বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঘাস ফুল পর্বঃ ১১ (শেষ পর্ব)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অন্তিটা আজ ভীষণ পকপক করছে। তমালের হাত ধরে একটু পরপরই হাসিতে ঢলে পড়ছে। কি এত হাসির কথা বলছে তমাল?? প্রকৃতি দেখলে অন্তির মাথা খারাপ হয়ে যায়। এই ভাব তার হাউকাউ করে প্রকাশ করতে হবে। নইলে চলবে না। অন্তি পেছনে এসে টেনে হাত ধরে নিয়ে গেল বিলুকে। "বিলা তুই এত স্লো কেন রে?? খালি পেছনে পড়িস!" জায়গাটার নাম দীয়াবাড়ি না কি। অসম্ভব সুন্দর। অন্তির বাবার এখানে কত খানি জায়গা যেন কেনা আছে। অন্তি বিয়ের পর এখানে তার বাড়ি বানাবে। অন্তি কি একটা সারপ্রাইজ দিতে এনেছে নাকি। কিসের কে জানে। তমাল কেকটা কাটছে। কেকটার উপরে হিজিবিজি কি যেন লেখা। "One year.with u. chagol." অন্তি হেসেই কূল পাচ্ছে না। তমাল কি খুশি! বাপরে! হাসলে তো ছেলেটাকে বেশ মিষ্টি লাগে। মা ঠিকই বলেছিল। কালো টিশার্টে মানাচ্ছে না। গোলাপী একটা ফ্রক আর মাথায় গোলাপী একটা বো থাকলে তমালকে যা মানাতো! ওদের একবছর হয়ে গেছে!!? কবে থেকে শুরু?? বিলু কখনো ওভাবে টেরই পায় নি তো!! কেমন একটা আনন্দ ভরা পরিবেশ! বিলু প্রতিদিনই ভাবে অন্তিকে বলবে মায়ের চলে যাওয়ার কথা। অন্তির বাবা অনেককে চেনে, কিছু করলেও করতে পারে। বলা হয়ে ওঠে না কেন যেন। বিলুর আজকাল কোনোকিছু বিশ্বাস হয় না। আসলেই ঘটচছে, নাকি না, বিলু পার্থক্য করতে পারে না। এত বেশি বেশি হচ্ছে যে। অন্তিটাকে কি সুন্দর মানায় তমালের সাথে! বিলুর ইচ্ছা হয়, একবার অন্তির জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখতে। বিলু জীবনে কখনো কোনো ছেলের হাত ধরে দাঁড়ায়নি। *** বিলু হলে এসেছে। বাসায় যাবে না। কি হবে বাসায় যেয়ে?! কেউ তার অপেক্ষায় নেই তো। সে ঘরে ফিরল কি ফিরল না, ফিরে কি করল কি করল না, দেখার কেউ নেই তো। বড় চাচা, ফুপি, ছোটকা, সবাই যে যার জীবনে ব্যাস্ত। অন্তিরা ওকে হলের সামনে নামিয়ে দিয়ে গেছে। বিলুদের মেডিকেলে নাকি একটা ছাদ আছে। বারো তলা। বিলু কখনো যায়নি। একবার যেয়ে দেখবে নাকি?? রাত হয়ে গেছে অবশ্য। চলেই এল। ছাদটা সাদামাটা। কিন্তু সুন্দর। বিলুর ভালোই লাগছিল। বিলু রেলিং ধরে দাঁড়ালো। নিচের দুনিয়াটা কি সুন্দর!! একটা ছেলে আর একটা মেয়ে পাশাপাশি যাচ্ছে। অন্তি আর তমাল নাকি?? ছেলেটা হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল। মেয়েটার হাত ভর্তি করে কি যেন দিল। আহা। অন্তি আর তমালের বিয়েও ঠিকঠাক হয়ে গেছে। আগামী মাসে এনগেজমেন্ট। অন্তি-বিলুদের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে বুঝি? কই বিলুর বাবা মায়ের তো কোনও খবর নেই। তমালটা মেয়ে হলে বেশ মানাতো। অন্তি- তমালের মেয়েটা বাবার চেহারা পেলে কি যে মানাবে!! আচ্ছা বিলুর কি কখনো বাবু হবে?? হলে বিলু বাবুটার প্রতি মুহূর্তের ১০০টা করে ছবি তুলে রাখবে। মাথার বিলু হাসছে খুব। বাবু। আহা। বিলুকে তো কেউ পছন্দই করে না। ফ্রীক একটা। সবারই যাওয়ার জায়গা আছে। খোঁজ নেওয়ার মানুষ আছে। শুধু বিলুরই নেই। পিতুটাও মাঝে মাঝে কই যেন হারিয়ে যায়। সবসময় থাকতে পারে না?? বিলুর কি ভীষণ মন খারাপ যে লাগছে। ধুস। কেন যে ছাদে এলো। বাতাসটাই এলোমেলো। এই বিশাল একটা শহরে বিলু কি ভীষণ একা! হাজার মানুষের ভিড়ে বিলি নামের মেয়েটাকে মনে করার কেউ নেই। মাথার বিলুটা কি সব যে আওড়াচ্ছে। কেন? বিলু কেন রেলিং এর উপর দাঁড়াতে যাবে?! বিলুর শরীর কাঁপছে। বারো তালা। পড়ে গেলে ছাতু হয়ে যাবে। বেঁচে থেকেই বা লাভ কি? ছাদের গেটের কাছে একটা ছায়া দাঁড়ানো না?? কি লম্বা! তমাল কি?? নাহ তমাল এত লম্বা না। আরিফ স্যার?? ছায়াটা এগিয়ে আসছে। কে?? বিলুর চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। মাথার বিলুটা বড্ড চেঁচায় কেন গো! ক্রমাগত বলেই যাচ্ছে লাফ দিতে। বিলু লাফ দিতে চায় না। বিলুর ভয় করছে। পিতুটা থাকলেও হত। পিতুটা কি থামাত না বিলুকে?? অসহ্য লাগছে মাথার ভেতরটা। মাথাটা ফেটে যাবে নাকি?? ছায়াটা এখনো অনেক দূরে। এত আস্তে আসছে কেন?? টুপ করে পড়ে গেল বিলু। লাফটা দিয়েই বিলু বুঝতে পারল কি ভীষণ ভুলটা করেছে। মায়ের মুখটা চোখে ভাসছে খুব। ঝাপসা। কতদিন মাকে দেখে না। মায়ের নাহয় বিলুকে দরকার নেই। বিলুর তো মাকে দরকার আছে। বাবাকে একটা প্রশন জিজ্ঞেস করার ছিল। উত্তরটা বিলুর খুব দরকার। খুব। শুধু একতা প্রশন। আর একটা সত্যি জবাব। বিলু বাবার কাছে আর কিছু চায় না। মাকে তো বলাও হল না বিলু যে মাকে কি ভালোবাসে। বললে কি মা বিলুকে ছেড়ে থাকতে পারত?? কখনো কেন যে বলা হয়ে ওঠে নি..?? খুব ভুল হয়ে গেছে। মরার আগে একটাবার মাকে দেখতে চায় বিলু। একটাবার। পিতুটা কই?? মাথার বিলুটা?? কেউ নেই এখন পাশে?? কেউ নেই???? মাটিতে পড়তে আর ৪সেকেণ্ড বাকি। আচ্ছা ডাক্তারটা কি যেন বলেছিল?? Delusional disorder না কি যেন?? ইশ, ভেংগে যাক না। আর দুই সেকেণ্ড বাকি। দুই সেকেন্ড। সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now