল । কিছুক্ষণ ছটফট করে তারপর মরে গেল । রাজা আর সূফী দুজনেই ঘোড়া থেকে নিচে নেমে দাঁড়ালেন । রাজার চোখে ঘোর লাগা মুগ্ধ দৃষ্টি । তিনি নিজেও একজন ভাল শিকারি কিন্তু সুফীর মত এতটা ভাল না । হঠাৎ রাজাকে অবাক করে দিয়ে সূফী বলল- মহারাজা, আপনি চাইলে আমি এখন এই হরিণটাকে জীবত করে দেখাতে পারি । রাজা অবাক- কিভাবে ? সূফী হেসে বলল- "আত্মা সঞ্জিবণী" মন্ত্রের সাহায্যে । দাঁড়ান, আপনাকে দেখাই ! রাজা দেখলেন সূফীর দেহটা আস্তে করে মাটিতে পড়ে গেল আর হরিণ গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াল । তারপর দুপা তুলে রাজাকে কূর্নিশ করল । তারপর আবার পড়ে গেল এবং সূফী উঠে দাঁড়াল । রাজা তো বিষ্ময়ে কথা বলতেও ভুলে গেছেন । একটু পরে সম্বিৎ ফিরে পেয়ে কোনমতে শুধু বললেন- কিভাবে ? সূফী পুরো প্রক্রিয়াটা ব্যাখ্যা করল রাজাকে- এই মন্ত্রের মাধ্যমে আপনি যেকোন মৃত দেহে প্রবেশ করতে পারবেন । এই মন্ত্রের মাধ্যমে প্রথমে আমি হরিণটির শরীরে ঢুকি । তখন আমার নিজের দেহেটা প্রাণহীন হয়ে পড়ে যায় । আবার যখন আমি আমার দেহে ফিরে আসি, তখন হরিণটা আবার মৃত হয়ে পড়ে । রাজা মন্ত্রটা শিখতে চাইলে সূফী সোত্সাহে রাজাকে মন্ত্রটা শিখিয়ে দিল এবং পরীক্ষা করে দেখতে বলল । বোকা রাজা কুটিল সূফীর চক্রান্তটা ধরতে পারলেন না । তাই মন্ত্র পড়ে যেই না তিনি হরিণের শরীরের প্রবেশ করলেন, ঠিক তখনই সূফী নিজের শরীর ছেড়ে রাজার শরীরে প্রবেশ করল । শেষে মূহুর্তে রাজা রাজা বুঝতে পেরেছিলেন সূফীর উদ্দেশ্য । কিন্তু তখন আর কিছুই করার ছিল না । রাজার শরীরে ঢুকেই সূফী তীর ধনুক তাক করল হরিণরূপী রাজাকে নিঃশেষ করতে । আর রাজা সব ভূলে প্রাণ ভয়ে দৌড়াতে শুরু করলেন । রাজার বেশে সূফী ঘোড়া ছুটাল হরিণটার পিছনে, এক সত্যকে চিরতরে ধ্বংস করতে । আর হরিণের শরীরে আবদ্ধ রাজা ছুটছেন গভীর জঙ্গলের দিকে, আপতত নিজের প্রাণ বাঁচাতে....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now