বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অপেক্ষা করতে করতে ফোন কেটে দিয়েছিলো, এতদিন অপেক্ষার পর প্রিয়মের সাথে কথা বলার সুযোগ টা এভাবে হারিয়ে ফেলবো ভাবতেই পারি নি। মন খারাপ করে পরীক্ষা দিতে গেলাম। প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর সবাই প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যস্ত হয়ে গেলো, এটাই স্বাভাবিক। আমিও লিখছিলাম, ঘন্টা খানিক যেতেই হঠাৎ করে আমার মাথায় এলো প্রিয়ম হয়তো চিঠিতে আমার নাম দিতে ভুলে গেছে। হয়তো চিঠির খামের উপর লিখেছে," প্রিয়তমার প্রিয়তম চিঠিটা তার প্রিয়তমাকে দিচ্ছে।" এইটা লিখার কারনেই হয়তো চিঠি আসে নি।তাহলে এখন কি হবে, আমি কি একবার দেখে আসবো পোস্ট অফিসে গিয়ে! এসব চিন্তা ভাবনা করতে করতেই দেখলাম দশ মিনিট চলে গেছে। আমি আবার লেখায় মনোযোগ দিলাম, খুব তাড়াতাড়ি লিখছিলাম, যত তাড়াতাড়ি লিখা শেষ হবে তত তাড়াতাড়ি আমি বেরুতে পারবো, প্রিয়মের চিঠিটা আনতে পারবো। কিন্তু অন্যদিনের মতো সময় শেষ হচ্ছে না, আমার কাছে মনে হচ্ছিলো আজকে সময়ের কাটা বন্ধ হয়ে গেছে। পরীক্ষার হলে বসে থাকতে আমার কতটা অসস্তি হচ্ছিলো, কতটা ছটফট করছি নিজেই বুঝতে পারছিলাম না। অবশেষে অপেক্ষার অবসান হলো। আমার পরীক্ষা শেষ হলো। পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে আমার যেনো একটু শান্তি লাগছিলো। পুষ্পর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। আজকে আব্বু আসে নি, পুষ্পর সাথেই যেতে হবে। পুষ্প হল থেকে বেরিয়ে আমার কাছে এসে বললো,
-- কিরে! কৈ মাছের মত ছটফট শুরু করছস কেন?
-- বান্ধবী, আমার কলিজা! আমার সাথে এক জায়গায় যাবি!
--দরকার পরলো, আর অমনি কলিজা হয়ে গেলাম। কই যাবি?বেশি দূরে কইলাম যামু না!
-- আরেহ্ বেশি দূরে না, পোস্ট অফিসে যামু।
পুষ্প আমার দিকে চোখ বড় করে তাকিয়ে বললো,
-- কুত্তা, তুই জানোস কত্ত দূর! আমি যামু না।
আমি জানতাম পুষ্প যেতে চাইবে না। তাই বিকল্প প্ল্যানও ভেবে রেখছিলাম, বললাম,
-- দেখ, আমি তোর কতো হেল্প করে দিলাম, আর আজকে আমি বিপদে পরে তোর কাছে একটু হেল্প চাইলাম তুই দিলি। বুঝতে পারছি তুই কেমন বান্ধবী।
এর বেশি কিছু বলার সুযোগ পেলাম না, পুষ্প রাজি হয়ে গেলো।
দুজনে মিলে পোস্ট অফিসে গেলাম। একটা লোক টেবিলের দিকে ঝুঁকে কি যেনো দেখছিলো, লোকটার কাছে চিঠি এসেছে কিনা জিজ্ঞেস করতেই লোকটা চশমার উপর দিয়ে আমাদের দেখলো। লোকটা বয়স প্রায় ৩৬-৩৭ হবে। মাথায় টাক পড়ে গেছে এখুনি। মাথা তুলে চেয়ারে হেলান দিয়ে বললো,
-- চিঠি! কার চিঠি! তোমার না তোমার!
আমার আর পুষ্পকে ইশারা করে বললো। আমি বললাম,
-- আমার..
-- একটা চিঠি এসেছে, কিন্তু নাম দেয় নি।কি যেনো একটা লিখেছিলো!মনে পড়ছে না তো
আমি তাড়াতাড়ি করে বললাম,
-- "প্রিয়তমার প্রিয়তম চিঠিটা তার প্রিয়তমাকে দিচ্ছে "লিখা ছিলো।
-- হ্যা হ্যা। বাসার ঠিকানা দেওয়া ছিলো, আচ্ছা তুমি দাঁড়াও আমি চিঠিটা বের করে দিচ্ছি। লোকটা চিঠি বের করতে করতে আবার বললো,
-- তা কিসে পড়ছো!
-- এইতো এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি।
-- ওহ, পরীক্ষা দিয়ে এখানে এসেছো নাকি!
-- জ্বি।আচ্ছা যাই তাহলে
-- হ্যা হ্যা, যাও। বাসার সবাই চিন্তা করবে।
আমরা ওখান থেকে বেরুনোর পর রিকশা পেয়ে গেলাম। রিকশায় উঠার পর থেকে পুষ্প আমাকে দেখছিলো, আমি ওর দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে হাসলাম, পুষ্পর হাসি আসছে কিন্তু ও আঁটকে রেখেছে। আমাকে বললো,
-- প্রিয়তম টা কে রে! ডুবে ডুবে জল খাচ্ছো আর আমাকে বলো নি!
-- বললাম না কোথায়, তোকে নিয়েই তো চিঠি নিতে আসলাম। আর আপনি নিজেও তো আমাকে আপনার কথাটা বলেন নি, মনে নেই! আমি কতো গোয়েন্দাগিরি করে ধরেছিলাম বিষয়টা।
দুজনেই হাসলাম। আমাদের বিকট হাসির শব্দে রিকশাওয়ালা একবার ঘাড় ঘুরিয়ে আমাদের দেখলো। আমাদের হাসি থেমে গেলো। কিছু চুপচাপ থাকার পর পুষ্প বললো,
-- দেখি তো আপনার প্রিয়তম কি লিখছে!
আমি চিঠিটা হাতে নিয়ে একটু বেঁকে বললাম,
-- জ্বি না, অন্যের পারসোনাল চিঠি পড়ার আগ্রহটা এবার আপনার ছাড়া দরকার।
-- কিইইইহ্! ঐ বেঈমান ঐ তুই আমার পারসোনাল চিঠিগুলোতো আমার আগেই পড়ে ফেলতি। বল পড়তি না!
-- মিথ্যা কথা বলিস কেন! মাত্র চারটা পড়েছি।
-- তাহলে আমিও তোর চারটা চিঠি পড়বো।
-- তোর জামাইয়ের আবদার নাকি এটা!
-- হ্যা
-- ওহ্, তাহলে দিবো না। তোর আবদার হলে দিতাম।
পুষ্প অনেক জোর করলো, আমি ওকে দিলাম না। বাসায় আসার পর আম্মু জিজ্ঞাস করলো,
--কিরে! আজকে এতো দেরি হলো কেনো!
-- ঐ পুষ্পর সাথে ওর আন্টির বাসায় গিয়েছিলাম, ওর আন্টি অসুস্থ তো।
আম্মুর সামনে দাড়িয়ে তার চোখের দিকে তাকিয়ে জীবনের প্রথম ফটাফট একটা মিথ্যা কথা বললাম, তারপর রুমে এসে চিঠিটা বের করলাম। উফফ চিঠির খামটা দেখেই আমি বুঝতে পারলাম চিঠিটা অনেক বড় হবে।
ফ্রেশ হয়ে চিঠির খামটা খুললাম, হঠাৎ করে মনে পরলো কেউ রুমে আসতে পারে, তাই উঠে গিয়ে দরজার ছিটকিনি আঁটকে দিলাম।চিঠিটা বের করার পর আমি যেনো পুরো প্রিয়মকে পেয়ে গেছি।তেরো পৃষ্ঠার একটা আমি ঘোর নিয়ে পড়তে বসলাম। প্রত্যেকটা লাইনেই যেনো আমি প্রিয়মকে পাচ্ছিলাম। পুরো চিঠি পড়ার পর আমি আমি একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম, ঘোরের মধ্যেই চিঠি হাতে নিয়ে বসে আছি। প্রিয়ম আমাকে অনেক ভালোবাসে, ওর প্রত্যেকটা লাইনে আমি ছিলাম,
"এই বুচি! আমি যে তোমায় মিস করি সেটা তুমি বুঝতে পারো নাকি! বুঝতে পারো, আমি তোমায় কতোটা ভালোবাসি! আচ্ছা তোমার পরীক্ষা কবে শেষ হবে বলো তো! তোমার সাথে আমি কতদিন ঠিক করে কথা বলতে পারি না, আমি প্রতি মিনিট সেকেন্ডের হিসেব রেখেছি, আমাকে পুষিয়ে দিতে হবে কিন্তু। "
চিঠির এই প্রথম অংশ টা আমি আরেকবার পড়ে নিলাম। আমি চিঠিটা আবার পড়লাম, চিঠির শেষে লিখা ছিলো,
"এই প্রিয়তমা!
তুমি কি ঘুমের ঔষুধ, তোমায় ভাবলেই আমার ঘুম আসে।
তুমি কি বনলতা,
তোমায় ভাবলেই আমি দু দন্দ শান্তি পাই।
আচ্ছা বনলতা সেনের কি চিবুকের নিচে তিল ছিলো! না ছিলো না, বনলতার হিংসে হবে তোমায় দেখে, তুমি বনলতা নও,
তুমি প্রিয়তমা,
প্রিয়মের তমা,
ওহ্, তোমার একটা নতুন নাম হয়েছে,
"প্রিয়ম বউ"
চিঠিটা টেবিলের উপর রেখে জানালার সামনে গিয়ে দাড়ালাম, জানালার বাইরে অন্য বাসার দেয়াল। আমি ঐটায় দেখছি ভালো লাগছে। মনের ভিতর তখনও প্রিয়মের চিঠির ঘোর লেগে আছে। তখনো প্রিয়ম বউ শব্দটার রেশ লেগে আছে। প্রিয়ম বউ শব্দটা পড়ার সাথে সাথেই শরীর শিহরিত হয়েছে।
আরেকবার উচ্চারণ করলাম,
"প্রিয়ম বউ"
হাসলাম, এত ভালো লাগছে কেনো? দরজার ছিটকিনিটা খুলতেই আম্মু এসে সামনে দাঁড়ালো, বললো,
-- দরজা বন্ধ করে কি করছিলি! সেই কখন থেকে ডাকছি। তমা!
আমি আরেকবার বললাম,
"প্রিয়ম বউ"
তারপর খিলখিল করে হাসলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now