বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লিডিয়া জিজ্ঞেস করল, “বিল, আমি কী শুরু করব?”
উইলিয়াম ম্যাকেঞ্জি বলল, “হ্যা শুরু কর” যখনই কারো সাথে তারপরিচয় হয় সে তাকে তার নাম ধরে ডাকার অনুমতি দেয় । এই মেয়েটিরআগে কেউ তাকে নাম ধরে ডাকার সাহস পায়নি ।
লিডিয়া বলল, “আমরা প্রায় এক ডজন এনিম্যান প্রটোটাইপ তৈরিকরেছি । আমাদের ল্যাবরেটতৈ সেগুলো বড় হচ্ছে । তুমি চাইলে আমিএকটি দুটি নিয়ে আসতে পারতাম কিন্ত আমার মনে হয় এই ছবি ভিডিওআর ত্রিমাত্রিক প্রেজেন্টেশান থেকে তুমি একটা ধারণা পেয়ে যাবে |
“তোমার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, টাকা পয়সা নিয়ে আমার কখনোচিন্তা করতে হয়নি তাই গবেষণার কোথাও আমাকে বিন্দুমাত্র সীমাবদ্ধতারসম্মুখীন হতে হয়নি । আমার মনে হয় টাকা পয়সার থেকেও বড় সহযোগিতাছিল আইনী সহযোগিতা । এই গবেষণায় অনেক কিছুই ছিল যেটি দেশেরপ্রচলিত আইনে বেআইনী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ । আমি নির্ধিধায় সেগুলোকরে গেছি কারণ আমি জানি তুমি আমাকে সেই জায়গাগুলো থেকে রক্ষাধরনের মডেল পরীক্ষা করেছি । এক দুইবার স্থানীয় কোনো সাংবাদিক তার
আঁচ পেয়ে যে প্রতিবাদের চেষ্টা করেনি তা নয় কিন্তু তোমার সহযোগিতারকারণে কখনোই সেটা সমস্যা হতে পারেনি । সমস্যাটা শেষ পর্যন্তসাংবাদিকদেরই হয়েছে ।
“লিডিয়া তখন স্ক্রীনে একটি মানবশিশুর ছবি দেখিয়ে বলল, এটিহচ্ছে আমাদের এনিম্যানের মডেল । তুমি দেখতেই পাচ্ছ এটি যে মানবশিশু তাতে কোনো ভুল নেই কিন্তু একই সাথে সাধারণ মানুষকে যদি বলা
হয় এটি আসলে মানব শিশু নয় এটি একধরণের পশু সেটাও সবাই মেনেনেবে! তুমি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করছ শিশুটির চোখ সাধারণ মানুষের চোখ থেকে বড়, চোখের রং আমরা ডিজাইন করতে পারি । চাপা নাক সে কারণে যখনএটি পূর্ণ 'বয়স্ক হবে তখনও তাকে দেখে শিশুর মতো মনে হবে । কানগুলোএকটু লম্বা করা হয়েছে, উপরের ভাগ সুঁচালো-- মানুষ থেকে ভিন্ন । মুখদাত জিবে আমরা কোনো পরিবর্তন করিনি, তাহলে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেনা।
“যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে তার গায়ের লোম। অনেক চিন্তাভাবনা করে আমরা তার সারা শরীর লোম দিয়ে ঢেকে দিয়েছি । তারকয়েকটা কারণ, শরীরে কুকুর বা বেড়ালের মত লম্বা লোম থাকলে এটাকে
মানুষ না ভেবে পশু হিসেবে কল্পনা করা সহজ। দ্বিতীয়ত শরীরে এক ধরনেরনিরাপত্তা থাকে, মানুষের যেরকম কাপড় পরে থাকতে হয়, এদের তার
প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া শরীরের লোমের নানা ধরণের রং দিয়ে বৈচিত্রআনতে পারব ।
“যদিও এরা মানুষ কিন্তু আমরা এটাকে সাধারণত মানুষের মতো দুইপায়ে দাড়াতে দিই না । হাতগুলো তুলনামূলকভাবে লম্বা করে ডিজাইন করাহয়েছে যেন চার হাত পায়ে যখন হেঁটে বেড়াবে তখন বিসদৃশ্য মনে না হয় ।ইচ্ছে করলে কোনো কিছু ধরে এই এনিম্যান দুই পায়ে দাড়াতে পারবে, কিন্তুসেটি আমরা ক্রেতাদের ইচ্ছের উপর ছেড়ে দিচ্ছি ।”
লিডিয়া দ্রুত কয়েকটা ছবি এবং ভিডিও দেখিয়ে বলল, “এখন আমিএনিম্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটুকুতে আসি । এদের ব্যবহার এবংআচার আচরণ । এর বুদ্ধিমত্তা হবে পাচ বছরের শিশুর মতো | এর কোনোভাষা নেই, মুখে কথা বলতে পারবে না । চেষ্টা করলে বড় জোর এক বছরেরশিশুর মতো দুর্বোধ্য শব্দ করতে পারবে । এর চেহারায় সব সময়েই
হাসিখুশি এবং আনন্দের ভাব থাকবে । এর মুখের দিকে তাকালেই মানুষেরমন ভালো হয়ে যাবে।
“পৃথিবীর সকল প্রাণীরই ভয় আতংক এমন কী কোনো কোনো প্রাণীরমাঝে দুঃখের অনুভূতি থাকে, কাজেই এনিম্যানের ভেতর থেকে এইঅনুভূতিগুলো কোনোভাবেই পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়নি । তার ভেতরেওআনন্দের পাশাপাশি দুঃখ কষ্টের অনুভূতি আছে । কিন্তু তার মুখে কখনোতার প্রতিফলন ঘটবে না। এটি সবসময়েই হাসি হাসি মুখ করে থাকবে।এটি হাসবে |”
ঠিক এই সময়ে উইলিয়াম ম্যাকেন্জী হাত তুলে লিডিয়াকে থামিয়েজিজ্ঞেস করল, “আমি যদি ইচ্ছে করে এটাকে যন্ত্রণা দিই, ধরা যাক একটা লোহার শিক গরম করে ছ্যাকা দিই তাহলে কি করবে?
লিডিয়া মুখে হাসি টেনে বলল, “তাহলেও এটা খিলখিল করে হাসবে |তার সমস্ত অনুভূতির মাত্র একধরণের প্রতিফলন, সেটি হচ্ছে হাসি ! সাধারণমানুষ কখনোই তার চেহারায় অন্য কোনো অনুভূতি খুঁজে পাবে না । যারাএটাকে পোষা প্রাণী হিসেবে পালবে তারা কখনোই এই প্রাণীটাকে কষ্টদিচ্ছে তার অনুভূতি পাবে না। তাকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেললেও সবাইভাববে প্রাণীটার বুঝি অনেক সুখ, অনেক আনন্দ ।”
উইলিয়াম ম্যাকেঞ্জীর মুখে হাসি ফুঠে উঠল, বলল, “অসাধারণ !”
“তুমি ঠিকই বলেছ বিল, এটি অসাধারণ | গবেষণার এই অংশটুকুছিল সবচেয়ে কঠিন । কিন্তু আমরা সেটা করতে পেরেছি, আমরা সঠিকভাবেজিনেটিক কোডিং করতে পেরেছি । এটা করার জন্যে তার নার্ভাস সিস্টেমেকিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে, তার ব্যথার অনুভূতি তুলনামূলকভাবে কম ।
“এর জন্মপদ্ধতি মোটামুটি জটিল, তবে যারা এটা কিনবে তাদেরসেটা জানার প্রয়োজন নেই ৷ আমরা একেবারে নবজাতক শিশু কখনোইক্রেতাদের দেব না । এটাকে একটু বড় করিয়ে, একটু ট্রেনিং দিয়ে তারপর
সাপ্রাই দেব । মানুষ যখন একটা কুকুর কিনে আনে তখন প্রথম প্রথম তাকেনানারকম ট্রেনিং দিতে হয়, এনিম্যানের বেলায় তার কোনো প্রয়োজন হবেনা।
“এনিম্যানের আয়ু সর্বোচ্চ দশ বছর । তবে এর চেহারায় কখনোবার্ধক্যের ছাপ পড়বে না । এটি অসুস্থ হয়ে ধুকে ধুকে মারা যাবে না । মৃত্যুটিসবসময়েই হবে স্বাভাবিক । এর আকার হবে ছোট কুকুরের মতো, মানুষইচ্ছে করলেই তাকে কোলে নিতে পারবে । আদর করতে পারবে । এরকোনো জেন্ডার নেই এটি ছেলেও না মেয়েও না। যেহেতু আমরা এইপ্রজাতিকে জন্ম দিতে যাব না তাই এর ছেলে মেয়ে নেই । এটি একইধরণের, নিউট্রাল ।”
লিডিয়া তখন ত্রিমাত্রিক প্রেজেন্টেশান শুরু করে বলল, “তুমি ইচ্ছে করলে এই প্রাণীটিকে আরো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে পারবে ।”
উইলিয়াম ম্যাকেন্জী বলল, “তার প্রয়োজন হবে না। তোমাকেঅভিনন্দন লিডিয়া একটি অসাধারণ আবিষ্কারের জন্যে ।”
“তোমাকেও ধন্যবাদ, আমাকে অসাধারণ সহযোগিতা করার জন্য।”
“এখন তোমার পরিকল্পনা কী?”
“আমার সকল দায়িত্ব শেষ । এখন পুরো দায়িত্ব মার্কেটিংয়ের | তুমিকংগ্রেস থেকে এটাকে পাশ করিয়ে দাও, আমরা প্রোডাকশান শুরু করেদেব ।”
উইলিয়াম ম্যাকেঞ্জীর মুখে ধীরে ধীরে একটা বিচিত্র হাসি ফুটে ওঠে,“তুমি ধরে নাও এটা কংগ্রেস থেকে পাশ হয়ে গেছে । একটা সাংবাদিকসম্মেলন করে পৃথিবীর মানুষকে এনিম্যান সম্পর্কে জানানোর জন্য প্রস্তুতহও?”
লিডিয়া বলল, “আমি প্রস্তুত |”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now