বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- সালেহ তিয়াস
১৮
মামা বাসায় আসলেন। ‘কই দেখি কতটা কেটেছে?’
আমি এগিয়ে গেলাম। উনি আমার ব্যান্ডেজ খুলতে
লাগলেন। একটা কথাও বললেন না।
দেখেটেখে বললেন, ‘বেশি তো কাটে নি।
তা ওরকম অজ্ঞান হবার ভান করেছিলে কেন?’
আমার মুখ থেকে রক্ত সরে গেল। মামা এ
কোন ভাষায় কথা বলছেন? এ স্বর তো আমার
অচেনা!
‘কই দেখি, লাঠিটা নিয়ে এস’।
‘লাঠি? তার মানে...’
মামী দেখি দরজা ধরে দাঁড়িয়েই আছে। একদম
পাথরের মত। নড়ছেই না।
‘কি হল, লাঠিটা নিয়ে এস বলছি’।
মামী চলে গেলেন। লাঠি আনতে কি না কে
জানে? উনিও আমার মতই মামাকে যমের মত ভয়
পান।
দেরি হচ্ছিল দেখে মামা নিজেই বেরিয়ে
গেলেন। আসার পথে দেখি মামী ওনার হাত
ধরে বলছে, ‘তোমার পায়ে পড়ি ছেলেটাকে
মের না, মা মরা ছেলে...’
‘এই চোপ!!’ মামার এক ধমকে মামী ঠাণ্ডা। ওনার
কথাও বন্ধ হয়ে গেল।
মামা দরজা বন্ধ করে দিলেন। বললেন, ‘পিঠ পাত’।
আমি আড়চোখে লাঠিটার দিকে তাকালাম। বড় একটা
বাঁশের কঞ্চি। এটা দিয়ে মার খেলে অন্তত এক
মাস হাসপাতালে কাটাতে হবে।
মামা আমার পিছনে। হাতে উদ্যত কঞ্চি। দরজার
বাইরে হয়তো নির্বাক মামী।
‘তুই কি নিজেকে খুব বড় মনে করিস?
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট?’
আমি চুপ।
‘তুই কি অনেক বড় হয়ে গিয়েছিস? মনে
করেছিস যেখানে যা ইচ্ছা করা যাবে, কেউ কিছু
বলবে না?’
আমি চুপ।
‘তোর কি বাপমা আছে? বল আছে?’
‘নাই’।
‘তোর বাপমা কে? বল কে?’
‘আপনি’।
‘এতদিন তোকে খাইয়ে পড়িয়ে এতদূর নিয়ে
এসেছে কে? তোকে কোলেপিঠে করে
মানুষ করেছে কে?’
‘আপনি’।
‘আমি না থাকলে তোকে কেউ নিত? তুই কই
যেতি? এতদিনে তো ঠেলাগাড়ি ঠেলতি নাহলে
চুরিচামারি করতি। বল করতি না?’
আমি চুপ।
‘তাহলে আমার বাসায় খেয়ে আমার টাকায় লেখাপড়া
করে তুই আমার নিমকহারামি করিস কিভাবে? বল করিস
কিভাবে?’
আমি চুপ।
‘কি, খুব ভালো লাগে মেয়েদের? কি মজা, নরম
নরম, তাই না? খুব মজা, না? একটু খুনসুটি, একটু
রসের কথা...খুব মজা, তাই না?’
আমি চুপ।
‘তুই কালকে সূর্য ওঠার আগেই এই বাড়ি ছেড়ে
চলে যাবি। যেখানে ইচ্ছা যাবি। ইচ্ছা হলে ঠেলাগাড়ি
ঠেলবি। ইচ্ছা হলে গুণ্ডামি করবি। রিকশা চালাবি। ট্রাক
চালাবি, বাস চালাবি, মদ খাবি, গাঁজা খাবি...’এই সময়
নেমে এল লাঠির প্রথম বাড়িটা।
সপাং!!!
ভয়ে চোখ বুজে ফেলেছিলাম। কিন্তু শব্দ হবার
পর অবাক হয়ে চোখ খুললাম। অবিশ্বাস নিয়ে
তাকালাম আমার পিছনের জন্তুর খোলসে ঢাকা
মানুষটার দিকে।
কঞ্চির আঘাতটা পড়েছে কোলবালিশের উপরে,
এবং এক বাড়িতেই তার তুলো বেরিয়ে ছড়িয়ে
পড়েছে বাতাসে!
অবিশ্বাস নিয়ে দেখলাম কিভাবে তিনি শরীরের
সর্বশক্তি দিয়ে সপাং সপাং করে কোলবালিশটাকে
পেটাচ্ছেন আর কিভাবে সেটার তুলো উড়ে
উড়ে বাতাসে ছড়িয়ে যাচ্ছে! মুখে উনি একটা
কথাই বলে যাচ্ছেন, নিমকহারাম...নিমকহারাম...নিমকহা
রাম...
১৯
আমাদের দুজনের দেখাদেখি বন্ধ। কথা বলা বন্ধ।
মামা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, ‘যদি একদিনও
তোকে আমার মেয়ের আশেপাশে দেখি
তো সাথে সাথে বটি দিয়ে তোকে জবাই করে
ফেলব’।
বটি দিয়ে জবাই করা ওরকম একটা মানুষের কাছে
অসম্ভব কিছু না। আর আমার এত তাড়াতাড়ি জবাই হবারও
কোন ইচ্ছা নেই।
আমি তো আগেও কথা বলতাম না, এখন তো বলিই
না।
বরং একটা ছোটগল্প বলি।
ধরি এক বিস্তৃত বালুকাবেলায় হেঁটে যাচ্ছে একটা
ছেলে আর একটা মেয়ে। তারা পরস্পরের
ভালো বন্ধু।
মেয়েটা ছেলেটাকে বন্ধু হিসেবেই দেখে।
কিন্তু ছেলেটা বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষী।
সে বলে বসে, ‘তোমাকে আমার খুব ভালো
লাগে...ব্লা...ব্লা...ব্লা...হ্যান...ত্যান...’
মেয়েটা অবাক হয়। ভয় পায়। বলে, ‘নাহ, আমি
তো এভাবে ভাবি না, ভাবি নি কোনদিন’।
ছেলেটা হতাশ হয়। অবশেষে মেয়েটি বলে,
‘তুমি আমার সাথে যোগাযোগ করবে না আর
কোনদিন’।
ছেলেটির সারা পৃথিবী অন্ধকার হয়ে আসে। ‘না,
না...’ করে সে হাত ধরতে চায় মেয়েটির...
কিন্তু ততক্ষণে মেয়েটি চলে গেছে...
এইখানে এই অপ্রাসঙ্গিক গল্পটি টেনে আনলাম
কেন? হয়তো এরই মত একটা ঘটনা সবার
অগোচরে আমার জীবনে ঘটে যাচ্ছে...
আমার সাথে সিন ক্রিয়েট করা ঐ মেয়েটার কথাই
বলা যাক। এখন আমাদের নিজেদের রুমে খাবার
দেয়া হয়, সুতরাং দেখা হয়ে যাবার কোনই চান্স
নেই। আমি আমার মত যাই আসি, খাই ঘুমাই, ঐ
মেয়ের ধারে কাছে যাবার প্রয়োজন আমার
আগেও হয়নি, আশা করি ভবিষ্যতে হবেও না
কোনদিন।
মামার সাথে ঐ দিনের নাটকীয় ঘটনার পর
ভেবেছিলাম, নাহ, এবার হয়তো মুক্তি পেলাম।
এখন থেকে হয়তো কোন টেনশন ছাড়াই
পড়াশোনা করতে পারব।
কিন্তু সবার সব আশা পূর্ণ হয় না। খোদা যে
মেয়েমানুষকে কি বস্তু দিয়ে তৈরি করেছেন
তিনিই জানেন।
বাসায় তো দেখা হওয়া প্রায় অসম্ভব, তাই মেয়েটা
নিজের স্বল্প বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে একটা উপায়
বের করে ফেলল। একদিন কোচিং থেকে
বেরুনোর পরই দেখি সে সামনে দাঁড়িয়ে।
‘আরে তুমি! এখানে কি?’
‘না আপনার সাথে কিছু কথা ছিল। চলেন বাসায়
যেতে যেতে বলব’।
‘আমি একা যাব। তুমি চলে যাও’।
‘একা যাব মানে? আমিও আপনার সাথে যাব’।
‘আমি তোমার সাথে যাব না’।
‘তাহলে কিন্তু আমি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকব’!
স্পষ্ট হুমকি। কিন্তু ওসব গ্রাহ্য করার সময় বা ধৈর্য
কোনটাই আমার নেই। আমি কথা না বাড়িয়ে রিকশা
খুঁজতে লাগলাম।
একটা পেয়েও গেলাম। কোনদিকে না তাকিয়ে
বাসার দিকে রওনা হলাম। থাক মেয়েটা একা পড়ে।
একটু দেরি হয়ে গেলে নিজেই চলে আসবে।
কিন্তু বাসায় আসার এক ঘণ্টা পরও দেখি সে
ফেরে না। মামী বললেন, ‘দেখ তো বাবা,
মেয়েটা এই ভর দুপুরে কোথায় গেল, এখনও
আসছে না...’
আমি এবার স্পষ্টতই একটু অনুশোচনায় ভুগতে
লাগলাম। ধুর, ভাব না দেখিয়ে সাথে নিয়ে আসলেই
ভালো করতাম। কিন্তু এখন তো ওসব নিয়ে চুল
ছেঁড়াছেঁড়ি করে লাভ নাই। বললাম, ‘কোথায়
গেছে? কি বলে গেছে?’
‘এই তো কে নাকি অসুস্থ তাকে দেখতে
গেছে, বলল এখুনি ফিরবে, এখনও আসছে
না...তুমি একটু দেখবে?...’
অসুস্থ! কত্ত বড় মিথ্যা কথা! আসলেই, দুষ্টের
ছল আর মেয়েদের মিথ্যার অভাব হয় না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now