বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৩.
প্রীহাকে দেখে একটু অবাকই হয় কাউন্টারের
লোকটা, তার তিন বছরের অভিজ্ঞতায় সে
দেখেছে, কোন কাস্টামারই অষ্টম ডোজের
পরে আর এই দোকান মুখি হয় না, সেই হিসাবে
প্রীহার আজকে দশম ডোজ হবে। কি জানি ,
মনে হয় মেয়েদের স্বাভাবিক অনুভূতিগুলো খুব
বেশি প্রখর নয়, তাই তারা বাহিরের অতিরিক্ত অনুভূতি
সহ্য করতে পারে, ভাবে সে।
দশম মাত্রার ডোজে ছুরির প্রথম পোঁচেই
জ্ঞান হারায় প্রীহা, এমন কি চিৎকার দেওয়ার
সময়টাও সে পায় না। এক ঘণ্টা পর তার জ্ঞান ফিরে,
ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকায় সে,
সেই চোখে নেই কোন প্রাণ, নেই কোন
অনুভূতি, একেবারে শতভাগ শূন্য দৃষ্টি।
সাথে সাথে এলোমেলো পা ফেলে বের
হয়ে আসে সে তার ব্লক থেকে। ট্যাক্সি নিয়ে
কিভাবে বাসায় এসেছে বলতে পারবে না, ট্যাক্সি
ড্রাইভারকে কোন রকমে শুধু বাসার নাম্বারটা
বলতে পেরেছিলও এতটুকুই তার মনে আছে।
ঘরে ঢুকে সোফার উপর বসে থাকে কিছুক্ষণ,
চুপচাপ নিথর নিশ্চুপ । বের হওয়ার সময় টিভি বন্ধ
করতে ভুলে গিয়েছিলো, খবর হচ্ছে তাতে,
রিপোর্টার অতি দ্রুতবেগে কি সব বকে যাচ্ছে,
সমগ্র বাসায় শব্দ বলতে এতটুকুই, তবে তার
কোন কিছুই মাথায় ঢুকছে না প্রীহার। চোখ
দিয়ে অনবরত ঝরছে জল, মাঝে মাঝে শুধু
ফুঁপিয়ে উঠছে সে, একটু একটু কেঁপে উঠছে
সমগ্র শরীর একটু পর পর।
মানুষের অসীম সংখ্যক অনুভূতির মাত্র একটা
অনুভূতিই ধারণ করতে পারছে না প্রীহা!
নিজেকে অনেক অনেক তুচ্ছ মনে হয় তার,
এই আমাদেরই এত অহংকার! আমরা পৃথিবীর
সর্বকালের সবচেয়ে অগ্রগামী জাতি, জ্ঞান
বিজ্ঞানে চরম শিখরে উঠে বসে আছি আমরা!
অথচ মানুষের একটা মাত্র অনুভূতির কাছেই আমার
পরাজিত!
ঘোরের মধ্যে চলে যায় প্রীহা, কাঁপা কাঁপা
পদক্ষেপে ড্রয়ারটা খুলে, টান দিয়ে বের করে
আনে এটমিক ব্লাস্টার, ধীরে ধীরে মাথায় তাক
করে ভয়ংকর এই আগ্নেয়াস্ত্রটা, টেনে দেয়
ট্রিগার, মুহূর্তের মধ্যে মাথার অংশটা উধাও হয়ে যায়
প্রীহার, শুধু গলার উপর দিয়ে কতগুলো পোড়া
তার ও ঝলসানো আই.সি বের হয়ে ঝুলতে
থাকে।
ঐদিক দিয়ে রিপোর্টার বলে চলছে, "গত দুই
বছরে আত্মহত্যার হার আশংকাজনক ভাবে বেড়ে
যাওয়ায় বেশ কিছু দিন আগে সেন্টাল
ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি তদন্তে নামে। তাদের
রিপোর্টে "দ্যা পেইনি" নামক একটা
বিনোদনমূলক সংগঠনকে এর জন্য দায়ী করা হয়।
আজ সকালে সেই রিপোর্টের উপর ভিক্তি
করে বিজ্ঞান কাউন্সিল "দ্যা পেইনিকে" ব্যান
ঘোষণা করে এবং পৃথিবী থেকে অপসারিত
মানুষের কোন রকম আবেগ অনুভূতির উপর
গবেষণা নিষিদ্ধ করেছে চিরদিনের জন্য
............ "
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now