বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প -
পর্ব ৬
- সালেহ তিয়াস
১৩
আমি মামীর হাত পা ধরে বলেছিলাম এই খবরটা
যেন মামা বা ঐ মেয়েটা, কেউই না জানে।
কিন্তু মেয়েদের বিশ্বাস করা আর খাল কেটে
পিরানহা মাছ আনা একই কথা। মামা জানল না, কিন্তু ঐ
ফচকে মেয়েটা ঠিকই জেনে ফেলল।
তারপরই শুরু হল উপদ্রব।
একদিন দুপুরে খাচ্ছি, মাংস শেষ করে ডালের বাটি
উপুড় করে পুরোটা ভাতের উপর ঢেলে দিলাম,
হঠাৎ লাফ!
কি হল?
আমার ডালে আস্ত একটা টিকটিকি! এই এত্ত বড়!
মামী তখন বাসায় ছিলেন না। আমার জন্য আগেই
ভাতটাত বেড়ে রেখে চলে গেছেন। এইটুকু
ডালই আমার জন্য বরাদ্দ ছিল। এখন আর ভাত কই পাই?
ওদিকে ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে।
বাসায় শুধু আছে মেয়েটা। একবার ভাবলাম, দেব
নাকি ডাক?
নাহ, কি দরকার। এমনি একটা নীল খামের চিঠি দিয়ে
প্রেস্টিজ পাংচার হয়ে গেছে। আবার এখন টিকটিকি
উপাখ্যান শুনলে হাসি আর মোটে থামবেই না।
ওর চেয়ে বাইরে গিয়ে বিস্কুট কেক হ্যানত্যান
খেয়ে আসা ভালো।
সব ভাত ফেলে দিলাম। তারপর প্লেট ট্লেট
ঐভাবে রেখেই বাইরে চলে গেলাম।
দ্বিতীয় উৎপাত হল রাতে।
বাইরে থেকে এসে সবে হাতমুখ ধুয়েছি, রুমে
যেই ঢুকতে যাব, অমনি পপাত ধরণী তল!
মেঝেতে পানি ছিল, আর আমি না দেখতে
পেয়ে বিশাল একটা স্লিপ খেয়ে গেলাম। উ,
বাবাগো!
তৃতীয় উৎপাত হল পরদিন সকালে। ব্যাগটা সবে
খুলেছি, দেখি কি, একেবারে শয়ে শয়ে লাখে
লাখে পিঁপড়া যেন মার্চ করতে করতে ব্যাগ
এক্সপেডিশনে বেরিয়েছে। হাত দেবার সাথে
সাথে অন্তত পঞ্চাশটা হাতে উঠে এল। আমি লাফ
মেরে সরে গেলাম। কিন্তু যা হবার তা তো
হয়েই গিয়েছে। এক মুহূর্ত পরেই আমাকে
দেখা গেল ওরে বাবারে ওরে মা-রে বলতে
বলতে প্রাণপণে পিঁপড়া ঝাড়ার চেষ্টা করছি আর
পুরা হিন্দি সিনেমা স্টাইলে ব্রেকড্যান্স দিচ্ছি। হাতে
শখানেক কামড় দিয়ে ফুলিয়ে আলু করে দিয়েও
শালাদের শান্তি হচ্ছে না, তারা আমার শরীরের
গভীরতর জায়গায়ও পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
সব ঝড়ই একসময় থেমে যায়। এটাই পৃথিবীর নিয়ম।
এই ঝড়টাও থামল। তবে পাক্কা এক ঘণ্টা পর।
একগাদা কামড় খেয়ে পুরো লাল আলু হয়ে আমি
বিছানায় বসে ভাবতে লাগলাম, কেন আসল
পিঁপড়াগুলো? ব্যাগে কি মিষ্টি জাতীয় কিছু ছিল? যদি
থাকে, তবে সেটা ব্যাগে এল কিভাবে? কে
রাখল ব্যাগে?
১৪
উৎপাত একসময় রূপ নিল অত্যাচারে।
এখন আমার ভাতে খালি পোকা পাওয়া যায়, একদিন
তেলাপোকাও পাওয়া গেল। রাতে বাথরুমে
গেলে প্রায়ই বাইরে থেকে কেউ সিটকিনি
আটকে লাইট বন্ধ করে দেয়। একদিন কোচিং এর
ইম্পর্ট্যান্ট নোট হারিয়ে যায়, কিছু দিন পর সেটা
আবার তোষকের নিচেই পাওয়া যায়। একদিন দেখি
কে যেন সব প্যান্টের সব পকেট সুন্দর করে
কেটে রেখেছে।
প্রথমে কিছু বুঝতে পারিনি আমি। কিন্তু ক্রমাগত
একই ধরণের ঘটনা ঘটে যাওয়ার ফলে ঠিকই বুঝে
যাই কি হচ্ছে এই বাসায়। কিন্তু মামীকে এখনও বলি
নি, অপেক্ষা করেছি উপদ্রবকারিণীর নিজে
থেকেই শুধরে যাবার।
কিন্তু অপেক্ষারও তো একটা সীমা আছে। তাছাড়া
আমার পরীক্ষার আর দু মাস আছে। এখন তো
এত টেনশন নিয়ে না হয় পড়াশোনা, না হয় ঘুম।
সুতরাং ডিসিশন নিলাম, নেক্সট কিছু হলে আমি সরাসরি
তার সাথে কথা বলব।
নেক্সট কিছু একটা হোল ঠিকই, কিন্তু এমন কিছু
একটা হোল, যা কিনা আমার মত শান্ত শিষ্ট
মানুষকেও রাগের শেষ সীমায় নিয়ে গেল।
১৫
উফ...অসহ্য। মানুষ এরকম কুত্তা টাইপ হয় কিভাবে?
এত খবিশ টাইপ হয় কিভাবে?
সেদিন কোচিঙে টিউটোরিয়াল পরীক্ষা। আমি
তাড়াতাড়ি গোসল করে ব্যাগ গুছিয়ে রেডি হয়ে
বাসার বাইরে বেরিয়েছি। রিকশায় উঠে ভাবলাম, এখন
একটু পড়াশোনা করে নিই।
ব্যাগের চেন খুলতে গেলাম। টানটা একটু বেশিই
জোরে হয়ে গেল।
ও মা, দেখি ঐ এক টানেই আমার এত সাধের ব্যাগটা
পুরো দুই ভাগ হয়ে হা করে তাকিয়ে আছে!
আর বইপত্র সব ছিটকে পড়েছে রাস্তায়। ঘটনার
আকস্মিকতায় বিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলাম, সম্বিত ফিরে
পেতেই রিকশাওলার পিঠে দুড়দাড় কিল বসিয়ে
বললাম, এই থামান থামান...
রিকশা একটু স্লো হতেই দিলাম এক লাফ।
কর্মদিবসের ব্যস্ত রাস্তা, অজস্র গাড়িঘোড়া
চলছে। একটু পরপরই যাচ্ছে বাস আর সিএনজি।
জানের মায়া না করে ওর মধ্যেই রাস্তায় নামলাম।
হাতে দ্বিখণ্ডিত ব্যাগ।
বইখাতা একেকটা একেক জায়গায় ছিটকে
পড়েছে। আমি দৌড়াতে যাব, হঠাৎ সামনে দিয়ে
একটা বাস হুসস... করে চলে গেল।
চমকে গিয়ে রাস্তায়ই বসে পড়লাম আমি। আরেকটু
হলে কি মারাই যাচ্ছিলাম? হাতের ব্যাগটা ছুটে গেল
একদিকে।
আশেপাশে ছোটখাট একটা ভিড় জমতে শুরু করল।
আমি কোনভাবে উঠে দাঁড়ালাম। আমার ব্যাগ
একদিকে, বইখাতা সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এরই মাঝে
সাঁই সাঁই করে ছুটে যাচ্ছে বাস আর সিএনজি।
ছুটে গিয়ে প্রথমেই তুলে নিলাম ব্যাগটা। তারপর
দৌড়ে গিয়ে জুওলজি বইটা তুললাম। মানুষজন এগিয়ে
আসছিল, তারাই আমাকে আরও দুএকটা বই তুলে দিল।
কিন্তু কোচিং এর হ্যান্ডনোটটার ভাগ্যে আজ খারাপ
কিছু লেখা ছিল। আমি ওটাকে যাচ্ছি, হঠাৎ কোথা
থেকে একটা ট্রাক এসে সোজা ওর উপর দিয়েই
চালিয়ে চলে গেল!
আমি দৌড়ে গেলাম। বইটা দুভাগ হয়ে গেছে,
মাঝখানে বেশ কয়েকটা পৃষ্ঠা ছিঁড়ে অবস্থা টাইট।
এটা আর ব্যবহার করা যাবে কি না সন্দেহ।
সাত আট জনের একটা ভিড় হয়ে গেল আমার
আশেপাশে।
‘কি হয়েছে ভাইজান?’
আমি হাতে ধরা ব্যাগটা তুলে দেখলাম। ওটার
চেনের নিচ থেকে নিপুনভাবে কাটা। কাটা বলতে
যেনতেন কাটা নয়, একেবারে শৈল্পিক কীর্তি।
কাজটা করা হয়েছে ব্লেড দিয়ে, এবং কাটার ধরণটা
এমন - প্রথমে কিছুদূর কাটা হয়েছে, তারপর কিছুটা
গ্যাপ, তারপর আবার কাটা, আবার গ্যাপ, আবার কাটা এবং
সেটি চলে গিয়েছে একেবারে চেনের
অপরপ্রান্ত পর্যন্ত!
আমি থ হয়ে গেলাম। এ কোন মানুষের কাজ? যদি
হয়ও বা, কেন?
‘কি হইল, ভাই? ব্যথা ট্যথা পাইসেন নাকি?’
‘না না ভাই’, হঠাৎ যেন বাস্তবে ফিরে আসি আমি,
‘সব ঠিক আছে। আপনারা যান। থ্যাঙ্ক ইউ’।
তাও লোকজন যায় না। যেন তারা কি হয়েছে
বুঝতে পারে না।
অবশেষে আমিই উদ্যমী হই। এতক্ষণ আমার
রিকশাটা বেশ দূরে দাঁড়িয়ে ছিল, সেটা আবার কাছে
চলে এসেছে। আমি ওটায় উঠে পড়ি।
লোকজন চলে যায়।
রিকশাওলা কোচিঙের দিকে যেতে থাকে। প্রশ্ন
করে, ‘ব্যাগ কি হাত থেইকা পইরা গেসিল?’
‘না। উইড়া গেসিল’।
আমার গলার স্বরে কিছু একটা ছিল। রিকশাওলা অবাক
হয়ে একবার পিছনে তাকাল। তারপর আবার নির্বিকার
ভাবে চালানো শুরু করল। যেন কিছুই হয় নি। এটাই
স্বাভাবিক।
যত যাই হোক, তার প্রয়োজন শুধু রিকশাভাড়াটাই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now