বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-- আচ্ছা প্রিয়ম বিরক্ত হয়ে চা বানালে চা মজা হয় কিভাবে!!
--কি জানি! আমি এতো চা খাই না তাই বলতে পারি না। মনে হয় বিরক্ত হয়ে চা তে মশা দেওয়া হয়, তাই চা মজা হয়।
ওপাশ থেকে প্রিয়মের হাসির শব্দ শুনা গেলো। আমি এমনিতেই রেগে আছি প্রিয়মের উপর ও মিথ্যা কথা বলেছে আমাকে, এখন সরি না বলে আমার সাথে মজা করছে।
প্রিয়মকে বললাম,
-- একদম মজা করবা না,তুমি সব সময় মজা করার মুডে থাকো।
-- আচ্ছা ঠিকাছে মজা করবো না। তুমি তোমার প্রশ্নের উত্তর সৃজনের কাছে পাবে মনে হয়। সৃজন কে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারো।
-- সৃজন ভাইয়াই তো বলেছে বিরক্ত হয়ে চা বানালে ভালো হয়। তাই তোমাকে ফোন দিলাম বিরক্ত হয়ে চা বানালে কিভাবে মজা হয়। আচ্ছা রাখছি
মোবাইল কেটেই দিচ্ছিলাম ঠিক তখনি ওপাশ থেকে প্রিয়ম বললো,
-- এই কথা শেষ হয় নি তো।
-- কথা শেষ তো।
-- না শেষ হয় নি। তুমি রাগ করেছো!!
আমি সত্যিই রাগ করেছিলাম। কিন্তু এতোটাও রাগ করি নি, আর রাগ করেও লাভ কি! আমি প্রিয়মকে ছাড়া, ওর সাথে কথা না বলে থাকতেই পারি না, কষ্ট হয় খুব।আমি প্রিয়মকে কিছু বলতে যাবো ঠিক তখনি প্রিয়ম আবার বলতে শুরু করলো,
-- আমি জানি তুমি রাগ করেছো। তোমার রাগ করাটাই স্বাভাবিক। আমি তোমাকে মিথ্যা কথা বলেছি, তার জন্যে সরি।আর তখন তোমাকে ঐভাবে ইগনোর করেছি তার জন্যেও সরি। আসলে তখন তুমি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলে, কতোটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলে সেটা নিশ্চয়ই তুমি জানো! তুমি অনেকটাই ইমম্যাচিউর সে জন্যে তুমি ভুল করতেই পারো কিন্তু আমিতো ম্যাচিউর আমি ভুল করতে পারি না। আমি চাই আমাদের ভালোবাসাতে পিউরিটি থাক ১০০%। কোনোভাবেই কমাতে চাই না। আর তা ছাড়াও আমি নিজেকে তোমার কাছে ছোট করতে চাই না। এমন কিছুই করতে চাই না যাতে এরপরের বার তোমার সামনে গিয়ে দাড়াতে আমাকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়।
কিছুক্ষণ থেমে প্রিয়ম আবার বললো,
--তুমি কি ঘুমিয়ে গেছো?
আমি শুধু প্রিয়মের কথাগুলোই শুনছিলাম। ওর কথার মধ্যে আমি ডুবে গিয়েছিলাম, ভাবছিলাম কিছু মানুষ অনেক ভালো ও হয়। আমি কি বলবো ভাবছিলাম, অনেকক্ষণ ভাবার পর বললাম,
-- I love you..
প্রিয়ম হাসলো,মোবাইলে ওর হাসির শব্দটা শুনতে আরো বেশি ভালো লাগে। প্রিয়ম হাসি থামিয়ে বললো,
--জানি তো। মিস্ বুচি তুমি কিন্তু এতোটাও ইমম্যাচিউর নও।
-- আমি মোটেও ইমম্যাচিউর নই৷ আচ্ছা রাখি এখন।
-- আচ্ছা। শুনো, কোনো একদিন আমি তোমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজবো পুরো রাত! promise..
আমার পুরো রাতটাই প্রিয়মের কথা ভাবতে ভাবতেই কেটে গেলো।প্রিয়মের ভালোবাসার গভীরতা বুঝতে চেষ্টা করছিলাম সারারাত, কিন্তু গভীরতা শেষ খুঁজে পাই নি।প্রায় সকালের দিকে যখন চোখটা একটু লেগে গেলো,তখন আবার প্রিয়ম কল দিলো। ঘুমটা ভেঙে গেলো, ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে চার পাঁচটা হাঁচির শব্দ এলো। এরপর প্রিয়ম বললো,
-- এই বুচি! তুমি কি আমায় অভিশাপ দিয়েছো নাকি!
--পাগল হয়ে গেছো নাকি!
-- না, তাহলে ঠান্ডা লাগলো কেনো? আমি তো প্রায় সময়ই বৃষ্টিতে একটু আধটু ভিজি কই তখন তো ঠান্ডা লাগে না। তাহলে আজকে কেনো ঠান্ডা লাগলো?
--এটা আমি কি করে জানবো। আমি এখন ঘুমাবো, রাখছি।
-- ঐ বুচি! সত্যিই অভিশাপ দিয়েছো নাকি!
--না, তবে এখন দিবো,যদি তুমি ফোন না কাটো তাহলে যেনো তোমার কোনোদিন বিয়ে না হয়।
--ও, তাহলে তো তোমার ও বিয়ে হবে না..
প্রিয়মের কথা শেষ হওয়ার আগেই ফোন কেটে উঠে বসলাম। প্রিয়ম ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়েছে, এখন আর ঘুমে ধরবে না। কিছুক্ষণ রুমে পায়চারি করলাম।হঠাৎ করেই চা খেতে ইচ্ছা হলো, আমার আবার সচরাচর চা খেতে ইচ্ছা করে না। চা জিনিসটা আমার খুব অপছন্দের, চা খেতে গেলেই হয়তো ঠোঁট পুড়ে যাবে, নয়তো জ্বিভ পুড়ে যাবে, গরম খেতে হবে ঠান্ডা হয়ে গেলে মজা পাবে না আরো কতকিছু এই কারণেই চা আমার পছন্দ না। তবুও আজকে কেনো জানি চা খেতে ইচ্ছা করছে, রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ালাম কিন্তু আদৌও চা বানানোর কোনো ইচ্ছা আমার নেই। আলসেমি ধরে গেছে, যদি কেউ আমাকে এক কাপ চা এই মুহূর্তে বানিয়ে আমাকে এনে দিতো তাহলে ভালোই হতো এসব ভাবতে ভাবতেই রান্নাঘরের কাছে গিয়ে দেখলাম সৃজন ভাইয়া চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বেরুচ্ছে, আমাকে দেখে বেশ স্বাভাবিকভাবেই বললো,
-- চা খাবে নাকি প্রিয়তমা!
সৃজন ভাইয়ার প্রশ্নে আমি একটু ঘাবড়ে গেলাম। কিছুক্ষণের জন্য মনে হলো সৃজন ভাইয়া মানুষের মন পড়তে পারে। আমি মাথা নেড়ে হ্যা বললাম। সৃজন ভাইয়া রান্নাঘর থেকে আরেক কাপ চা নিয়ে আসতে আসতে বললো,
-- আসলে চায়ের পানি বেশি হয়ে গেছে। আমি এ কাপ খাবো, আর বাকি চা টুকু পাতিলে থাকলে আম্মু বকা দিবে, তাই তোমাকে অফার করলাম।
আমি হেসে চায়ের কাপে ফু দিলাম বার কয়েক, জেনো তেনো ফু নয়!দোয়া পড়ে ফু দিয়েছি যাতে জ্বিভ আর ঠোঁট না পুড়ে। তারপর এক চুমুক খেলাম। চা ভালো হয়েছে, অনেক ভালো হয়েছে কিন্তু আমি খেতে পারছি না, প্রত্যেক চুমুকে মনে হচ্ছে আমার পেটের নাড়ি ভুড়ি গলে যাচ্ছে শুধু পেটের নাড়ি ভুড়ি না লক্ষ করলাম আমি বেশ ঘামছিও চায়ের গরমে হয়তো। মানুষ এতো গরম চা খায় কিভাবে তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলাম। এতো চিন্তার ভিড়ে হঠাৎ করেই মাথায় এলো রাতে সৃজন ভাইয়ার বলা কথাটা বিরক্ত হয়ে চা বানালে মজা হয় কিভাবে, সৃজন ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করলেই তো বলে। আমি আমতা আমতা করে বললাম,
-- একটা কথা বলবো!
সৃজন ভাইয়া আমার পাশে বসেই তার খেয়ালে চা পান করছিলো। আমার কথা শুনে জেনো এই জগতে পা রাখলেন এমন একটা ভাব করে বললো,
-- কিক, কি বলবে??
-- আচ্ছা বিরক্ত হয়ে চা বানালে মজা হয় কেনো!
সৃজন ভাইয়া হেসে বললো,
-- কাল রাতে বলেছিলাম সেটা এখনো মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে!
-- নাআআ, জানতে চাই আরকি!
-- আরে এটা তো এমনিই বলেছিলাম। তবে হ্যা মানুষ বিরক্ত হয়ে যখন কোনোকিছু করে তখন ডেটা মজা হয়। একদিন আমি রাতে চা বানাতে গেলাম, গিয়ে দেখি চিনি অল্প আছে, এতে বেশি মিষ্টি হবে না, অনেকক্ষণ ধরে ভাবলাম কি করবো করবো! একসময় বিরক্ত হয়ে ঐচিনিচুটু আর সাথে অল্প লবনও দিয়ে দিলাম। ভেবেছিলাম চা বোধহয় ভালো হবে না, নোনতা স্বাদ আসবে কিন্তু না চা অনেক মিষ্টি হয়েছিলো, আর অনেক বেশি ভালোও হয়েছিলো। পরে জানলাম, মিষ্টি জাতীয় কোনো কিছুতে অল্প লবণ দিলে তা মিষ্টিটা বেশ গাঢ় হয়।
আমার কাছে সৃজন ভাইয়ার কাহিনীটা পুরো বোরিং লাগলো, এতো বোরিং লাগলো যে ঘুম চলে আসলো, আসলে চা খেলেই আমার ঘুম পায়। আমি চায়ের কাপটা টেবিলের উপর রেখে, রুমে চলে আসলাম। সকালে যখন ঘুম ভাঙলো তখন প্রায় দশটা বাজে।আমি পাশে নাবাকে না পেয়ে আড়মোড়া ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে ডাইনিং রুমের দিকে গেলাম৷ সৃজন ভাইয়া আর নাবা বসে কথা বলছিলো, আমাকে দেখে সৃজন ভাইয়া বললো,
-- তুমি তো দেখি আচ্ছা মানুষ। সকালে চা বানিয়ে খাওয়ালাম তোমায়, আর তুমি একটা ধন্যবাদও দিলে না, আচ্ছা ধন্যবাদ নাইবা দিলে কাপ দুটো তো অন্তত ধুয়ে রেখে যেতে পারতে। দুটো না হোক নিজের কাপ টা ধুয়ে রাখতে!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now