বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এনিম্যান-(০২)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X স্কুল বাস থেকে নেমে তিষা আকাশের দিকে তাকাল। আকাশে ধূসর একধরণের মেঘ, এটা মেঘ না কুয়াশা ভালো করে বোঝা যায় না । মাঝে মাঝেযখন ঝির ঝির করে বৃষ্টি শুরু হয় তখন বোঝা যায় যে এটা কুয়াশা না, এটামেঘ | তিষার হঠাৎ করে দেশের কথা মনে পড়ল । আকাশ কালো করেকুচকুচে মেঘে হঠাৎ করে চারদিক অন্ধকার হয়ে যেতো, বিজলীর ঝলকেসবকিছু কেমন যেন ঝলসে ঝলসে উঠতো, সাথে সাথে কী গন্তীর গুড় গুড়করে মেঘের ডাক । তারপর বৃষ্টি আর বৃষ্টি । মনে হতো সারা পৃথিবী বুঝিভাসিয়ে নেবে । সেই বৃষ্টিতে ভিজতে কী মজা- সবাই মিলে তারা বাইরেনেমে যেতো! আর এখানে সবকিছু অন্যরকম | ধোয়ার মত এক ধরনেরবৃষ্টি, ঠাণ্ডা, প্যাচপ্যাচে মন খারাপ করা বৃষ্টি। তিষা স্কুল বাসের সামনে দিয়ে রাস্তা পার হল। এখানে সব কিছুকেমন ছিমছাম, সবকিছু কী চমৎকার নিয়ম দিয়ে বাধা । এই যে সে রাস্তাপার হচ্ছে তার জন্যে রাস্তার দুই পাশে সব গাড়ী দাড়িয়ে আছে । স্কুল বাসটা যতোক্ষণ তার বাতি জ্বালিয়ে দাড়িয়ে থাকবে ততক্ষণ কোনো গাড়ী চলতেপারবে না, স্কুলের ছেলেমেয়েরা যেন ঠিকমত রাস্তা পার হতে পারে । তিষারছোট চাচা দেশে গাড়ী একসিডেন্টে মারা গিয়েছিলেন । ছোট চাচা রাস্তা পারপর্যস্ত হচ্ছিলেন না, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন একটা গাড়ীআরেকটা গাড়ীকে ওভারটেক করে যাবার সময় তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল | সেই গাড়ীটাকে কোনোদিন ধরা পর্যন্ত যায়নি। তিষা রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে হেটে তাদের এলাকায় ঢুকে গেল । কীসুন্দর ছিমছাম শান্ত পরিবেশ । সামনে সবুজ লন, ছবির মতো একেকটিবাসা, পিছন থেকে ঝাউগাছ উকি দিচ্ছে । যেদিন রোদ ঝলমল সুন্দর একটিদিন হয় সেদিন সবকিছুকে রঙিন মনে হয় | মনটা ভালো থাকে তাই মনে হয়, সবকিছুকে মনে হয় আরো বেশী রঙিন দেখায় । আজ আকাশে মনখারাপ করা মেঘ, তাই চারপাশে একটা বিষন্নভাব। তিষা হেটে হেটে তাদের বাসার দিকে যেতে থাকে, কোথাও মানুষ নেই। প্রথম যখন এদেশে এসেছিল তার মনে হতো মানুষজন সবগেল কোথায়? তার অনেকদিন লেগেছে বুঝতে যে এদেশে মানুষজনই কম!যে এলাকা যত বড়লোকদের সেখানে মানুষ তত কম | তিষার বন্ধুরা বলেছেনিউইয়র্ক শহরে নাকী অনেক মানুষ । তিষার আব্বু বলেছেন এর পরের বারছুটিতে নিউইয়র্কে বেড়াতে যাবেন । নিউইয়ক শহর নাকি খুব মজার | একটাশহর কীভাবে মজার হয় তিষা অবশ্যি বুঝতে পারে না ৷ একটা মানুষ মজারহতে পারে, তাই বলে আস্ত একটা শহর? বাসার সামনে এসে তিষা একটা ছোট নিঃশ্বাস ফেলল | সামনেকোনো গাড়ী নেই, যার অর্থ তার আব্বু কিংবা আম্ম কেউ আসেননি । আব্বুঅবশ্যি কখনোই আগে চলে আসেন না । আম্মু মাঝে মাঝে চলে আসেন । তখন তাকে আর খালি বাসায় ঢুকতে হয় না। খালি বাসায় ঢোকার মাঝেকেমন জানি খুব একটা মন খারাপের বিষয় আছে । দুই বছর আগে তারাযখন প্রথম এই দেশে এসেছিল তখন দেশের অনেক কিছুর জন্যে মন খাখা করতো । আস্তে আস্তে সবকিছুতে অভ্যাস হয়ে গেছে, শুধু এই একটাবিষয় তার অভ্যাস হয়নি । এখনো তার খালি একটা বাসায় ঢুকতে মন খারাপ হয়ে যায় । দেশে তার চাচা ফুপুরা সবাই মিলে একটা বিল্ডিংয়েথাকতো তাদের সবার বাচ্চা কাচ্চারা মিলে তাদের একটা বিশাল পরিবারছিল, বাসায় ঢোকার আগেই অনেক দূর থেকে সব বাচ্চা কাচ্চাদের চিৎকারচেঁচামেচি শোনা যেতো--কী মজার একটা সময় ছিল! তিষা ছোট একটাদীর্ঘশ্বাস ফেলে তার ব্যাগ থেকে বাসার চাবি বের করে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো । ছিমছাম সুন্দর একটা ডূপ্রেক্স, তার ঘরটা, দোতলায় | তিষা তারস্কুল ব্যাগটা কার্পেটে রেখে নিচে সোফায় বসে পড়ল । রাস্তার জুতো পরেবাসার কার্পেটের উপর চলে এসেছে, মা দেখলে নিশ্চয়ই রাগ করবেন, কিন্তুমা বাসায় নেই রাগ করবেন কীভাবে? তিষা কফি টেবিলে পা তুলে চুপচাপ বসে থাকে | তার বয়স তেরো,এখন সে আনুষ্ঠানকিভাবে টিন এজার হয়েছে । দেশে থাকতে সে যখন আমেরিকার গল্প শুনেছে তার বেশীর ভাগ ছিল টিন এজারদের গল্প । সেএখন এই আমেরিকার টিন এজার, এখন তার অনেক আনন্দ হওয়ার কথা ।তার কী আনন্দ হচ্ছে? স্কুলে যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ অনেক মজা হয় সেটি সত্যি । রাত্রি বেলা যখন আব্বু আম্মু থাকে তখনও সময়টা কেটে যায়,তারপরেও বিশাল একটা সময় সে একা থাকে । কম্পিউটারের সামনে বসেমাঝে মাঝে বন্ধুদের সাথে সময় কাটায় কিন্তু সেটা কেমন জানি কৃত্রিম ।একজন মানুষকে সামনাসামনি না দেখলে তার সাথে কী কথা বলা যায়?অনেকেই পারে। তিষা পারে না। তিষার খিদে পেয়েছে । ফ্রীজ খুললেই দেখবে আম্মু তার জন্যে খাবাররেডি করে রেখেছেন । মাইক্রোওয়েভে গরম করে সে খেতে পারবে । টিভিটাচালিয়ে দিলেই কোথাও না কোথাও একটা সিটকম খুঁজে পাওয়া যাবে,দর্শকদের কৃত্রিম হাসি শুনতে শুনতে এক সময় সে নিজেও একজন কৃত্রিমদর্শক হয়ে টেলিভিশনের চরিত্রগুলোকে দেখে হাসতে থাকবে । কিন্তু তিষারসোফা থেকে উঠতে ইচ্ছে করছে না। সে কফি টেবিলে পা তুলে দিয়েজানালার ভেতর দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল | ধূসর মন খারাপকরা একটি আকাশ । একটু পর মনে হয় টিপ টিপ করে বৃষ্টি শুরু হবে, তখনমনে হয় আরো বেশী মন খারাপ হয়ে যাবে । সোফায় বসে থাকতে থাকতে তিষা এক সময় ঘুমিয়ে পড়ল । সন্ধেবেলাআম্ম কাজ থেকে ফিরে এসে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে দেখলেন তিষাসোফায় ঘুমিয়ে আছে, পা থেকে জুতো পর্যন্ত খুলেনি ৷ আম্মু একটু ভয় পেয়ে তিষাকে ধরে একটা ছোট ঝাকুনি দিয়ে বললেন, “তিষা মা, এখানে ঘুমাচ্ছিস?” তিষা ধড়মড় করে উঠে বসল, একটু লজ্জা পেয়ে বলল, “হায় খোদা!আমি ঘুমিয়ে পড়েছি!” “জুতো পর্যস্ত খুলিস নি? শরীর ভালো থাছে তো?” “হ্যা আম্মু শরীর ভালো আছে । যা খিদে পেয়েছে” “স্কুল থেকে এসে কিছু খাসনি ।” “আলসেমি লাগছিল ।” বলে তিষা অপরাধীর মত হাসল । “যা কাপড় পাল্টে হাত মুখ ধুয়ে আয় । কী খাবি বল।” তিষা তার আম্মুকে জড়িয়ে ধরে বলল, “যা দিবে তাই খাব আম্মু।একা একা খেতে ইচ্ছা করে না।” আম্মু তিষার দিকে তাকিয়ে একটা ছোট নিঃশ্বাস ফেললেন, মেয়েটিএই কথাটি একটুও ভুল বলেনি । একা বসে বসে খাওয়ার চাইতে বড়বিড়ম্বনা আর কিছু হতে পারে না। রাত্রে তিনজন খেতে বসেছে, তিষা তার স্প্যাগোটির উপর ঘন লাল রংয়েরএকটা সস ঢালতে ঢালতে বলল, “আম্মু তোমাদের এই কাজটা ঠিকহয়নি ।” “এই যে আমি একা । আমার কোনো ভাইবোন নেই।” আব্বু খেতে খেতে বললেন, “তাতে তোর সমস্যা কী? তুই একাতোর আদর যত্নে কেউ ভাগ বসাচ্ছে না ।” তিষা বলল, “আমার আদর যত্বে ভাগ বসালেও একটুও কম পড়বে না আব্বু । তোমার এটা ঠিক যুক্তি না।” “তাহলে কোনটা ঠিক যুক্তি।” “একটা ছেলে কিংবা মেয়ে যদি একা বড় হয় তাহলে সে স্বার্থপর হয়েবড় হয় । আমি নিশ্চয়ই স্বার্থপর হয়ে বড় হচ্ছি ।” আম্মু জিজ্ঞেস করলেন, “হচ্ছিস নাকী?” তিষা বলল “সেটা তো আর আমি বুঝতে পারব না, তোমরা বুঝবে ।” আব্বু বললেন, “আমরা যখন বুড়ো হব তখন যদি ওল্ড হোমেআমাদের দেখতে না আসিস তাহলে বুঝব স্বার্থপর হয়েছিস ।” “তোমাদের আরো ছেলেমেয়ে হওয়া উচিৎ ছিল আম্মু।” “একটা নিয়েই পারি না_ আরো ছেলে মেয়ে!” তিষা বলল, “কী বলছ আম্মু আমি তোমাকে কখনো জ্বালাতনকরেছি?” “এখন করিস না । কিন্তু তুই যখন ছোট ছিলি_-” আববু বললেন, “বাপরে বাপ ! এমন কোনো অসুখ নাই যে তোর হয়নাই । তোর.মেজাজ ছিল গরম, সারা রাত চিৎকার করতি, বাসার কারো ঘুমনাই খাওয়া নাই--” “আমি বিশ্বাস করি না।” “তুই বিশ্বাস করিস কী না করিস তাতে কিছু আসে যায় না। সত্যহচ্ছে সত্য |” তিষা তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, “আম্মু, আমার বয়স তেরো।তোমার বয়স যখন পঁচিশ তখন আমার জন্ম হয়েছে । তার অর্থ তোমার বয়স এখন আটত্রিশ । আটত্রিশ বছরে আমেরিকার মহিলাদের ধুমাধূম বাচ্চাহচ্ছে। আম্মু চোখ ছোট করে বলল, “তুই কী বলতে চাইছিস?” “আমি বলতে চাচ্ছি যে তোমার এখনো বাচ্চা নেয়ার বয়স আছে।একটা বাচ্চা নিয়ে নাও । মেয়ে হলে খুবই ভালো ছেলে হলেও চলবে ।” আম্মু খপ করে তিষার চুলের মুঠি ধরে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, “বেশী মাতবর হয়েছিস, মাকে পরামর্শ দিস কীভাবে বাচ্চা নিতে হবে?” তিষা “আউ আউ” করে প্রয়োজন থেকে অনেক জোরে চিৎকার করেমাথাটা সরিয়ে নিতে নিতে বলল, “আমার ভালো মন্দ নিয়ে আমি পরামর্শদিতে পারব না? আমার একা একা বাসায় ঢুকতে কতো খারাপ লাগে তুমি জানো? ছোট একটা বোন না হয়ে ভাই হলে কতো মজা হতো!” আব্বু মাথা নাড়লেন, বললেন, “নো । ভাই বোনের জন্যে দেরী হয়েগেছে। খুব বেশী হলে তোকে একটা কুকুরের বাচ্চা কিনে দিতে পারি ।” আম্মু চোখ কপালে তুললেন, “কুকুর? ঘরের মাঝে একটা দামড়াকুকুর ঘুরে বেড়াবে? ছিঃ !” তিষা বলল, “কেন মা? কুকুর তো থাকেই | আমার স্কুলের সব বন্ধুরকুকুর আছে !” “থাকুক | তাই বলে আমার বাসার ভিতরে একটা কুকুর ঘুরে বেড়াতেপারবে না!” “কেন মা? দেশে আমাদের বাসায় একটা বিড়াল ছিল মনে নাই? যদিবাসায় বিড়াল থাকতে পারে তাহলে কুকুর থাকলে দোষ কি?” “বিড়াল কত ছোট, কুকুর কত বড়—” আব্বু বললেন, “ছোট ব্রীডের কুকুরও আছে । বিড়ালের সাইজ !” আম্মু বললেন, “বাসায় পোষাপাখী রাখা খুব সোজা ব্যাপার না।এটাকে খাওয়াতে হয় বাথরুম করাতে হয় সব দায়িত্ব নিতে হয়_” তিষা সোজা হয়ে বসে মুখ শক্ত করে বলল, “আম্মু, তুমি যদি বিশ্বাসকরে আমাকে একটা ছোট ভাই কিংবা বোন দিতে আমি তাকে পর্যস্ত দেখেশুনে রাখতাম । আর ছোট একটা কুকুরের বাচ্চাকে দেখে শুনে রাখতে পারবনা?? কাজেই পরের উইক এন্ডেই তিষা তার আব্বুকে নিয়ে একটা পেট স্টোরথেকে ছোট একটা কুকুরের বাচ্চা আর কুকুর পালার উপর একটা বই কিনেআনল | দোকানে অনেক ধরণের কুকুর, তাদের দামও অনেক, তিষা তারমাঝে বেছে বেছে ছোট একটা বাদামীর মাঝে সাদা আর কালো রংয়েরকুকুর বেছে নিল | এটাকে এখানে বলে বিগল, বড় বড় চোখ, ঝোলা কানদেখলেই আদর করার ইচ্ছে করে। কুকুরটার এমন মায়া কড়া চেহারা যে বাসায় আনার পর তাকে দেখেসেটা কুঁই কুঁই শব্দ করে মেঝে শুঁকতে শুকতে এদিকে সেদিক ঘুরতে থাকে।নুতন জায়গায় এসে তার মাঝে এক ধরনের অনিশ্চয়তার ভাব, কোথায় যাবেকার কাছে একটুখানি আদর পাবে সেটা নিয়ে এক ধরনের দুর্ভাবনা। কিছুক্ষণের মাঝেই অবশ্য বুঝে গেল তিষা হচ্ছে তার আসল মালিক তাই সে গুটি শুটি মেরে তার কোলে এসে বসে পড়ল । তিষা আদর করে বুকেচেপে ধরে বলল, “সোনামনি আমার । টুই টুই টুই ।” আব্বু হাসি হাসি মুখে জিজ্ঞেস করলেন, “কী নাম দিবি তোরকুকুরের?” তিষা এক মুহূর্ত চিন্তা করে বলল, “টুইটি ।” “টুইটি একটা পাখীর বাচ্চার নাম |” “হোক । আমার এই টুনটুনির নাম টুইটি ।” আম্মা বললেন, “টুনটুনি একটা পাখী | কুকুরের বাচ্চা কবে থেকে পাখী হল ।” তিষা বলল, “আমি এতো কিছু বুঝি না।” তারপর কুকুরের বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে বলল, “বুঝলি টুনটুনি? আজ থেকে তোর নাম টুইটি | টু-ই-টি।” কুকুরের বাচ্চাটা কী বুঝল কে জানে, মাথা তুলে ভৌ ভৌ করেএকবার ডাকল । তিষা তার আব্বু আর আম্মুর দিকে তাকিয়ে বলল, "দেখেছো? টুইটি তার নামটাকে পছন্দ করেছে!" এক সপ্তাহ পর তিষা তার স্কুল বাস থেকে নামল, তারপর রাস্তা পার হয়েসে হেঁটে হেটে তাদের এলাকায় ঢুকে পড়ে । অন্যান্য দিনের মত আকাশেমেঘ, পথে কোনো মানুষজন নেই । ছবির মত একটি একটি বাসা পার হয়েসে তার বাসায় এল, সামনে কোনো গাড়ী নেই । তার অর্থ আম্মু এখনোআসেননি । আজকে কিন্তু তার মন খারাপ হল না, তিষা জানে সে একা নয়। মাত্রই ভেতরে সে টুইটির উত্তেজনা টের পেল, সে ঘরের ভেতর ছোটাছুটিশুরু করেছে । দরজা খুলতেই টুইটি তার ছেলেমানুষী গলায় ভেউ ভেউ করেডাকতে ডাকতে তিষাকে ঘিরে ঘুরতে থাকে । তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে,তারপর আবার ছুটে ঘরের আরেক মাথায় চলে যায় আবার ছুটে আসে ।দেখে বোঝা যায় আনন্দে সে কী করবে বুঝতে পারছে না। তিষা স্কুলের ব্যাগটা নিচে রেখে বলল, “আস্তে টুইটি, আস্তে ! তোরতো উত্তেজনায় স্ট্রোক হয়ে যাবে !” টুইটি তিষার কথা কিছু বুঝল কীনা কে জানে কিন্তু তার উত্তেজনাবিন্দুমাত্র কমল না। সে ছোটাছুটি করতে লাগল, তিষাকে ঘিরে ঘূরতেলাগল, তার উপর লাফিয়ে পড়তে লাগল এবং চিকন গলায় ভেউ ভেউ করে ডাকতে লাগল । তিষা টুইটিকে জাপটে ধরে আদর করতে থাকে এবং শেষপর্যন্ত তার উত্তেজনা কমে আসে | তিষা তখন তার ঘরে গিয়ে ব্যাগটা রাখে, স্কুলের পোষাক পাল্টে নেয় এবং সারাক্ষণ টুইটি তাকে ঘিরে লাফ ঝাঁপদিতে থাকে । তারপর নিচে নেমে তিষা ফীজ থেকে একটা পিতজার টুকরো বের করে মাইক্রোওয়েভে গরম করে নেয় ৷ একটা প্লেটে পিজার টুকরোটানিয়ে সে পিছনের দরজা খুলে বের হয়ে আসে । তিষা বের হবার আগেই টুইটি লাফিয়ে বের হয়ে যায় । ঘরের ভেতর সবকিছু সে এতোদিনে চিনে গেছে বাইরে সবকিছু তার কাছে রহস্যময়। সে সতর্কভাবে এদিকে সেদিকেতাকায় । গাছে একটা রবিন পাখীকে দেখে গরগর করে একটা গর্জনের মত ভঙ্গী করে ৷ একটা কাঠবেড়ালীকে দেখে তাকে ধাওয়া করে এবং হঠাৎ করেথেমে গিয়ে মাটি শুকতে শুকতে এগিয়ে যায় । তিষা এক ধরণের ম্নেহ নিয়ে এই অবুঝ পশুটির দিকে তাকিয়ে থেকেতার পিৎজাটি খেতে থাকে। একটা ছোট অবুঝ পশু একজন মানুষের জীবনএভাবে পাল্টে দিতে পারে তিষা আগে কখনো কল্পনা করেনি । ঠিক এরকম সময় তিষার বাসা থেকে দুই হাজার তিরিশ কিলোমিটার দূরেএকটা ছয়তালা দালানে লিডিয়া এপসিলোন কোম্পানীতে যোগ দিতে গিয়েছিল!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now