বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কাফিজম: মধ্যযুগীয় ভয়ংকর এক শাস্তির নাম!

"ভিন্ন খবর" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ইতিহাসের পাতা ঘাটলে মধ্যযুগীয় বর্বরতার ভয়ংকর রুপ সম্পর্কে অনেক কিছুই পাওয়া যাবে। কেননা সেসময় অনেক কিছুর উন্নতি হলেও শাস্তি গুলো ছিল খুবই ভয়ংকরী। এখনো ভয়ংকর কিছু বর্ননা করতে প্রায়ই রুপক অর্থে বলা হয় ‘এ যেন মধ্যযুগীয় বর্বরতা’! ৪৫২ খৃষ্টাব্দে হূনেরা ও ৪৫৫ খৃষ্টাব্দে ‘ভাণ্ডালরা’ রোম আক্রমণ করে। হূনেরা ৪র্থ শতাব্দীতে রাশিয়ার এলাকা থেকে ইউরোপে প্রবেশ করেছিল এবং বিভিন্ন এলাকায় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল।‘ভাণ্ডালরা’ পূর্ব জার্মানের জন-গোষ্ঠীর লোক। ভাণ্ডালরা রোমে প্রবেশ করে গোটা শহর লুটপাট ও ভাঙচুর করে। বর্তমান কালের ভাঙচুর অর্থের ইংরেজি ‘ভাণ্ডাল/ভাণ্ডালিজম’ শব্দের উৎপত্তি এখান থেকে। তারপর ৪৭৬ খৃষ্টাব্দে গথদের আক্রমণে ইউরোপে রোমান সাম্রাজ্য চিরতরে বিলীন হয়। আক্রমণকারীদের বার্বার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বার্বার বা বার্বারিয়ান শব্দটি গ্রীক সভ্যতায় উৎসারিত হয়। তারা এই শব্দ দিয়ে ওদের বুঝাতো যারা গ্রীক নন। বার্বা অর্থে বুঝান হত ‘অসভ্য’। তবে শব্দটির ব্যবহার চীন, আরব ও ভারতেও দেখা যায়। উত্তর আফ্রিকার জনগোষ্ঠীকেও রোমানরা ‘বার্বার’ বলে থাকত। রোমান সাম্রাজ্য পতনের পর যুদ্ধ- বিগ্রহ থেমে যায়নি। চতুর্দিকেআক্রমণ ও পালটা আক্রমণের বিভীষিকা চলতে থাকে। পরবর্তীকালে যখন মানুষ পিছনের দিকে তাকায় তখন সামাজিক বিশৃঙ্খলার মোকাবেলায় রোম সাম্রাজ্যের শাসন ব্যবস্থার তুলনামূলক শান্তি-নিরাপত্তার বিবেচনা করে পরের যুগকে ‘অন্ধকার’ হিসেবেই দেখে। ইউরোপের পশ্চাৎ-ইতিহাস দেখতে গিয়ে ১৪শো শতাব্দীর একজন ইটালিয়ান কবি ও পণ্ডিত ফ্রান্সেস্কো পেট্রার্কা, (Francesco Petrarca 1304 – 1374,যাকে সাধারণত প্যাট্রাক বলে পরিচয় করা হয়), এই সময়কে অন্ধকার-যুগ বলে উল্লেখ করেন। সেই থেকে এই নামে পরিচিতি লাভ করে। এই মধ্যযুগের অন্ধকার যুগে নানা ভাবে শাস্তি দেয়া হত। যা ছিল সাধরণ শাস্তি নয়, বরং খুবই ভয়ংকর শাস্তি। বিভিন্ন শাস্তির মধ্যে অন্যতম এক ভয়ংকর শাস্তি হল স্কাফিজম। স্কাফিজম খুবই যন্ত্রণাদায়কমৃত্যুদণ্ড পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে আসামির মৃত্যু হতে লাগতো অন্তত দুই সপ্তাহ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে শুইয়ে রাখা হতো। তারপর তাকে প্রচুর পরিমাণে মধু ও দুধ খাওয়ানো হতো, যতক্ষণ না তার ভয়াবহ ডায়রিয়া শুরু হয়। এরপর কোনো একটি ডোবার ধারে গাছ বা শক্ত খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হতো। কোনকোন যায়গায় নৌকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তখন বন্দির পুরো শরীরে মধু মাখিয়ে দেওয়া হতো। মধু মাখানোর ফলে বন্দির শরীরের প্রতি কীটপতঙ্গ আকৃষ্ট হতো। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির গায়ের চামড়া ভেদ করে বাসা বাধতো কীটপতঙ্গ। এভাবে ডায়রিয়া, গ্যাংগ্রিন ও মরণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে অনাহারে দীর্ঘ যন্ত্রণায় মারা যেত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি। মুলত পার্সিয়ানদের মধ্যে স্কাফিজম (Scaphism) মৃত্যদণ্ডপ্রচলিত ছিলো। এভাবে কষ্ট দিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয়া হত তৎকালীন মানুষদের। যার কথা কল্পনা করলেও গা শিউরে ওঠে। তবে শুধু স্কাফিজম নয়, আরো এমন অনেক শাস্তি তাদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। সুত্রঃ ইন্টারনেট ও উইকিপিডিয়া।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now