বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
★★নূপুর নাকি পায়েল?★★
-
----আচ্ছা তুমি এমন কেন?
----কেমন?
----আমাকে কখনো কোন উপহার দিছ?
----নাহ্ তো!
----সবাই তার ভালবাসার মানুষকে কত কিছু উপহার দেয়!
----আমি তো সবার মত না, সেটা তুমি জানোই……
----হু, আজকে একটা জিনিস চাইব?
----হু চাও……
----দিবে তো?
----সম্ভবপর হলে দিব………
----আমাকে একজোড়া পায়েল কিনে দিবা?
----টাকা নেই cry emoticon
----আমার থেকে টাকা নাও! সুধু তুমি পছন্দ করে কিনে এনে দিবে। তাতেই হবে… smile emoticon
----পরে শোধ করতে পারব না! আমি ঋণি থাকতে চাই না cry emoticon
----ওই আমি কি তোরে শোধ করতে বলছি? তুই কিনে দিবি কি না বল?
নীরার চোখে আগুন। সে অনেক ক্ষেপে গেছে। ক্ষেপলেই সে তুই তোকারি করে বলতে শুরু করে দেয়। যা মুখে আসে তাই বলে। রাগে নীরার চোখ-মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, এখন যদি সে অরণ্যকে মারতে পারত! তবেই তার শান্তি।
অরণ্য লক্ষী ছেলের মত চুপ করে বসে আছে। জানে এখন কিছু বলা যাবে। নীরার রাগের সময় অরণ্য বরাবরই চুপ করে থাকে। একেবারেই চুপ, কোন কথা বলে না।
অরণ্যর চুপ করে থাকা দেখে নীরা আবার বলে……
----আমি ওত কিছু জানি না! তুই কালকে নূপুর এনে দিবি ব্যাস! এই নে টাকা।
২ টা পাচশ টাকার নোট প্রায় ছুড়েই মারল অরণ্যের মুখে। ধনীর মেয়ের সাথে গরিবের ছেলের প্রেম! যা হবার আরকি। অবশ্য নীরা কখনো গরিব বলে অরণ্যকে অপমান করে না, বা নিজেকে নিয়ে অহংকারও করে না। নেয়াহেতই রাগের বশে।
অরণ্য ঠান্ডা মাথায় টাকাটা তুলে নিয়ে নীরার হাতে গুজে দিল। হাসি হাসি ভাব নিয়ে বলল……
----টাকাটা রেখে দাও, আমি কালকে নূপুর কিনে এনে দিব নে………
----তোমার আবুল মার্কা হাসি বন্ধ করবে? অসহ্য লাগে! তুমি টাকা পাবে কই?
----হুম, ব্যবস্থা করব………
----কি করবা তুমি? আচ্ছা লাগবে না আমার নূপুর!
নীরা জানে অরণ্য টাকা নিবে না! শতকষ্টে থাকলেও কখনোই নীরার থেকে টাকা নেয় না। একবার নিয়েছিল কিছু টাকা। তারপরে আবার শোধ করে দিয়েছিল! সরিও বলেছিল দেরি হওয়ার জন্য!।।
----আচ্ছা, কালকে আবার দেখা করতে পারব না! এক জায়গায় যেতে হবে। পরেরদিনই তোমাকে নূপুর কিনে দিব… প্রমিস
বলেই অরণ্য হাটতে শুরু করেছে। নীরা তাকিয়ে আছে। ওর মনে হচ্ছে, অরণ্য যেন ওর থেকে ধীরে ধীরে দূড়ে সরে যাচ্ছে। প্রতিবারই যাওয়ার সময় নীরাই আগে যায়। অরণ্য পিছন পিছন কিছুদূড় এগিয়ে দেয়। আজকে তার বিপরীত!!
-
পরেরদিন সত্যিই আর অরণ্যকে পাওয়া গেল না। ফোন বন্ধ আবার বাসাতেও নেই। সেই সকালে নাকি বের হয়েছে। নীরার খুব রাগ হচ্ছে। কেন যে ওর থেকে কিছু চাইতে গেল? মাসের মধ্যোর দিক, শেষ না হলে ওর টিউশনির টাকা পাবে না। অথচ কালকে নাকি, নূপুর কিনে দিবে!!
নীরা জানে, অরণ্য হইত কোন কাজ করবে! যাকে বলে দিন মজুরি! এটাই একমাত্র উপায় টাকার জন্য। দোকান নিশ্চয়ই ফ্রি ফ্রি নূপুর দিবে না! আবার ও যে ধরণের মানুষ! কারো খেকে ধারও করবে না।
-
পরেরদিনই ঠিক ঠিক সময়ে দেখা। বিকেলের সময়। সূর্য পশ্চিম আকাশে লাল আভা ধারণ করে হেলে পড়েছে। অরণ্যের মুখ হাস্যউজ্জল। তার হাতে নূপুর… smile emoticon
----তোমার পা দুটো একটু এগিয়ে দেবে প্লিজ? ফুটপাত থেকে খুবই কম মূল্যে একজোড়া নূপুর কিনেছি!
----তুমি টাকা পেলে কই?
----টাকা! আরে কত বন্ধু বান্ধব আছে না! কথা না বাড়িয়ে নূপুর জোড়া পড়াতে দাও……
----না, আগে বল টাকা কোথায় পেলে?
----নাহ্, তুমি না!
----বলবে কি না??
----হুম, বলব। আগে পড়াতে দাও…
খুব যত্ন করে নীরার পায়ে নূপুর পড়িয়ে দিচ্ছে অরণ্য। ২য় পায়ে নূপুরটা পড়িয়েই আবার কি মনে করে যেন খুলে নিজের পকেটে রেখে দিল!
-----ওটা রেখে দিলে কেন?
এমন সময় নীরার চোখ যায় অরণ্যের হাতের দিকে। হাতে ফোসকা পড়েছে।
----তোমার হাতে ফোসকা কেন?
----কালকে কাজ করেছি তাই!
----কি কাজ?
----ইট ভাঙ্গার কাজ……
অরণ্য হাসছে। রাগে নীরার চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। কান্না কান্না ভাব। যেন গায়ে হাত তোলার মত হলে মারত!
----এত রাগার কি আছে? যেটা রেখেছি, সেটা কোন এক বিশেষ দিনে তোমাকে পড়িয়ে দেব। আমার পছন্দের এবং হাতের ছোয়া জিনিস যেমন তোমার কাছে প্রিয়! তোমার ছোয়া পাওয়া এই জিনিসটাও তেমন আমার কাছে প্রিয়!
নীরা কি বলবে? বুঝে পাচ্ছে না। সূর্যটা ডুবন্ত প্রায়। অরণ্যের বুকে মুখ লুকিয়ে কাদছে নীরা। অরণ্য হাসছে, জয়ের হাসি! কিছু পাওয়ার হাসি………
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now