বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সরল মেয়ে তমা-(২য় পর্ব)

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X --দুলাভাই আজকে আমার সাথে খারাপ কিছু করতে চেয়েছিলো। আমি এর চেয়ে ভালো বুঝিয়ে বলতে পারি নি, বলতে আমার মুখে বাঁধছিলো, চোখ আবার ঝাপসা হয়ে গেলো।সন্ধ্যা থেকে আম্মু অনেকবার দরজায় নক করছে, তারপর হয়তো ভেবেছে আমি ঘুমিয়ে আছি তাই আর নক করে নাই। আমি অনেকক্ষণ ধরে নিজেকে বুঝাতে চেষ্টা করলাম।ঠিক করলাম ঘটনাটা আম্মু আব্বুকে বলে দিবো, লুকিয়ে রাখলে হয়তো পরে এর থেকে বেশি বিপদে পড়তে পারে।তাই এসে কথাটা বলে দিলাম। আমার কথা শুনে আব্বু আম্মু দুজনেই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে রইলো।আব্বু শুয়ে ছিলো, আমার কথা শুনে উঠে বসলেন।কিছুক্ষণ রুমে শুনশান নিরবতার পর আম্মু বললো, --মানে! -- মানে তার.... গলা কেঁপে উঠলো, তারপরও বললাম, -- ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছিলো।এবার কি আরোও খুলে বলতে হবে! তোমাকে তো আমি আগেই বলেছিলাম, তুমি যদি আমার কথা সেদিন শুনতে তাহলে আজকে আর এই কথাটা শুনতে হতো না তোমাদের। ২. রাত বারোটা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, শুধু তিনজন বাদে। আমি আব্বু আর আম্মু। আম্মু আমার ব্যাগ গুছিয়ে দিচ্ছে। আমি দরজায় হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছি। আব্বু অনেকক্ষণ বিছানায় বসে থেকে আমাকে দেখলো।তারপর রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। কেউ আমার সাথে কোনো কথা বলছে না। আমি আম্মুকে ঘটনা বলার পর তিনি আমার দিকে আবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো,তারপর কপাল চাপড়ে কাঁদতে লাগলো। আব্বু বাসায় আসার পর আম্মু হয়তো সব বলেছে, রাত এগারোটার দিকে আমাকে আব্বু ওনার রুমে ডাকলো, আমি ওনার রুমে যেতেই বললো, -- তুমি কাল তোমার ফুপির বাসায় চলে যাবে।ঐখানে থেকেই পড়াশোনা করবে। তোমার ফুপি প্রাইভেট কোচিং সব ঠিক করে দিবে। আমি তখন বরফের চেয়েও ঠান্ডা ছিলাম।তারপরও মুখ ফুটে একটা কথা জিজ্ঞেস করলাম, -- আমি কেনো যাবো ঐখানে? আর কলেজে এটেন্ডেসের... আমার কথাটা শেষ করতে দিলো না আব্বু।তার আগেই বললো, ---তোমার ভালোর জন্য, তোমার আপার ভালোর জন্য, আমাদের ভালোর জন্য তুমি ঐখানে যাবে। আর কলেজের বিষয়টা আমি বুঝে নিবো। -- তোমরা তাকে কিছুই বলবে না!!! আব্বু আম্মু আমার দিকে তাকিয়েছিলো, তাদের দৃষ্টি পরিষ্কার বলে দিয়েছিলো তারা অসহায়।আমি আর কিছুই বলি নি। চুপচাপ দরজার পাশে দাড়িয়েছিলাম। আব্বু রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই, দৌড়ে গিয়ে আম্মুর হাতগুলো ধরে বললাম, --- আম্মু আমি যাবো না, তুমি জানো আমি তোমাদের ছাড়া একদিনও থাকতে পারি না। তোমরা আমাকে কেনো বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছো।তাকে বের করে দাও! আম্মু হাতগুলো ছাড়িয়ে নিয়ে ব্যাগের চেইন লাগাতে লাগাতে বললো, --- সব জিনিস দিয়ে দিয়েছি।যদি কিছু বাকি থাকে তাহলে পরে তোমার আব্বু গিয়ে দিয়ে আসবে। এখন তাড়াতাড়ি গিয়ে শুয়ে পড়ো, সকাল সকাল বেরুতে হবে। ওরা আমার সাথে এমন আচরণ করছিলো, যেনো আমিই এই ঘটনার জন্য দায়ী। আর কোনো কথা বলে নিজের রুমে এসে শুয়ে পড়লাম। অনেকক্ষণ বিছানার এপাশ ওপাশ করলাম, ঘুম আসছে না। বাবুর কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছি, হয়তো আপাও জেগে আছে। আপাকে বললে কেমন হয়! উঠে দাড়ালাম, দরজা খুলে আপার রুমে গেলাম। টেবিল ল্যাম্পটা জ্বলছে, আপা আমাকে দেখে বললো, -- রুমের লাইটটা একটু জ্বালা। আমি রুমের লাইটটা জ্বালিয়ে দিয়ে আপার কাছে গিয়ে বসলাম। আপা বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছিলো, আমাকে দেখে বললো, --ঘুমাসনি এখনো? আমি বাবুর হাত নিজের হাতের মধ্যে রেখে বললাম, -- নাহ্, বাবু কান্নার শব্দ শুনলাম তাই উঠে আসলাম। আপা হাসলো, -- তোর দুলাভাই এইজন্যই আজকে চলে গেছে।বলে কান্না শব্দে নাকি সে আজকে ঘুমাতে পারবে না। -- আপা!! আপা আমার দিকে তাকিয়ে বললো, -- কিছু বলবি, তমা ওহ্ নাম বলতে ভুলেই গেলাম, আমার নাম তমা। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই আম্মু চলে আসলো, আপাকে বললো, -- কি রে বাচ্চা ঘুমায় নাই? তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললো, -- তমা তুই যা, কাল সকাল সকাল বেরুতে হবে। আপা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, -- ও কোথায় যাবে! -- তোর ফুপির বাসায়।ঐখানেই থাকবে। --কেনো? -- সামনে পরীক্ষা, আার তোর বোন তো পড়াশোনা করেই না। ঐখানে বড় আপা আছে, দেখবি শাসন করে পড়াশোনা করাবে। আমি আম্মুকে একবার দেখে রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম, আম্মু আপাকে মিথ্যা কথা বললো। নিজের রুমে ঢুকতে না ঢুকতেই আম্মু কোত্থেকে এসে যেনো ঠাস করে গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো।কিছুই বুঝলাম না, কেনো আমাকে চড় মারা হলো! ড্যাবড্যাব করে আম্মুর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম, তারপর চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। আম্মু রাগি গলায় বললো, -- মান সম্মান সব শেষ করে দিতে চাস নাকি! তুই জানিস, তুই আজকে যে কথা টা বলতে যাচ্ছিলি সেই কথার জন্যে তোর বোনের সংসার ভেঙে যেতে পারে। তোর আব্বুর মান সম্মান মাটিতে মিশে যেতে পারে। --আপুর তো উচিত জানা, আর ঐ লোকটা ভালো না, ওর সাথে না থাকায় ভালো। আর আমি কোনো অন্যায় করি নি, তোমাদের মান সম্মান নষ্ট হবে কেনো! কোথায় তোমরা আমার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার করবা, তা না আমাকে ফুপির কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছো। -- তমা তুই বেশি কথা বলিস! ঘুমাতে যা, আর এই কথা কারো কাছে বলবি না। -- কেন? বললে কি হবে! -- এ্যাহ্, এটা যেনো গর্বের কথা, বলতে হবে। বললে তোরেই কপাল পুড়বে, বিয়েও দিতে পারবো না আমরা।সবাই তোর মুখেই থুতু দিবে। আম্মু রুম থেকে বেরিয়ে গেলো, আমি দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়লাম। আমি তো কিছুই করি নি, তারপরও আমাকেই কেনো কথা শুনতে হবে।কেনো ঐ লোকটা কোনো সাজা পাবে না।কেনো সব সাজা আমাকেই ভুগতে হবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now