বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটি দ্বীপের সন্ধানে
চ্যাপ্টার- ৫
৫
আহমদ মুসা তাহিতির স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে
বেরিয়ে ট্যাক্সিতে উঠে বসল।
তারা গাড়িতে আগের মতই বসেছে। আহমদ মুসা
বসেছে ড্রাইভারের পাশে। আর মারেভা
বসেছে পেছনের সীটে।
ড্রাইভার আহমদ মুসাকে গাড়িতে বসিয়ে দরজা বন্ধ
করে গাড়ির সামনে দিয়ে ঘুরে তার সীটে
ফিরছিল।
উৎসুক মারেভা আহমদ মুসাকে প্রশ্ন করল, ‘স্যার,
একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে পারি?’
‘অবশ্যই।’ বলল আহমদ মুসা।
‘স্যার, দেখলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ডিজি’র মত
ফরাসি অফিসার আপনাকে গাড়ি, পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে
গেল। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়েও তাই দেখলাম। আপনি
কি এদের পূর্ব পরিচিত?’ মারেভা বলল। তার
চোখে বিস্ময়।
আহমদ মুসা যে ফ্রান্সেরও নাগরিক, সে রিয়াদ
থেকে আসার সময় সেখানকার ফরাসি রাষ্ট্রদূতের
চিঠি নিয়ে এসেছিল, ফরাসি রাষ্ট্রদূত যে তাকে
ফরাসি রাজপরিবারের জামাই বলেও পরিচয় দিয়েছিল,
এসব কথা চেপে দিয়ে আহমদ মুসা বলল, ‘হ্যাঁ
মারেভা, এদের সাথে আমার পরিচয় আছে।’
কথাটা শেষ করেই আহমদ মুসা আবার বলে উঠল,
‘মারেভা, দক্ষিন উপকূল ও উত্তর উপকূলের কিছুটা
তো আমরা কয়েক দিনে দেখলাম। আজ যখন
শহরে ঢুকেছি, তখন চল জিওগ্রাফিক্যাল যাদুঘরটা
দেখব। তেপাও আপনি নিশ্চয় যাদুঘরটা চেনেন?’
‘জি স্যার। অনেক ইন্টারেষ্টিং স্যার। জিওগ্র্যাফিক্যাল
যাদুঘরে গেল ফ্রেন্স পলেনিশিয়া দেখার কাজ
অনেকটা হয়ে যায়।’ মারেভা বলল।
‘তুমি অনেকবার গেছ নিশ্চয়?’ মারেভাকে জিজ্ঞাসা
করল আহমদ মুসা।
‘স্যার, আমার পাঠ্য বিষয় মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর একটা
পেপার আছে পলিনেশিয়ান আইল্যান্ডের ‘বেজ
ও ওয়াল ফিজিক্যাল ফিচার’- এর উপর। এ জন্য এ
যাদুঘরে আমাকে আসতে হয়।’ মারেভা মাইমিতি
বলল।
আহমদ মুসার মুখটি উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ভাবল,
তাহলে তো এ যাদুঘরে অ্যাটলগুলো সম্পর্কে
জানার অনেক কিছুই থাকতে পারে এবং মারেভা
তাকে এ ব্যাপারে অনেক সাহায্যও করতে
পারবে। মনে মনে হাসল। গাইড দেখি তার
সহকারী হবারও যোগ্যতা রাখে। বলল আহমদ মুস,
‘পলিনেশিয়ান দ্বীপগুলো কি তথ্য এখানে আছে
মারেভা।’
‘দ্বীপ ও অ্যাটল দ্বীপের প্রত্যেকটির একটা
মিনি প্রতিকৃতি এখানে আছে। এ প্রতিকৃতি শুধু
দ্বীপের উপরের অংশের নয়, দ্বীপের
আন্ডার ওয়াটার ‘ওয়াল’ ও ‘বেজ’- এর প্রতিকৃতি
কেমন তাও দেখানো আছে। দ্বীপগুলোর
পাহাড় কোরাল রীফ, উপকূল, বনাঞ্চল ও
লোকবসতি সম্পর্কে তথ্য আছে। অ্যাটল
দ্বীপগুলোর জীব-বৈচিত্র, ইত্যাদি সম্পর্কে
মূল্যবান তথ্য সেখানে পাওয়া যায়।’ বলল মারেভা।
আনন্দে আহমদ মুসার চোখ-দু’টি চক চক করে
উঠল। এ যে মেখ না চাইতেই পানি। যা সে জানতে
চায় এ এলাক সম্পর্কে তার সিংহভাগ সে পেয়ে
যাবে এই যাদুঘরে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের
অশেষ শুকরিয়া আদায় করল আহমদ মুসা।
‘দ্বীপ ও অ্যাটলগুলোর মালিকানা কিংবা বড় বড়
প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা স্থাপনা সম্পর্কে কেমন তথ্য
আছে যাদুঘরে?’ জিজ্ঞাসা করল আহমদ মুসা।
মারেভা মুখ তুলে তাকাল আহমদ মুসার দিকে।
ঠোঁটে এক টুকরো হাসিও ফুটে উঠল। বলল,
‘স্যার, কোথায় কোন দ্বীপ বা কোন সংস্থা,
প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির কথা জিজ্ঞাসা করছেন, কিনবেন
নাকি স্যার?’
‘কেনা যায় নাকি?’ বলল আহমদ মুসা।
‘খুব কঠিন। কেনার জন্যে ফরাসি নাগরিক হতে হয়
কিংবা ফরাসি সরকারের উপর প্রভাব থাকতে হয়। তবে
বিদেশী নাগরিকরা দ্বীপ লীজ নিতে পারে,
কিনতেও পারে তবে বিক্রি করতে পারে না।
অবশ্য বিশেষ দ্বীপ ও বিশেষ এলাকার দ্বীপ,
অ্যাটল লীজ নেয়া যায় না, কেনাও যায় না।’
বলে একটু থেমেই আবার শুরু করল, ‘যাদুঘরে
কিছু তথ্য ভিজিবল, এমনিতেই পাওয়া, দেখা যায়। কিছু
তথ্য অন রিকোয়েষ্ট পাওয়া যায়। কিছু তথ্য
ক্ল্যাসিফায়েড। সেগুলো সিক্রেট সেকশনে
সংরক্ষিত। ওগুলো পাওয়া যায় না। চলুন গেলেই সব
দেখা যাবে।’
পাপেতির জিওগ্রাফিক্যাল যাদুঘর মধ্য পাপেতির বিশাল
এলাকা জুড়ে। এ যেন এক মিনি ফ্যেঞ্চ
পলিনেশিয়া।
অ্যাটলগুলোর প্রতিকৃতি আগাগোড়া খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে
দেখল আহমদ মুসা। কিছু কিছু নোটও নিল।
পাঁচ ঘন্টা পরে যাদুঘর থেকে বেরিয়ে এল
আহমদ মুসা ও মারেভ।
‘মারেভা, তেপাওকে ডাক। চল, আমরা একটা
রেষ্টুরেন্টে বসি। তৃষ্ণাও লেগেছে, একটু
বিশ্রামও হবে।
‘যাদুঘরের পাশের একটা ভালো রেষ্টুরেন্ট
প্যাসেফিক ইন্টারন্যাল- এ গিয়ে বসল।
বসেই আহমদ মুসা মারেভাকে বলল, ‘বেলা দু’টা
বাজে। খেয়ে নেয়াই দরকার। একটু ভাল খাবার
অর্ডার দাও। আমি ‘টয়লেট থেকে আসছি।’
বলে আহমদ মুসা চলল টয়লেটের দিকে।
আহমদ মুসা টয়লেট সেরে অজু করে বেরিয়ে
এসে একটা নিরিবিলি স্পেস খুঁজে নিয়ে
যোহরের নামাজ সেরে নিল।
টেবিলে ফিরে এসে দেখল, খাবার এসে
গেছে। টেবিলের মাঝখানে রোলিং ডিস টেবিল।
তাতে খাবার সাজানো। ঘুরছে রোলিং ডিস-টেবিলটা।
‘স্যার, আপনি ভাল খাবারের অর্ডার দিতে
বলেছেন। তাহিতিতে এসে পর্যটকরা সবচেয়ে
যা পছন্দ করে, তাই আমি আনিয়েছি। দেখুন পয়সন
ক্রু আছে, সেভ্রেটিস আছে এবং ফ্রায়েড
চিকেন ও রাইচ এবং গ্রিলড্ পর্ক। খাবার শেষে
আছে, ‘পো’, যা টুরিষ্টদের সবচেয়ে
পছন্দনীয়।’ বলল মারেভা।
‘থ্যাংকস’ বলে আহমদ মুসা বসল চেয়ারে। বলল হাসি
মুখে, ‘যেমন ক্ষুধা তেমনি সুন্দর হয়েছে খাবার।
নাও শুরু করা যাক।’
খেতে শুরু করল সবাই।
আহমদ মুসা খেল খুব আস্তে আস্তে। শুধু খেল
ফ্রায়েড রাইচ, ফ্রেশ ওয়াটারের শ্রিম দিয়ে তৈরি
সেভ্রেটিস, সালাদ। সব শেষে মজা করে খেল
নারকেলের দুধে পেপে, ভ্যানিলা,
কলাসহযোগে তৈরি মিষ্টি পুডিং।
আহমদ মুসার এভাবে অধিকাংশ খাবার এড়িয়ে যাওয়া
লক্ষ্য করছিল মারেভা। এক সময় সে বলে, ‘স্যার
আপনি তো কিছুই খাচ্ছেন না।’
‘না মারেভা, আমি খাচ্ছি।’ বলে না খাওয়া
আইটেমগুলো রোলিং ডিশ টেবিল টেনে তার
দিকে নেয়। টেনে নেয় বটে, কিন্তু ওসব ডিস
থেকে কিছুই নেয় না। এটাও লক্ষ্য করেছিল
মারেভা, কিন্তু সে আর কিছু বলেনি।
রেষ্টুরেন্টের বিল চুকিয়ে রেষ্টুরেন্ট
থেকে বেরুল আহমদ মুসা তাদেরকে নিয়ে।
বের হবার সময় এক ফাঁকে সুযোগ পেয়ে
ড্রাইভার তেপাও মারেভাকে বলল, ‘স্যারকে যতই
দেখছি বিস্মিত হচ্ছি! নরমে-গরমে, কঠোর-
উদারতায় এমন মানুষ আমি জীবনে দেখেনি।
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একদম অংকের মত
টুদিপয়েন্ট চায়, আচরণের ক্ষেত্রে একদম মাটির
মানুষ। এই প্রথম একজন ট্যুরিষ্ট একজন
ড্রাইভারকে টেবিলে নিজের পাশে বসিয়ে
খাওয়ালেন।’
মারেভা ড্রাইভারের কথার জবাবে কিছু বলতে
যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই আহমদ মুসা ফিরে এসে
বলল, ‘মারেভা, যাদুঘরের রিসেপশনে কিছু
ফোল্ডার ও বুকলেট দেখলাম। মনে করেছিলাম,
ফেরার পথে কিনে নিব। কিন্তু বের হলাম তো
অন্যপথে। চল রিসেপশনে যাব।’
মারেভা আগেই থেমে গিয়েছিল।
আহমদ মুসার কথা শেষ হতেই ‘ইয়েস স্যার,
চলুন!’ বলে মারেভা ড্রাইভার তেপাওকে বলল,
‘আপনি গাড়িতে যান, গাড়ি নিশ্চয় গরম হয়ে গেছে,
একটু ঠান্ডা করে নিন।’
আহমদ মুসা ও মারেভা চলল যাদুঘরের রিসেপশনের
দিকে।
‘স্যার, একটা কথা বলব।’ বলল মারেভা।
‘বল।’ আহমদ মুসা বলল।
‘আমার খারাপ লাগছে, আমি অযথাই আপনার অনেক
টাকা খরচ করেছি। আপনি কি গোশত খান না স্যার?’
বলল মারেভা।
‘কিন্তু চিকেনও তো খেলেন না। এমন কি ‘পইসন
ক্রু’ ও খাননি, যা মাছ দিয়ে তৈরি।’ বলল মারেভা।
হাসল আহমদ মুসা। বলল ‘পইসনে মাছের সাথে
সাপও আছে। ওটা আমি খাই না।’
‘কিন্তু চিকেন?’ জিজ্ঞাসা মারেভার।
হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘স্রষ্টা অর্থ্যাৎ ঈশ্বরের
নাম নিয়ে জবাই করা না হলে সে জিনিস আমরা খাই
না।’
‘আজব কথা! এমন কথা তো কোনদিন শুনিনি।’
বলল মারেভা।
গম্ভীর হলো আহমদ মুসা। একটু ভাবল। তারপর
বলল, ‘মারেভা বিষয়টা আমি তোমাকে বলতে চাইনি।
আমি দেখছি, তোমার অবাক হওয়ার মতো ঘটনা
আরও ঘটতে পারে। তাই আমার একটা পরিচয়
তোমার জানা দরকার। মারেভা, আমি মুসলিম, ইসলাম
ধর্মের অনুসারী।’
মারেভা একটু থমকে দাঁড়াল। তাকাল আহমদ মুসার
দিকে। একটু উৎসুক দৃষ্টি তার চোখে। বলল, ‘হ্যাঁ,
মুসলমান! টেলিভিশন, পত্রিকায় মুসলমান সর্ম্পকে
অনেক কিছু শুনি। তবে কোন মুসলমান আমি
দেখিনি। তাহিতিতে দু’চারজন মুসলমান আছে বলে
শুনেছিলাম কার কাছে যেন। তাদের সাথে কখনও
দেখা হয়নি। তবে একবার আরুতে গিয়ে আমাদের
গ্রেট গ্রান্ড ফাদারদের এক কথাবার্তায়
মুসলমানদের কথা শুনেছিলাম। তখন অনেক ছোট
আমি। আচ্ছা, মুসলমানরা কি শুকর, সাপ ইত্যাদির মত
অনেক কিছুই খায় না? স্রষ্টার নাম নিয়ে জবাই করা না
করার মধ্যে কি পার্থক্য যে, এ জন্যে তা খাবারই
আযোগ্য হয়ে যায়?’
‘সে অনেক কথা মারেভা, পরে একদিন বলব।’
আহমদ মুসা বলল।
‘ঠিক আছে। কিন্তু স্যার, টিভিতে আমি মাথা, মুখে,
শরীরে কালো কাপড় জড়ানো মেয়েদের
ছবি দেখেছি, এরা নাকি মুসলিম? এটা কি সত্যি স্যার?’
বলল মারেভা।
‘তুমি যেটা দেখেছ, সেটা প্রপাগান্ডা। তবে
সত্যটা বুঝতে তোমার একটু সময় লাগবে। এক
কথায় বললেই বুঝবে না।’ আহমদ মুসা বলল।
‘আপনি অন্যদের থেকে অনেক আলাদা। মুসলমান
বলেই কি?’
‘এক ধর্ম থেকে আরেক ধর্ম, এক সংস্কৃতি
থেকে আরেক সংস্কৃতির অনুসারিদের মধ্যে
পার্থক্য থাকবেই।’ বলল আহমদ মুসা।
তারা রিসেপশনে পৌঁছে গিয়েছিল।
পাশের পাবলিক রিলেশনস কাউন্টার থেকে
ফ্রেন্স পলিনেশীয় দ্বীপপুঞ্জ বিশেষ করে
অ্যাটল দ্বীপ সম্পর্কিত সব ফোল্ডার ও বুকলেট
কিনে রিসেপশন থেকে বেরিয়ে এল আহমদ
মুসারা।
গাড়িটা চলে এসেছিল জাদুঘরের গাড়ি বারান্দায়।
রিসেপশন থেকে বেরিয়েই গাড়ি পেয়ে গেল
তারা।
গাড়িতে উঠে পেয়ে গেল তারা।
গাড়িতে উঠে বসল আহমদ মুসা ও মারেভা।
আহমদ মুসা হাতঘড়ির দিকে তাকাল। বেলা তিনটা
বাজে।
‘মি. তেপাও, আমি হোটেল ফিরব। তার আগে
মারেভাকে তুমি বাড়িতে নামিয়ে দাও। তারপর
আমাকে হোটেলে নেবে।’ বলল আহমদ
ড্রাইভারকে।
‘স্যার, গাড়ি সরাসরি হোটেলে নিন। আমি সেখান
থেকে বাসায় ফিরব।’ মারেভা বলল।
‘মারেভা, এটা বাড়তি কোন সুবিধা নয়। হোটেলের
পথেই তোমার বাসা। শুধু ভিন্ন একটা পথে যেতে
হবে মাত্র।’ কিছুটা শক্ত কন্ঠে বলল আহমদ মুসা।
‘স্যরি স্যার।’ বলল মারেভা।
‘ম্যাডাম মারেভা, আপনার যাদুঘরে ঢোকার পরপরই
একজন, সম্ভবত আপনার কোন বান্ধবী, আমাকে
জিজ্ঞাসা করেছিল আপনি হোটেলে ফিরবেন, না
বাসায় ফিরবেন। আমি বলতে পারিনি। একটু অপেক্ষা
করে তিনি চলে গেছেন।’ ড্রাইভার তেপাও বলল
মারেভাকে উদ্দেশ্য করে।
‘আমার বান্ধবী! তার সাথে ট্যুরিষ্ট ছিল মানে
কোন ট্যুরিষ্ট নিয়ে এসেছিলেন তিনি?’ জিজ্ঞাসা
মারেভা।’
‘উনি একটা মাইক্রো থেকে নেমেছিলেন।
ভেতরে কে ছিলেন আমি দেখিনি। তারা কেউ
নামেনি।’ বলল ড্রাইভার।
মনে মনে কিছুটা বিস্মিত হলো মারেভা। আমার
কোন বান্ধবী এখানে মাইক্রো নিয়ে তো
আসার কথা নয়। ট্যুরিষ্ট নিয়ে এলে তো
ট্যুরিষ্টরাই আগে নামতো। ট্যুরিষ্টদের ভেতরে
রেখে তার আমার জন্যে অপেক্ষার তো
কোন প্রশ্নই উঠে না! হিসাব মেলাতে পারলো
না। বলল, ‘চিনলাম না। যাক, কেউ একজন হবে
হয়তো।’
সবাই চুপচাপ।
গাড়ি চলছে।
কর্মহীন ভাবে একটু বসার সুযোগ পেতেই
আহামদ মুসা মাথা এসে দখল করল যাদুঘরে দেখা
অ্যাটলগুলো।
বিশেষ করে অ্যাটলগুলোই আহামদ মুসা খুঁটিয়ে
খুঁটিয়ে দেখতে চেষ্ঠা করেছে।
সব দেখে হতাশ হয়েছে আহমদ মুসা। কোন
অ্যাটলই বড় ধরনের কোন ঘাঁটি ধারণ করার উপযুক্ত
নয়।
গোটা পলিনেশিয়া দ্বীপপুঞ্জে তাহিতির পুবে
তোয়ামতোই আসলে অ্যাটল দ্বীপপুঞ্জ।
উল্লেখযোগ্য সব অ্যাটল এখানেই রয়েছে।
প্রায় ৭৬ টি অ্যাটল এখানে রয়েছে। অন্যগুলো
নিরেট অ্যাটল দ্বীপ। এই অ্যাটলগুলোর মধ্যে
ডজন দেড়েক অ্যাটল রয়েছে যার ভূমির পরিমাণ
উল্লেখযোগ্য। এগুলোতে কম-বেশি জনবসতি
রয়েছে। কিন্তু এগুলোর ভূমি-অবস্থান অ্যাটলের
মধ্যেকার লেগুন (পানি)-এর চারদিকে ঘিরে, যা
এমন কোন বড় বা প্রশস্ত নয় যেখানে
লোকচক্ষুর আড়ালে কোন বড় ধরনের ঘাঁটি বা
স্থাপনা নির্মাণ করা যায়। তাছাড়া অন্য অ্যাটলগুলো ঘর-
বাড়ি করে বসবাসের মত নয়। তাহলে ব্ল্যাক সান
সিন্ডিকেট বিশাল ঘাঁটি গড়ার মত অ্যাটল এখানে
কোথায় পাবে, যাকে বা যে অ্যাটলকে ক্ষমতার
কেন্দ্র বলে অভিহিত করতে পারে?
অ্যাটলগুলোর যে চেহারা দেখেছে তাতে
সে ধরনের কোন অ্যাটল তার চোখে পড়েনি।
এসব চিন্তা আহমদ মনের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিল।
তাহলে কার্যকরণ মতে সামনের রেখে আসা
তাহিতির আশে-পাশের অ্যাটলেই ব্ল্যাক সান
সিন্ডিকেটের ঘাঁটি আছে বলে সে মনে
করেছে, সেটা কি মিথ্যা হবে? আহমদ মুসার মন
বলছে সে ঠিক পথেই চলছে। যে অনিশ্চয়তা
দেখছে সে মাঠের বাস্তবাতায়, তার চিহ্ন কিন্তু
তার মনে নেই।
হঠাৎ গাড়ি হার্ড ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে গেল।
চমকে উঠে আহমদ মুসা তাকাল চারদিকে। দেখল,
বাম দিকে একটা পার্ক ও ডানদিকে বাগান-শোভিত
একটা সংরক্ষিত টিলা।
‘দাঁড়ালেন কেন মি. তেপাও? এটা কোন জায়গা?’
জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার।
‘স্যার, আমি আ্যভেনিউ হিন্দি থেকে আ্যভেনিউ
পোমা যাওয়ার জন্যে এই ডাইভারসন রোডে
ঢুকেছি। সামনে পথের উপর হঠাৎ একটা মাইক্রো
এসে দাঁড়িয়েছে স্যার।’ বলল তেপাও।
গাড়িটা আহমদ মুসার চোখে পড়েছিল আগেই।
ভেবেছিল, এক বোকা ড্রাইভার গাড়িটা ঘুরিয়ে
নিচ্ছে। না, তা নয়। রাস্তা ব্লক করে গাড়িটা স্থির
দাঁড়িয়ে আছে। মাইক্রোর জানালায় কাঁচ শেড
দেয়া। ভেতরের কিছুই কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
মাইক্রোটা আহমদ মুসাদের গাগড়ি থেকে সাত আট
গজ দুরে।
‘মি. তেপাও মাইকোর সামনের দিক দিয়ে পাশ
কাটিয়ে যাবার চেষ্টা কর। দেখা যাক, ওদের মতলব
কিছু আছে কিনা।’ আহমদ মুসা বলল ড্রাইভারকে।
‘কি ঘটেছে? মাইক্রোটা আমাদের পথ
আগলেছে কেন?’ বলল মারেভা। তার কন্ঠে
উদ্বেগ।
‘বুঝা যাচ্ছে না, দেখা যাক।’ বলল আহমদ মুসা।
ড্রাইভার তেপাও দ্রুত গাড়ির মাথা ঘুরিয়ে নিতে
চলতে শুরু করল মাইক্রোকে পাশ কাটাবার জন্যে।
আহমদ মুসাদের গাড়ি মাইক্রোটির বরাবর আসতেই
মাইক্রোর দু’দিক থেকে জনাছয়েক লোক
নেমে ছুটে এল আহমদ মুসাদের গাড়ির দিকে।
লোকগুলোকে দেখেই আহমদ মুসা বুঝল,
গুন্ডা-বদমাস শ্রেণীর লোক হবে এরা। সবাই
শ্বেতাংগ। আহমদ মুসার চোখ মাইক্রোর ফ্রন্ট
সীটের দিকেও গিয়েছিল। দেখল, ড্রাইভিং
সীটের পাশে একজন শ্বেতাংগ যুবতী বসে
আছে। তার স্থির চোখ মনে হোল মারেভার
দিকে।
ওরা ছয়জন এসে আহমদ মুসাদের গাড়ি ঘিরে
ফেলল।
দু’জন গিয়ে মারেভার পাশের দরজায় লাথি দিয়ে
বলল, ‘খোল দরজা। না হলে দরজা ভেঙে
ফেলব।’
উদ্বেগ-আতংকে ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল
মারেভার মুখ। কাঁপছিল সে। তাকাল সে আহমদ মুসার
দিকে।
‘দরজা খুলে দাও মারেভা।’ শান্ত কন্ঠে বলল
আহমদ মুসা।
আহমদ মু্সাও বেরিয়ে এল গাড়ি থেকে।
মারেভা চিৎকার করে বলল, ‘তোমরা কে? কি তাও
তোমরা? আমি কি করেছি? ছাড় আমাকে।’
‘চল, তোকে প্রেম করতে করা শেখাব। তামাহি
মাহিনের চেয়ে আমরা অনেক ভাল প্রেম
করতে জানি।’ বলল ওদের একজন।
এদের কথা শুনে এবং মাইক্রোর সামনের সীটে
বসা সান্ডা সুসানকে দেখে মূহুর্তেই সব বিষয়
পরিষ্কার হয়ে গেল মারেভার কাছে। তাহলে সান্ডা
যে থ্রেট দিয়েছেল, সেটারই বাস্তবায়ন করতে
এসেছে সে। এরা কি তাহলে তাকে কিডন্যাপ
করতে এসেছে!
ইতিমধ্যে দু’জন মারেভাকে টেনে বের আনল
গাড়ি থেকে এবং কয়েকজন তাকে শূন্যে তুলে
ধরে মাইক্রোর দিকে যাবার উদ্যোগ নিল।
‘ছেড়ে দাও, বাঁচাও!’ বলে চিৎকার করছে
মারেভা।
আহমদ মুসা আস্তে আস্তে এসে তাদের সামনে
দাঁড়াল। বলল, ‘ছোকরার দল, ছেড়ে দাও ওকে।’
শান্ত কিন্তু শক্ত কন্ঠস্বর আহমদ মুসার।
ওরা সবাই ফিরে তাকাল আহমদ মুসার দিকে। এমন
শান্ত, শক্ত কন্ঠস্বরের সাথে তারা বোধ হয়
পরিচিত নয়।
ফিরে তাকিয়ে আহমদ মুসাকে একটু দেখে নিয়ে
ওদের একজন বলল, ‘সরে যা নেটিভ ডগ, ছাতু
করে দেব তা না হ…।’
কথা তাকে শেষ করতে দিল না আহমদ মুসা। এক
ধাপ এগিয়ে এসে লোকটির বাম চোঁয়ালে ডান
হাতের একটা ব্লু চালাল।
কথা শেষ না করেই লোকটি সটান পড়ে গেল
মাটিতে। পড়ে গিয়ে একটুও নড়ল না। জ্ঞান
হারিয়েছে সে।
তিনজন দাঁড়িয়ে ছিল মারেভাকে শূন্যে তুলে
নিয়ে। আর দু’জন দাঁড়িয়েছিল তাদের সামনে। এরা
দু’জন সংজ্ঞা হারানো সাথীর দিকে একবার তাকিয়ে
চোখ ফেরাল আহমদ মুসার দিকে। চোখ
জ্বলছে ওদের বাঘের মত। বাঘের মতই ওরা এক
সাথে ঝাঁপিয়ে পড়ল আহমদ মুসার উপর।
আহমদ মুসা বিদ্যুৎ গতিতে পিছিয়ে এল আর সাথে
সাথে ওদের দু’জনের মাথা এসে আছড়ে পড়ল
আহমদ মুসার পায়ের কাছে। পড়েই ওরা উঠে
দাঁড়াচ্ছিল।
আহমদ মুসা ডান পাশের লোকটির ডান কানের নিচে
ডান পায়ের একটা লাথি ছুড়ে মারল। জুতার
পয়েন্টেড মাথাটা সুতীব্র একটা ঘা মারল লোকটার
কানের নিচের নরম জায়গায়। সংগে সংগেই
লোকটার দেহ মাটির উপর খসে পড়ল। মাথায় এই ঘা
খাওয়ার পর তার সংজ্ঞা থাকার কথা নয়।
বাম পাশের লোকটি তার দু’পায়ের উপর দাঁড়িয়ে
গিয়েছিল, কিন্তু কোমরটা তখনও সোজা করতে
পারেনি। তার দেহের উপরের অংশ কোমরের
উপর তখনও সমকৌণিক অবস্থানে।
আহমদ মুসা বাম হাতে লোকটার মাথার চুল খামচে
ধরে ডান হাতের মোক্ষম কারাত চালাল তার ঘাড়ে।
ঘাড়ের নাজুক জায়গাটায় হাতুড়ির মত আঘাতে যে
কোন মানুষকে কয়েক ঘন্টা ঘুমিয়ে রাখার জন্যে
যতেষ্ট।
এ লোকটির দেহটাও মাটিতে আছড়ে পড়ল।
আহমদ মুসা ডান হাতের কারাতের কাজ শেষ করেই
তাকিয়েছিল মারেভা চ্যাংদোলা দেহ নিয়ে দাঁড়ানো
তিন জনের দিকে। দেখল ওরা মারেভাকে
ছেড়ে দিয়েছে। একজন তার পকেট থেকে
রিভলবার বের করেছে।
চোখের পলকে আহমদ মুসার দুই হাত শূন্যে
উঠেই ছুটল মাটির দিকে। আর পা দু’টি শূন্যে উঠে
তীব্র গতিতে বৃত্তাকারে ঘুরে গিয়ে আঘাত করল
রিভলবারধারীর হাত ও বুকে।
রিভলবারধারীর হাত থেকে ছিটকে পড়ে গেল
রিভলবার এবং সেও পড়ে গেল চিৎ হয়ে।
আহমদ মুসার পা যখন লোকটিকে আঘাত করে মাটি
স্পর্শ করল, তখন চক্রাকারে ঘুরে সোজা
হয়েছে এবং দক্ষ এ্যাক্রব্যাটের মত আহমদ মুসা
পায়ের উপর দাঁড়িয়ে গেছে।
রিভলবার কুড়িয়ে নিয়েই আহমদ মুসা পেছনে
ওদের তিনজনের দিকে রিভলবার তাক করে
ওদেরকে বলল, ‘কোন চালাকি না করে তোমরা
ওপুর হয়ে শুয়ে……।’
আহমদ মুসা কথা শেষ করার আগেই তিন জনের
দু’জন আহমদ মুসার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
আহমদ মুসার রিভলবার তাক করা ছিল। কিন্তু গুলি না
করে ধাক্কা মেরে মারেভাকে এক দিকে
সরিয়ে দিয়ে সেও দ্রুত এক পাশে সরে গেল।
আহমদ মুসার উপর চড়াও হতে ব্যর্থ হয়ে দু’জন
গর্জে উঠে আবার ঘুরে দাঁড়াল। তাদের সাথের
তৃতীয় জনও এবার উঠে দাঁড়িয়ে তাদের সাথে
যোগ দিল।
আহমদ মুসা বুঝল ওরা বেপরোয়া। ওদের
চোখে মুখে ভয়ের চিহ্ন নেই। তবু আহমদ মুসা
গর্জে উঠল, ‘দেখ, তোমরা আত্মসসর্পণ কর,
না হয় পালিয়ে যাও। অন্যথা করলে তিনজনই ….!’
এবারও আহমদ মুসাকে কথা শেষ করতে দিল না।
আহমদ মুসার রিভলবার পর পর তিনবার গুলিবর্ষণ করল।
তিন জনই ওরা পায়ে গুলি খেল।
অদ্ভুদ ব্যাপার, তিনজনই ওরা গুলি খেয়ে বসে পড়ল
বটে, কিন্তু দেখা গেল তিনজনই ওরা আহত হওয়ার
দিকে ভ্রক্ষেপ না করে পকেট থেকে বের
করে আনল ডিম্বাকৃতির হাত বোমা।
চোখে-মুখে ওদের চরম বেপরোয়া ভাব।
তিনজনের হাতই এক সাথে উপরে উঠল হাত বোমা
ছোঁড়ার জন্যে। নিরুপায় আহমদ মুসা। গুলি করা ছাড়া
আত্নরক্ষার আর কোন উপায় নেই। কিন্তু
রিভলবারে গুলি আর কয়টা আছে কে জানে!
ওদের হাত উপরে ওঠার সংগে সংগেই আহমদ মুসার
রিভলবার পরপর তিনবার গুলিবর্ষণ করল।
তিন জনেই কব্জি গুলিবিদ্ধ হলো। তাদের হাত
থেকে খসে পড়ল বোমা। স্বস্তির নি:শ্বাস নিয়ে
আহমদ মুসা তাকাল মাইক্রোর দিকে।
মাইক্রোর সেই মহিলাকে। আরও কয়েকজন
পুলিশ এগিয়ে আসছে এদিকে। তাদের সাথে
ভয়ে-উদ্বেগে বিপর্যস্ত একজন তরুণ।
তরুণকে দেখেই মারেভা চিৎকার করে
উঠেছে, ‘মাহিন!’ মারেভা কন্ঠ কান্নাজড়িত।
তরুণটি কাছাকাঠি আসতেই মারেভা ছুটে গিয়ে
জড়িয়ে ধরল তাকে। বলল, ‘ঈশ্বর বাঁচিয়েছেন,
স্যার যেন ঈশ্বরের হাত। কিভাবে কি ঘটে গেল।’
কেঁদে উঠল মারেভা।
পুলিশরা ছয়জনকে যখন হাতকড়া পরাছিল, তখন
পুলিশের কর্তা ব্যাক্তিটি আহমদ মুসার সামনে এসে
বলল, ‘ধন্যবাদ আপনাকে। একাই ছয়জনকে
সামলেছেন। আমার কাছেও অবিশ্বাস্য লাগছে।
সবচেয়ে অবাক হয়েছি, আপনি হত্যা এড়িয়েছেন
জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্বেও। অনেক ধন্যবাদ
আপনাকে। কিন্তু আপনাকে এখানে নতুন মনে
হচ্ছে। আগে আপনাকে দেখিনি।’
আহমদ মুসা কিছু বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই
কথা বলে উঠল মারেভা। পুলিশকে আহমদ মুসার
দিকে আসতে দেখেই মারেভা তামাহি মাহিনকে
নিয়ে আহমদ মুসার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বলল,
‘স্যার, ইনি একজন টুরিষ্ট।’ আমি তার গাইডের কাজ
করছি। ক’দিন আগে তিনি এসেছেন।’
‘ওয়েলকাম আপনাকে। কিন্তু ট্যুরিষ্টরা সাধারনত
ভীতু হয়। তারা স্থানীয় কোন ব্যাপারে
নিজেদের জড়ায় না। আপনি কিন্তু ব্যাতিক্রম।’ বলল
পুলিশ অফিসারটি।
‘মানুষের সামনে বিশেষ কিছু বিষয় যখন আসে,
তখন তার কাছে নিজদেশ আর পরদেশ বলে কিছু
থাকে না। সবাই এটা করে। আমিও তাই করেছি।’
আহমদ মুসা বলল।
‘সবাই করে না। ব্যতিক্রম হিসেবে কেউ কেউ
করেন, যেমন আপনি।’ বলল পুলিশ অফিসার।
‘কিন্তু সবাইকেই করা উচিত। না করাটাই ব্যতিক্রম।’
আহমদ মুসা বলল।
হাসল পুলিশ অফিসারটি। বলল, ‘নীতিগত ভাবে আপনার
কথাই ঠিক।’
কথাটা শেষ করেই পুলিশ অফিসার তাকাল তার
পুলিশদের দিকে। বলল, ‘তোমাদের কাজ শেষ?
রেডি তোমরা।’
‘ইয়েস স্যার!’ একজন পুলিশ একটু এগিয়ে এসে
স্যালুট করে বলল।
পুলিশ তাদের সাথের তরুনটির দিকে চেয়ে বলল,
‘মাহিন তুমি ও মারেভা তোমাদের দু’জনকেই পুলিশ
ষ্টেশনে যেতে হবে। মারেভার ষ্টেটমেন্ট
নিতে হবে।’
বলেই পুলিশ অফিসার তাকাল আহমদ মুসার দিকে।
বলল, ‘আপনি কোথায় উঠেছেন মারেভা জানে।
আমরা ওর কাছ থেকে জেনে নিয়ে আপনার
কাছে আমারদের একটু যেতে হবে। আপনার
লিখিত সাক্ষ আমাদের দরকার হবে।’
‘ওয়েলকাম! আবার দেখা হবে।’ বলল আহমদ মুসা।
পুলিশ অফিসার ‘ধন্যবাদ’ বলে আহমদ মুসার সাথে
হ্যান্ডশেক করে গাড়ির দিকে চলতে শুরু করল।
পুলিশ অফিসারকে লক্ষ করে মারেভা বলল, ‘আমরা
আসছি।’ বলে মারেভা দাঁড়াল আহমদ মুসার দিকে।
বলল, ‘স্যার, মাহিনের সাথে আপনার পরিচয় করিয়ে
দেয়া হয়নি। ও তামাহি মাহিন! আমার মত সেও ছাত্র।’
হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘আরও পরিচয় হলো,
তোমরা একে অপরের খুব কাছাকাছি। আমি আশা
করি, একে অপরের জীবন সাথী হবে
তোমরা। আরও খবর হলো, তোমার বিপদ সে
আঁচ করতে পেরে পুলিশ নিয়ে এসেছিল
তোমাকে বাঁচাতে। ধন্যবাদ তামাহি মাহিন!’ মুখস্তের
মতই কথাগুলো এক নি:শ্বাসে বলল আহমদ মুসা।
মারেভা ও তামাহি মাহিন দু’জনেরই মুখ লজ্জায় লাল
হয়ে উঠেছে। বলল, ‘স্যার, এত সব বিষয় কখন
আপনি জানলেন, কি করে জানলেন?’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now