বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছায়াশহর
লেখক : রাকিব হাসান
পর্ব ১২
মা বাবার সম্ভাব্য বিপদের কথাটা
বলতে গিয়েও সামলে নিলাম।
এমনিতেই বেচারা কাতর হয়ে
আছে এখন, এর ওপর এসব বলে আর ওর ভয়
বাড়াতে চাইলাম না।
" পুলিশকে খবর দেব নাকি?",
লিভিং রুমে ফিরে আসার সময়
সুজা বলল। ঘরে ঢুকে সামনের
জানলার কাছে এসে বাইরের
অন্ধকারের দিকে তাকালাম। "
বুঝতে পারছি না", আমার গরম হয়ে
যাওয়া কপালটাকে জানলার
ঠাণ্ডা কাঁচে চেপে ধরে বললাম। "
কি করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।
ভেবেছিলাম, ওদের বাড়িতে
পেয়ে যাব। ওরা বাড়িতে থাকলে
আমরা এতক্ষণে বেরিয়ে পড়তে
পারতাম।"
" এত তাড়া কিসের তোমাদের?",
আমার পেছন থেকে বলে উঠল একটা
মেয়ে। চকিতে পেছন ঘুরলাম আমি
আর সুজা। দেখলাম, ঘরের মাঝখানে
দাঁড়িয়ে আছে এরিকা গার্ডনার।
দুটো হাত আড়াআড়ি ভাঁজ করে
রেখেছে বুকের ওপর।
" তুমি....তুমি তো মৃত!" বিড়বিড় করে
বললাম আমি।
হাসল এরিকা। বিষন্ন, তিক্ত হাসি।
বারান্দা থেকে আরও দুটো ছেলে
এসে ঘরে ঢুকল। একজন সুইচ টিপে সব
আলোগুলো নিভিয়ে দিল। " বড়
বেশী আলো!", এরিকার পাশে
দাঁড়িয়ে বলল ছেলেটি।
এরপর আরেকটি ছেলে জিম বাটলার
উদয় হল, ফায়ারপ্লেসটার দিক
থেকে। খাটো করে ছাঁটা কালো
চুলওয়ালা মেয়েটাকেও দেখলাম।
একেই সেদিন সিঁড়ির
ল্যাণ্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে
দেখেছিলাম। এখন আমার পাশে,
পর্দার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। সবাই
ওরা আমাদের দিকে তাকিয়ে
হাসছে। মৃদু আলোয় জ্বলছে ওদের
চোখ। আমায় আর সুজাকে ঘিরে
ফেলেছে ওরা।
" কি চাও তোমরা?", চিৎকার করে
বললাম। ভয়ে নিজের গলাটাই বিকৃত
শোনাল। নিজের গলা নিজেই
চিনতে পারছি না। " কি করতে
চাও তোমরা?" " আমরা আগে
তোমাদের এ বাড়িতেই থাকতাম",
মৃদুস্বরে বলল এরিকা। " আর এখন?
"চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। "
তোমাদের এ বাড়িতেই থাকতাম
আমরা", এরিকার মতো একই কথা বলল
টমাস। আমার প্রশ্নের উত্তর দিল না
কেউই।
" আর এখন কোথায় থাকো?", আবার
জিজ্ঞেস করলাম।
" এখনো এই বাড়িতেই থাকি", জিম
বলল এবার। " তোমাদের এই
বাড়িতেই আমরা মারা
গিয়েছিলাম। তোমরাও মরবে। " ওর
কথায় হাসল সবাই। খড়খড়ে, শুকনো,
নিষ্প্রাণ হাসি। আমাকে আর
সুজাকে ঘিরে এগিয়ে আসছে ওরা।
" এরা আমাদের মেরে ফেলবে",
সুজা চিৎকার করে বলল, " এরা খুন
করবে আমাদের।"
তাকিয়ে দেখছি আমি। নীরবে
এগিয়ে আসছে ওরা। সুজা আর আমি
পিছিয়ে এসে জানলায় পিঠ
দিয়ে দাঁড়ালাম। অন্ধকার ঘরে
চোখ বুলিয়ে পালানোর পথ খুঁজতে
লাগলাম। কিন্তু পালানোর পথ নেই।
আমাদের নিরূপায় অবস্থা দেখে
হেসে উঠল ওরা। সেই একই রকম রুক্ষ্ম,
কর্কশ, প্রাণহীন হাসি।
" ভয় পেয়ো না, রেজা", নরম গলায়
বলল এরিকা, " শীগগিরই তোমরা
আমাদের দলে চলে আসবে। এজন্যই
তোমাদের এ বাড়িতে ডেকে
আনা হয়েছিল।"
" বুঝলাম না তোমার কথা", গলা
কাঁপছে আমার।
" এ বাড়িটার নাম মৃত্যুপ্রাসাদ।
গ্রীন ভ্যালিতে নতুন যারাই আসে,
এই বাড়িতে ওঠে। তারপর ওদের
আমাদের দলে নিয়ে আসা হয়"।
এরিকার কথাগুলো সকলের কাছে
কেমন রসিকতার মত মনে হল। ওরা
সবাই হেসে উঠল।
" কিন্তু মবিন চাচা নামে আমাদের
বাবার এক চাচা...." বলতে বলতে
থেমে গেল সুজা।
এদিকওদিক মাথা নাড়ল এরিকা।
বলল, " ঐ নামে কেউ নেই, সুজা। ওটা
ছিল তোমাদের এই জায়গায়, এই
বাড়িতে ডেকে আনার একটা
কৌশল। প্রতি বছর একটা করে নতুন
মানুষ আনি আমরা। আমরাও এভাবেই
এসে উঠেছিলাম একদিন এই
বাড়িতে। মারা গিয়েছিলাম। এ
বছর তোমাদের পালা।"
" প্রতি বছর আমাদের নতুন তাজা
রক্তের দরকার হয়", এবার কথা বলল
জিম বাটলার। মৃদু আলোয় ওর
চোখদুটো লাল হয়ে জ্বলছে। "
মানুষের রক্ত না পেলে আমরা
থাকতে পারি না।" আমাদের
সামনে এসে স্থির হয়ে দাঁড়াল
ওরা।
ভারী দম নিয়ে চোখ বন্ধ করলাম
আমরা। মৃত্যুর প্রহর গুনতে লাগলাম।
ঠিক এইসময় বাইরের দরজায়
করাঘাতের শব্দ শুনলাম।
কে যেন জোরে জোরে কড়া
নাড়ছে দরজার।
সাহস পেয়ে চোখ খুললাম। ভূতুড়ে
ছেলেমেয়েগুলো সব উধাও
হয়েছে, আমাদের ফেলে।
কিন্তু বাতাসে ওদের গায়ের দূর্গন্ধ
রেখে গেছে।
একে অন্যের দিকে তাকালাম।
আমি আর সুজা। অবাক হয়ে।
তারপরেই আবার দরজায় করাঘাতের
শব্দ শোনা গেল। " নিশ্চয় বাবা-মা
এসেছে", চেঁচিয়ে বলল সুজা।
অন্ধকারে ছুটলাম দুজনে। অন্ধকারে
না দেখতে পেয়ে কফি টেবিলে
হোঁচট খেল সুজা। ওর আগে আমি
পৌঁছে গেলাম দরজার কাছে।
" বাবা! মা!" চেঁচিয়ে বলে
একটানে দরজা খুলে দিলাম, "
কোথায় ছিলে তোমরা এতক্ষণ? "
জড়িয়ে ধরার জন্য দুই হাত সামনে
বাড়িয়ে দিয়েছি। ওই অবস্থাতেই
থেমে গেল আমার হাত দুটো।
না, বাবা-মা আসেননি। মিঃ
জোনস এসেছেন! অবাক হয়ে
চেয়েছিলাম তাঁর দিকে। ততক্ষণে
আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে
সুজা। আমরা ভেবেছিলাম.....
" মিঃ জোনস!", আপনাকে দেখে
ভাল লাগছে", বলতে বলতে আমি
দরজাটা পুরো খুলে দিলাম, " আসুন,
ভেতরে আসুন "।
" তোমরা ভাল আছ তো"? আমাদের
দুজনের ওপর চোখ বোলাতে
বোলাতে জিজ্ঞেস করলেন
তিনি। তাঁর সুন্দর চেহারাটা
উদ্বেগে শক্ত হয়ে গেছে। " মনে
হচ্ছে, একেবারে সময় মতোই
এসেছি...."
" মিঃ জোনস" বলতে গিয়েও
থেমে গেলাম। সত্যি বলতে কি
এতটাই স্বস্তি বোধ করছি যে মুখের
কথা আটকে যাচ্ছে, চোখে পানি
চলে আসছে......। আমার হাতদুটো
চেপে ধরলেন মিঃ জোনস। "
আমাদের হাতে একদম সময় নেই",
বলতে বলতে পেছনের রাস্তার
দিকে তাকালেন তিনি।
ড্রাইভওয়েতে তাঁর গাড়িটা দাঁড়
করানো দেখলাম। ইঞ্জিন চালু
রেখে এসেছেন। পার্কিং লাইট
জ্বালানো।
" সময় থাকতে তোমাদের বের করে
নিয়ে এসেছি। এসো আমার সঙ্গে। "
তিনি বললেন।
পা বাড়াতে গিয়েও থেমে
গেলাম। মনে হল, মিঃ জোনসও
ওদের দলের কেউ নন তো?
" জলদি করো", মিঃ জোনস
তাগাদা দিলেন। অস্বস্তিভরে
অন্ধকারের দিকে তাকাচ্ছেন
বারবার। " ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে
রয়েছি আমার।"
" কিন্তু "....বলতে গিয়েও তাঁর ভীত
চোখের দিকে তাকিয়ে থেমে
গেলাম আমরা। মনে হল, মিঃ
জোনসকে কি বিশ্বাস করা কি
উচিত হবে? " পার্টিতে তোমাদের
বাবা মায়ের সঙ্গে আমিও
ছিলাম", মিঃ জোনস বলতে
লাগলেন, " হঠাৎ সবাই চক্র তৈরি
করে ঘিরে ফেলল আমাদের, মানে
আমাকে আর তোমাদের বাবা আর
মা'কে। চারপাশ থেকে ঘিরে
এগিয়ে এল ওরা।"
" তারপর? ", মুখ থেকে আমার আপনিই
বেরিয়ে এল কথাটা। মনে পড়ল, সেই
ভূতুড়ে ছেলেমেয়ের দলও এভাবে
আমাদের ঘিরে ফেলে এগিয়ে
আসছিল। মিঃ জোনস বলতে লাগলেন, "
ওদের চক্র ভেঙে আমরা পালিয়ে
এসেছি। আমরা তিনজন কোনওমতে
পালাতে পেরেছি। জলদি কর।
আমাদের এখুনি পালাতে হবে।"
" সুজা, চলো" বলে আমি মিঃ
জোনসের দিকে তাকালাম, "
বাবা- মা এখন কোথায়?"
" এসো, আমার সঙ্গে", মিঃ জোনস
বললেন, " আপাতত তাঁরা নিরাপদেই
আছেন। তবে কতক্ষণ নিরাপদে
থাকবেন, বলতে পারছি না।"
মিঃ জোনসের পেছন পেছন ঘর
থেকে বেরিয়ে এলাম।
ড্রাইভওয়ের দিকে চললাম,
যেখানে ওনার গাড়িটা রাখা
আছে। আকাশে মেঘের স্তর ভাগ
হয়ে গেছে, তার ফাঁক দিয়ে
বেরিয়ে পড়েছে চাঁদের
খানিকটা। ভোর রাতের আকাশের
অনেক নীচে যেন অসহায়ের মতো
ঝুলে থেকে মলিন আলো বিতড়ন
করছে।
" পুরো শহরটাই ভূতুড়ে ", সামনের
ড্রাইভিং সিটে উঠে বসতে বসতে
বললেন মিঃ জোনস। পাশের
প্যাসেঞ্জার সিটের দরজা খুলে
দিলেন আমার জন্য। সুজা নিজেই
গাড়ির পেছনের দরজা খুলে
পেছনের সিটে বসে পড়েছে।
কৃতজ্ঞ ভঙ্গিতে সিটে গা এলিয়ে
দিলাম আমি। গাড়ি স্টার্ট নিলে
আমি বললাম, " শহরটা যে ভূতুড়ে, তা
আমরা জানি। আমি আর সুজা...."
আমায় কথা শেষ করতে না দিয়ে
মিঃ জোনস বললেন, " এখুনি
আমাদের সবাইকে পালাতে হবে
এখান থেকে।" গাড়িতে স্টার্ট
দিয়েই তিনি গাড়িটাকে
পিছোতে শুরু করলেন, চাকার
তীক্ষ্ণ, কর্কশ শব্দ তুলে রাস্তায়
নামলেন।
" হ্যাঁ", আমি বললাম, " আপনি
একেবারে সময়মত এসেছিলেন।
ভূতুড়ে ছেলেমেয়েতে ভর্তি
আমাদের বাড়িটা। ওরা নাকি ওই
বাড়িতেই মারা গিয়েছিল"।
" তারমানে, ওদের দেখেছ
তোমরা!", মৃদুস্বরে বললেন মিঃ
জোনস, গ্যাস প্যাডেল চেপে
ধরলেন জোরে। সামনের বেগুনি
অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আছি।
গাছপালার আড়াল থেকে উঁকি
মারছে কমলা রঙের সূর্য। উদ্বিগ্ন
স্বরে জিজ্ঞেস করলাম, " কই,
আমাদের বাবা-মা কই"?
মিঃ জোনস উত্তরে বললেন, "
গোরস্থানের পাশে একটা
আউটডোর থিয়েটার আছে, একটা
বড়সড় মঞ্চ বানানো হয়েছে খোলা
জায়গায়, একটা বড় গাছ দিয়ে
আড়াল করা। তোমাদের বাবা
মা'কে ওখানেই রেখে এসেছি।
মনে হয় নিরাপদেই আছেন তাঁরা। "
সোজা সামনের রাস্তার দিকেই
তাকিয়ে আছেন মিঃ জোনস। চোখ
সরু হয়ে এসেছে তাঁর। উত্তেজনায়
চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে।
" ওই জায়গাটা আমরা দেখেছি ",
সুজা বলে উঠল পেছনের সিট
থেকে। উজ্জ্বল আলো জ্বলে উঠল
হঠাৎ পেছনের সিটে। " কিসের
আলো?" রিয়ারভিউ মিররের দিকে
তাকালেন মিঃ জোনস।
" আমার টর্চের", সুজার বলল। " সঙ্গে
নিয়ে এসেছিলাম, যদি কাজে
লাগে; কিন্তু এখন আর এটার দরকার
হবে না। সূর্য উঠে গেছে।"
ব্রেক কষে রাস্তার পাশে গাড়ি
দাঁড় করালেন মিঃ জোনস।
গোরস্থানের কাছে পৌঁছে
গিয়েছি আমরা। লাফ দিয়ে
নামলাম গাড়ি থেকে। বাবা মা
কে দেখার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছি।
আকাশটা এখনো অন্ধকার। বেগুনী
রঙের ছোঁয়া লেগে রয়েছে
তাতে। সদ্য উদিত হওয়া সূর্যটাকে
কমলা রঙের একটা প্রকাণ্ড থালার
মতো মনে হচ্ছে। গোরস্থানের
কিনারে দাঁড়িয়েই আমরা গত
রাতের দেখা সেই বড় গাছে ঢাকা
অদ্ভুত মঞ্চটাকে দেখতে পেলাম।
গোরস্থানের রাস্তা ধরে দৌড়তে
লাগলাম আমরা। হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল
সুজা, " ভাইয়া দেখো , কিটু!"
ওর দৃষ্টি অনুসরণ করে দেখি,
কবরফলকের কিনারার ধার ঘেঁষে
আস্তে আস্তে হেঁটে চলেছে
কুকুরটা।
সুজা ওর দিকে দৌড়ে গেল। আমার
বুকের ভেতরটা ধড়াস করে উঠল।
কিটুর ব্যাপারে গত রাতে হ্যারি
আমায় যা বলেছিল, তা তো এখনও
সুজাকে বলা হয়নি। চেঁচিয়ে
বললাম, " না, সুজা না, কিটুকে ধরতে
যাস না।" উদ্বিগ্ন হলেন মিঃ
জোনস। তাড়া লাগালেন, " জলদি
করো। সময় নেই আমাদের হাতে। "
সুজাকেও ফিরে আসতে বললেন।
আমি এবার সুজাকে দৌড়ে গিয়ে
ধরার চেষ্টা করলাম। চেঁচিয়ে
বললাম, " না, সুজা, না, কিটু মরে
গেছে। ওকে আর ধরিস না।"
কিটুর কাছাকাছি ততক্ষনে চলে
গেছে সুজা। কিটু একমনে মাটি
শুঁকতে শুঁকতে চলেছে। আমাদের
দিকে খেয়ালই নেই ওর। সুজার
ডাকেও ফিরে তাকাচ্ছে না ও।
ওদিকে না দেখে চলতে চলতে
হঠাৎ সুজা একটা কবরফলকে হোঁচট
খেয়ে পড়ে গেল; চিৎকার করে উঠল
সুজা। টর্চটা ছিটকে পড়ল মাটিতে।
ছুটে এসে ওকে ধরলাম। " কিরে
সুজা, ব্যথা পেয়েছিস?"
সুজা জবাব দিল না। ওর নজর সামনের
দিকে।
" সুজা, কথা বলছিস না কেন? ব্যথা
পেয়েছিস?", আবার জিজ্ঞেস
করলাম। ওকে ধরে টেনে ওঠাতে
লাগলাম। সুজা এখনও জবাব দিচ্ছে
না। চোখ বড় বড় করে সামনের দিকে
কি দেখছে ও? আবার ডাকলাম, "
সুজা?"
" দেখো ", সামনের দিকে দেখাল
সুজা। যাক, বেহুঁশ হয়ে যায়নি
দেখে নিশ্চিন্ত হলাম।
" দেখো ", আবার বলল সুজা। যে
পাথরটায় হোঁচট খেয়ে পড়ে
গিয়েছিল, সেই পাথরফলকটার
দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করল ও।
কবরফলকটার দিকে তাকালাম।
খোদাই করা লেখাগুলো পড়লাম।
গ্রাম্পারসন জোনস। ১৯৫০-১৯৮০
মাথাটা ঘুরে উঠল আমার। পা দুটোও
টলে গেল; কিন্তু সুজাকে ছাড়লাম
না। গ্রাম্পারসন জোনস!
এ তো মিঃ জোনসের পুরো নাম।
তিনি বলেছিলেন, তাঁর পরিবারে
তিনিই একমাত্র গ্রাম্পারসন।
তারমানে, অন্য সকলের মতো মিঃ
জোনসও মৃত!
তিনিও ওদের দলেরই একজন!
জীবন্মৃতদের দলের একজন! মরে
গিয়েও যারা মরে নি!
ভোরের বেগুনী আলোয় আমি আর
সুজা একে অপরের দিকে
চেয়েছিলাম। জীবন্মৃতরা ঘিরে
রেখেছে আমাদের! কি করব এখন
আমরা!
(Continue...)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now