বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নীলা-০২

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অধ্যায় তিন বাসার লাল গেট দিয়ে ঢোকার পর নিজের রুমে যেতে যেতে নুসরাতের হঠাৎ মনে পড়ল, সাইফের রুমে আজ দুই দিন হল যাওয়া হয় নি। গেলেও এমন আহামরি কিছু হবে না, কিন্তু যাওয়া উচিৎ। কারণ মানুষটা তার স্বামী। সাইফের কথা মনে পড়তেই নুসরাত একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সবকিছু ঠিক ছিল। সবকিছু। কত স্বপ্ন ছিল তার। কত আশা ছিল ভবিষ্যৎকে ঘিরে। অথচ আজ...আবার একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল নুসরাতের ফুসফুস হতে। নুসরাত আজ একটু আগেই এসে পড়েছে বাসায়। কাউকে কিছু না বলে সে সোজা সাইফের কামরার দিকে হাঁটতে শুরু করল। সাইফের কামরার বাইরে দাঁড়িয়ে নিজেকে একটু গুছিয়ে নিতে যাবে, এমন সময় নুসরাত শুনতে পেল সাইফের মৃদু কণ্ঠস্বর, “নীলা, যেও না। দোহাই লাগে”। নুসরাত প্রায় কেঁদে ফেলল। নীলা নামটা তারই। মেডিকেল কলেজে নুসরাত নামে পরিচিত হলেও তার নামের শেষে যে “নীলা” আছে এটা বেশি মানুষ জানত না, জানলেও তাদের কেউ কখনো তাকে নীলা নামে ডাকে নি। শুধুমাত্র আশেপাশে কেউ না থাকলেই সাইফ তাকে নীলা নামে ডাকত। ভালোবাসাবাসির সময়গুলোতে সাইফ তার কানে বারবার ফিসফিস করে বলত, “নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা। আমার নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা নীলা...” নুসরাত উল্টো ঘুরল। আজ সাইফের সামনে দাঁড়ালে কেঁদেই ফেলবে সে। কেঁদেই ফেলবে। এতোটা শক্ত তার পক্ষে হওয়া সম্ভব না। এতোটা পাষাণ তার পক্ষে হওয়া সম্ভব না। নুসরাত পিছন ফিরে হাঁটতে শুরু করল। পিছন থেকে সাইফ চিৎকার করে উঠল, “নীলা!” নুসরাত কেঁদে ফেলল। সে এখনও এই মানুষটাকে অনেক ভালোবাসে। অনেক ভালোবাসে। সে পারবে না। এতোটা পাষাণ হয়ে সে থাকতে পারবে না। আসলেই? পারবে না? হঠাৎ মুখচোখ শক্ত হয়ে উঠল নুসরাতের। কেন পারবে না সে? কেন? নুসরাতের মনে পড়ে গেল বেশ কয়েক বছর আগের কথা। অধ্যায় চার নুসরাত ঠাণ্ডা গলায় বলল, “তুমি এটা কি লিখেছ?” সাইফ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল, “কি লিখেছি?” “তোমার লাল ডায়েরিতে তুমি এটা কি লিখেছ?” “আমার লাল ডায়েরি তুমি পড়েছ কেন?” “কেন? পড়া যাবে না?” “কি পড়েছ তুমি?” “তুমি লিখেছ তুমি চাও না তোমার পা ঠিক হোক। তুমি লিখেছ তুমি চাও না তোমার নার্ভের কাটা অংশ জোড়া লাগুক। তুমি চাও না তুমি আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা কর”। “পাগলের মত কিসব বলছ। ওটা তো আমার নেক্সট উপন্যাসের প্লট”। “তুমি আরও লিখেছ পা ঠিক হলে তোমাকে আবার ডাক্তারি করতে হবে। তুমি আর লেখালেখিতে সময় দিতে পারবে না। লেখক হতে পারবে না”। “ওটা আমার পরবর্তী উপন্যাসের প্লট, নীলা। আমি বলেছি তোমাকে”। “শুধু তাই নয়, তুমি লিখেছ “ঐ ডাকিনী প্রেতাত্মা erihppas eulb” তোমার সর্বনাশ করেছে। তার ঐন্দ্রজালিক প্রভাব তোমাকে লেখকের বদলে ডাক্তার হতে বাধ্য করেছে। আমি গর্দভ নই। erihppas eulb কোন ডাকিনীর নাম নয়। এটা উল্টো করলে হয় blue sapphire. Blue sapphire একটা পাথর। এর বাংলা নাম নীলা”। “এসবই নিছক কল্পনা, নীলা”। “এখানেই শেষ নয়। তুমি লিখেছ, এভাবেই লিখেছ, “তবে কি আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছানোর শেষ সুযোগটি গ্রহণ করব? কি হবে যদি আমার স্নায়ু কোনদিন ঠিক না হয়? কি হবে যদি স্নায়ু আবার জোড়া লাগিয়ে ঠিক করে দেয়া সম্ভব হলেও কেউ সেটা না জানে? কি হবে যদি সবাই জানে আসলেই আমার পা আর কখনো ঠিক হবে না?” “নীলা, ডার্লিং, নিজেকে কল্পনা করে আমি আমার পরবর্তী উপন্যাসের কাহিনী সাজিয়েছি। এর চরিত্রগুলো তৈরি করতে আমার আশেপাশের মানুষজনের সাহায্য নিয়েছি। এটা নিছক একটা কাহিনী। তুমি আমাকে ভুল বুঝেছ”। নুসরাত অপ্রকৃতিস্থের মত হেসে বলল, “তাই? তাহলে ডায়েরির শেষ পাতায় লাল কালিতে কেন লিখেছ, “বড় ভালোবাসি তোমাকে, নীলা। আমি যা করতে যাচ্ছি তার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিও”। কেন? কেন? কেন? জবাব দাও। জবাব দাও আমায় তুমি। কেন? কেন? কেন?” নুসরাত কেঁদে উঠল। সাইফের মনে পড়ল স্পাইনাল অ্যানেস্থেশিয়া দিয়ে তাকে অপারেশনের সময় সে ডাক্তারকে অনুরোধ করেছিল নার্ভ জোড়া লাগানোর চেষ্টা করার সময়টাতে তাকে জানানোর জন্য। সার্জন সাহেব আরেক ডাক্তারের অনুরোধ ফেলতে পারেন নি। সাইফের হাতে লুকানো ছিল সার্জিকাল নাইফ, বেশি না মাত্র একটা পোঁচ দিতে পেরেছিল সে, ওতেই কাজ হয়ে গেছে। রোগী নিজেই নিজের নার্ভ ধ্বংস করেছে এটা বাইরের কেউ বিশ্বাস করবে না বরং নেগ্লিজেন্সি কেসে নিজেকেই ফাঁসতে হবে এই চিন্তা করে ঐ ঘটনা ডাক্তাররা বাইরের কাউকে জানান নি, নার্সরাও না। সাইফ হাসল। বলল, “ওটা এমনি লিখেছি। তোমাকে ভয় দেখানোর জন্য”। নুসরাত কাঁদছে। সাইফ তাকে দেখছে। তার চোখে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে ভালো, সবচেয়ে প্রেমময়ী মেয়েটাকে কাঁদতে দেখছে সে। অধ্যায় পাঁচ আমি লেখার টেবিলে বসে আছি। একটা মশা ঘুরঘুর করছে। ওটাকে মারা দরকার। মশার তুচ্ছ জীবনের সাথে মানবজীবনের মিল অমিল নিয়ে একটা ইমোশনাল লেখা লিখব ভাবছি, এমন সময় হুট করে দরজাটা খুলে গেল। দরজা দিয়ে প্রবেশ করল আমার স্ত্রী। কি অদ্ভুত ঘটনা। ওর চোখ ভেজা কেন? আশ্চর্য তো! কি হল আবার? আমি তো কিছু করি নি! জিজ্ঞেস করলাম, “কি হয়েছে?” আমার স্ত্রী কঠিন গলায় বলল, “একটু আগে কাকে ডাকছিলে?” “নীলাকে”। “কাকে?” “নীলাকে”। “আমি এসেছি”। “তোমাকে তো ডাকি নি”। “সাইফ, আমিই নীলা”। “না। তুমি আমার স্ত্রী। তোমার নাম সম্ভবত নুসরাত। তুমি নীলা নও। নীলা তোমার মত বুড়ি না”। “আমিই নীলা। তুমি আমাকে এই নামে ডাকতে”। “তাই নাকি? কি বল এইসব। তোমার নাম তো নুসরাত। নুসরাতকে নীলা ডাকব কেন আমি?” “নীলা নামে অন্য কেউ নেই। আমিই নীলা”। “কে বলেছে নেই? এই তো একটু আগেও ছিল। একটু আগেও তো আমি ওর সাথে কথা বললাম”। “সাইফ, তোমাকে আমি একজন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে যাব। তুমি মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। উনি তোমাকে ভালো করে তুলবেন”। “আমি পাগল নই”। “আমিও বলছি না তুমি পাগল। আমি বলছি তোমার চিন্তাভাবনার জগতে একটু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এটার চিকিৎসা প্রয়োজন”। “আমি কারো কাছে যাব না”। “যাবে। আমি তোমাকে নিয়ে যাব”। অধ্যায় ছয় সাইকিয়াট্রিস্টের সাথে আমার সেশন শেষ হয়েছে। ব্যাটা নিজেই পাগল। ঐ ব্যাটা বলে কি, নীলা নাকি সত্যি না। নীলা নাকি আমার কল্পনা। আমি আর নীলা মুখোমুখি বসে আছি। নীলার মুখ শুকনো। আমি বললাম, “ঐ ব্যাটা একটা পাগল। ও বলেছে তুমি নাকি আমার নিছক কল্পনা”। নীলা বলল, “তুমি কি ওর কথা বিশ্বাস কর?” “না। করি না। তুমি আমার”। “আর তুমি আমার”। “নীলা, আমার হাত ধর”। “আমি পারব না”। “প্লিজ নীলা, আমার হাত ধর”। “আমি পারব না”। “প্লিজ নীলা। প্লিজ”। “তুমি কি আমাকে অবিশ্বাস করছ, সাইফ?” “মানে?” “আমাকে স্পর্শ করে নিশ্চিত হতে চাইছ, আমি আসলেই সত্যি নাকি কল্পনা?” “না না আমি তোমাকে কখনো স্পর্শ করি না তাই ভাবছিলাম আজকে...” “করবে সাইফ? আমায় স্পর্শ করবে?” “করব”। “স্পর্শ করার পর আমাকে আগের মত ভালবাসবে তো?” “বাসব”। “প্রমিজ?” “প্রমিজ”। আমার হাত নীলার ঠোঁটের দিকে এগিয়ে গেল। ওকে স্পর্শ করতে যাব, ঠিক এমন সময় আমার রুমের দরজা হুট করে খুলে গেল। রুমে প্রবেশ করল আমার স্ত্রী, ব্যাটা সাইকিয়াট্রিস্ট আর অ্যাপ্রোন পরা আরও কয়েকজন। আরে! নীলা কোথায়! নীলা! কই গেলে তুমি! সাইকিয়াট্রিস্ট ব্যাটা আমার সামনে একটা স্ক্রিনে একটা ভিডিও ছেড়ে বলল, “দেখুন। ভালো করে দেখুন”। আমি দেখলাম। ওটা আমিই। নীলার সাথে কথা বলছি। অথচ আমার সামনে কেউ নেই। অর্থাৎ আমি বাতাসের সাথে কথা বলছি। সাইকিয়াট্রিস্ট বলল, “দেখেছেন? নীলা বলে কেউ নেই। আমি আপনাকে আগেও বলেছি, এখনও বলছি। নীলা বলে কেউ নেই। যিনি আছেন তিনি হচ্ছেন আপনার স্ত্রী, ডাঃ নুসরাত”। আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তাকিয়ে রইলাম। সাইকিয়াট্রিস্ট আমার দিকে একটা ছবি বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “আমার একটা থিওরি আছে। তার আগে বলুন তো ছবির একে চিনতে পারেন কি না”। আমি ছবিটা হাতে নিলাম। পুরনো ছবি। যুগল ছবি। ছবিতে আমার পাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে নীলা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now