বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সরল মেয়ে তমা- (১০ম পর্ব)

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X আচ্ছা সৃজন ভাইয়া কি আমার আর প্রিয়মের সম্পর্কের কথা জানে! প্রশ্নটা মনের মধ্যে ঘুরাঘুরি করতে লাগলো, প্রিয়মকে জিজ্ঞেস না করে থাকতে পারলাম না। প্রিয়ম সন্ধ্যা বেলায় কল দিলো৷ ও কিছু বলার আগেই আমি বললাম, -- এই তুমি সৃজন ভাইয়াকে কি বলছো?? -- আমি তো সৃজনকে অনেক কিছুই বলি। তুমি কি বলার কথা বলছো! আচ্ছা মশার রেসিপিগুলো না তো! -- ঐ তুমি কেনো বললে? -- কি কেনো বললাম। আচ্ছা আমি একা কেনো তোমার এই উদ্ভট রেসিপি গুলো মাথায় নিয়ে ঘুরবো, ওরাও ঘুরতে থাকুক। প্রিয়ম হাসছে, আর আমি রাগে লাল হচ্ছি। রাগ কন্ট্রোল করে বললাম, -- সৃজন ভাইয়া সব জানে নাকি!! --হু -- কি হু! সৃজন আমার থেকে অনেক বুদ্ধিমান। পড়ালেখায় সব সময় ফার্স্ট ক্লাস, ও সবই জানে। --আমি কি বলি আর ওনি কি বলে! -- তুমি কি বলো! -- আমি এটাই বললাম যে, সৃজন ভাইয়া কি আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে জানে! -- হু। জানে তো, আমি তো ওকে প্রায় সব কিছুই বলি।কেনো কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি! -- নাহ্। আমি কালকে চলে যাবো। ওপাশ থেকে কিছুক্ষণ কোনো আওয়াজ আসলো না। কিছুক্ষণ পর বললো, -- তুমি তো বলেছিলে দুইদিন পরে যাবে। -- নাহ্, আব্বু আজকে এসে পড়েছে। -- ওহ। বাড়িতে গিয়ে মশার রেসিপিগুলো ট্রাই করো কেমন! -- প্রিয়ম!! -- জ্বি বুচি সাহেবা বলেন, প্রিয়ম হাসছে,, আমি ওর হাসির শব্দ নিরবে শুনছিলাম। হঠাৎ করেই রুমে আব্বু আসতেই আমি মোবাইল টা কোনো মতে বালিশের নিচে রেখে দিলাম। আব্বু আমার পাশে বসে মাথায় হাত রেখে বললেন, -- শুকিয়ে গেছো! এই মাস দুয়েকে -- আরেহ্ না, আগের মতোই আছি। এই কয়দিন দেখো নি তো! -- হু। কাল সকাল সকাল বেরুতে হবে কিন্তু।সব গুছিয়ে রাখো। আর ভয় পেয়ো না, বাড়ির সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে, তুমি আর কষ্ট পাবে না। আমি মাথা নাড়লাম, আব্বু চলে গেলো। আমি চিন্তায় পরে গেলাম,আব্বু কি ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা বললো! আর তার থেকেও বড় কথা খুব সকালে চলে গেলে তো প্রিয়মকে দেখতে পারবো না। এতো সকালে ও আসবে কিভাবে! খুব সকালে আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলাম। সারাদিন বাসে জার্নি করে, চোখে একরাশ ক্লান্তির ছাপ নিয়ে যখন বাসায় ঢুকলাম, তখন আপা আমাকে একরাশ চমকে দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো, -- এত কিছু তুই সহ্য করলি কেমনে! আমি কিছুই না বুঝে উঠতে পারলাম না, বললাম, --আমি আবার কি সহ্য করলাম? -- আমার কাছে লুকিয়ে রাখলি কেনো! একটা ক্যারেক্টারলেস মানুষের সাথে সংসার করার চেয়ে একা থাকা অনেক ভালো। আমি বুঝে গেলাম, আপা কি বলছে।আব্বুর দিকে তাকালাম, আব্বু সব করেছে আমি জানি। আপা আমার মুখটা ওর দিকে ঘুরিয়ে আবার বললো, -- তুই কি ভাবলি! তোর আপা ঐ লোকটার সাথে থাকবে! আমি সেদিনই ঐ লোকটাকে এই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি। আমি আর ঐ বাড়িতে যাবো না। আমি যখনি কথা বলতে যাবো, ঠিক তখনি আব্বু আমাকে আর আপাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, -- আহ্, এখন না, পরে কথা বলো। এখন হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে নাও। আব্বু এমন কাজ করবে আমি ভাবতেও পারি নি। আমি অনেক খুশি হয়েছি, কিন্তু আপার বাচ্চাটার জন্য, আপার জন্য অনেক কষ্ট লাগছিলো, আমার জন্যই তারা এত কষ্ট পাচ্ছে। আব্বু আপার সাথে কথা বলে ব্যাপারটা মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। প্রিয়মকে না দেখে আমি বাড়িতে এসে শান্তি পাচ্ছিলাম না। তারপর উপর প্রিয়ম খুব কম কথা বলতো, শুধু কয়েক মিনিটের জন্য ও কথা বলতো। বেশি কথা বলতে চাইলেই বলতো, -- তোমার পড়ালেখায় সমস্যা হবে। এখন ভালো করে পড়ো, পরীক্ষার পর তো অনেক সময় পাবে তখন কথা বলবো অনেক সময়। সবসময় এমন কথা শুনতে শুনতে একটা সময় আমার মনে হতো হয়তো প্রিয়ম আমাকে এড়িয়ে চলছে। আবার পরক্ষনেই ভাবতাম ও যা করছে তা আমার ভালোর জন্যই। বাড়িতে আসার পর থেকেই আপাকে দেখে বেশ অবাক হলাম,সে কত কঠোর হতে পারে তাও জানলাম।আম্মুকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে পারছিলাম না, কারণ তিনি আপার বাচ্চার ভবিষ্যৎ এর কথা ভেবে আমায় দোষারোপ করে। তবে আমি বেশ খুশিই ছিলাম, কারণ আপার বাচ্চাটা এখন বেশ গুলুমুলু হয়ে গেছে। পড়াশোনার ফাঁকে একটু আধটু বাচ্চাটার সাথে দুষ্টামিও করতাম।সারাদিনে একবার প্রিয়ম ফোন করতো, এটা কোনোভাবেই ওর ভুল হতো না। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে প্রিয়মের ফোন দেওয়াও বন্ধ হয়ে গেলো। আমি পরীক্ষার সময়টুকু বাদে সব সময় মোবাইল সাথে রাখতাম। প্রিয়ম কল দিবে এই আশায়, কিন্তু প্রিয়ম পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই বলে দিয়েছিলো, সে পরীক্ষা চলাকালীন আমাকে কল দিবে না। আমাকে ওর কথা শুনতে হলো। তারপরও পরীক্ষা দিয়ে বাসায় এসে একবার মোবাইল চেক করতাম, আবার সাথে ঘুমানোর আগে মোবাইল হাতে নিয়ে বসে থাকতাম যদি প্রিয়ম কল দেয় এই আশায়। একদিন পরীক্ষা দিয়ে বাসায় এসে মোবাইল হাতে নিতেই দেখি প্রিয়ম অনেকগুলো কল দিয়েছে। আমার খুশি আর দেখে কে! হঠাৎ করেই চোখমুখ চকচকে হয়ে উঠলো। আমি বেশ কয়েকবার কল দিলাম,ওর ফোন বন্ধ ছিলো। এরপর সারাটাদিন মোবাইল হাতে নিয়ে চাতক পাখির মতো তাকিয়েছিলাম প্রিয়ম কখন কল দিবে। রাতেও ওর ফোনের অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পরেছিলাম,প্রায় রাত বারোটায় রিংটোনের আওয়াজে ঘুম ভাঙলো, ঘুম জড়ানো চোখে Mr.Lombu নামটা দেখার পর আমার ঘুম এক নিমিষেই হারিয়ে গেলো। লাফ দিয়ে শুয়া থেকে উঠে বসলাম। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বললো, -- এই বুচি! আমার মনে হচ্ছিলো আমি প্রায় দশ বছর পর প্রিয়মের কন্ঠস্বর শুনছি, ওর কন্ঠস্বর শুনে আমার আবার ঘুমে ধরছিলো, এতদিন ওর কন্ঠস্বর না শুনার ফলে যে ঘুমাতে পারি নি! প্রিয়ম আবার বললো, -- এই বুচি! ঘুমিয়ে গেছো নাকি! -- না। -- তাহলে এতক্ষণ কথা বলো নি কেনো! --শুনছিলাম। -- কি! -- আওয়াজ --কার? -- তোমার! -- বাহ্, প্রেম দেবী তোমার মধ্যে ভর করেছে নাকি! --ধূর,, সব সময় মজা করবা না। প্রিয়ম হাসলো, ওর হাসির শব্দ যেনো আমার চোখে আরও ঘুম এনে দিচ্ছে,এতদিনে আমি ঠিক করে ঘুমাতে পারবো। প্রিয়ম বললো, --আচ্ছা, তোমার কাছে চিঠি এসেছে! --না,, পাঁচ মিনিট কথা বলতে পারে না, এখন চিঠি লিখেছে।ভালো হয়েছে আসে নি।আসলেও আমি পড়বো না। আরোও কিছু বলবো, তার আগেই আপু এসে দরজায় টোকা দিলো।হয়তো কথা বলার আওয়াজ শুনেই এসেছে। আমি শুয়ে পড়লাম, একটু পর দেখলাম আপু রুমের ভিতরে এসেছে, আমি যাচ্ছেই না। অনেকক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকতে থাকতে আমি একসময় ঘুমিয়েই পড়লাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now