বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঘাস ফুল ৮

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X . "কি ব্যাপার ম্যাডাম?? কতক্ষণ ধরে ডাকছি আপনাকে?? কি খাবেন??" বিলু আশেপাশে তাকালো। মল্লিকা না জায়গাটার নাম? জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে জিজ্ঞেস করল, অন্তি কোথায়? - "ওর মামার বেবি হবে। মামীর লেবার পেইন ওঠেছে। ওকে যেতে হবে। ওইসব নিয়ে কি যেন কথা বলতে গেছে ফোনে। আমাদেরও মনে হয় যেতে হবে।" বিলু হতাশ একটা নিঃশ্বাস ফেলল। তো আরেকবার হল। সে মল্লিকায় কয়টায় এসেছিল? কতক্ষণ ধরে আছে এখানে? বিলুর কিছু মনে পড়ছে না। মাথাটার বাম পাশটা কি ফাটিয়ে দিবে নাকি হাতুড়ি দিয়ে?? অসহ্য। ডাক্তার কি একটা দেখানোই লাগবে? কি করা যায়? কাকে বলা যায় সমস্যাটার কথা। কেউ একজন তো লাগবে। এতিমের মত ডাক্তারের চেম্বারে যাবে সে?? বিলু অন্তিকে হাবিজাবি বুঝিয়ে কেটে পড়ল। বাসায় চলে যাবে। হঠাৎ মনে হল মার্কেটে গেলে কেমন হয়?? পকেটে বৃত্তির টাকা আছে। আজকে যা পছন্দ হবে সব কিনে ফেলবে। সব। মায়ের জন্য একটা চক্লেটের বক্স নিতে হবে। মিষ্টি জিনিস যে কি পছন্দ তার! ছোট ছোট ইয়ার রিংগুলি এত ভালো লাগে বিলুর! দেখলেই সবকয়টা কিনে ফেলতে ইচ্ছা করে। "দাম কত এইটার?" -"৭৫০।" -"আর এইটার??" --"১১৫০।" আরো কয়েকটার দাম জিজ্ঞেস করে অবশেষে ২০০টাকার একটা কিনল। হায়রে। মধ্যবিত্ত সেন্টিমেন্ট। পকেটে টাকাও আছে। কিন্তু তাও। কোথায় যেন হাত বেঁধে যায়। মনে হয় থাক। কি হবে এত দামীটা কিনে?? এই জায়গায় অন্তি বা তমাল থাকলে পটাপট ৫-৬জোড়া কিনে ফেলত। হাসি পেল বিলুর। কিছু মানুষ থাকে বিলাসিতা করার জন্য, আর কিছু মানুষ, এই যেমন বিলিরা থাকে কেবল বিলাসিতা দেখার জন্য। হাতের ঘড়িটার চামড়াটা ফেটে ফেটে গেছে অনেকদিন হয়। প্রতিদিন পরার সময় মাথার বিলু একটা ভজঘট পাকাবেই। মিনিট পাঁচেক প্যানপ্যান করার পর দাবী জানাবে ঘড়িটা মেঝেতে ছুড়ে ফেলে ডায়ালটা পাড়া দিয়ে ভাংগার জন্য। আশ্চর্য্য! বললেই হয়?? তমালের ঘড়ির খুব শখ। প্রতি গেঞ্জির সাথে তার ম্যাচিং করা ঘড়ি। কিসব হাণ্ডিপাতি নাম লেখা, swiss army, rolex, titan কি কি জানি। বিলুর দাম জিজ্ঞেস করার সাহস হয় না। একবার জিজ্ঞেস করে যা ডলাটা খেয়েছিল মাথার বিলুর কাছে! "আহা বাবা। বার হাজার টাকার ঘড়ি কেনো, না?? তা বাবা ক হাজার টাকা ইনকাম কর যেন?? বাপের পয়সায় শখবাজী আর কত?? বাবা মা কোলে নিয়ে ঘুড়ে আর তুমি ললিপপ একটা মুখে পুরে 'বাবা আমার গেন্দিতার সাথে ওই ঘলিতা আর জুতাতা যায় কিনে দাও লা' মারো! বেশ খুকি!" মায়ের জন্য একটা চকলেটের বক্স কিনল। বাবার জন্য কিছু নিবে কি? বিলুর ইচ্ছে হল না। এই অপশনটা বিলুর ভুলে যেতে ইচ্ছে করল। জোর করে। পারল না। একটা মানিব্যাগ কিনল। বাসায় গিয়ে মাকে চকলেটের বক্সটা দিল ইতস্তত করে। "আম্মু, তোমার জন্য একটা জিনিস ছিল।" -"এইটা কি??" -"চকলেট।" মা বক্সটা উল্টেপাল্টে বলল, "এত চক্রাপক্রা?? দাম কত??" দাম বলার পর মা মুখ আমসি করে বলল, "কি দরকার ছিল? ১২০০টাকায় কতকিছু হয়...." বিলুর মনে হলো বক্সটা নিয়ে একটা আছাড় মারে। কোনো মানে হয়?? সেদিন গোসলে গিয়ে ইচ্ছামত কাঁদল সে। এমন কেনো হবে তার সাথে?? কেনো?? একটা হাসি বা গালে একটা চুমো বা নেহায়েত হাত বুলানোই তো চেয়েছিল সে?? সেটা পেতে কত টাকা লাগবে?? গোসল করে বের হয়ে অনেকটা সময় আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে রইল সে। পিতুটা কি দেখতে অবিকল তার মত ছিল?? আইডেন্টিক্যাল টুইন? বিলু জানে না। এই তথ্যটা সে কোথাও জানতে পারেনি। চাচী প্রশ্ন শুনে হা হয়ে বলেছিলেন, "কি ক্যাল?" পিতুর কি বিলুর মত কপালের বাম পাশে একটা তিল ছিল?? না বোধহয়। পিতুর বোধহয় ঠোঁটের নিচে ছিল। অন্তি যেন কি একটা নাম বলে। বিউটি স্পট? হ্যা পিতু দেখতে অনেক সুন্দরী হত। বিলু জানে। অনেক চিঠি আসতো হয়তো ওর নামে। বিলুর চিঠির খুব শখ। খুব। সারাজীবনে তো মোটে দুইখান চিঠি পেয়েছে। একটা তো আরিফ স্যারের ক্লাসে। আরেকটা পেয়েছিল কবে মনে নেই। কে যেন তার চুলে চুইংগাম লাগিয়ে একটা চিঠি আটকে দিয়েছিল। লেখা, "বিলু আমার বিলু বিলুর নাই ঘিলু বিলু তোরে pee লু" বিলুর এটুকুই মনে আছে। চিঠিতে কি লেখা তা নিয়ে বিলুর মন খারাপ লাগে নি। চুইংগাম টা ছোটানোই যাচ্ছিল না। বাসায় এসে চুপ করে অনেক্ষ্ণ ভাবল কিভাবে ছাড়ানো যায়। তারপর হঠাতই সামনে রাখা কেঁচিটা দিয়ে চুলে গোছা ধরে কেটে ফেলল সে। ভাবনার জাল ছিড়ে গেল হুট করে। বিলুর হঠাৎ মনে হল সামনে আয়নার মেয়েটা কথা বলছে। হ্যা বলছে! স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে ঠোট নড়ছে!!! আয়নার মেয়েটা বিলু না। অন্য কেউ। বিলুর ভয় পাওয়া উচিত ছিল। বিলু পেল না। বিলুর কেমন যেন খুব ভারমুক্ত লাগছে। মাথার বিলুটা বেরিয়ে গেছে কি?? আহ!! বিলুর মাথার ভেতরটা আজ কি শান্তি লাগছে!! বিলুর মন বলছে মেয়েটা পিতু। (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঘাস ফুল পর্বঃ ১১ (শেষ পর্ব)
→ ঘাসফুল পর্ব: ১০
→ ঘাস ফুল পর্ব ৯
→ ঘাস ফুল পর্বঃ ৭
→ ঘাস ফুল পর্বঃ ৭
→ ঘাস ফুল পর্বঃ ৫
→ ঘাস ফুল পর্বঃ ৬
→ ঘাস ফুল পর্বঃ ৪
→ ঘাস ফুল পর্ব: ৩
→ ঘাস ফুল পর্ব : ২
→ ঘাস ফুল পর্ব: ১
→ একটি ঘাসফুল গাছের আত্মকাহিনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now