বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বোবা অভিমান

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md.MHB Kalomder (০ পয়েন্ট)

X সন্ধ্যায় বাবা ঘরে ঢুকে মেয়েটাকে ডেকে বললো, " বাসায় কী আছে, খেতে দিবা আম্মু "। মেয়েটা ভেতরে এসে ছটফট করে খাবার খুঁজছে,বাবাকে কি দেয়া যায়। আর খুশিতেই একপ্রকার অনবরত কাঁদছে।কারণ তাদের মধ্যে কথা হয় খুব কম,জরুরি বৈ কিছু নয়। এইত গতবছর রমজানে, ইফতারের ঘন্টাখানেক আগে কীসের জের ধরে ছোটছেলের খেলার ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে বাবা মেয়েটার পিঠে আঘাত করে। সজোরে মার খাওয়া ধাক্কাটা সামলে সারাদি উপোস মেয়েটা উঠে দাঁড়ায়,বাবার চোখে চোখ রাখে প্রথমবার। পুরুষটা সরে যায়, সেই খরতাপ চোখের প্রখরতা সে নিতে পারেনি। আমি দেখেছি মেয়েটাকে অনেকদিন কুঁজো হয়ে হাঁটতে। হাঁড় হাঁড় ব্যাথা আজো ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে মেয়েটা মধ্যরাতে। ছোট থাকতে একবার এমনি ক্যাবল তার দিয়ে মেরেছিল মেয়েটাকে,মেয়েটা চিৎকার করে বলেছিল " আর করবো না তো আব্বু,আর করবো না"। শুনতে শুনতে আমার নিজের চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। পায়জামার কাপড় হাঁটু তুলে পিছনে বাঁকিয়ে ফর্সা লোমশ পায়ে কালচে একটা দাগ দেখালো। লোকটা বাজেরকম বদমেজাজি আসলে। বিয়ে উপযুক্ত মেয়েটার গায়ে আজো হাত তুলে। শেষবার মাসখানেক আগে এমনি কিসের জের তুলে এক লাথি মেরে তাকে বেসিনে ফেলে দিসিলো।আমি দেখি তলপেটে হাত দিয়ে ছাদে আসছে।আমি বলি"পিরিয়ড চলছে,ছাদে এলি কেন"। তার বিষন্ন চোখে হটাৎ ছলছলে জলের স্রোত বেরিয়ে এলো,আমি বুকে জড়িয়ে নিলাম।আমার কোন বোন নেই,তবু অজানা ক্ষোবে বুকে তীব্র চিনচিনে তোলপাড় করে চলেছে। সব মেয়ে নাকি তার স্বামী চরিত্রে তার বাবার ছায়া খোঁজে, মেয়েটা খোঁজে না।পুরুষ মানুষ ভাবতেই তার গা গুলিয়ে আসে,হিংস্রতায় থরথরে কাঁপুনি দেয় সারা শরীর।হৃদপিণ্ডের দরপন রক্তের শিরায় শিরায় পৌঁছে দেয় লোমহর্ষক স্মৃতিকথা,মেরুদণ্ডে প্রবাহ হয় শীতল বাতাস স্রোতবহতা,অবশ শরীর হাল ছেড়ে দেয় পুরুষের হুংকারে। তারপরও তিনি বাবা, জন্ম দিয়ে ছেড়ে যাননি,দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই হয়ত অধিকার খাটান,তার সর্বোচ্চ সেবায় নিয়োজিত দাপটতার। বেঁচে থাকুক সম্পর্ক গুলোর ভালোবাসায় মিশ্রিত বন্ধন। মেয়েটা ভাবে তার বিয়ে হয়ে গেলে দূ'রে কোথাও। তার বাবা সেদিন বুজবে,তার দরদের জায়গাটা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now