বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্যা পেইনি-০১

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দ্যা পেইনি --- শান্তির দেবদূত ১. দোকানটার উপরে বিশাল জমকালো সাইনবোর্ডে "দ্যা পেইনি" লেখাটা জ্বলজ্বল করছে, প্রীহা অনেকক্ষণ ধরেই আশে পাশে ঘুরাঘুরি করছে কিন্তু ঢুকতে সাহস পাচ্ছে না। অবশেষে যা হবার হবে ভেবে; সব দ্বিধা ঝেড়ে দোকানে ঢুকে কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যায়। একটা মেয়েকে ঢুকতে দেখে কাউন্টারে বসা লোকটা একটু চমকে উঠে, পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে বলে , "জ্বী, ম্যাডাম বলেন আপনার জন্য কি করতে পারি" "গতকাল টিভিতে আপনাদের বিজ্ঞাপন দেখে এসেছি" লোকটার চোখে চোখ রেখে বললো প্রীহা। কোন রকম ভণিতায় না গিয়ে লোকটা বললো, বুঝতে পেরেছি আপনি কি পেইনি ডোজ নিতে এসেছেন? অস্হিরভাবে মাথা নাড়ে প্রীহা। ম্যাডাম, প্রথম মাত্রার ডোজটা আমরা ফ্রি দিয়ে থাকি, আর আপনি যেহেতু আমাদের প্রথম মহিলা কাস্টমার সেই হিসাবে আপনাকে আমরা দ্বিতীয় মাত্রার ডোজ পর্যন্ত ফ্রি দিতে পারি। তাই? জ্বী, তাহলে আপনি একটু বসুন আমি যন্ত্রপাতি নিয়ে আসছি, কোন চিন্তা করবেন না, আমি নিজে আপনাকে ব্যবহার বিধি বুঝিয়ে দিবো। আশা করি আপনি আমাদের সার্ভিস পেয়ে নিরাশ হবেন না, বলেই লোকটা নোংরা দাঁত বের এমন বিশ্রীভাবে হাসলো যে এক অজানা ভয়ে সারা শরীর কাঁটা দিয়ে উঠে প্রীহার। এই মুহূর্তে প্রীহার ইচ্ছা করছে ইস্, এক দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারতাম! কিছুক্ষণ পরে লোকটা এক জোড়া হাত মোজা, একটা পাতলা সিলিকনের প্যাড, এক বোতল ম্যানথল আর দশ ইঞ্চি ব্লেডের একটা ছুরি নিয়ে ঘরে ঢুকে। প্রীহাকে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে বললো, আপনি এই করিডোর দিয়ে গিয়ে একশ পঁচিশ নাম্বার ব্লকে ঢুকবেন। আপনার সময় হলো এক ঘণ্টা বিশ মিনিট তারপর বের হয়ে এলে আমিই আপনাকে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য ট্যাক্সিতে উঠিয়ে দিবো । লোকটার হাত থেকে জিনিসগুলো নিয়ে প্রীহা করিডোর দিয়ে হেঁটে হেঁটে একশ পঁচিশ নাম্বার ব্লক খুঁজে খুঁজে এগিয়ে যাওয়ার সময় আশেপাশের ব্লক থেকে গোঙ্গানি, আনন্দধ্বনি, আহ্ উহ্ ইত্যাদি অদ্ভুত সব শব্দ তার কানে আসতে থাকে। এইসব কিছুকে পাত্তা না দিয়ে সে তার নির্দিষ্ট ব্লক খুঁজে পেয়ে তাতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। দুই মিটার বাই দুই মিটারের ছোট একটা ব্লক, মাঝখানে একটা রোলিং চেয়ার বসানো, আর একটা ছোট গোল টেবিল, মাথার উপর কম পাওয়ারের একটা ডিম লাইট। হাতমোজা গুলো পড়ে গেঞ্জির বা-হাতাটা টেনে উপরে তুলে উদম বাহুতে সিলিকনের প্যাডটা পেঁচিয়ে নেয় প্রীহা, তারপর সিলিকনের প্যাড থেকে বের হওয়া পাঁচটা স্বর্ণের তার পাঁচটা আঙ্গুলের নখের মাথায় ক্লিপ দিয়ে আটকিয়ে নিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে তুলে নেয় ছুরিটা। এক ঘণ্টা বিশ মিনিট পর টলতে টলতে "দ্যা পেইনি" থেকে বের হয়ে ট্যাক্সিতে উঠে প্রীহা। এইসময় তার সারা শরীর মন বিষাদে ডুবে ছিলো, বার বার হাঁটু ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছিলো সে, শুধু চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছিলো অঙ্গারের মত।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now