বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সরল মেয়ে তমা- (পর্ব-১২)

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X আম্মু ভ্রু কুচকে আমাকে দেখে বললো, -- পরীক্ষার টেনশনে পাগল হয়ে গেলি নাকি! আম্মুর কথা শুনে আমি হুশ পেলাম। বললাম, -- কিছু বলবে! --খাবি না নাকি! -- খাবো তো। আও আসছি। আমি রুমে এসে চিঠিটা লুকিয়ে রেখে খেতেই যাচ্ছিলাম। এখন রুম থেকে বেরুই নি, হঠাৎ বাইরে চেচাঁমেচির আওয়াজ শুনছিলাম।আব্বু কিছু একটা বলছিলো,অনেকটা এই রকম, " ছেলে নিয়ে যাবে, এটা কি মামা বাড়ির আবদার! এখনও তো কিছু করি নি। সাহস থাকলে আসুক দেখি, চৌদ্দশিখের ভাত খাওয়াইয়া আনবো।" আমি রুম থেকে বেরুতেই আম্মুর সামনে পড়ে গেলাম। আম্মু বললো, -- খেতে আয়। -- কি হয়েছে! আব্বু চিৎকার করতেছে কেন? -- কাল রুমার জামাই আসছিলো, ছেলের সাথে দেখা করতে, রুমা ওকে বাসায় ঢুকতে দেয় নি। তাই আজকে রুমাকে ফোন দিয়ে বলেছে ছেলে নিয়ে যাবে, ও ভয়ে কান্না শুরু করে দিলো, আর তোর আব্বুও বাসায় এসে শুনে ফেললো এই শুরু হয়ে গেলো। আমি কিছু না বলে ভাত খেতে বসলাম, কিন্তু ভাত গলা দিয়ে নামছেই না। আমার জন্যই এসব হচ্ছে বাড়িতে। আমি যদি সেদিন আব্বুকে ঐ ঘটনা না বলতাম তাহলে আজকে আর বাসায় এইদিন আসতো না। আমার আব্বু যে কি না কোনোদিন উঁচু গলায় কথা বলেনি, আজকে সে চেচাঁমেচি করছে। এখন অবশ্য চিৎকার চেচাঁমেচি কমে গেছে। আব্বু বোধহয় রুমে গিয়ে শুয়ে আছে। আমি কোনোমতে খাওয়া শেষ করে আব্বুর রুমে গেলাম। আব্বু আমাকে দেখে শুয়া থেকে উঠে বসলেন, জানালা দিয়ে হাতের সিগারেট টা ছুড়ে ফেলে দিলেন। আব্বু মাঝেমাঝে সিগারেট খান, তবে আমাদের সামনে খায় না।ওনি বললেন, -- কিছু বলবে মা? -- জ্বি। -- আসো এইখানে বসো। আব্বুর তার পাশে বসতে বললেন, আমি গিয়ে তার পাশে বসলাম। কথাটা বলবো কি বলবো না ভেবেই হাত মুচড়ে আর ফুটিয়ে লাল করে ফেলছি, অবশেষে মনে সাহস জমা করে বললাম, --আব্বু আমাদের জন্য কিন্তু আপার বাচ্চার ভবিষ্যৎ টা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আব্বু হয়তো আমার দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু আমি তার দিকে তাকাই নি। আমার খুব ভয় করছিলো, মনে হচ্ছিলো আব্বু আমাকে খুব জোরে ধমক দিবে। আব্বু আস্তে বললো, -- হবে না। তোমাকে এসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তুমি পড়তে বসো গিয়ে, ভালো করে পড়ালেখা করো। বাড়ির সবার মুখ সব সময় কেমন যেনো গম্ভীর হয়ে থাকতো। আমার খুব ভয় হতো, চিন্তা হতো কিন্তু কিছুই করতে পারতাম না। আমার পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই নাবা একের পর এক কল দিয়ে যাচ্ছিলো ঢাকায় যাওয়ার জন্যে, আমি যাবো যাবো করেই যেতে পারছিলাম না, আমাকে নিয়ে যাওয়ার কেউ ছিলো না। আব্বু সব সময় ব্যবসায়ীক কাজে ব্যস্ত থাকে। যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও যেতে পারছিলাম না, তাই কাছের আত্মীয় স্বজনদের সাথেই সময় কাটাতে লাগলাম। আর প্রিয়মের সাথে আমি কথা বলতাম না, ও আমার সাথে পরীক্ষার সময়টাতে কথা বলে নি এটার প্রতিশোধ নিচ্ছিলাম। অবশ্য এই প্রতিশোধটা নিতে গিয়ে আমি হারে হারে টের পেয়ে গিয়েছিলাম যে প্রিয়মকে ছাড়া আমি এক মুহূর্তও থাকতে পারি না। খুব কষ্ট হতো ওর সাথে কথা না বলতে পারলে, তাই এসব প্রতিশোধ নেওয়ার চিন্তা বাদ দেওয়ার কথা ভাবলাম। যখন ভাবলাম ওকে ফোন দিবো ওর সাথে কথা বলবো, ঠিক তখনি ফুপার আগমন হয় আমাদের বাড়িতে, তিনি গ্রামের বাড়ি এসেছিলেন, আমাদের বাসায় এসেছে আমাকে নেওয়ার জন্য। আমি প্ল্যান পাল্টে ফেললাম, প্রিয়মকে কল দিলাম না।ভাবলাম ঢাকায় গিয়ে সারপ্রাইজ দিবো। যেই ভাবা সেই কাজ জামা কাপড় গুছিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আমি যে ঢাকায় যাচ্ছি সেটা কেউ জানেই না। ফুপা ফোন দিয়ে বাসায় জানতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি না করাতে আর ফোন দিলো না। অনেকক্ষণ ধরে দরজার সামনে দাড়িয়ে আছি। ফুপা কয়েকবার কলিংবেল বাজিয়ে কিন্তু কেউ দরজা খুলছে না। কিছুক্ষণ পর নাবা দৌড়ে আসছে আর কি কাকে যেন কি বললো।আমি লুকিয়ে পড়লাম যাতে নাবা দেখতে না পায়।দরজার পাশের দেয়ালাটার সাথে মিশে দাড়িয়ে আছি। নাবা দরজা খুলে ফুপাকে দেখে বললো, -- তমা আপুকে নিয়ে এলে না কেনো! -- ও আসতে চায় নি।আমি গিয়েছিলাম তো বলতে বলতে ফুপা ভিতরে গেলো। নাবা বললো, -- শাকচুন্নি আরেকবার আসবে না, তখন.. ওর পুরো কথাটা শেষ করতে না দিয়েই আমি ওর মাথায় ঠোকা দিয়ে বললাম, -- আমি শাকচুন্নি না! নাবা আমাকে দেখে খুশিতে চিৎকার করে ফেললো। খুশিতে ও কি করবে তা বুঝতে পারছে না।ফুপি ওর কান্ড দেখে হেসে ফেললো। ফুপি বললো, -- যা ফ্রেশ হয়ে নে। আমি রুমে এসেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। নাবা পাশে বসে বললো, -- ঐ, কি খবর তোমার? -- ভালোই তো। --তুমি যে এখানে আসছো প্রিয়ম ভাইয়া জানে? -- নাহ্। -- সত্যি! নাবা আমার কথা বিশ্বাস করলো না। আমি হেসে বললাম, -- সত্যি, জানে না। আমি ওর সাথে দুষ্টামির করে কয়েক দিন কথা বলি নি। প্রিয়মের কথা মনে পরতেই ব্যাগ থেকে ফোন বের করে প্রিয়মকে কল দিচ্ছিলাম। নাবা ফোনটা হাত থেকে নিয়ে নিলো। তারপর বললো, --এই কল দিয়ো না। জানে জানে না তো জানেই না। রাতে আমাদের বাসায় আসবে খেতে, ফুপু বাসায় নেই তো, তখন তোমাকে দেখলে মারাত্মক শকড হবে। আমি নাবার আইডিয়াটাকে একেবারে ফেলে দিতে পারলাম না। ফ্রেশ হয়ে জানালাটা খুলতে খুলতে বললাম, -- কিরে নাবা, গনশার কি খবর! নাবা জানালার কাছে এসে বললো, -- গনেশরা চলে গেছে এই বাসা ছেড়ে। বেচারা যাওয়ার আগে তোর নাম্বারটা খুব চেয়েছিলো। নাবা হাসলো, আমি ওর সাথে তাল মিলিয়ে হাসলেও গণেশের জন্য কষ্ট পেলাম। ওকে আর দেখতে পারবো না। মাত্র আট টা বেঁজেছে,কিন্তু আমার প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে বিকালে এসে খাওয়া হয় নি। তাই এখন প্লেটে খাবার নিয়ে হেঁটে হেঁটেই খাচ্ছিলাম। নাবা টেবিলে বসে পা দুলিয়ে দুলিয়ে কথা বলছে। ফুপি আমাকে আর নাবাকে বকছে আমি হেঁটে হেঁটে খাচ্ছি বলে আর নাবা টেবিলের উপর বসেছে বলে, ওনার টেবিল নাকি ভেঙে যাবে। দরজায় টোকা পড়লো, আমি নাবার দিকে তাকালাম আর নাবা আমার দিকে তাকালো। মানে বুঝলাম ও দরজা খুলবে না আমাকেই খুলতে হবে। আমি প্লেট হাতে নিয়েই দরজা খুললাম। সৃজন ভাইয়া এসেছে, আমাকে দেখেই চোখ বড় করে বললো, -- প্রিয়তমা! তুমি এইখানে! কখন আসছো? -- এইতো বিকালে। সৃজন ভাইয়া দরজার সামনে দাড়িয়েই জুতো খুলতে লাগলো। আমিও চলে আসলাম, চেয়ারে বসে প্লেটের ভাতটুকু শেষ করে হাত ধুতে বেসিনের কাছে গেলাম। সৃজন ভাইয়া ভিতরে আসতে আসতে বললো, -- প্রিয়তমা পরীক্ষার টেনশনে মোটা হয়ে গেছো। আমি দরজার দিকে তাকাতেই দেখলাম প্রিয়ম ও দাড়িয়ে আছে। আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে দরজাটা ঠাস করে লাগিয়ে সৃজন ভাইয়ার রুমে চলে গেলো। বুঝতে পারলাম না, কি হলো! প্রিয়ম রাগ করলো নাকি! রাগ করবে কেনো? ওর তো খুশি হওয়ার কথা। আমি ভুলেই গিয়েছিলাম প্রিয়মের ফোন ধরি নি এতোদিন, এই জন্যে হয়তো রেগে আছে। কোনোদিন ফোন ধরেও অল্প কয়েকটা কথা বলে রেখে দিয়েছি। মনে পড়তেই বুঝতে পারলাম এই জন্যেই হয়তো রেগে আছে। আমি রাগ ভাঙানোর কোনো চান্সেই পাচ্ছিলাম না। প্রিয়মের সাথে হয়তো সৃজন ভাইয়া আছে, অথবা একা পেয়েছি কিছু বলতে যাবো তার আগেই ফুপি চলে এসেছে৷ কিছু বলতেই পারছিলাম না, এইদিকে এই ঘন্টাখানিকের ভিতরে আমার মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গেলো টেনশনে। অবশেষে উপয়া না দেখে সৃজন ভাইয়ার রুমে গেলাম প্রিয়মকে ডাকার জন্য, গিয়ে দেখি প্রিয়ম ঐখানে নেই। সৃজন ভাইয়া শুয়ে শুয়ে মোবাইলে যেনো কার সাথে কথা বলছিলো। আমি রুমে যেতেই মোবাইল রেখে দিয়ে বললো, -- কিছু বলবে? -- প্রিয়ম কোথায়? চলে গেছে নাকি! -- ও ছাঁদে। আমি কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়েই যাচ্ছি। কিন্তু সৃজন ভাইয়া পিছন থেকে আবার ডাকলো, -- প্রিয়তমা আমি ঘুরে বললাম, -- কি -- ছাদে যাচ্ছো! --হ্যা। -- তোমার উপর প্রচন্ড রেগে আছে। তোমাকে কতবার কল করেছে জানো! একটু সাবধানে কথা বলো কিন্তু! আমি ছাঁদের দরজা পর্যন্ত গেলাম। এরপর আর যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলাম না। খুব ভয় করছিলো, হঠাৎ করে মোবাইলের টর্চের আলো এসে আমার মুখের উপর পড়লো।প্রিয়ম আমাকে দেখে টর্চ টা আবার বন্ধ করে দিলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now