বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৮.
শেষ চেষ্টার বুদ্ধি
ছাদের উপরে সবাই মাদুর পেতে বসেছে।
মধ্যমণি রূহেল। ছাদের এককোণে লুৎফা বসে
আছে। তার গাল ফুলে আছে। তার মা তাকে
ভীষণ মেরেছে। আরো মারতো যদি না
রূহেল এগিয়ে আসত।
দাদি বললেন, ‘কেমুন করে চোর ধরলি?’
রূহেল গলাখাকারি দিয়ে একটু,নাহ অনেক ভাব নিয়ে
বলা শুরু করল, ‘আমি আগে থেকেই জানতাম
চোর ঘরেই আছে।’
দাদি বললেন, ‘তা তো সবাই জানত।’
‘ইয়ে মানে, তা জানতেন, কিন্তু কে চোর তা
তো জানতেন না। প্রথম প্রথম কাজের
লোকদের সন্দেহ হলেও পরে বোঝা গেল
আসল চোর অন্য কেউ। আমাদের রাত জাগা
প্ল্যান সফল হয় নাই কারণ, আসল চোর সেটা
জানত।’
‘মামা, চোর না, চোর না। চুন্নি।’
লুৎফা নাঈমের দিকে কটমট করে তাকাল। নাঈম
ভয়ে চুপ হয়ে গেল।
রূহেল আবার বলা শুরু করল, ‘মনে আছে দাদি, রাত
জাগার জন্য চায়ের ফ্ল্যাক্স নিয়েছিলাম। কিন্তু সেই
ফ্ল্যাক্সে চায়ের বদলে শুধু গরম পানি ছিল। যাতে
আমরা রাত না জাগতে পারি। তবে তখনো বুঝি নাই
যে লুৎফাই চোর।’
‘তাহলে কখন বুঝলি?’ বললেন দাদি।
‘তখন বুঝতে পারি, যখন দেখি লুৎফা লবণ দিয়ে
পাকা বড়ই খাচ্ছে। পাকা বড়ই তো মিষ্টি। লবণ
লাগবে কেন? তখনই বুঝলাম, ডাল মে কুছ কালা
হ্যায়।’
‘আরে ধুর, বকবকানি ছাইরা আসল কথা বল।’ তাড়া
দিলেন দাদি।
‘বলছি তো। সেই ঘটনা দেখার পর বুঝলাম লুৎফাই
চোর। কিন্তু প্রমাণ কই? কাল এসে আলমারিতে
আচারের বয়ামের চারপাশে লবণ পড়ে থাকতে
দেখলাম। আচার খাওয়ার জন্যই তার লবণ লাগতো,
বড়ই খাওয়ার জন্য না। নিশ্চিত হবার পর তাকে
হাতেনাতে ধরতে একটা প্ল্যান করলাম। যেহেতু
চোর আচার খায় চুপিসারে, তাই এই “চুপিসার”-কে
“জোরেশোরে” করতে হবে। কিন্তু
কিভাবে? সারাদিন ভাবলাম। ভেবে দেখলাম আমাদের
ঝাল লাগলে সেটা লুকানো মুশকিল। তাই রান্নাঘর
থেকে মরিচের গুড়া এনে যে আচার বেশি চুরি
যাচ্ছে, সেই আচারে মেখে দিলাম। আর সেটাই
গপাগপ মুখে পুরতে গিয়েই আমাদের চোর
ফাঁদে ধরা পড়ল।’
দাদি বললেন, ‘কিন্তু রাতে ধরা পড়ল না কেন?’
‘হয়তো রাতে অন্য আচার খেয়েছিল। কিংবা
কোন আচারই খায়নি। যখন দেখলাম রাতে খায়নি,
তারমানে দিনে অবশ্যই খাবে। তাই দাদিকে আচার
থেকে সরানো প্রয়োজন। তাই দাদিকে নিচে
নামিয়ে এনে কথা বলা শুরু করলাম। আর চোর
সেই সময়টা কাজে লাগাতে গিয়ে ধরা পড়ল।’
সবাই বলে উঠল, ‘ও, তাহলে এই ব্যাপার।’
লুৎফার মা লুৎফাকে বলল, ‘লুৎফা, যাও, রূহেলের
কাছে গিয়ে ক্ষমা চাও। তোমার কারণে
ছেলেটাকে কত বকুনি খেতে হয়েছে, যাও।’
অনিচ্ছা স্বত্বেও লুৎফা রূহেলের কাছে এসে
বলল, ‘আমি দুঃখিত।’
রূহেল উড়িয়ে দেবার ভঙ্গীতে বলল, ‘ঠিক
আছে।’
‘আমি খুবই দুঃখিত, গোরূ ভাই।’
‘আবার!’
সবাই শুনে হেসে উঠল।
রূহেল নাঈমকে বলল, ‘কি ভাগ্নে, থুককু
সেক্রেটারি, গোয়েন্দাগিরি…’
নাঈম গলা ফাটিয়ে বলল, ‘চলবেই চলবে।’
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now