বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প - পর্ব ১০

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প - পর্ব ১০ - সালেহ তিয়াস ২২ এতেই শেষ নয়। একদিন দেখি আমার কঙ্কালটার দু চোখ জ্বলজ্বল করছে (তখন ভয়ে তিন লাফ দিলেও দিনের বেলা খেয়াল করে দেখা গেল দুটো ছোট্ট মোমবাতি কে যেন কঙ্কালের দুচোখের মধ্যে লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল)। আবার আরেকদিন রাতে শব্দ শুনে ঠকঠক করে কাঁপছি, হঠাৎ একটু সাহস করে কাঁথাটা সামান্য উঁচু করে চোখ মেলতেই দেখি সাদা কাপড়ে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে! দেখেই এমন জোরে একটা চিৎকার দিলাম যে তারপরই একটা নূপুর পরা পায়ের শব্দ হুটোপুটি করে মিলিয়ে গেল। একটু পরে চোখ খুলে দেখা গেল কেউ নেই! তো যেহেতু বোঝাই যাচ্ছে কে এগুলো করছে সুতরাং আমি আর এসব নিয়ে চিন্তা ভাবনা করি নি। বরং এমন হয়েছে, আমি ঘুমানোর আগে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি ঘুম থেকে উঠে দেখব হয় কারও হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে, নাহয় কঙ্কালটা আমায় পরম আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে, নাহয় খাটের পাশে চুপটি করে বসে আছে। ভয় মানুষের সুপ্রাচীন অভ্যাস গুলোর একটি, নিতান্ত অবিশ্বাসীকেও গভীর রাতে কবরস্থানের আশেপাশে হাঁটতে বলা এখনও এক ধরণের অপরাধ। মুখে যে যতই বলুক ভুত পেত্নি কি জিনিস, হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যদি মৃত স্ত্রীর ফটোও দেখে চোখের সামনে তাও ভয়ে গোঁ গোঁ করে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে সে। আমি প্রথম প্রথম কঙ্কালটা খুবই ভয় পেতাম। খুবই। এ নিয়ে যে দু একটা হাস্যকর ঘটনা ঘটেছে তা আপনারা জানেন। কিন্তু ক্রমাগত সেটি আমার রুমের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখার জন্যই হোক আর এই হাস্যকর উপদ্রবসমূহের জন্যই হোক, কঙ্কাল সংক্রান্ত ভয় আমার প্রায় উঠেই গেছে। কিন্তু ভয়টা আসছে এবার সম্পূর্ণ অন্য জায়গা থেকে। এই কাজগুলো যে ঐ মেয়েটারই তাতে আমার কোনই সন্দেহ নেই। অন্তত আমার মনের যুক্তিবাদী অংশটি তাই-ই বলছে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন। আর কত বিরক্ত হওয়া যায়? আর কত মুখ বুজে সহ্য করা যায়? শুধু ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে না হয় একটা কথা ছিল। মেয়েটা আরও কিছু হাস্যকর কাজ করছে। আমি রুমে না থাকলে সে আমার বিছানা অসম্ভব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে রেখে দিচ্ছে। আমার বইখাতা খুবই যত্নের সাথে গুছিয়ে রাখছে। আমার চেয়ার টেবিল প্রতিদিন পরিষ্কার করছে। এমনকি আমার অনেক দিনের না ধোয়া কাপড়, মায় অন্তর্বাস পর্যন্ত সে ধুয়ে দিচ্ছে। কিন্তু সামনাসামনি তার সেই আগের যুদ্ধংদেহী মনোভাব। পরীক্ষার আগে খুবই অল্প সময় আছে, তবু আমি একদিন মেয়েটাকে নিয়ে একমনে ভাবতে লাগলাম। সে কি চায়? প্রশ্ন ১ ঃ সে আমার কাছে কি চেয়েছিল? উত্তরঃ প্রশ্রয়। কিন্তু আমি তাকে কি দিয়েছি? তাচ্ছিল্য আর অবহেলা। কেন? মামার খেয়ে মামার পরে তার নিমকহারামি করতে চাইনি বলে। আর কিছু? আমি একটা নীতিবান ভালো ছেলে। কোন মেয়েলি ব্যাপারে জড়ানোর কোন ইচ্ছা আমার সামান্যতম নেই। আর কিছু? আমি ক্যারিয়ারিস্ট। জীবনের একটা turning point এর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমি অনর্থক সময় নষ্ট করতে চাই নি। আমি মেডিকেলে চান্স পেতে চাই, না পেলে বুঝব মামা যে ভালবাসার অসম্ভব ঋণের বোঝা আমার উপর চাপিয়ে দিয়েছেন আমি তার যোগ্য ছিলাম না। নাহ, এতক্ষণে উত্তরটা মনঃপূত হল। আসল কারণ তো এটাই। আমাকে এতদিন মানুষ করে মামার একটাই চাওয়া, আমি ডাক্তার হই। সামান্য মেয়েমানুষের জন্য তো আমি তার এই মহান ইচ্ছাকে ছোট করে দেখতে পারি না। সুতরাং, মেয়ে টেয়ে সব বাজে কথা। আগে ক্যারিয়ার। সুতরাং, ভগ্নিস্থানীয়া রমণী, আমাকে অনর্থক বিরক্ত করে কোন লাভ নেই, আমি তোমার মায়াজালে আবদ্ধ হচ্ছি না। প্রশ্ন ২ ঃ সে আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে কেন? আর এসব গুছিয়ে টুছিয়েই বা দিচ্ছে কেন? প্রশ্ন ৩ ঃ সে আমার সাথে ইচ্ছা করে খারাপ ব্যবহারই বা করছে কেন? এ সবকটা প্রশ্নের উত্তর পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। সে প্রথমে আমাকে বলেছে, আমি আপনাকে আর জ্বালাবো না। ভাইয়া বলে ডেকেছে। এভাবে সে প্রথমেই সন্দেহের তীর নিজের দিক থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তারপর সে খারাপ ব্যবহার শুরু করেছে। এমন ভাব করেছে, যেন আমাকে নিয়ে আর তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তারপরই সে সম্ভবত তার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে অথবা আগে যে আমাকে জ্বালিয়েছিল তার প্রায়শ্চিত্ত ঘটাতে আমার সবকিছু গুছিয়ে দেয়া শুরু করেছে। এজন্য প্রথমেই সে বেছে নিয়েছে মশারি। কিন্তু আমি মামীকে বলেছি ব্যাপারটা ভৌতিক। সেটা সে কোনভাবে শুনে ফেলেছে। তারপরই আমার ধারণাকে আরও পাকাপোক্ত করার জন্য সে বেছে নিয়েছে কঙ্কালটাকে। যেন আসলেই সবকিছু কঙ্কালটাই করছে। কি হাস্যকর কাজ! এখন সবই পানির মত পরিষ্কার। খালি একটা জিনিস পরিষ্কার না। কি পরিষ্কার না? আমার আন্ডারওয়ার? আপনার লুঙ্গি? না। মেয়েরা এত কমপ্লেক্স কেন এটা এখনও পরিষ্কার না। ২৩ পরদিন ভোরে মামার আসার কথা। হিসাব অনুযায়ী আজই ভৌতিক উপদ্রবের শেষ রাত। আমার অনুমান অভ্রান্ত হলে আজ রাতেই হবে ‘ভুতের’ অন্তিম নৈশ অভিযান। আমি ঠিক করলাম, আজ রাতে ঘুমাব না। সারারাত জাগব। ভুতটাকে হাতেনাতে ধরব। যেই ভাবা, সেই কাজ। রাত দুইটা পর্যন্ত বিছানায় বসে পড়াশোনা করার পর লাইট বন্ধ করলাম। বিছানায় বালিশ টালিশ দিয়ে একটা মানুষের মত ফিগার বানিয়ে ফেললাম। তারপর উপরে কাঁথা দিয়ে ঢেকে দিলাম। এখন কার সাধ্য এই অন্ধকারে এটাকে এক নজরেই চিনতে পারে? তারপর আমি সোজা বিছানার নিচে ঢুকে গেলাম। তারপর অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন ভুত আসে। প্রায় এক ঘণ্টা কেটে গেল। দূরের কোথাও ঢং ঢং করে ঘণ্টা বাজল। এক, দুই, তিন। তার মানে তিনটা বাজে। নাহ, কেউ তো আসে না। অসহ্য হয়ে উঠেছে আমার অপেক্ষা। আরেকটু হলেই ধৈর্যচ্যুত হয়ে খাটের নিচ হতে বেরিয়ে আসছিলাম, হঠাৎ ক্যাঁচকোঁচ শব্দে খুলতে লাগল রুমের দরজা। হ্যাঁ, যা ভেবেছি তাই। আবছা আলোয় দেখা যাচ্ছে একজোড়া নূপুর পরা পা আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে বিছানার দিকে। নূপুরের মৃদু শব্দ শোনা যাচ্ছে। আস্তে আস্তে এগিয়ে এসে তা আমার বিছানার পাশে থামল। ভুত বিছানার দিকে ঝুঁকেছে। হ্যাঁ, এইতো...আমি খপাত করে হাত বাড়িয়ে তার পা দুটো ধরে ফেললাম। আকস্মিক আক্রমণে হতচকিত ভুত হয়তো ভাবল, তাকে সত্যি সত্যি কোন ভুত আক্রমণ করেছে। সে বিশাল জোরে চিৎকার দিয়ে উঠল...আআআআআআআ......... আমি বিছানার নিচ থেকে হেঁচড়ে পাঁচরে বেরিয়ে এলাম। কালিঝুলি মাখা অবস্থায় আবছা অন্ধকারে আমায় দেখে সে ভয়ে প্রায় আধমরা হয়ে গেল, গোঁ গোঁ জাতীয় একটা শব্দ ছাড়া সে আর কোন কথাই বলতে পারল না। কি করব আগেই ভেবে রেখেছিলাম। একটা দড়ি রেখেছিলাম মাথার পাশে। সেটা তুলে নিয়ে এবার আমি ভুতের হাতদুটো টাইট করে বাঁধলাম। ও ওর সর্বশক্তি দিয়ে বাঁধা দেবার চেষ্টা করল, কিন্তু এমনিতে ভয়ে আধমরা, তার উপর আবার ছেলে ভারসাস মেয়ে। আমার সাথে কি আর পারে? আমি ওর হাত বেঁধে দড়ির অপর প্রান্ত খাটের একটা পায়ার সাথে বেঁধে দিলাম। তারপর উঠে গিয়ে লাইট জ্বালালাম। নিজেকে ছাড়ানোর জন্য মোচড়ামোচড়ি করতে লাগল ভুত। তার মুখ দিয়ে বেরোতে লাগল আর্তনাদ। আমি আমল দিলাম না। বাথরুমে গিয়ে এক মগ পানি নিয়ে এলাম। তারপর সেটা ঢেলে দিলাম একেবারে ওর মাথায়। অকস্মাৎ পানির ঝাপটায় ওর ঘোরটা কেটে গেল। মাথা ঝাকিয়ে পানি দূর করার চেষ্টা করল সে। আমি একটি টাওয়েল তার মুখের উপর ছুড়ে দিলাম। সে মাথা ঝাকিয়ে টাওয়েলটা ফেলে দিল। আমার দিকে তাকাল চোখ কটমট করে। ঐ দৃষ্টিতে একই সাথে মিশে ছিল ভয়, রাগ, ক্ষোভ ইত্যাদি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প-১৩ সমাপ্ত
→ একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প-১২
→ একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প - পর্ব ৯
→ একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প - পর্ব ৮
→ একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প - পর্ব ৭
→ একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প - পর্ব ৬

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now