বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তিন দিন আগে আমার কাছে অস্ট্রেলিয়া থেকে এক তরুনীর ইমেইল আসে।
সেই ইমেইলটি হুবহু তুলে ধরছিঃ-
.
"আমি একজন লেবানীজ, লেবাননে আমার জন্ম।
আমার বাবা ছিল একজন মুসলিম আর মা ছিল খ্রিস্টান।
জীবনের প্রথম দশ বছর লেবাননে কেটেছে, সেখানেই বেড়ে ওঠা।
এরপর সপরিবারে মাইগ্রেট করে অস্ট্রেলিয়াতে চলে আসি।
এখানে আসার পর মিডলইস্টের সাথে আমার যোগাযোগ একদম বিছিন্ন হয়ে যায়।
বর্তমানে আমার বয়স বাইশ বছর। অস্ট্রেলিয়াতে আসার পর আমার দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ততাও সম্পূর্ণরুপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
.
শুধুমাত্র আমার নামের সাথে মুসলিমাহ শব্দটি অটুট থাকে।
আমি জানিনা ক্বুরআন দেখতে কেমন?
আমি জানিনা কিভাবে সলাত পড়তে হয়।
এমনকি ধর্ম-কর্ম আমার জীবনে তেমন কোন প্রভাব ফেলেনা।
আমার বাবা মা আলাদা হয়ে গেছেন।
তারা প্রত্যেকেই অন্যত্র বিয়ে করেছেন।
আমি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই, আমার বাবা-মা আমাকে একা ফেলে অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে চলে যান।
আমার মাথা গোঁজার কোন ঠাঁই নেই, না আছে ভাই, না আছে বোন।
লেবাননে গিয়ে থাকার মতও আমার তেমন কেউ নেই।
.
উপায়ান্তর না দেখে আমি অস্ট্রেলিয়াতেই থাকলাম, নিজে চলাচলের জন্য একটা চাকরি জুগিয়ে নিলাম।
সকালে ইউনিভার্সিটিতে যেতাম আর বিকালে মদের বারে কাজ করতাম।
আমার একটা বয়ফ্রেন্ড ছিল, তার আর আমার মধ্যে এমন কোন হারাম সম্পর্ক নেই যা ছিলনা।
আমার রক্তে পশ্চিমা সভ্যতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল।
আমি হাল্কা পাতলা আরবী জানি।
আর আমার সৌন্দর্য ছিল চোখে পড়ার মত, আমি নিউজিল্যান্ডের এক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় আমার নাম লিখাই আর সেই কম্পিটিশনে বিজয়ী হই।
সামনে এর চাইতে বড় এক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার ইচ্ছ আছে।
বর্তমানে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে আমি মডেলিং করছি।
.
এরইমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত এক লেবানিজ পরিবারে আমার যাতায়াত শুরু হয়।
সেখানে একদিন টিভিতে রমাদ্বানকেন্দ্রিক এক ইসলামিক অনুষ্ঠান দেখি।
সেই পর্বে "পর্দা ও শালীনতা" নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।
স্ক্রলে ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেখানো হচ্ছিল।
আমার ভিতরে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হল, আমি একদম ভেঙে পড়লাম।
আমার কাছে মনে হচ্ছিল এই পর্বটা আমাকে ঘিরেই বানানো হয়েছে।
আমাকে কোন এক অজানা বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
.
আমি আজ আপনাকে ইমেইল করছি একটি প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য, "আল্লাহ কী আমাকে গ্রহণ করবেন, মানে, আল্লাহ কী আমাকে মাফ করবেন?"
.
সারাহ'র ইমেইল এখানেই শেষ হলো। সুবাহানাল্লাহ!
.
পাঠক! মানুষের ঈমানের হালত যাই হউক না কেন, তার অন্তর তার রবের দিকেই তাক করা থাকে।
যেমনিভাবে পাকস্থলী খাবারের জন্য ক্ষুধার্ত হয়।
পাখি দূর প্রান্তরে যতই উড়ুক, বেলা শেষে তার ঘরে ফিরেই প্রশান্তি পায়।
ঠিক তেমনিভাবে আমাদের অন্তর আল্লাহর দিকেই ধাবিত হয়।
.
ইসলামের এই দা'য়ী আমর খালিদ, সারাহ'র ইমেইলের জবাবে তাওবা শর্তসমূহ লিখে নাসিহা পাঠিয়ে দেয়, আল্লাহ অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দিবেন যদি সে তাওবা করে-বলে জানায়।
.
দুই দিন পরে সারাহ, আমির খালিদের সাথে যোগাযোগ করে।
সে বলে, "আমি আল্লাহর কাছে তাওবা করেছি, আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছি, প্রতিজ্ঞা করেছি তার সাথে আর কোনদিন যোগাযোগ করব না"।
.
এর দুই দিন পর সে আবার তার সাথে যোগাযোগ করে।
সে বলে, "কিভাবে সলাত আদায় করতে হয়, জানতে চাই"।
.
আরো দুই দিন পর সে জানতে চায়, "ক্বুর'আন তিলোওয়াত শোনার জন্য তার কয়েকটি অডিও টেপ লাগবে"।
আমর খালিদ কুরিয়ার যোগে কিছু কুর'আনের ক্যাসেট পাঠিয়ে দেয়।
.
দুই সপ্তাহ পর সে আবারো যোগাযোগ করে আর তাকে জানায়,"নিউজিল্যান্ডের সেই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা থেকে সে তার নাম উঠিয়ে নিয়েছে"।
.
এরপরের বিষয়টা অবাক করার মত। সারাহ জানায়, "আমি হিজাব পড়া শুরু করে দিয়েছি"।
.
গল্পের এখানেই শেষ নয়ঃ-
.
ঠিক এর দুই দিনের মাথায়, (মাত্রই সে পর্দা শুরু করে দিয়েছে) তার শরীরে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়।
ব্যথা সহ্য করতে না পেরে সে ডাক্তার দেখায়৷
রিপোর্ট আসে তার ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছে, সে আর অল্পকিছু দিন বাঁচবে।
অপারেশানের জন্য সে হাসপাতালে ভর্তি হলে অস্ট্রেলিয়ান ডাক্তাররা জানায়, এই রোগে অপারেশনে সফলতার হার মাত্র বিশ শতাংশ (২০%)।
.
পাঠক! এমন পরিস্থিতিতে সারাহ কী বলেছিল জানেন?
সে বলেছিল, "আমি আনন্দিত আল্লাহর সাথে আমার সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে এই ভেবে, আমি খুশি যে আমার অসুস্থতা ধরা পরার আগেই আমি তাওবা করতে পেরেছি, আমি জানিনা আমার বাবা মা আমার ব্যাপারে জানবেন কীনা, আমি যদি বেঁচে থাকি তাহলে আপনাদের ওয়েবসাইটকে সহযোগিতা করব, কেননা এই সাইটটি আমার জন্য ইসলাম জানার জানালা"।
.
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রজিউন, আমরা আল্লাহর জন্যই আর আমরা তার দিকের ফিরে যাব।
মহান আল্লাহ সারাহকে ক্ষমা করে দিন যে মাত্র ২২ বছর বয়সে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। তাকে নিউজিল্যান্ডে মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল।
.
মৃত্যুর আগে সে আমর খালিদকে একটা চিঠি লিখে গিয়েছিলোঃ-
.
"আমি আমার রব থেকে বাইশটি বছর দূরে থেকেছি, অথচ মাত্র তিন সপ্তাহ আগে আমি তাওবা করে ফিরে এসেছি, আপনাদের আশেপাশে ও ইন্টারনেট ফোরামে কতশত মুসলিম আছে জানিনা, আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা আমার জন্য দু'আ করবেন যেন মহান আল্লাহ আমার উপর রহম করেন, আর আমার জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। আমার মায়ের জন্য দু'আ করবেন যেন মহান আল্লাহ তাকে হিদায়েত দেন, সে আমার ব্যাপারে কিছুই জানল না।”
.
ইতি, সারাহ।
.
প্রিয় পাঠক! কী ভাবছেন আল্লাহ কী তাকে ক্ষমা করবেন, নাকী করবেন না? শুনুন মহান আল্লাহর ওয়াদা, তিনি ইরশাদ করেন,
.
"তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, ফলে আল্লাহ তাদের গুনাহসমূহ নেকী দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন।
আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আর যে তাওবা করে ও সৎকাজ করে, সে তো সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর অভিমুখী।"
[সূরা আল ফুরক্বান, ৭০-৭১]
বোন সারাহের তাওবার ঘটনা বর্ণনা করেছেন ইজিপশিয়ান দা'য়ী আমর খালিদ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now