বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিয়তি
মূলঃ আগাথা ক্রিস্টি
রুপান্তরঃ শাহেদ জামান
১।
‘এই জায়গায়টায় এসে দাড়ালে গা’টা কেমন ছমছম
করে ওঠে, তাই না?’
খন্দকার সাহেব চমকে পিছন ফিরে তাকালেন।
একজন মানুষ তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।
পরনে ধবধবে সাদা পাজামা পাঞ্জাবী। বৃদ্ধ মানুষটার
মুখে স্মিত হাসি।
খন্দকার সাহেব সরকারী চাকুরীজীবি ছিলেন।
রিটায়ার করেছেন বছর দুয়েক হল। বিয়ে’থা
করেন নি, কাছের কোন আত্নীয়স্বজনও
নেই। একা মানুষ, পেনশনের টাকা দিয়ে দিব্যি
চলে যায়। ষাটের মত বয়েস হয়েছে তার।
ডাক্তারের পরামর্শে হাওয়া বদল করতে
বেরিয়েছেন।
খন্দকার সাহেবের প্রিয় শখ হচ্ছে মানুষের
চেহারা দেখে তার চরিত্র আন্দাজ করা। দীর্ঘদিন
চর্চার মাধ্যমে তিনি শখটাকে জিইয়ে
রেখেছেন। অত্যন্ত তীক্ষ্ণ চোখ তার, এক
নজরেই যেকোন মানুষের খুঁটিনাটি দেখে নিতে
পারেন। শুনেছেন পরিচিত লোকজন তাকে
আড়ালে শার্লক হোমস বলে ডাকে। খন্দকার
সাহেবের অবশ্য ব্যাপারটা ভালোই লাগে।
বৃদ্ধকে দেখার পরেও তিনি লোকটা সম্পর্কে
আন্দাজ করার চেষ্টা করলেন। তবে খুব একটা
সফল হলেন না। একেবারেই সাধারন চেহারার
মানুষটির মধ্যে বিশেষত্ব বলতে তেমন কিছুই
নেই।
অফিসের এক কলিগ বন্ধু তাকে কক্সবাজারের এই
জায়গাটার কথা বলেছিলেন। লোকালয় থেকে
বেশ দূরে জায়গাটা। খাড়া পাহাড়ের পাদদেশে
সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ছে অবিরাম। প্রায়
শ’দুয়েক ফুট উঁচু পাহাড়ের কিনার। পিছনে ঝাউবন,
আর পাথুরে বালিয়াড়ী। সামনে আদিগন্ত বিস্তৃত
সমুদ্র, আর চারদিকে নির্জনতা। কক্সবাজার
এসেছেন এক সপ্তাহ হল। প্রতিদিন বিকেলে তিনি
চলে আসেন এখানে। বুক ভরে টেনে নেন
সমুদ্রের লোনা বাতাস। উপভোগ করেন
একাকীত্ব।
আজ বিকেলেও তিনি সেই ইচ্ছাতেই
এসেছিলেন। এই বৃদ্ধের আগমনে তার নির্জনতার
মাঝে ছেদ পড়ল। কিছুটা বিরক্ত হলেও মুখে
প্রকাশ করলেন না। তার বদলে বললেন, ‘তা যা
বলেছেন। এখান থেকে একবার পা ফসকে
পড়ে গেলেই হল। নিশ্চিত মৃত্যু।’
‘ঠিক বলেছেন। এমনকি আত্মহত্যা বা খুনের
জন্যেও আদর্শ জায়গা।’ আবার হাসলেন বৃদ্ধ।
এবার একটু অবাক হলেন খন্দকার সাহেব। বললেন,
‘আপনি এদিকেই থাকেন নাকি?’
‘তা বলতে পারেন। আপনার পরিচয়?’
‘আমার নাম খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ঢাকায়
থাকি। কক্সবাজার এসেছি সপ্তাহখানেক হল। আপনি?’
‘তা আপনি তো এদিকে প্রায়ই আসেন বোধহয়।
আর কাউকে দেখেছেন নাকি?’ মনে হল
খন্দকার সাহেবের শেষ প্রশ্নটা শুনতে পাননি
বৃদ্ধ।
‘কই, না তো। কেন?’
‘আজ সকালে এখানে এক লোককে
দেখেছিলাম দাঁড়িয়ে থাকতে। ভাবসাব সুবিধার মনে
হল না। মনে হচ্ছিল ঝাপ দেয়ার চিন্তা করছে।
আমাকে দেখেই তড়িঘড়ি করে চলে গেল।’
‘তাই নাকি?’
‘হ্যা। তাই বলছিলাম, অমন কাউকে দেখেছেন
নাকি?’ বললেন বৃদ্ধ।
‘নাহ। আমার তেমন কাউকে চোখে পড়েনি।
এখানে কখনোই কাউকে দেখিনি। আজ
আপনাকে দেখলাম শুধু।’ জবাব দিলেন খন্দকার
সাহেব।
‘বেশ, আপনাকে আর বিরক্ত করবনা। আসি।’
উল্টোদিকে ঘুরে দাড়ালেন বৃদ্ধ। চলে যাবার
জন্যে পা বাড়িয়েও কি মনে করে থমকে
দাড়ালেন। ‘ওই দিকটায় একটা পুরনো বাংলো
আছে। চেনেন?’
‘বাংলো? কই, তেমন কিছু তো দেখিনি?’ অবাক
হওয়ার মাত্রা বাড়ছেই খন্দকার সাহেবের। কে এই
লোক?
‘সময় পেলে একবার দেখে আসবেন। পাকিস্তান
আমলে এক কোটিপতির বানানো। এখন খালি পড়ে
আছে। দারুণ স্থাপত্য।’
‘দেখি, সময় পেলে হয়ত যাব। কিন্তু আপনার
পরিচয় তো জানা হল না।’
‘আসি।’ হেসে ঝাউবনের মাঝে হারিয়ে গেলেন
বৃদ্ধ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now