বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সরল মেয়ে তমা- (পর্ব-১৩)

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X মনের ভিতর সাহস সঞ্চার করে কিছুটা এগিয়ে গেলাম প্রিয়মের দিকে। কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর বললাম, -- অন্ধকারে ভয় করে তো। কিছুক্ষণ পর প্রিয়ম মোবাইলের টর্চটা জ্বালালো। আলো এসেছে কিছুটা। আমার থেকে প্রিয়ম একটু দূরে দাড়িয়ে আছে। আমি দূর থেকেই বললাম, -- সরি! প্রিয়ম আমার কাছে এসে বললো, --ঠাস করে কানের পিছে একটা দিবো। ফোন ধরো নি কেনো! কতবার কল দিয়েছি জানো? আমার কত টেনশন হচ্ছিল তোমার সাথে কথা না বলতে পেরে জানো! আমি হাসলাম। প্রিয়ম বেশিক্ষণ রেগে থাকতে পারে না।আমি প্রিয়মকে জড়িয়ে ধরে বললাম, -- তুমিও তো আমার সাথে কতদিন কথা বলো নি, তখন আমার কতোটা টেনশন হচ্ছিলো আর কষ্ট হচ্ছিলো সেটা নিশ্চয় এখন বুঝতে পারছো। --তখন কিন্তু আমারও কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু সেই কষ্টটা সহ্য করছিলাম, কারণ তোমার পরীক্ষা ছিলো তাই। -- হু বুঝতে পেরেছি। প্রিয়ম আমাকে সরিয়ে দিয়ে বললো, -- আমি সব কিছু তোমার ভালোর জন্য করছিলাম, আর তুমি কি করলে! -- আমি আবার কি করলাম? -- আমাকে না বলেই ঢাকা চলে এসেছো! --সারপ্রাইজ ছিলো এটা। -- এমন সারপ্রাইজ চাই না আমি। তোমাকে দেখার জন্য আমি কতটুকু পাগল হয়ে গিয়েছিলাম সেটা আমিই জানি। কিন্তু আজকে তোমাকে হঠাৎ করে দেখার পর মনে হলো আমার হার্ট বিট থেমে গেছে। এভাবে আর কখনো আসবে না। আসার সময় আমাকে জানিয়ে আসবে। -- কেনো? জানিয়ে আসলে কি সাজগোজ করতে নাকি! সেই তো এভাবেই দেখা করতে, খোঁচা খোঁচা দাড়িতে, মাথার লম্বা চুল নিয়ে। কথাটা বলতে বলতে আমি ছাঁদের চওড়া রেলিংটাতে হেলান দিয়ে দাড়ালাম। প্রিয়ম এসে আমাকে রেলিংএর উপর বসিয়ে দিলো। আমি একটু জোরেই বললাম, -- এই পরে যাবো তো! --না পরবে না। আমি আছি তো! প্রিয়ম আমার কোমর জড়িয়ে দাড়িয়ে আছে ,হঠাৎ করেই প্রিয়ম আমার গালের সাথে ওর গাল লাগালো, ওকে সরিয়ে দিয়ে বললাম, -- ব্যাথা পায় তো! -- এটা তোমার সাজা বুচি,আমার সাথে এতদিন কথা বলো নি তাই। আমি হাসলাম,আকাশটায় অনেক আগেই মেঘ করেছে, এখন দমকা হওয়াও বইছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়তো বৃষ্টি নামবে। আমি প্রিয়মের বুকে মাথা রেখে বসে আছি, কতোদিন পর আমি প্রিয়মকে এভাবে কাছে পেলাম। হঠাৎ করেই প্রিয়মের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রিয়মকে বললাম, -- প্রিয়ম আমাকে চুমু খাবে! প্রিয়ম দু হাতের আজলা ভরে আমার মুখটা তুললো, খুব সন্তর্পণে চুম খেলো আমার চিবুকের নিচে তিলটায়। এটা ওর অভ্যাস। আমি প্রিয়মের চুলগুলোয় হাত বুলাচ্ছিলাম। বৃষ্টির বড়ো বড়ো ফোটা পড়া শুরু করতেই প্রিয়ম আমাকে টান দিয়ে রেলিং থেকে নামিয়ে দিয়ে বললো, -- চলো, বৃষ্টি পড়ছে। আমার বৃষ্টিতে ভিজতে খুব ভালো লাগে।প্রিয়ম টানলেও আমি জায়গা নড়লাম না। বললাম, -- আমি বৃষ্টিতে ভিজবো। -- এতো রাতে বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে ভিজে না। অন্য কোনোদিন ভিজবে, চলো। -- আমি একা ভিজবো না, তুমি ও ভিজবে। প্রিয়ম কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর আমাকে বললো, -- আমি তোমার মতো পাগল নই যে রাত বিরেতে বৃষ্টিতে ভিজবো৷ আর তাছাড়াও বৃষ্টিতে ভিজলেই আমার ঠান্ডা লেগে যাবে। আমার কোনো যুক্তিই প্রিয়মের সামনে ঠিকলো না। সে ভিজবে না, আর আমাকেও ভিজতে দিবে না এটাই তার কথা। আর আমিও না ভিজে যাবো না। প্রিয়ম বললো, -- এই তুমি যাবে নাকি আমি উঠিয়ে নিয়ে যাবো! -- যাবো না। প্রিয়ম কোনোমতে টেনে আমাকে নিয়ে সিড়িতে এলো। আমি এখন আবার জায়গা থেকে নড়ছি না।প্রিয়ম একটু রেগে গিয়ে বললো, -- কি হয়েছে আবার? আমি কিছুটা প্রিয়মের দিকে এগিয়ে গিয়ে ওর পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেই প্রিয়ম আরো একটু দূরে সরে গিয়ে বললো, -- কি! -- কিছুই না। তোমার চুলে পাতা আঁটকে আছে, ঐটাই সরাতে চাচ্ছিলাম। -- ওহ্, প্রিয়ম হাত দিয়ে চুল ঝাকুনি দিলো। তারপর বললো, -- আমাকে বললেই হতো। এভাবে কখনও কাছে আসবা না -- কেনো? তোমার নিজের উপর কন্ট্রোল নেই নাকি! প্রিয়ম দুটো সিড়ি নেমে বললো, -- আমার নিজের উপর পুরো কন্ট্রোল আছে। কিন্তু তুমি মাঝে মাঝে নিজের উপর কন্ট্রোল রাখতে পারো না। প্রিয়ম নিচে চলে গেলো। আমি কিছুক্ষণ জায়গায় দাড়িয়ে ভাবলাম আমি কি করছিলাম! আদৌও কি আমি প্রিয়মের চুল থেকে পাতা সরাতে যাচ্ছিলাম! সত্যিই আমার নিজের উপর কোনো কন্ট্রোল নেই। প্রিয়মের দিকে তাকাতেই দেখলাম প্রিয়ম নিচে নেমে যাচ্ছে। আমিও ওর পিছু পিছু গেলাম। আমি ভাবলাম প্রিয়ম বাসায় ঢুকবে। কিন্তু না ও বাসায় না ঢুকে আমাকে বললো, -- আমি যাচ্ছি। আমি অবাক হলাম কারণ তখনও বাইরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আমি বললাম, -- বাইরে তো এখনও বৃষ্টি পড়ছে তুমি যাবে কিভাবে? -- কেনো বাইক আছে তো। --বাইকে গেলে তো ভিজে যাবে, পরে ঠান্ডা লেগে যাবে। --তোমার সাথে ভিজলে ঠান্ডা লেগে যাবে। একা ভিজলে ঠান্ডা লাগবে না। প্রিয়ম চলে গেলো। আমি অবাক হয়ে কিছুক্ষণ খালি সিঁড়িগুলির দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর রুমে ঢুকলাম, মনে মনে প্রিয়মকে একশবার গালি দিলাম। দরজায় নক করতেই দেখলাম দরজা খুলে গেলো। আমি ভিতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলাম। সৃজন ভাইয়ার রুম থেকে টুংটাং আওয়াজ আসছে। আমি যতদূর জানি গিটারে আওয়াজ অনেকটা এরকম। তাও নিশ্চিত হওয়ার জন্য এগিয়ে গেলাম। হুম গিটারের আওয়াজেই, কিন্তু সৃজন ভাইয়া গিটার বাজাতে পারে তা জানতাম না, এই প্রথম জানলাম। আমাকে দেখে সৃজন ভাইয়া বললো, -- প্রিয়ম চলে গেছে নাকি! হঠাৎ করে সৃজন ভাইয়ার প্রশ্নে আমি বোকা হয়ে গেলাম, কিছুটা লজ্জা ও পেলাম।মাথা নেড়ে হ্যা বললাম। সৃজন ভাইয়া বললো, -- প্রিয়তমা, এককাপ চা করে দিবে! আমি রুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলাম। সৃজন ভাইয়া আবার ডাকলো, -- ঐ প্রিয়তমা! আমি ঘুরে বললাম, -- হু.. -- হু কি! জ্বি বলতে পারো না। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললো, -- তোমাকে চা বানাতে বললে তুমি বিরক্ত হও না! -- নাহ্, আমি সত্যিই বিরক্ত হই না এখন। উল্টো ভালোই লাগে। কিন্তু সৃজন ভাইয়াকে খুব চিন্তিত দেখা গেলো। কি যেনো অনেকক্ষণ চিন্তা করে বললো, -- তাহলে তোমার হাতের চা আর মজা হবে না। বিরক্ত হয়ে চা বানালে চা মজা হয়। আমি কিছুই বুঝলাম না বিরক্ত হয়ে চা বানালে চা মজা হয় কিভাবে! এটা ভাবতে ভাবতেই আমি সৃজন ভাইয়ার জন্য চা বানালাম। তারপর সৃজন ভাইয়াকে চা দিয়ে রুমে চলে আসলাম। কিন্তু মাথায় একটা জিনিস আসলো না, বিরক্ত হয়ে চা বানালে মজা হয় কিভাবে! ভেবেছিলাম একবার সৃজন ভাইয়া কে জিজ্ঞেস করবো। কিন্তু আর গেলাম না।ঘুমাতে পারছিলাম না এই কথার মানে না বের করে। তাই প্রিয়মকে কল দিলাম, প্রিয়ম হয়তো ঘুমিয়ে গিয়েছিলো, আমি বুঝতে পারলাম কারন ও ঘুম জড়ানো কন্ঠে কথা বলছিলো। আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, -- আচ্ছা প্রিয়ম বিরক্ত হয়ে চা বানালে চা মজা হয় কিভাবে!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now