বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঘাস ফুল পর্বঃ ৫

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X . মা জানালার কাছে বসে ছিল। চাচী বলে, মা মেয়ের এক তাল। কি যে পায় এত জানালার বাইরে! মায়ের বসে থাকার ভংগিটা কি যে বিষাদ ভরা! মনে হয় একরাশ চুল মেলিয়ে কোনো তরুণী কারো অপেক্ষায় চেয়ে আছে। বিলুর মাকে ডাকতে ইচ্ছা করছিল না। তাও ইতস্তত করে বলল, "মা আমার দু'জন বন্ধু এসেছে।" মা ঘুরে তাকালো। চোখটা ভেজা কি?? ভীষণ ভুল হয়ে গেছে। বিলুর বাসার কিছুই ঠিক নেই। হয়তো বাবা রেগেছে মায়ের উপর। হয়তো ঘরে একদফা ভাংচুর হয়ে গেছে আজ। হয়তোবা গতদুই রাত বাবা ঘরে ফেরে নি। কে জানে। বিলুর সাথে বাবার দেখা হয় না ম্যালা দিন। মা নাক টেনে বলল, ড্রয়িংরুমে বসা। আসছি আমি। সেদিন মা কি গল্পটাই করলো অন্তির সাথে। অদ্ভূত তো! বিলুরই কি দোষ, সে কথা কম বলে?? মা যখন শুনলো অন্তির আসল নাম রূপন্তি, মার চোখ দুইটা কপালে উঠল। "এত সুন্দর একটা নাম তোমার মা! রূপের অন্ত নাই! ওরা তোমাকে অন্তি ডাকছে কেন??" - "আন্টি রূপন্তি নামটা বেশি বড় তো! শর্ট করে ওদের রূপ ডাকতে বলেছিলাম, সবাই দেখি হা করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, কি নাম বললে? আবার বলো। পরে আন্টি ভাবলাম অন্তি নাম বলি!" মা হাসতে হাসতে বিষম খেলো। বিলু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। অন্তির আসল পুরো নাম রূপন্তি এই জিনিস সে আজকে জানলো?? বন্ধু বলতে এক অন্তি, তার সাথেও বিলুর খাতিরের কি বাহার। নামটাও ঠিক করে জানে না। তমালের নাম তমাল তো? নাকি তমালিকা?? তমালের চেহারাটা যা মেয়েলি! মাথার বিলুটা একটু কমসম বললেও তো হত। বিলু একটু মানুষের সাথে কথা বলার সুযোগ পেত। অন্তিরা চলে যাওয়ার পর মা জিজ্ঞেস করল, তমাল ছেলেটার বাড়ি কোথায় রে বিলু? বিলু অবাক হয়ে বলল, জানি না। -"বাবা কি করে?? " -"জানি না।" -"জানিসটা কি তুই??? একসাথে ঘুরিস, বাড়ি জানিস না! পুরা নাম কি??" বাড়ি জেনে কি করব? বাবা কি করে সেটা জেনেই বা কি করব? ও কি আমার জামাই লাগে?? তুমিই বা ওর ঠিকুজি কুলুজি জানতে চাইছ কেন?? তমালের নামটা বিলু জানতো তো! মাথার বিলুর জ্বালায় মনে পড়ছে না। "ভাত দাও। ক্ষুধা লেগেছে।" মা বলল, ছেলেটা খুব মিষ্টি দেখতে। মিষ্টি?? সে তো মেয়েরা হয়। ছেলেরা দেখতে মিষ্টি হলে ছেলে থাকে না। মেয়ে হয়ে যায়। তমালের নামটা মনে পড়েছে। আজহার ইসলাম। বলবে নাকি মা কে? ধুর! কি করবে মা জেনে?? মা আবারওও বলল, অন্তি মেয়েটা তমালকে খুব পছন্দ করে। -"কি করে বুঝলে?" "মায়েদের চোখ এসব টের পায়।" বিলুর খুব করে বলতে ইচ্ছে হল, কই মা? আমারটা তো কখনো টের পেলে না?? -"তুমি একটা পাগল!" মা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, "আমিও ওই বয়সে তোর বাবার প্রেমে পড়েছিলাম কি না। তোর বাবা হাবি জাবি কি সব বলতো, আর আমি হা করে শুনতাম। বিলু অবাক হয়ে তাকাল। বাবা মায়ের প্রেমের বিয়ে বুঝি? কই তাকে তো কেউই কখনো বলল না! আর কত কি যে বাকি জানার! বিলুর খুব জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হল, বাবা কি বলতো মা?? করল না। বিলু একটা ছেলে আর মেয়েকে দেখতে পাচ্ছে। ছেলেটার উষ্কোখুষ্কো চুল। ইস্ত্রি ছাড়া শার্ট। প্যান্ট গোড়ালির দুই আংগুল উপরে বল্টানো। মেয়েটা সামনে বসা। একপাশ দিয়ে একহাত লম্বা একটা বেণী এলানো। ছেলেটা হাত পা নেড়েচেড়ে বলছে, " জানো আজকে কি কি খেয়েছি?? সকালে এক কাপ চা, চারটা পরোটা, একটা ডিমবন, দুইটা ছোলা নুডলস, আর দুইটা আলুর চপ। খেয়ে পড়তে বসেছি বুঝলা রিনি? ৪০ পেইজ পড়ার পর মনে হল একটু সিনেমা দেখি বুঝলা......" আহা কি সুন্দর লাগছে দু'জনকে। বাবা মাকে একসাথে খুব বেশি হাসিখুশি দেখার সৌভাগ্য বিলুর হয় নি। খাওয়া শেষ করে বিলু জানালার পাশে দাঁড়ালো। হাতে কফির মগ। সামনে একটা বড় আয়না। দিনশেষে এই মুহূর্তটা যে কি প্রিয় বিলুর! বাইরে একেকটা বিল্ডিং, একেকটা জানালা। একেকটা মানুষের একেক রকম জীবন! দেখতে যে কি অদ্ভূত লাগে! বিলু-পিতুর পর মা-বাবা বাবু নিতে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছিল। পরপর দুইটা মিস ক্যারেজ হল। বিলু এই শব্দটার মেডিকেলীয় মানে এখনো জানে না। তবে মনে আছে, একবার, মায়ের পেটটা ধাউস ফুলেছিল। বিলু তখন ক্লাস টুতে পড়ে। প্রেগন্যান্ট মানে বোঝে না। একদিন সন্ধ্যাবেলা খেলা শেষে বিলু ছাদে ওঠেছে। ছাদের কিনারে ওটা কে?? মা নাকি?? দেখে তো মা-ই মনে হচ্ছে। একটা ডাক দেবে? ইচ্ছে হল না। আচ্ছা মা অত কিনারে দাঁড়ানো কেন? ভয় করে না বুঝি? বিলুদের ছাদটা আজিব। দোতলাটা অর্ধেক বাসা। বাকিটা খোলা। ওপরে সিঁড়ি দিয়ে আরেকটা ছাদ। রেলিং নেই। ওপরটায় ওঠা সবার মানা। দাদু বলত ওখানেই নাকি পিতুকে জ্বীনে ধরেছিল। মা পিতুকে নিয়ে ছাদে ওঠেছিল। তখন। বাবা বলে কিসের কি জ্বীন। শীতকাল ছিল, ঠাণ্ডা লেগে নিউমোনিয়া হয়েছিল। ব্যাস। বিলু ভাবে, সেদিন মায়ের কোলে বিলু ছিল না কেন??? শুধু পিতু কেন?? দাদু মারা যাওয়ার পর থেকে পিতুকে নিয়ে কথা বলার আর কেউ নেই। কিন্তু ছোট ছাদে ওঠা কড়া মানা। বিলু তবু চুরি করে ওঠত। তার দিকে নজর রাখার তেমন কেউ ছিল না কি না। সেদিনের কথা বিলুর আবছা মনে আছে। মা দাঁড়িয়েই আছে। বিলুর কেমন ভয়ভয় করছে। ডাকবে নাকি? হঠাৎ মা পড়ে গেল। সাথে সাথে চিৎকার। বিলুর বুকে ধড়াস ধড়াস বাড়ি পড়ছিল। কি হল মায়ের? মা এভাবে পড়ে গেল কেন??? সবাই বলত, এবার তোমার ছেলে হবে রেণু। বাবা কি খুশি! বিলুর ঝুটিতে টান মেরে বলত, বিলুমণি, এবার তোমার একটা ছোট্ট দুষ্ট ভাইয়া হবে। বাবা একদিন একটা গেঞ্জিও এনেছিল। বিলু ওটা দেখে যা অবাক! বিলুর কেনী আংগুলের সমান! তাতে আবার লেখা, "I heart emoticon mom." heart emoticon চিহ্ণটা আবার ঝিকমিক করে। এবং, বাবুটা মারা গেল। (চলবে..)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঘাস ফুল পর্বঃ ১১ (শেষ পর্ব)
→ ঘাসফুল পর্ব: ১০
→ ঘাস ফুল পর্ব ৯
→ ঘাস ফুল ৮
→ ঘাস ফুল পর্বঃ ৭
→ ঘাস ফুল পর্বঃ ৭
→ ঘাস ফুল পর্বঃ ৬
→ ঘাস ফুল পর্বঃ ৪
→ ঘাস ফুল পর্ব: ৩
→ ঘাস ফুল পর্ব : ২
→ ঘাস ফুল পর্ব: ১
→ একটি ঘাসফুল গাছের আত্মকাহিনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now