বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সরল মেয়ে তমা-(১ম পর্ব)

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X দুলাভাই আমাকে খারাপ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করে তা আমি বুঝতে পারলেও আমার পরিবারের কেউ বুঝে না। তারা মনে করে দুলাভাই আমার সাথে ঠাট্টা মশকরা করে। তিনি কথায় কথায় পিঠে কাধে হাত রাখতে চায়, হুটহাট করেই জড়িয়ে ধরে। আমার পরিবারের কেউ সেগুলো দেখে না,দেখলে হয়তো বিশ্বাস করতো। একদিন আমি আম্মুকে বললাম, --- আম্মু দুলাভাইকে বলবা কথা বলার সময় যেনো গায়ে হাত না দেয়। আমার ভালো লাগে না। আম্মু আমার দিকে কতক্ষণ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো, কিছুক্ষণ পর হেসে বললো, ---তোর সাথে ঠাট্টা মশকরা করে। তা তোর যদি পছন্দ না হয় তাহলে তুই নিজেই না করিস। তিনি কথাটা শেষ করে যে কাজ করছিলেন আবার তা করতে লাগতে লাগলেন।আম্মুর কথা শুনে আমি আশাহত হলাম। তারপর থেকে নিজেকে অনেকটাই লুকিয়ে রাখতাম দুলাভাইয়ের কাছ থেকে।দুলাভাইয়ের বাড়ি যাওয়ার কথা উঠতেই আমি এড়িয়ে যেতাম।দুলাভাই আমাদের বাসায় আসলে তার সামনে যেতাম না।যদি সেখানে তিনি আবার আমার গায়ে অসৎ উদ্দেশ্যে হাত দেয়। আমি কিছু মুখ ফুটে বলতে পারতাম না, এসব শুনার পর যদি আমার আপার সংসার ভেঙে যায়। হঠাৎ আমরা জানতে পারলাম আপা প্রেগন্যান্ট। আমরা সবাই তো মহাখুশি, প্রথম বাচ্চা হবে। আপার সাত মাস চলাকালীন সময়ে তাকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসা হলো। তখন আবার সমস্যার শুরু হলো, আপা আসার সাথে সাথে আমাদের বাসায় দুলাভাইয়ের আনাগোনাও বেড়ে গেলো। দুলাভাই প্রত্যেক বৃহস্পতিবার বিকালে আসতো। শনিবার দিন দুপুর অথবা বিকালে চলে যেতো। আমি ঐ কয়টা দিন দুলাভাইয়ের মুখোমুখি না পড়ার জন্য তাকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য সকাল সকাল বাসা থেকে বেরিয়ে যেতাম। আর ফিরতাম মাগরিবের আজানের সাথে সাথে। এত দেরি হলো কেনো জিজ্ঞাস করলে বলতাম প্রাইভেট কোচিং ছিলো, তাই দেরি হয়ে গেছে। শুক্রবার বান্ধবীদের বাসায় চলে যেতাম। সবাই মিলে গ্রুপ স্টাডি করতাম।আমি সব সময় চেষ্টা করতাম যাতে দুলাভাইয়ের সামনে না পরতে হয়। কিন্তু একবার না একবার তার সামনে পরতেই হতো।এই লুকোচুরি করতে করতে আমি হাঁপিয়ে গেলাম,যে কোনোভাবে মুক্তি পেতে চাচ্ছিলাম।কিন্তু কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কয়েকমাস পর আপার বাচ্চা হলো।তারিখটা ঠিক মনে পড়ছে না। তবে জানুয়ারি মাসে হয়েছিলো। বাচ্চাটা যেদিন হলো ঐদিন হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল সাথে বাতাস৷ ঠান্ডা পুরোদমে পরে গেলো। দুলাভাইকে খবর দেওয়া হলো, তিনি ঘন্টা তিনেক পর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আমাদের বাসায় আসলেন৷ তখন আমরা বিষেশত আমি এতো খুশি ছিলাম যে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম দুলাভাইয়ের কথা। সবাই বাচ্চাকে দেখলো কোলে নিলো। আমিও কোলে নিলাম, তবে ভয়ে ভয়ে। যদি দু'হাতের মাঝখান দিয়ে বাচ্চা পরে যায়। ছেলে হয়েছে আপার, আমি ভেবেছিলাম মেয়ে হবে,তাকে কিভাবে সাজাবো কেমন জামা পড়াবো এসব নিয়ে ভাবতাম।কিন্তু যখন শুনলাম ছেলে হবে তখন মন খারাপ হয়ে গেলো। কিন্তু এখন আর সেই মন খারাপ নেই, আমাদের মধ্যে একটা পুঁচকু এসেছে এটাই বড়ো।আমি বাচ্চাকে কোলে নিয়েই তার গায়ের রঙ দেখলাম, ধবধবে সাদা গায়ের রঙ, মুখটা গোলগাল, থুতনি তে একটা গর্ত ও আছে আমার মতো। কিন্তু ঠান্ডায় বেচারার ঠোঁট গুলো নীল হয়ে গেছে। দুপুরের পর আপার শশুড়বাড়ির অনেকেই আসলো বাবুকে দেখার জন্য। এতো মানুষ, সবাই আমার থেকে বয়সে বড়, তারা সবাই বাবু দেখতে কেমন হয়ছে,বাবুর খেয়াল কিভাবে রাখবে ঐসব আপাকে বুঝাতে লাগলো। এর মধ্যে আমার ফোন আসলো, আমার বান্ধবী পুষ্প কল দিয়েছে, আমার কাছে কিছু নোট আছে ওর। ঐগুলোই নিতে আসছে। আমি আমার রুমে আসলাম, নোটগুলো খোজার জন্য কোথায় রেখেছি তা মনে নেই। রুমটা বেশ অন্ধকার, আমাদের বাসার পাশে আরেকটা বাসা উঠানোতে ঘরগুলো অন্ধকার হয়ে থাকে। আমি লাইট জ্বালিয়ে নোটগুলো খুজতে লাগলাম। হঠাৎ করেই আমাকে পিছন থেকে কেউ জড়িয়ে ধরলো। আমি বুঝতে পারলাম কে জড়িয়ে ধরেছে কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি চললো, আমি নিজেকে ছাড়াতে ব্যস্ত, চিৎকার করতে পারছি না। চিৎকার করলে সবাই আসবে ঠিকই কিন্তু আমার পরিবারের মান সম্মান হয়তো ধূলোই মিশে যাবে। মনে মনে আল্লাহ কে ডাকছি। বারবার বলতে লাগলাম " ছাড়ুন আমাকে, ছাড়ুন আমাকে"। হঠাৎ টেবিলের উপর রাখা স্টিলের স্কেলটা চোখে পড়লো। স্কেলটা হাতে নিয়েই তার বাম হাতে বসিয়ে দিলাম।অনেক জোরে গিয়ে স্কেলটা হাতের মধ্যে কিছুটা অংশ ডুকে গেছে। দুলাভাই আমাকে ছেড়ে তার হাত চেঁপে ধরেছে।তার চোখ লাল বর্ণ ধারণ করেছে। আমি কোনোমতে দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম। কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। মাথার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে,ধস্তাধস্তির সময় খোঁপা খুলে গেছে, ওড়নাটাও ঠিক মতো নেই। আমার এখন চুল বাঁধা আর ওড়না ঠিক করার মতো অবস্থা নেই। পাশের বাসার আন্টির কাছে চলে যাবো ঠিক করলাম। একদৌড়ে গিয়ে দরজাটা খুলতেই দেখলাম পুষ্প দাড়িয়ে আছে, আমার বান্ধবী। পুষ্প হেসে বললো, --বাহ্, তোর কি টাইমিং রে।এখনই আমি দরজায় নক করতে যাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ অবাক হয়ে আমাকে দেখে আবার বললো, --কি রে কি হয়েছে? তোর এই অবস্থা কেনো?মাথার চুল আর ওড়না এমন হয়ে আছে কেন! আর তুই হাঁপাচ্ছিস কেনো? পুষ্পর কথা শুনে আমি ঘাবড়ে গেলাম।একবার ভাবলাম পুষ্পকে সব বলে দিবো।কিন্তু পরক্ষনেই মনে পড়লো ওকে বলা যাবে না, পরে হয়তো ও ওর মা কিংবা অন্য কারো সাথে বিষয়টা শেয়ার করবে।এভাবে সবাই জেনে যাবে। নিজেকে সামলে নিলাম। মাথার চুল খোঁপা করে ওড়নাটা ঠিক করে গায়ে মাথায় পেঁচিয়ে নিলাম। কপালে জমে থাকা ঘামটা মুছে নিয়ে পুষ্পকে বললাম, --আরে তুই তো জানিস আজকে আমাদের বাড়িতে নতুন মেহমান আসছে, আর তাকে দেখতে আরো মেহমান আসছে। আম্মা তো নতুন মেহমান আর তাকে দেখতে আসা মেহমানদের নিয়ে ব্যস্ত। তাই আমার কাজটা বেড়ে গেলো।এটা ওটা দৌড়ে আনতে হচ্ছে তাই হাঁপিয়ে গেছি। তুই আয়, ভিতরে এসে বস। আমার একা রুমে যেতে ভয় করছিলো, তারপরেও যেতে হলো, পুষ্প আপার বাবু দেখতে আপার রুমে গেছে। রুমে উঁকি মেরে দেখি দুলাভাই নেই, তার মানে চলে গেছে। কেউ আমার কাঁধে হাত রাখতেই চমকে উঠলাম, আমি ভেবেছিলাম আবার দুলাভাই এসেছে, কিন্তু ঘুরে দেখলাম পুষ্প। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। পুষ্প বিছানায় বসলো, আমি ওকে নাস্তা দিয়ে নোটগুলো খুঁজে বের করলাম। পুষ্প নোটগুলো নিয়ে চলে গেলো, যাওয়ার আগে আরেকবার জিজ্ঞেস করলো, -- তুই কি সমস্যায় পড়েছিস? আমি বললাম, -- আরে ঠিক আছি। কিন্তু আমি ঠিক নেই। আমি সেই অষ্টম শ্রেণী থেকেই ঠিক নেই, আজ দ্বাদশ শ্রেনীতে, এখনো ঠিক হতে পারি নি। আমার সাথে এসব হয়েই আসছে, আমি কিছুই বলতে পারছি না। পুষ্প চলে গেলো।আমি পুষ্পকে বিদায় দিয়ে নিজের রুমে এসে দরজাটা লাগিয়ে দিলাম,যাতে কেউ আসতে পারে, আজকে আমার সাথে কি হতে যাচ্ছিলো একবার ভাবার চেষ্টা করলাম, ভাবতেই চোখ দিয়ে অনর্গল পানি পড়তে লাগলো, ভিতর থেকে হাজার হাজার চিৎকার বেরিয়ে আসছিলো। বালিশে মুখ চেঁপে ধরলাম, যাতে কান্নার শব্দ বাইরে না যায়। ইচ্ছে করছে এই মুহূর্তে নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছা করছে, আমি না থাকলেই ভালো,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now