বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সরল মেয়ে তমা- (৪র্থ পর্ব)

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X একটা লোক আমাকে রেপ করার চেষ্টা করছে এমন একটা স্বপ্ন দেখে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলো। আমি শিউর স্বপ্নে হয়তো দুলাভাইকেই দেখেছি, বিছানায় বসে দুলাভাই আমার সাথে কি কি করছে তা ভাবতে ভাবতেই চোখে পানি চলে আসলো। কিছুক্ষণ পর গলাটা একদম শুকিয়ে গেলো, উঠে ডাইনিং রুমে গেলাম, বারান্দায় লাইট জ্বলছে হালকা আলো ডাইনিং রুমের অন্ধকারটা অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। আমি চেয়ার টেনে বসে এক গ্লাস পানি খেলাম। কবে আমি এই ভয় থেকে মুক্ত হবো তা ভাবতে লাগলাম। দুইহাত দিয়ে মুখ ঢেকে বসে আছি, হঠাৎ মনে হলো কেউ রুমের মধ্যে হাঁটছে। মুখের উপর থেকে হাত সরাতেই চোখে টর্চের আলো এসে পড়লো, চোখ বন্ধ করে ফেললাম। ---তোমাকে তখন চা বানাতে বললাম, আর তুমি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছো। সৃজন ভাইয়ার গলা শুনে আমি চেয়ার ছেড়ে দাড়ালাম। যখন সৃজন ভাইয়া আমাকে চা বানাতে বলেছিলো তখন আমার অনেক ঘুম পাচ্ছিলো, আর আমার ঘুম পেলে আমি এক মুহূর্তও দাড়িয়ে থাকতে পারি না, তাই তাকে চা না দিয়েই আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। এখন মনে পড়লো আমি তো ভাত খাই নি। আমি বললাম, -- আমার তখন খুব ঘুম পেয়েছিলো। তাই... -- আমার তখন খুব পিপাসা পেয়েছিলো -- পিপসা পেয়েছিলো, টেবিলের উপর তো পানি ছিলো খেয়ে.. আমাকে পুরো কথাটা বলতে দিলো না। তিনি বলতে লাগলেন, -- চুপ, আমার সাথে মজা করতেছো? তুমি তখন আমার জন্য চা না বানিয়ে ভুল করেছো, অন্যায় করেছো তাই তোমাকে এখন থেকে সব সময় আমার জন্য চা বানাবে। এটা তোমার শাস্তি। আমি বিড়বিড় করে বললাম, -- এ্যাহ্,আইছে কোন প্রধানমন্ত্রী। সৃজন ভাইয়া বললো, -- এই কিছু বললে! -- নাহ্ -- গুড, যাও আমার জন্য এখন কফি বানিয়ে নিয়ে এসো। আমি ডানে বামে মাথা নেড়ে বললাম, -- কফি কেনো বানাবো! আমাকে শুধু চা বানানোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে। -- চা মানে চা কফি দুটোই বানাতে হবে। বাই দ্য ওয়ে, তুমি কফি বানাতে পারো তো! -- জ্বি -- ওকে, যাও। আমি সৃজন ভাইয়াকে পাশ কাটিয়ে কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে বললাম, -- ব্যাটা খাটাশ। এই মাঝরাতে কফি খাওয়ার ইচ্ছা হইছে, আমাকে কি কাজের বুয়া পাইছে। আল্লাহ, কফি খাইতে গিয়ে যেনো ওর জ্বিভ পুড়ে যায়। সৃজন ভাইয়া আবার আমার দিকে টর্চ জ্বেলে বললো, -- এই, তুমি কিছু বলছো? আমি কিছু না বলে রান্নাঘরের দিকে দৌড় দিলাম। রান্নাঘরের কোথায় কি রাখা আছে তার কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না, পাবো কি করে আমি তো জানিই না কোথায় কি আছে। সৃজন ভাইয়া সোফায় বসে বসে কোথায় কি আছে বলে দিলো। অপারেশন কফি শেষ করে সফল হয়ে আমি সৃজন ভাইয়ার হাতে এখন মগ সফল কফি ধরিয়ে দিয়ে রুমে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। আমাকে এখন থেকে প্রতিদিন চা কফি করতে হবে। ভাবতেই আমার মাথা ব্যাথা করছে, নিজেকে স্বান্তনা দিলাম এটা বলে যে থাক সারাদিনে তো এক দু কাপেই চা বানাতে হবে। পরদিন সকাল সকাল আব্বু চলে গেলো। আব্বু চলে যাওয়ার পর থেকেই মন খারাপ।সারাদিন বাসায় একা একা,মন ভালো করার মতো কেউ নেই, নাবাও বাসায় নেই, স্কুল প্রাইভেট, কোচিং সব শেষ করে সন্ধ্যার আগে আগে বাসায় আসবে। ফুপিও নাবাকে স্কুল থেকে এনে কোচিংয়ে দিতে গেছে। এদিকে মন খারাপ করার মানুষ এসে গেছে, মিঃ হোয়াইট এস এসে গেছে সকাল থেকে বাসায় ছিলো না, তিনি আসার পর থেকে আমাকে দিয়ে শুধু চা বানানোর অর্ডার দিয়েই যাচ্ছে। ঘন্টাখানেক পরে পরে চা বানাতে বলছে। তাই এখন বেশি করে চা বানিয়ে রেখে দিয়েছি।যখনি চা বানানোর কথা বলে আমি ফ্লাস্ক থেকে চা ঢেলে দিয়ে আসি। এতো তাড়াতাড়ি চা নিয়ে যাওয়া তে সৃজন ভাইয়া আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো, তারপর বললো, -- কি ব্যাপার এতো তাড়াতাড়ি চা কিভাবে বানিয়ে আনছো? -- চা বানানোতে পটু হয়ে গেছি। --ওহ্, গুড। কুইক লার্নার। বিকেল বেলা, বাসায় একলা বসে আছি। ফুপি নাবা কে আনতে গেছে, সৃজন ভাইয়া ও কোথায় যেনো গেছে। সময় একদম কাটছে না। ঢাকা সময় কাটতেই চায় না। বিছানায় বসে বসে গুনগুন করে গাইছিলাম। হঠাৎ পাশের বাসার গনশা পুন্য ছেলেটা ডাক দিলো।আমি এগিয়ে গেলাম, পুন্য বললো, --কি করো, তমা? -- বসে আছি। তুমি? -- এইতো প্রাইভেট পড়ে আসলাম। তুমি প্রাইভেট শুরু করো নি! -- নাহ, কাল থেকে করবো। ওহ্। কলিংবেল বাজাচ্ছে, হয়তো ফুপি এসে গেছে নাবাকে নিয়ে। তাই আর মিনি হাতিটার সাথে কথা বলা হলো না। দরজা খুলে দিতেই ফুপি রুমে ঢুকলো। বোরকা খুলতে খুলতে বললো -- তোর প্রাইভেট কোচিং সব ঠিক করে এলাম। ঐ যে পাশের বাসার ছেলেটা ওর সাথেই যেতে পারবি, আসতে পারবি। আমার সাথে দেখা হয়েছিলো, আমি বলেছি তোকে নিয়ে আসতে। বিকেলবেলা আসার সময় নাবাকেও নিয়ে আসতে পারবি। তাহলে আর আমার যেতে হবে না। ফুপি পাখা টা ছেড়ে বিছানায় শুয়ে রইলেন কিছুক্ষণ তারপর বললেন, -- ভাইজান বলছিলো তুই ইংরেজি তে দুর্বল, সৃজন একটু আধটু দেখিয়ে দিলেই হবে, আর একটা প্রাইভেট তো আছেই। এতো পড়াশোনার কথা শুনে আমার মাথা ততক্ষনাৎ হ্যাং করলো। এতো পড়ালেখা আমি তো বাড়িতেই পড়ি না। আর সৃজন ভাইয়া পড়াবে কি, আমাকে দিয়ে চা বানাতে বানাতেই ঘন্টাখানেক শেষ করে দিবে। রাতে খাওয়ার সময় ফুপি সৃজন ভাইয়াকে বললো, --- সৃজন, তুই তমাকে একটু ইংরেজিটা দেখিয়ে দিস তো। সৃজন ভাইয়া খাওয়া থামিয়ে আমাকে কিছুক্ষণ দেখলো, তারপর বললো, -- আমি কাউকে ইংরেজি পড়াতে পারি না আম্মু, সেটা তুমি জানো। আমি প্রিয়মকে বলে দিবো, ও নাবা আর প্রিয়তমাকে একঘন্টা করে পড়াবে। ফুপি মাথা নেড়ে বললেন, -- সেই ভালো। পরদিন সকাল বেলাতেই গনশা এসে হাজির। আমাকে নিয়ে যাবে। ফুপি গনশা কে বলে দিলো সকাল দুপুর এই দুই বেলা তিনিই নিয়ে যাবেন তিনিই নিয়ে আসবেন। শুধু বিকেলবেলায় যেনো আমরা একসাথে চলে আসি। তো তাকে এক প্লেইট মিষ্টি দেওয়া হলো। সে কয়েক সেকেন্ডে সেগুলো সাবার করে দিলো। প্লেইটে প্রায় সাত আটটা মিষ্টি ছিলো।এরপর দিনগুলি এমনেই কাটতে লাগলো।প্রাইভেটে দৌড়াদৌড়ি করতে করতেই দম শেষ, বিকেলবেলায় গনেশ পুন্যর সাথে আসতে ভালোই লাগে। সে প্রত্যেকটা স্যারের কাছে জোকার হিসাবে বেশ পরিচিত, বাসায় আসার সময় আমাদেরকেও জোক্স বলে বলে আসে। তবে বাসায় এসে যে স্যার পড়ানোর কথা ছিলো সে আসে নি। প্রায় সপ্তাহ দুয়েক পর.. প্রাইভেট পড়ে আমি, নাবা, আর গনেশ পুন্য বাসায় ফিরছিলাম। বাসার কাছাকাছি আসতেই গনেশ বললো, -- তমা একটা কথা বলবো! -- বলো, -- আমি না.. -- তুমি কি -- আমি তোমাকে ভালোবাসি। I love you.. আমি তো কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। এই গনেশটা বলে কি! নাবা বললো, -- কাকের বাসায় কোকিলের ডিম। পুন্য বললো, -- ঠিক, আমি কাক.. কিন্তু -- আরে তুমি তো কাক না কাউয়্যা নাবা কথাটা বলে চলে আসলো, আমিও ওর সাথে চলে আসলাম। বাসায় আসার পর দুইজনে এই বিষয় নিয়ে বেশ হাসাহাসি ও করলাম, শেষ পর্যন্ত এই মোটু! এরপর আমি আর নাবা দুইজনেই তাকে এড়িয়ে চলতাম। তবে সে জানালা দিয়ে আমাদের ডিস্টার্ব করা শুরু করলো। ছোট্ট ছোট্ট কাগজের টুকরো ঢিল দিয়ে আমাদের রুমে ফেলতে লাগলো। ভাবতে লাগলাম কি করা যায়, কিভাবে এর থেকে মুক্তি পাবো, তো বুদ্ধি পেয়ে গেলাম। জুতা আর একটা মাঝারি সাইজের ঝাড়ু কিনে এনে জানালার গ্রিলে বেঁধে রাখলাম। বেচারা জানালা খুলতেই দেখতে পাবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now