বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রতিদিনের মত আজও ক্লাসে এসে পিছন গিয়ে একা চুপচাপ বসে পড়ে তিশা। ক্লাসের কেউ তারর সাথে বসে না কারন তিশা দেখতে অনেক কালো। অনেক বললে ভুল হবে শুধুই কালো। ক্লাসে কেউ তার সাথে কথা বলে না। সে নিজে কথা বললে সবাই তাকে অপমান করে।ক্লাসে স্যারর ঢুকলে সবাই চুপ হয়ে যায়...
-তিশা মা এইদিকে আয়..(স্যারর ওকে মা বলেই ডাকে)
-জি স্যার আসছি...
-মা একটা ছেলে এই ক্লাসে নতুন আসবে।আমি চাই তুই ওর পিছিয়ে যাওয়া পড়া মেকাপ করতে হেল্প কর।ছেলেটা অনেক ভাল....
-স্যার আমি চেস্টা করব...
-ধন্যবাদ মা....
।
পরের দিন কলেজে আগের মত এসে পিছে গিয়ে বসে পড়ল তিশা। কিছু সময় পর একটা লম্বা করে ছেলে ক্লাসে ঢুকলল।ক্লাসের অনেকে তাকে জায়গা দিলেও সে কারো সাথে না বসে তিশার কাছে যায়...
-হাই তুমি তিশা না...
-হুম...
-আমি তন্ময় (বলেই হাত এগিয়ে দেয়)
আমি তো তিশাকে দেখেই ক্রাশ খাইলাম। আমি আবার সুন্দরির প্রেমে পড়ি না। তিশা চোখে কাজল দিছে যার ফলে ওকে অনেক সুন্দর লাগছে।টিফিন টাইমে....
-দোস্ত চল কেম্পাস থেকে ঘুইরা আসি..
আমার কথা শুনে তিশা হা করে তাকিয়ে আছে। হয়ত এত তাড়াতাড়ি ওকে তুই করে বলব ভাবতে পারি নাই...
-না আমি যাব না..
-আরে চল না...(বলেই ওর হাত টানে নিয়ে গেলাম)
ক্লাসের সবাই আমাদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। ওরা হয়ত ভাবতে পারে নাই যে তিশার হাত কেউ ধরবে।একজন তো বলেই ফেলল....
-দেখ দেখ কালির লাভার হইছে..
কথাটা শুনে তিশার চোখ দিয়ে পানি পড়ল। আমি ওর হাত ধরে ওই বেটার সামনে গেলাম...
-কি বললি মামু...
-কি বলব যেটা সত্যি ওটাই বলছি...
-তুই শালা নাটুরাম মানুষকে অপমান করস।এক লাত্তি দিয়া সোজা কইরা দিমু....
আমার কথা শুনে তিশা ফিক করে হেসে ফেলল। আমি ওর হাসির প্রেমে পড়ে গেলাম। কত সুন্দর মিস্টি হাসি.....
।
।
কয়েকদিনে আমি আর তিশা অনেক ফ্রি হয়ে গেছি। ওর মন যে কত ভাল তা ওর সাথে না থাকলে বুঝতেই পারতাম না। ওকে কেউ অপমান করলে তাকে সাথেই ধুইয়া দেই।এইত কিছুদিন আগে ক্লাসের কিছু মেয়ে ওকে অপমান করেছিল।ওদের কথা শুনছিলাম...
-দেখ দোস্ত কালির আবার বফ হইছে। কি আছে এর মাঝে যে তন্ময় এর প্রেমে পড়ল...
তিশা তাদের মাঝেই কান্না করছে। আমি তাদের কাছে গেলাম। তিশার হাত ধরে টানে অদের কাছ থেকে নিয়ে আসলাম...
-দোস্ত ঠিকি বলছিস কেন আমি এর সাথে থাকবো।এই তো আর তোদের মত লিটন ভাইয়ের ফ্লাটে যায় নাই। তোদের মত কয়েক্টাকে নিয়ে ঘুরে নাই। আমি কেন এর সাথে থাকব...
.
কথাগুলাতে কাজ হয়েছে। বেচারিরা মাথা নিচু করে ফেলেছে লজ্জায়....
তিশাকে একটা ফাকা জায়গায় নিয়ে আসে মাথায় কয়েকটা মাইর দিলাম...
-তুই কি পাগল নাকি তোকে অপমান করলে তুই চুপ করে থাকিস কেন হুম...
-কি বলব বল...
-তোরে কিছু বলার লাগবো না...আমি নিজেই সব কিছু করুম.....
।
।
কিছুদিন পর তিশা খুব খুশি হয়ে আমার কাছে আসলো...
-দোস্ত এত খুশি লাগে কেন..
-আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে জানিস..ছেলে এস আই...
-বাহ বাহ দাওয়াত দিবি না...
-তুই তো আমার জানের দোস্ত তোরে আগে দাওয়াত দিমু.....
-তোর বিয়ায় কি উপহার নিবি বল..
-তুই সারাজিবন আমার বন্ধু হয়ে থাকিস আর কিছু লাগবে না....
।
।
তিশার বিয়েতে যাইতে হবে। অনেক দেরি হয়ে গেছে এমনি। বাবা মাকে বলে বেড়িয়ে পড়লাম। আইসা শুনি বর বিয়া করব না। আমাকে দেখে বরের হাটু কাপছে। আমি আর কিছু বললাম না পরে দেখে নিব ওকে।কিছু সময় পর শুনলাম তিশা দরজা লাগিয়ে দিছে....
-এই তিশা দরজা খুল...
-না আমি খুলব না...আজ আমি নিজের অভিশপ্ত জিবনকে মুক্তি দিয়ে দিব....
আমি কিছু না ভেবে দরজা ভেঙে ফেললাম। এই মেয়ে দেখি নিজের গায়ে কেরোসিন ঢালছে।কাছে গিয়া কয়েকটা থাপ্পড় দিলাম....
-তুই কি পাগল হইছিস নাকি...
-না আমি এই জিবন রাখবো না...
-চুপ একদম চুপ....
।
।
বাইক চালাইতাছি। আমার পিছনে বসে আছে আমার বিয়ে করা বউ তিশা। হি হি বউ নিয়া বাইকে কইরা বাসায় যাইতাছি। মাকে ফোন দিলাম...
-আম্মু একটা কাজ করছি...
-কি করছস...
-আম্মু আমি বিয়া করছি....
-যাক এতদিন পর আমার ছেলের হুশ হইলো...
-তুমি আব্বুরে বুঝাও...
-তুই বউ মাকে নিয়ে আয়.....
বাইক স্টাট দিলাম। আমিই বললাম...
-তুমি কেমন গো নিজের বরকে একটু জড়ায় ধরো না কেন।তিশা আমাকে জড়িয়ে ধরল।আমার খুশিতে মুখ দিয়া গান বের হতে থাকল...
আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে..
বউ নিয়া বাসায় যাইতেছি...
বাপে কিছু না কইলেই বাচি...
বউ আমার মিস্টি দেখতে...
আমার গান শুনে তিশা আমার পিঠে কিল মারলো অনেক গুলো...
।
।
বাসায় আসছি। ভয় লাগতাছে। বাপে যদি বাসা থেকে বাইর কইরা দেয়। করলে করবো আমার সরককারি বাংলোয় উঠুম। দরজা খুলতেই দেখি আমার আব্বা বাংলা সিনেমার রাজিবের মত বন্দুক থুক্কু লাঠি নিয়া দাড়াইয়া আছে...
-ও আব্বা লাঠি হাতে কেন আপনার...
-তুই বের হো আমার বাসা থেকে...
-তিশা আব্বারে সালাম কর...
তিশাকে দেখে আব্বা শক খাইলো। তিশাও খাইছে।..
-মা তুই...
-সার আপনি...
-যাক হারামজাদাটা একটা ভালল কাজ করছে। আয় মা ঘরে আয়....
-সার আপনি তো বলছিলেন আপনার ছেলে এ এস পি...
-হুম এই হারামজাদাই সেই এ এস পি।কিছু কাজের কারনে ওকে ছাত্র হিসেববে ঢুক্তে হইছিল....
-আম্মু ওই আম্মু...
-কি হইছে বল...
-তোমার জামাই আমারে হারমজাদা কয় কে খালি...
-দাড়া তোর বাপ্রে দেখাইতাছি মজা। আমার ছেলেকে হারামজাদা বলে....
মা বাবা সবাই তিশাকে মেনে নিল। বাসর রাতে ঢুক্লাম বিলাই মারতে। কিন্তু ঢুইকা দেখি বউ আমার সেই লেভেলের কান্দন কান্তাছে। আমি গিয়া চোখ মুছে জড়ায় ধরে বললাম...
-কাদো কেন সোনা...
তিশা কিছু না বলে আমাক্র জড়ায় কান্তেছে আর বলতেছে...
-আমি কোন দিন ভাবি নি এত ভাল একটা পরিবার পাবো...
আমি কিছু না বলেই ওর কপালে একটা চুমু দিলাম। তারপর গালে,তারপর ওর দুই ঠোট আমার করে নিলাম। কত সময় পর ছাড়ছি মনে নাই হি হি....
।
এখন আমি আমার বউয়ের বুকে শুয়ে আছি। সবাই বরের বুকে আর আমি আমার বউয়ের বুকে। বউ আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেছে। না আর ভাল লাগে না। কিছু না ভেবেই বউকে আদর করা শুরু করলাম। বউ দেখি লজ্জায় শেস হি হি......
।
।
অফিসে ডিউটিতে যাব। তাই বউরে ডাক দিলাম...
-বউ শুনো না...
-কি হইছে বল..
আমি ওর কোমর জড়িয়ে ধরে ওকে একবারে আমার সামনে নিয়ে আসলাম...
-এই ছাড়ো...
-একটু আদর দাও না সোনা...
-যাও তো এখান থেকে...
আমি কিছু না বলে ওকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে ইয়ে দিতে থাকলাম। বউ আমার লজ্জায় আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল....
।
।
আমাদের বিয়ের এক বছর হয়ে গেছে। আব্বু আম্মু হজে গেছে। বাসায় আমি আর তিশা শুধু। ঝগড়া করতে করতে ভুল করে ওকে কালি বলে ফেললাম। ও অনেক কস্ট পাইছে। রুমে গিয়ে কাদছে। আমি ওকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে কতগুলা চুমু দিয়ে বললাম...
-সরি সোনা...
-তুমি একটা সুন্দরি দেখে বিয়ে করে নাও...
-চুপ একটা কথাও বলবা না...
ও কিছু না বলে আমার মাঝে হারিয়ে গেল।.
পহেলা বৈশাকের কারনে ওকে একটা শাড়ি দিয়ে বললাম...
-এটা পড়ে নাও...
-আমি পারি না তো শাড়ি পড়তে...
আমি কিছু না বলে বউকে শাড়ি পড়াতে থাকলাম। মাঝে মাঝে আদরও করলাম। ওকে নিয়ে অনেক জায়গায় ঘুরলাম। রাস্তায় ওজ্ঞান হয়ে গেল.....
।
।
জ্ঞান ফিরে তিশা কাদতে লাগল..
-আমি জানি আমার কঠিন অসুখ হইছে। আমি আর বাচবো না...
-হুম অনেক কঠিন অসুখ...
-তুমি থাকবা কিভাবে...
আমি কিছু না বলে ওকে আমার বুকে নিয়ে ওর পেটে হাত রেখে বললাম...
-এইখানে আমার ছোট তিশা মামুনি বড় হচ্ছে...
আমার লজ্জাতি লজ্জা পেল। আমি ওকে জড়িয়ে নিলাম বুকের মাঝে....
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now