বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অফুরন্ত ভালোবাসা

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আল মামুন (০ পয়েন্ট)

X বাড়িতে সবার চেঁচামেচি আর হৈ হুল্লোরে ঘুম ভেঙে গেলো স্নিগ্ধর। বাড়িতে এখন অনেক মানুষ, অনেক কোলাহল। জীবনে এই প্রথম এতো কোলাহলে ঘুম ভাঙা সত্ত্বেও রাগ হলো না তার। বরং ঘুম থেকে উঠেইতার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। কারন কাল তার বিয়ে! বিয়ের কথা ভেবে অন্য সবার সামনে হাসতে তার লজ্জা লাগে তাই নিজেই আড়ালে হেসে নেয়! এতো সব আয়োজন তাকে আর ঊষাকে ঘিরে। এখন ঊষা কি করছে? ওর ঘুম ভেঙেছে তো নাকি প্রতিদিনের অভ্যাস মতো এখনো ঘুমাচ্ছে? মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফোন করে ঊষাকে... ঘুম ঘুম কন্ঠে ঊষা বললো, -হ্যালো.. -এখনো ঘুমাচ্ছো সোনামণি? -হুমম। কখন উঠেছো? -এইতো এখন। কি কি হচ্ছে তোমাদের বাসায়? -গায়ে হলুদের আয়োজন! ঊষার কথা শুনেই হেসে ফেললো স্নিগ্ধ। ঊষা বললো, -কি হলো? হাসছো কেনো? -সময় কতো তাড়াতাড়ি পার হয়ে গেলো, তাই না? এই দিনটার জন্য ১০ বছর আমরা অপেক্ষা করেছি। এরপর দুজনেই নীরব হয়ে গেলো। মুখে তাদের মিষ্টি হাসি। নীরবতা ভেঙে ঊষা তার চিরায়ত স্বভাব অনুযায়ী বললো, -এই! আমি ঘুমাবো! শুধু শুধু আমার ঘুম নষ্ট করলা! -ঘুমাও ঘুমাও! কাল রাতে তো আর ঘুমাইতে দিবো না! -এইইই! খুব দুষ্টু হয়ছো! এই বলে নিজেই ফোন রেখে দিলো ঊষা। দুজনের মনেই এখন একই ভাবনা। কাল এতগুলো বছর পর তারা এক হয়ে যাবে। আজ থেকে ঠিক দশ বছর আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল। প্রথমে বন্ধুত্ব তারপর প্রেম। তবে সবার মত তারা তাদের সম্পর্কটাকে bf-gf বলতো না। তারা প্রিয় বন্ধুর মত একে অপরের পাশে থেকেছে। ভালবাসার মাঝেও তাদের সম্পর্কের একটা সীমারেখা থেকেছে। ঊষা কখনও স্নিগ্ধকে তার হাত ধরতে দেয়নি। স্নিগ্ধও এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন থেকেছে। একে অপরকে বিশ্বাস করে সুখ দুঃখের সাথী হয়ে তারা এ দশটি বছর কাটিয়ে দিয়েছে। তবে সবার মত তাদের ভালবাসায়ও অনেক বাধা এসেছে। সত্যিকারের ভালবাসা কখনও অপ্রকাশিত থাকে না তাই একটা সময় তাদের পরিবার এ ব্যাপারে জেনে যায়। তখন তাদের মাঝে কত্ত উৎকণ্ঠা, কত্ত ভয়...প্রথমে অনেক ঝামেলা হওয়ার পর একটা পর্যায়ে দুই পরিবার তাদের সম্মতি জানায়। স্নিগ্ধ আর ঊষা তাদের পরিবারের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। পরিবার না মানলে হয়ত তাদের এক হওয়া অসম্ভব ছিল। পালিয়ে বিয়ে করার কথা তারা কখনো চিন্তাও করে নি। আয়জনের ব্যস্ততায় দিন ফুরিয়ে আসছে। বিকালের সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ছে। স্নিগ্ধ আর ঊষার অপেক্ষাও যেন শেষ হচ্ছে। কাল সকালে তারা নতুন পরিচয় লাভ করবে। গায়ে হলুদে অনেক আনন্দ হলো। স্নিগ্ধর খুব ইচ্ছা করছিল তার প্রেয়সীকে কাঁচা হলুদের সাজে দেখতে। তবে তাতো সম্ভব নয়। মনে মনে সে ঊষার মিষ্টি মুখটি কল্পনা করে নিল। এভাবেই একসময় রাত নেমে এল। আকাশে এখন অনেক তারা, চাঁদের আলোয় আলোকিত। প্রতিদিনের অভ্যাসমত ঘুমানোর আগে ঊষাকে ফোন করে স্নিগ্ধ। -এই যে, হলুদ রাজকন্যা... কেমন আছো? এক গাল হেসে ঊষা বলে-তুমি যেমন আছ! -কাল হাত ধরতে দিবা তো? নাকি কালকেও মানা? -শুধু দুষ্টুমি,তাই না?? হাসতে হাসতে আবেগের সাগরে ভেসে যায় তারা। স্নিগ্ধ বলে, -জানো... তোমাকে খুব কাছে পেতে ইচ্ছা করে, ভালবাসার রঙে রাঙিয়ে দিতে ইচ্ছা করে। লাজুক মুখে ঊষা কিছুই বলতে পারে না। তখনি স্নিগ্ধ বলল, -বুঝি বুঝি! তোমার মনের অব্যক্ত ভালবাসা মুখে প্রকাশ না করলেও আমি বুঝতে পারি সোনা। এভাবেই তাদের মিষ্টি কথা চলতে থাকে। কাল বিয়ে তাই বেশি রাত না জেগে তারা ঘুমিয়ে পরে। অবশেষে সেই আকাঙ্খিত দিনটি চলে আসল। ঊষাকে আজ পরীর মত সুন্দর লাগছে আর স্নিগ্ধ যেন রাজপুত্র হয়ে ঊষাকে নিতে এসেছে। সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী নানা আয়জনের পর তারা একে অপরের হওয়ার স্বীকৃতি লাভ করল। সারাদিনের অনুষ্ঠানের পর এখন সেই মধুর রাত। এই দশ বছরে কতভাবে তারা এই রাতের কল্পনা করেছে! তবে আজ সবকিছু কেমন উল্টা পাল্টা মনে হচ্ছে। ভাইবোনদের ঠাট্টা তামাশা অতিক্রম করে অবশেষে স্নিগ্ধ তার রুমে প্রবেশ করল। তার রুমকে আজ চেনাই যাচ্ছে না। কত্ত ফুল, মোমবাতি, আবছা আলো, ফুলের সুবাস আর তার মাঝে বসে আছে তার স্বপ্নকন্যা। বুকে সবকিছু পাওার প্রশান্তি। তার ঊষাকে এত কাছে পাবার সৌভাগ্য এর আগে কখনো হয়নি। এদিকে ঊষা লজ্জায় রক্তবর্ণ হয়ে আছে। এতদিনের পরিচিত স্নিগ্ধর দিকে যেন তাকাতে পারছে না। স্নিগ্ধ তার পাশে এসে বসল। দুজনই নার্ভাস। ধীরে ধীরে স্নিগ্ধ তার হাতটি বাড়িয়ে ঊষার হাত স্পর্শ করল। তাদের প্রথম স্পর্শ! স্নিগ্ধ বলল, -এত লজ্জা পাচ্ছো কেন?? আমিতো তোমার এই আগের স্নিগ্ধই আছি! মিষ্টি হেসে ঊষা স্নিগ্ধর দিকে তাকাল। -কেমন আছ? -কেমন থাকতে পারি সোনাবউ? ঊষা বলল- আজ রাতটা কত সুন্দর,তাই না? স্নিগ্ধর মুখে কোন কথা নেই। সে অপলক তাকিয়ে আছে ঊষার চোখে। নিরবতা ভেঙ্গে ঊষা জানালার দিকে তাকিয়ে বলল, -দেখ, আজ আকাশটা কত্ত সুন্দর! তারায় ভরা। চাঁদটা ও পরিপূর্ণ। -হুম...আমাদের ভালবাসার পূর্ণচাঁদ। ঊষা কখন তার কাঁধে মাথা রেখে আকাশ দেখা শুরু করেছে তা নিজে খেয়ালই করেনি। আবেগের জোয়ারে ভাসছে দুজন। এমন সময় হঠাত আচমকা আকাশ থেকে বৃষ্টি নেমে এল। জানালার ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির ঝাপটা তাদের মুখে এসে পড়তেই তারা বাস্তবে ফিরে এল। ঊষা বলল, -এই সময় বৃষ্টি?? এই শরৎকালে?? স্নিগ্ধর প্রেমময় উত্তর- আমাদের বাসর রাতের বৃষ্টি। আমাদের প্রেমে ভিজিয়ে দেবার জন্য। মিষ্টি হেসে ঊষা জানালার দিকে এগিয়ে গেল। বৃষ্টি তার খুব পছন্দ। --এই! চলো না, বৃষ্টিতে ভিজি! -এখনই? মানে এই বাসর রাতে? বাহিরে গেলে সবাই কি মনে করবে? -প্লিজ চলো...আমার খুব ইচ্ছা করছে। ভালবাসার মানুষটির কথা ফেলতে পারল না স্নিগ্ধ। তার রুমের পেছনের দিকে ছাদে যাওয়ার একটা সিঁড়ি আছে। সিঁড়ি বেয়ে তার উঠে যায় খোলা আকাশের তলে। ছাদে যেয়ে বৃষ্টির মাঝে হারিয়ে যায় ঊষা। দুই হাত দুই দিকে ছড়িয়ে মনের আনন্দে বৃষ্টির তালে তালে মেতে ওঠে। বিয়ের সাজে ঊষার এ রুপে মুগ্ধ হয় স্নিগ্ধ। ঊষার শরীর বৃষ্টির পানিতে ভরে যায়। অপলক নয়নে স্নিগ্ধ তাকে দেখতে থাকে। আবেগের মাঝে হারিয়ে যায় সে। ঊষার কাছে ছুটে এসে তাকে বুকে টেনে নেয়। বৃষ্টির মাঝের চঞ্চলতা ভুলে ঊষা নিজেকে সঁপে দেয় স্নিগ্ধর বুকে। অলতো করে ঊষার গাল স্পর্শ করে তাকে কাছে টেনে নিয়ে স্নিগ্ধ ভালবাসার মধুর তিনটি শব্দ বলে ফেলে। বৃষ্টির পানিতে ভিজে একাকার হয়ে যায় তারা। এ নিরবতায় অজস্র অব্যক্ত কথা তারা বলে ফেলে। একটু পর ঊষা বলে,-চলো... এখানে থাকলে তোমার ঠাণ্ডা লেগে যাবে। স্নিগ্ধ তাকে বলে- তোমার উষ্ণতায় ঠাণ্ডা লাগা সম্ভব না। এরপর স্নিগ্ধ ঊষাকে কোলে তুলে নেয়। ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নিজেদের রুমে চলে আসে। ফুলসজ্জিত বিছানায় তারা একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুয়ে পরে। বাহিরের প্রকৃতি আর বৃষ্টি যেমন একে অপরের সাথে মিশে যাচ্ছিলো তেমনি তারা তাদের ভালবাসায় দুজনের মাঝে মিশে যায়। দশ বছরের অপেক্ষার পর তাদের এ অনুভূতি হয়ত ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। সকালের মিষ্টি রোদ মুখে এসে পড়তেই ঘুম ভেঙ্গে গেল স্নিগ্ধর। তার পাশে পরম শান্তিতে ঘুমাচ্ছে ঊষা। ঊষার মুখে সূর্যের আলো খেলা করছে। পরিপূর্ণ সৌন্দর্যে ঊষাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছে সে। জানালার ধারের শিউলি ফুলের গাছ থেকে রাতের শিউলি ফুলগুলো ঝরে পরেছে। তার কিছুটা মিষ্টি গন্ধ এখনও ঘরে পাওয়া যাচ্ছে। পরিপূর্ণা ঊষাকে মুগ্ধ নয়নে দেখছে সে। কিছুক্ষন পর তার আদরমাখা স্পর্শে ঊষার ঘুম ভাঙ্গে তাদের জীবনের মধুরতম সকালে। সকালের এই সূর্যটা সেদিন তাদের নতুন জীবনের সূচনা করেছিল। এরপর সারাটা জীবন ঊষার স্নিগ্ধতায় স্নিগ্ধ পরিপূর্ণ হয়ে ছিল এবং স্নিগ্ধ ঊষার জীবন স্নিগ্ধময়ী করে দিয়েছিল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অফুরন্ত ভালোবাসা
→ অফুরন্ত ভালোবাসা
→ অফুরন্ত ভালোবাসা
→ অফুরন্ত ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now