বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ ভ্রমন

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ।। শেষ ভ্রমন ।। লেখকঃ রোদ বৃষ্টি অথবা অন্যকিছু (ভূল মার্জনীয়) আমি একটু ভ্রমন পিপাশু সব সময় ভ্রমনের নেশা মাথায় চেপে থাকে,, নতুন কোন জায়গার নাম শুনলে সে জায়গা আমাকে পাগলের মত টানে,,, ঠিক আমারি মত আমার কয়েকজন বন্ধু আছে, আমার নাম ই ত বলা হল না আমি বিভোড়,,, আমার অন্য ৫ বন্ধু স্বাধীন,,বৃষ্টি,, শুভ্র,, শ্রাবণ,,এবং পিংকু,, আমরা সবাই সে class 1 থেকে এখন university পর্যন্ত একসাথে লেখাপড়া করছি,, আমাদের বন্ধুতের বয়স ১৫ বছর হবে সামনে,, তাই আমরা ঠিক করলাম আমাদের বন্ধুত্বের ১৫ বছর পূর্তি একটি বিশেষ জায়গায় গিয়ে celebrated করব যেমন কথা তেমন কাজ,, ত একদিন বৃষ্টি বলল সে একটি map খুজে পেয়েছে,, map টি ছিল অনেক পুরানো map টিতে বান্দারবনের গহীন এ একটি জায়গার কথা উল্লেখ করা আছে,, আমরা Google maps খুজে ও ঐ জায়গার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পেলাম না, তাই ঠিক করলাম ঐ জায়গায় যাবো না,, কিন্তু পিংকু খুব জেদি সে বলে সে ঐ জায়গায় যাবে,, আমাদের অনেক বুঝানোর পর ও,, সে যখন মানছে না,, ত অপারগ হয়ে সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে আমরা সাত বন্ধু অজানা রহস্যর দিকে পা বাড়ালাম,, আমরা আগেও অনেকবার বান্দারবন গেছি,, কিন্তু এবারের লক্ষ বস্তু একদম অচেনা,, ত আমরা সবাই রোমা বাজার পৌঁছে,, একজন গাইড খুজতে লাগলাম কিন্তু কোন গাইডই আমাদের সাথে যেতে রাজি হচ্ছে না,, তারা নাকি সে জায়গা ছিনে না! ত বৃষ্টি বলতেছে তাইলে চল ফিরে যাই,, কিন্তু পিংকুর জেদ আমাদের কে অজানার পথে পা বাড়াতে বাধ্য করল,, ত আমরা দুইঘন্টা ধরে পাহাড়ি আকাবাকা পথে হেটে চলছি,, cell phone network এর আর কোন দেখা নাই,, আমরা টানা ৫ ঘন্টা ৪০ মিনিট হাটার পর একটি ক্ষুদ্র ঝরনার পাশে আমাদের ক্যাম্প করি,, সূর্য এখন পশ্চিমের আকাশে হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে,, আসলে সমুদ্রসৈকতে ডুবন্ত সুর্যকে দেখতে যেমন সুন্দর লাগে ঠিক তেমন,, পাহাড় থেকে ও ডুবন্ত সূর্যকে ঠিক তত সুন্দর লাগে,, আমরা campfire জ্বালালাম,, dinner complete করে রাতে চাঁদের আলোয় পাহাড় দেখে কিছুক্ষণ গল্প করে ঘুমিয়ে পড়লাম,, সকালে সূর্যি মামার আলোয় ঘুম ভেঙ্গে গেল সবার,, নাস্তা করে সব কিছু ঘুচিয়ে নিয়ে হাটা শুরু করলাম কিছুক্ষণ হাটার পর,, হঠাৎ পুরো পাহাড় কালো মেঘে ঢেকে গেল,, মুষল ধারে বৃষ্টি শুরু হল বৃষ্টি থেকে আড়াল পেতে পাশে একটি ঝুম ঘর দেখতে পেয়ে আমরা সবাই সেখানে বসলাম,, এত বৃষ্টি হচ্ছিল যে দূরের কিছু দেখা যাচ্ছিল না,, হঠাৎ সামনে থেকে একটি মানুষ দৌড়ে এসে ঝুম ঘরে এসে বসল,, চেহারা দেখে মনে হল আদিবাসী তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলাম,, কিন্তু পরে বুঝলাম সে বাংলা বুঝে না,, বাংলা বুঝে না যেনে আমরা সবাই অবাক হলাম,, কারণ এর আগে আমাদের যে সব আদিবাসীর সাথে দেখা হয়ছে তারা সবাই বাংলা বুঝে???? ত আমি তাকে আমাদের কাছে থাকা map ওকে দেখালাম,, ও আমাদের দিকে তাকিয়ে,, কী যেন ভেবে মাথা ও হাত নেড়ে বললো সে জায়গাটি চিনে,, এবং আমাদের কে নিয়ে যাবে ত আমরা সবাই খুব খুশি হলাম,, কারণ কালকে পরশু আমাদের বন্ধুত্বের ১৫ বছর হবে,, এখন বৃষ্টি থামার কোন লক্ষণ দেখতে পারছি না,, ত ঐ লোকটা ঝুম ঘর থেকে নেমে কিছু কলা পাতা নিয়ে এলেন,, এগুলো মাথার উপর দিয়ে ইশারায় তার পিছু পিছু চলতে বললেন,, আমরা তার পিছু পিছু চলতে লাগলাম,, হঠাৎ একটি দমকা গরম হাওয়া এসে শরীল কে ছুঁয়ে গেল, কিন্তু পিছন থেকে একটি আওয়াজ হৃদয়কে কাপিয়ে দিল,, পিছনে ফিরে দেখি শ্রাবণ পাহাড় থেকে গড়িয়ে নিচে খাদে পড়ে গেল,, আমাদের সবার চিৎকার কান্নায় পরিবেশটা ভারি হয়ে গেল,, কী ঘটছে এখনো আমার বুঝতে পারি নি,,!! সে লোকটা হঠাৎ বাংলায় বলে উঠলো,, তার বাংলা বলা দেখে আমার সবাই অবাক, মনের ভিতর তখন হাজারো প্রশ্ন উত্তর চায়?? তখন লোকটি বলে উঠলো তোমাদের সবাই কে পড়ে বলব এখন চল নয়লে তোমাদের ও ওর মত পরণতি ঘঠবে আমরা কেও যেতে চাইছিলাম না,, কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তি আমাদেরকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল আমরা কতক্ষণ হাটছি মনে নেয়,, দেখি সামনে একটি গুহা,, আমরা সবাই ঐ লোকটিকে অনুসরণ করে গুহায় প্রবেশ করলাম আরেক দিক দিয়ে গুহা থেকে বেড়িয়ে দেখি একটি গ্রাম গ্রামেরর মানুষেরা খুব অদ্ভুত বলে মনে হল,, আর গ্রামের একটি কোণে একটি বড় গাছের নিচে একটি বড় বিশ্রী একটি মূর্তি,, আর গাছের ডালে মানুষের কঙ্কাল ঝুলানো, গাছের নিচে এক কোণে দেখি বন্ধু শ্রাবণের লাশ,, কয়েকজন মানুষ শ্রাবণ এর লাশটিকে ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে,, এসব দেখে আমরা সবাই জ্ঞান হারালাম,, আর যখন জ্ঞান ফিরলো তখন দেখি,, আমরা সবাই সে গাছের সাথে বাধা,, আর শ্রাবণের মাথা ভেঙ্গে তার মগজ গুলি সে মূর্তির সামনে রাখা হল,, তা দেখে আমাদের বমি শুরু হল,, তারপর আমাদের বন্ধু,,বৃষ্টি এবং পিংকু বলতে লাগলো,, তোরা যে আমাদের কে সুন্দরবনে অপমান করছিলি এগুলো তার প্রতিশোধ, আমার কয়েক মাস আগে সুন্দরবন ভ্রমনে গিয়েছিলাম সেখানে আমাদের মধ্যা ছোট্ট একটি ঝগড়া হয়েছিল,, সে ছোট্ট ঝগড়ার এত্ত বড় পরণিতি হবে আমি স্বপ্নে ও ভাবি নি পিংকু আর বৃষ্টি বলছে ওরা আগে থেকে জানত বান্দারবনেরর গহীন অরণ্য এ মানুষ খেকু উপজাতি বাস করে তাই তারা সব plan করে আমাদেরকে এখানে নিয়ে আসে,, আর তারা সাথে করে পিস্তল ও ছুড়ি নিয়ে আসে রাত হলে তারা আমাদের ৩ জন কে ফেলে এখান থেকে চলে যাবে,, আমাদের আর কিছু বলার ছিল না রাত নেমে আসলো ওরা দুইজন দড়ি কেটে বেড়িয়ে পড়ল,, আমরা তাদের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়লাম,, আমরা তিনজন তখন ঘুমিয়ে পড়লাম কিছুক্ষণ পর একটি আওয়াজে আমাদের ঘুম ভেঙ্গে গেল,, দেখি গ্রামের লোকগুলো দুইটি লাশ নিয়ে এসে সেগুলো খাওয়ার আয়োজন করছে,, আমরা লাশ দুটো চিনতে পারলাম,,লাশ দুটি পিংকু এবং বৃষ্টির,, পালাতে গিয়ে ধরা খেয়েছে,, লোকগুলো এই লাশ গুলোকেও ছিড়ে ছিড়ে খেতে লাগলো,, আমরা বুঝতে পারলাম সামনে আমাদের ও এরকম পরণিতি ঘটবে,, আমাদের বন্ধুত্বের ১৫ বছর পালন করতে এসে এরকম পরণিতি স্বপ্নে ও ভাবি নি কোন দিন,, শুধু মাত্র একটি ছোট্ট ঝগড়ার কারণে আমাদের সবার জীবন এখন গ্রাস হতে চলেছে,, এ ভেবে চোখ দিয়ে জল আর আসছে না হঠাৎ শুভ্র বলল সে একটা ছুড়ি পেয়েছে,, আসলে এটি ছুড়ি ছিল না,, ছিল একটি মানুষের হাড়,, হাড়টি দিয়ে আমাদের ৩ জনের বাধন খোললাম,, এবং গাছটির পিছনে লুকিয়ে পড়লাম,, দেখি গাছটির পিছনে বিশাল বড় খাদ।। আমাদের না পেয়ে লোকগুলো এদিক ঐ দিক পাগলের মত আমাদের খুজতে লাগলো,, তখন একটি দমকা বাতাস আমাদের কে খাদে ফেলে দিলো আমি নিচে জলে গিয়ে পড়লাম,, আর দুইটি বিকট আওয়াজ শুনতে পেলাম,, একটি আমার বন্ধু শুভ্রর আরেকটি স্বাধীন এর আর আমি জ্ঞান হারালাম জ্ঞান ফিরে দেখি,, আমি কারাগারে জানতে পারলাম অবৈধ ভাবে সীমান্ত অতিক্রম করায় মিয়ানমারের আদালত আমাকে ২মাসের জন্য কারাগারে প্রেরণ করছে ২ মাস জেল খাটার পর আমি দেশে ফিরলাম,, কিন্তু আমার বন্ধুরা আর আমার সাথে নেয়, এ ভ্রমনই আমাদের জীবনের শেষ ভ্রমণ হয়ে গেলো???? (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সিরাজ ভ্রমন ০৩(শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now