বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৷
গ্লাসটা ভরে গেছে। পানি উপচে পড়ছে।
বিলু ফিল্টারটা বন্ধ করল। আচ্ছা, পানিটা কি আদৌ
ভালো?? ভালো হওয়া উচিত অবশ্য। এত বড়
হসপিটাল! স্কয়ারের মত জায়গায় ফিল্টারের পানি
সেইফ না হওয়ার কারণই নেই কোনো।
বিলু সোফাটায় গিয়ে বসল। এখানে সে এমনি
আসেনি। মা বাবার মত ছোটবেলা থেকে ওরও
হসপিটাল ভীতি আছে। আর সে নাকি ডাক্তার হতে
যাচ্ছে! হাস্যকর!
অন্তি তাকে ধরে এনেছে। ওর মামীর বাবু
হয়েছে। মেয়ে বাবু। কি অদ্ভূত! বিলু অন্তির বাবা
মাকেই চিনে না। আর মামার বাবুকে দেখতে চলে
এসেছে!
অন্তি তাকে সোফায় বসিয়ে কই হারিয়ে গেছে!
কি যেন একটা আনতে সেই যে গেল আর খবর
নেই। একটু আগে একটা পিচ্চিকে বলতে শুনল,
"বাবা রুফটপে খেলবো।" রুফটপটা কি?? বিলুর
কৌতূহল হচ্ছে। বাবাটা পিচ্চিটাকে কোলে নিয়ে হাঁটা
দিল। হায়রে। বাবা মেয়ে। একটা দীর্ঘশ্বাস
আসতে আসতেও আসল না।
সিরিয়াসলি?? এখনো?? মাথার বিলু চিল্লাচ্ছে। কি একটা
ওয়ার্ড শিখেছে নতুন, কিছু হলেই চিল-চিৎকার,
সিরিয়াসলি??
মাথা ধরে যায় বিলুর।
এটাই তাহলে রুফটপ?? ছাদ বলে মনে হচ্ছে না।
হাজার বিশেক গাছপালা লাগিয়ে জংগল করে
ফেলেছে। ধুস। ভুয়া।
সামনে একটা কাঠের ঘর টাইপ। ঠিক ঘর না।
ভেতরে চারটা কাঠের বেঞ্চ। ছাউনিটা পুরোই
গাছপালা দিয়ে বানানো । ভেতরটা অন্ধকার। বিলুর
ইচ্ছা হল গিয়ে বসে। সাহস হল না।
একেবারে কিনারে চোখ গেল বিলুর। ওমা জায়গাটা
এত্ত সুন্দর! পেন্টাগন শেপে, পাঁচটা বাহু বরাবর
পাঁচটা বেদী। আর কোণাগুলোয় ছোট লন
ল্যাম্প। হাসি পেল বিলুর। ল্যাম্পের বদলে
মোমবাতি আর মাঝখানে একটা কাটা বিলাইয়ের মাথা
বসুয়ে দিলে অন্তির বিশাল একটা স্বপ্ন পূরণ হত।
অনায়াসে ব্ল্যাক ম্যাজিকের ঘর বলে চালিতে
দেয়া যেত।
একটা বেদীতে বসলো বিলু। বিলুর সাথে একটা
ছোট্ট নোটবই আর কলম আছে। কেন যেন
খুব লিখতে ইচ্ছা করছে। বিলুর মাঝে মাঝে
ডায়েরী লেখার ভূতে পায়।
ক্লাস সেভেনে থাকতে একটা ডায়েরী
বানিয়েছিল বিলু। পিতুকে নিয়ে। পিতু সম্পর্কে যা যা
জানত সব এক জায়গায় করা। কতটুকুই বা জানে!
তবে পিতু যে বাবা মায়ের চোখের মণি ছিল
সন্দেহই নেই। কিন্তু তাহলে আবার আরেকটা
হিসেব মিলে না। পিতুকে নিয়ে যতটা মাতামাতি হওয়ার
কথা ছিল তা হয় না কেন??
বিলুর একটা স্কুলফ্রেণ্ড ছিল। ওর ছোটভাইও মারা
গেছিল ১০বছর বয়সে। ওর মুখে ওদের বাসার
গল্প শুনত বিলু। ওর বাবা মা এখনো ভুলতে পারে
না। প্রতিদিন রাতে ওর মা নাকি কাঁদে।
বিলু শুনত আর অবাক হত। পিতুটা বাঁচেনি দেখে কি মা
বাবার মনে ওর জায়গাটা কম?? মনে তো হয় না।
মাথার বিলু বলে, তাহলে ওদের মনে আছেটা কি?
বিলুর জন্য তো ঘোড়ার ডিমটাও নেই।
মাথার বিলুটার মুখে লাগাম নেই। সত্য কথাগুলি কিভাবে
ঠাস ঠাস বলে। বিলুর ভালো লাগে না।
সূর্যটা ডুবছে। আকাশটা গোলাপি। কি আআজিব সূর্যটা
আছে অথচ কোনো ইফেক্ট নেই। কি ঠাণ্ডা
ঠাণ্ডা চারিদিক। আচ্ছা এই জায়গাটায় আজকে তমাল
থাকলে বেশ হত না??
বিলু পরক্ষণেই হা হয়ে গেল। তমালের কথাটাই
কেন মাথায় আসল?
খুব নরমাল একটা লজিক আছে। তমাল ছাড়া আর
কোনো ছেলেকে বিলু চেনে না। ব্যাস।
মাথার বিলুটা খুব হাসছে। ইশ। কিরে বাবা।
তাছাড়া বিলু সেদিন দেখেছে। অন্তি তমালের হাত
ধরে হাঁটছে। বেড়িবাঁধে হাঁটছিল ওরা। বিলু বরাবরের
মতই একটু দূরত্ব রেখে, একটু পেছনে।
হাত ধরা দেখে একটু অবাক হয়েছিল বই কি। অবশ্য
মা তো আগেই বলেছিল। বিলুর কি??
আচ্ছা ওইদিনের চিঠিটা এভাবেই আসতে হল? আরিফ
স্যার রেগে গিয়েছিলেন খুব। এমন কড়া কড়া কথা
শুনিয়েছিলেন! কেউ বিলুকে আসলেও পছন্দ
করলেও আর কস্মিঙ্কালে চিঠি দেয়ার সাহস
করবে না। আচ্ছা, এমন কি হতে পারত না, বিলুকে
আসলেই কেউ খুব পছন্দ করে?? নাহয় বিলু একটু
অন্যরকম। কেউ কাছ থেকে বিলুকে কখনো
দেখার চেষ্টা করেছে কি?? কাঁপা কাঁপা হাতে
লেখা একটা চিঠি আর রক্ত লাল গোলাপের
কয়েকটা পাপড়ি তার বইয়ের ফাঁকে কেউ চুপিসারে
গুঁজে দিতে পারত না??
বিলু একদিন খুব সাহস করে মায়ের ড্রয়ার
ঘেঁটেছিল। পিতুকে নিয়ে ডায়েরীটা লেখার
সময়। যদি কিছু পায়। ছোটোবেলার টুকরো
কোনো স্মৃতি।
অবাক করা ব্যাপার। পেয়েওছিল। দুইটা কাগজ। টিকা
দেওয়ার সময়কার।
একটায় লেখা, আফসানা আফরিন বিলি। আরেকটায়,
ইভানা জাহান মিলি।
বিলি অবাক হয়ে ভেবেছিল বাহ নাম তো ছিল। বিলু
মিলু। সবাই তাহলে এমন করে কেন? অবশ্য পিতু
নামটা সুন্দর বেশি।
ইশ পিতুটার নামটাও কি সুন্দর ছিল! ইভানা। বিলুরটা কি ছাতা
একটা।
আরেকটা জিনিস পেয়েছিল। একটা সাদাকালো ছবি।
বিলু কতক্ষণ তাকিয়ে ছিল বিলু জানে না। ছোট্ট
ছোট্ট দুইটা পুঁটুলি। নাক চোখ মুখ কিচ্ছু বোঝা
যায় না। কোনটা সে? কোনটা পিতু??
বিলু জানে না। বিলুর ছোটবেলার কোনো ছবিই
নেই। সে জানে না ফ্রক পড়ে মাত্র যেদিন সে
হাটতে শিখল সেদিন তাকে কেমন দেখাচ্ছিল। বা
যেদিন প্রথম মা ডাকল। বা যেদিন প্রথম স্কুলে
গেল।
হাতে প্রচণ্ড তাপ লাগতেই ধড়ফড়িয়ে বসল বিলু।
তমাল কফির কাপ হাতে চোখ বড় করে তাকিয়ে
আছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now