বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রোমাঞ্চকর গল্পঃ স্বপ্ন ( সাইকো থ্রিলার)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD.Belal Hosan (১৪ পয়েন্ট)



X গলগল করে মুখ থেকে গড়িয়ে রক্ত পরছে। পেটের একাংশ চিরে ফেলা হয়েছে। সেখান দিয়ে শরীরের ভেতরের কিছু অংশ ঝুলে আছে। টপটপ করে রক্ত ঝরছে সেখান দিয়ে। চেহারাটা অস্পষ্ট। তবুও চেহারায় সূক্ষ্ম একটা হাসি দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় কেউ হাসতে পারে ব্যাপার টা ভাবলেই গায়ে কাটা দেয়। তবুও লোকটা হাসছেন। যেখানে মৃত্যু অনিবার্য সেখানে জীবনের শেষ হাসাটুকু হেসে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করলেন লোকটা। লোকটার দাত বের হয়ে গেছে। দাতের ফাকা অংশ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। রক্তের রং লাল না কালো বুঝা যাচ্ছে না । তবুও স্পষ্ট এগুলো রক্ত। লোকটা হাসতে হাসতে তার হাত বাড়িয়ে দেয়। হাতেও ছোপ ছোপ রক্ত লেগে আছে। ২ নুরুজী আজ ছয় দিন পর তার চেম্বারে বসেছে। চেম্বারে বসলেও তিনি আজ রোগী দেখছেন না।তার এসিস্ট্যান্ট কে বলে দিয়েছেন বিশেষ কারনে তিনি আজ রোগী দেখবেন না। কেউ আসলে তার সিরিয়াল টা রেখে বাসায় পাঠিয়ে দিতে বলা হয়েছে। কাল যথারীতি সিরিয়াল মেন্টেন করে রোগী দেখা হবে। নুরুজী রোগী দেখছেন না। কিন্তু অবসর সময় যে কাটাচ্ছেন তেমন ও না। তিনি "স্বপ্নের ব্যাখ্যা" নামক একটি বই নিয়ে বসেছেন। তিনি এইসব বইয়ে বিশ্বাস করেন তা নয়। তারপরেও তিনি বই টা দেখছেন। তিনি বই টা যোগাড় করেছেন তার বাসার দারোয়ান খলিলের কাছ থেকে। সেটাই নেড়েচেড়ে দেখছেন তিনি।বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি একটি স্বপ্ন বারবার দেখছেন। স্বপ্নটা অনেকটা এমন "নুরুজী ও আর একটা লোক গাছে উঠছেন। তারা গাছে উঠার প্রতিযোগিতা লেগেছেন লোকটা নুরুজীর আগে গাছে উঠে যাচ্ছেন। নুরুজী কোন ভাবেই লোকটাকে ধরতে পারছেন না। নুরুজী অনেক চেষ্টা করেও লোকটার আগে যেতে পারলেন না। লোকটা নুরুজীর আগে গাছের একদম উপরে উঠে গেছেন। নুরুজী তার পিছনে পিছনে উঠেছেন। লোকটা ঘুরে নুরুজীর দিকে তাকালেন। নুরুজী অবাক হয়ে দেখলেন লোকটা তো তিনি ই। আর তখন নিজেকে লোকটার ছায়া মনে হতে থাকে নুরুজীর। লোকটা নুরুজীর দিকে তাকিয়ে নুরুজী কে একটা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন " নুরুজী আর নিচে পরতে পারে না। তার আগেই তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। নুরুজী বইটা খুঁজতে খুঁজতে "নিজেকে স্বপ্নে দেখা" অধ্যায়ে একটা জায়গায় পেলেন " যদি স্বপ্নে কেউ দেখে যে পাহাড়ের চূড়া অথবা গাছের উপর থেকে অথবা কোন কিছুর উপর থেকে নিজেকে নিজে ফেলে দিচ্ছে তাহলে তার সামনে অনেক বড় বিপদ। এবং সে বিপদের কারন হবে সে নিজেই। যতোই সাবধান থাকে কোন লাভ নেই। বিপদে তাকে পরতেই হবে। বিপদ অনিবার্য। নুরুজী ব্যাখ্যাটা পড়ে হাসতে থাকেন। তিনি এইসব বইয়ে বিশ্বাস করেন না।ফুটপাথের ১০টাকার বইয়ে যদি আসোলেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা পাওয়া যেতো তাহলে হয়তো স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে অনেক গরীব কোটিপতি হয়ে যেতো। কিন্তু অশ্চার্য্য ব্যাপার হলো এই সব বইয়ে গরীব রাই বেশি বিশ্বাস করে। তারা ভাবে যদি এই বইয়ের বাহানায় তাদের ভাগ্য ফিরে যায়। নুরুজী তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা এতো তারাতারি পেয়ে যাবে ভাবেন নি। এখন আর তার সময় কাটছে না। তিনি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেন মাত্র সন্ধ্যা ৭টা বাজে। ৯টা পর্যন্ত তার চেম্বারে থাকার কথা। তিনি তার এসিস্ট্যান্ট কে ডেকে বলে দিলেন কেউ আসলে পাঠিয়ে দিতে।তিনি আজ সিরিয়াল ছাড়াই রোগী দেখবেন। ৩ যে ছেলেটা নুরুজীর সামনে বসে আছে ছেলেটার চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে। চোখের নিচে কালো দাগের স্তর পরেছে। ছেলেটাকে দেখলে যে কেউ বলে দিতে পারবে ছেলেটা প্রচন্ড রকমের অস্থিরতায় ভুগছে। যার কারনে সে বাড়ি থেকে বের হবার সময় ও চুল গুলো ঠিক করার প্রয়োজন মনে করেনি।ছেলেটা যে রাতে ঘুমাতে পারে না তা তার চোখের নিচের কালো দাগ ই স্পষ্ট বলে দিচ্ছে। নুরুজীর হাতে ছেলেটাকে নিয়ে যেসব তথ্য আছে সে সব তথ্য অনুযায়ী ছেলেটার নাম ইমন হবার কথা। তারপরেও নুরুজী মুখে একটি হাসি টেনে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলেন তোমার নাম কি? ছেলেটি সহজ ভাবেই উত্তর দিলো "ইমন" নুরুজী পরিবেশ হালকা করার জন্য মুখের হাসিটা ধরে রেখে বললেন তা ইমন কেমন আছো তুমি? -জ্বী ভালো। নুরুজী বললেন "ভালো যে নেই তা বুঝতেই পারছি তোমাকে দেখে।তুমি যে শার্টের একটা বোতাম উল্টো লাগিয়েছো তাও লক্ষ্য করো নি। ইমন অবাক হয়ে নিচে তাকিয়ে দেখে ঠিকি সে একটি বোতাম অন্যটার জায়গায় লাগিয়ে রেখেছে। ইমন হটাত করেই অপ্রস্তুত হয়ে যায়।বোতাম টা ঠিক করার চেষ্টা করতে থাকে। নুরুজী ইমন কে সময় দেয়। তিনি বুঝতে পারছেন ইমন কঠিন সময় পার করছে। ইমনের বোতাম লাগানো হয়ে গেলে নুরুজী শান্তভাবে ইমনকে জিজ্ঞেস করেন "তা ইমন কি সমস্যা তোমার? " ইমন স্থির ভাবে উত্তর দেয় " স্বপ্ন" নুরুজী অবাক হয়ে যান কিছুটা। কারন এই স্বপ্ন নিয়ে তিনিও কিছু ঝামেলায় আছেন। নুরুজী তার অবাক হবার ভঙ্গী টা গোপন করে বলেন "স্বপ্ন আবার কিভাবে সমস্যা করতে পারে? " -আমি জানিনা তবে আমার সব সমস্যা একটি স্বপ্ন। নুরুজী জিজ্ঞেস করেন ইমন কে "কি স্বপ্ন দেখো তুমি? ইমন ঘামতে শুরু করেছে। ইমন বলার চেষ্টা করছে কিন্তু বলতে পারছে না। নুরুজী ইমন কে অভয় দিয়ে বলেন "ইমন তুমি বলে ফেলো কোন ভয় পেও না। অস্থির হবার দরকার নেই। তোমার সময় নাও। আস্তে আস্তে বলো। রীতিমতো ইমনের হাত-পা কাপা শুরু করেছে।ইমন এক গ্লাস পানি একেবারেই খেয়ে ফেলে। কোন ভাবেই শান্ত হতে পারছে না সে। নুরুজী ইমনে অবস্থা বুঝতে পারেন তিনি বলেন "আচ্ছা ইমন তোমার বলা লাগবে না। বলতে কষ্ট হলে বাদ দাও। তুমি বাসায় চলে যাও। ইমন অস্থির হয়ে বলে উঠে না না আমার বলতে হবেই। আমি এই সমস্যা থেকে মুক্তি চাই। অনেক দিন থেকে যুদ্ধ করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে পরেছি। নুরুজী বললেন "তাহলে এক কাজ করো তুমি বাসায় চলে যাও তোমার কথা গুলো রেকর্ড করে নিয়ে আসো। অথবা লিখে নিয়ে আসো। ইমন বললো "আমি এখানেই লিখে দেই। আজ লিখে দিয়ে যাই। আমি ২-৩দিন পর আবার আসবো। সেদিন আপনি বলবেন এর সমাধান কি। আপনার এখানে কি খাতা কলম হবে? হ্যা অবশ্যই। বললেন নুরুজী। তিনি খাতা কলম ইমনের দিকে বাড়িয়ে দিলেন। সাথে বললেন নিচে তোমার বাসার ঠিকানা আর মোবাইল নাম্বারটা লিখে দিয়ো।আমি দুরে সরে গেলাম। তুমি আস্তে আস্তে লিখো। নুরুজী দুর থেকে ইমন কে দেখছেম ছেলেটা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। লিখে যাচ্ছে নিজের মতো করে। ছেলেটা অসম্ভব সুন্দর একটি ছেলে। চেহারার অস্থিরতার কারনে ছেলেটার সৌন্দর্য বোঝা যাচ্ছে না। ছেলেটা কোন সমস্যায় না থাকলে তাকে রাজকুমার অথবা প্রিন্স বললেও খুব বেশি অপরাধ হতো না।কারন ছেলেটার চেহারায় সৌন্দর্যের সাথে সাথে মায়া ও রয়েছে অসম্ভব। এই দুইটা জিনিস খুব কম মানুষের চেহারাতেই থাকে। ছেলেটার নাম্বার অথবা বাসার ঠিকানা নুরুজীর প্রয়োজন নেই। তবুও তিনি চেয়েছেন। কেন চেয়েছেন জানেন না। শুধু মনে হলো নাম্বার টা লাগবে।সাথে বাসার ঠিকানা টাও। ৪ নুরুজী ইমনের লিখাটা নিয়ে বসেছেন। ইমন নুরুজী কে রিকুয়েস্ট করেছিলো বাসায় যাবারর আগে যেনো তিনি লিখাটা না পড়ে। নুরুজীর ইমনের কথাটা রেখেছেন। তিনি খুলেন নি। বাসায় এসে সব কাজ শেষ করেই তিনি লিখাটা নিয়ে বসেছেন। তিনি লিখাটা পডার আগে ইমন কে নিয়ে কিছু লিখলেন তার কম্পিউটারে। নামঃইমন বয়সঃ ২১-২৩ এর মাঝে। মন্তব্যঃ ছেলেটা অত্যান্ত ধৈর্যশীল। তার কাছের মানুষ খুব কম। নিজে নিজের কাছে অনেক একা। কারো সাথে কোন কিছু শেয়ার করতে পারে না। যার কারনে স্বপ্নের বিবরন সহজ ভাবে দিতে পারছিলো না। খাতা কলমের সাহায্য নিতে হয়েছে। ছেলেটার লেখালেখির অভ্যাস রয়েছে। খুব সম্ভবত তার সব কথা সে লিখে রাখে। কারন অতি অল্প সময়ে অনেক লিখা লিখে ফেলেছে সে। এবং কলম চালানো দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো এই কাজটায় সে বেশ অভ্যস্ত। ছেলেটা অনেক বড়লোক ঘরের ছেলে। আসার সময় গাড়ি দিয়ে এসেছে। গাড়িটা ছিলো "জাগুয়ার " ব্যান্ড এর। কারন এই গাড়ীর ডুয়েল টার্বো ইঞ্জিনের শব্দ অনেক দুর থেকে শুনলেই বোঝা যায়। আর ছেলেটা আসার আগে ও যাওয়ার সময় তিনি এই গাড়ীর ইঞ্জিনের শব্দ পেয়েছেন। নুরুজী ইমনের লিখাটা পড়তে শুরু করলেন "স্বপ্নটা আমি যখন প্রথমবার দেখি আমার বয়স খুব বেশি হবে না। বেশি হলে ৫-৬। তখন সবে মাত্র বুঝতে শুরু করেছি। এক রাতে আমি দেখলাম আমার বিছানার চারপাশে শুধু রক্ত আর আর রক্ত। আমি এদিক ওদিক তাকাতে থাকলাম দেখি দরজার সামনে একটি লোক দাড়িয়ে আছে। তার সারা শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। পেটের কিছু অংশ খুবলে আছে। লোকটার মুখে কোন যন্ত্রনা ছিলো না। ছিলো শুধু প্রশ্নবোধক চিহ্ন। লোকটা হাসছিলো। তখন আমার সামনে দিয়ে একটি তরুনী বয়সের মেয়ে তেড়ে যায় লোকটার দিকে। তার হাতে একটি ছুড়ি। সেটি দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে লোকটার বুকে। লোকটা কোন প্রতিবাদ করার চেষ্টা করছে না। আস্তে আস্তে লোকটা নিথর হয়ে যায়। সেদিন ছিলো আমার প্রথম খারাপ রাত। আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি সারারাত কাদি। আম্মুর কাছে চলে যাই। তবুও ভয় আমার কাটে না। এই বুঝি রক্ত আমার কাছে আসলো। এই বুঝি লোকটা আমার দিকে তেড়ে আসলো। আমি সেদিন বুঝতে পারি নি সেদিন থেকেই আমার খারাপ সময় শুরু হবে। তার পরদিন রাতে আমি ঠিক একই স্বপ্ন দেখি। আবার সেই ভয়। আবার সেই কান্না। অনেক ডাক্তারের কাছে গিয়েছি।হুজুরের কাছে গিয়েছি। তাবিজ কবজ হয়েছে। কোন ফল হয়নি। আমি এই স্বপ্ন নিয়ে বড় হতে থাকি। একদিন রাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি পানি খেয়ে আলো জ্বালাই। দেখি সে লোকটা আমার পাশে বসে আছে। গা দিয়ে রক্ত ঝড়ছে।আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিলো। আমার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। আমি ওখানেই অজ্ঞান হয়ে যাই। এভাবে স্বপ্ন দেখা ওই লোক কে দেখা আমার প্রতিদিনের রুটিন হয়ে যায়। স্বপ্নে বাস্তবে একটি মিল। লোকটি আমার কাছে এগিয়ে আসে। কিন্তু আমাকে স্পর্শ করতে পারেনা। তার আগে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই, ঘুম ভেঙে যায়। কিছু না কিছু একটা হয়। আমি ভয়ে একা একা কাঁদি। কয়েকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি। পারি নি কোন এক অজানা কারনে। আমি আম্মু কে আব্বুকে ভয়ে কিছু বলতে পারি না। পাছে তারা আমাকে পাগল ভাবে পাগলাগারদ এ পাঠিয়ে দেয় সে ভয়ে। এর কি সমাধান আমি জানিনা। তবে এই রক্ত মাখা লোককে আমি আর দেখতে চাই না। আমি স্বাভাবিক জীবন কাটাতে চাই। ডাক্তার প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন। আমি বাঁচতে চাই। নুরুজী লিখাটা পড়া শেষ করে যত্ন করে রেখে দিলেন। আর "ছেলেটা অনেক ধৈর্যশীল " কথাটার নিচে আন্ডার লাইন করে দিলেন। মধ্যরাতে হটাত করেই নুরুজীর ঘুম ভেঙে যায়। তার মোবাইল টা বেজে চলেছে। মোবাইল নামক যন্ত্রটা নুরুজী সাথে রাখা যেদিন থেকে শুরু করেছে সেদিন থেকেই এই যন্ত্রটা পেইন দিয়ে যাচ্ছে। নুরুজী ফোনটা রিসিভ করেন। হ্যালো বলেন। ওপার থেকে ভারী গলায় একটা আওয়াজ আসে "নুরুল ইসলাম জীবন বলছেন?" নুরুজী হ্যা সূচক উত্তর জানায়। গলাটা আরো গম্ভীর করে লোকটা বলেন "আপনি ইমনের কেইস টা ছেড়ে দিন। ওকে আপনার দেখা লাগবে না। যতো টাকা লাগে পাবেন। নুরুজী ধাক্কার মতো খান কিছুটা। তিনি বলেন "আপনি কে বলছেন? " ওপার থেকে উত্তর আসে " আমি যে ই হই আপনি ইমনের ট্রিটমেন্ট করবেন না সোজা কথা। তার জন্য আপনি যথেষ্ট মূল্য পাবেন। নুরুজী সোজা জানিয়ে দেয় "আমার অর্থের দরকার নেই। আমি ইমনের কেইস টা ছাড়ছিনা।" লোকটা এইবার উগ্র ভাবে কথা বলা শুরু করে "তাহলে তো আপনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। ভালো চান তো ইমন থেকে দুরে থাকুন। নুরুজী হাসেন তিনি বলেন " প্লিজ আমার সাথে বাংলা ছবির ডায়লগ মারবেন না। কি করবেন করেন দেখা যাবে।" লোকটা আরো ক্ষেপে গিয়ে বলেন "ভালো হবে না। পস্তাতে হবে আপনাকে। অনেক পস্তাতে হবে এর জন্য বেশি সাহস ভালো না" লোকটা ফোন কেটে দিয়েছে। নুরুজী হাসছেন। নুরুজী পুরোপুরি সফল। তিনি লোকটাকে ২মিনিট ৩০সেকেন্ড কথা বলাতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে খুব সহজের লোকটার লোকেশন বের করা যাবে। লাভের লাভ আরো একটি হয়েছে। লোকটিকে রাগিয়ে দেয়া গেছে। যার ফলে লোকটার কথার মধ্যে সাময়িক সময়ের জন্য আঞ্চলিক টান চলে এসেছিলো। এখন ইমনের থেকে একটু খোঁজখবর নিলেই লোকটা আসোলে কে বের করা যাবে।রাগ চমৎকার একটা জিনিস। মানুষের ভিতরের সকল লুকায়িত তথ্য প্রকাশ পায় এই রাগের মাধ্যমে। তবে নুরুজী ও জেদ করে কি করে ফেললো সে বুঝতে পারছে না। কাজটা কি ঠিক হলো? তার যদি সত্যি ই কোন বিপদ হয়। যাই হয় হোক ইমন ছেলেটাকে সাহায্য করা দরকার। নুরুজী একটি ফোনকলের মাধ্যমে অনেক কিছুই পেয়ে গেছেন। তিনি আগে ভাবছিলেন ইমনের এই সমস্যা শুধুই স্বপ্নঘটিত। অথবা নরমাল ব্রেইন ডিজঅর্ডার। কিন্তু এখন একটা ব্যপার ক্লিয়ার হয়ে গেছে ব্যাপার টা শুধুই স্বপ্ন ঘটিত নয়। এর পিছনে লুকিয়ে আছে বড় কোন ঘটনা। যা নুরুজী কে খুঁজে বের করতেই হবে। আর এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন ই হবে ইমনের একমাত্র ঔষধ। নুরুল এই নুরুল উঠ। অনেক দূর থেকে ডাক টা ভেষে আসছে। নুরুজী চোখ খুলে দেখে তিনি একটি গাছের উপরে বসে আছেন। গাছটা অনেক উঁচু। সেই গাছের নিচ থেকে কেউ তাকে ডাকছে। নুরুজী খুব ভালো করে লক্ষ্য করে দেখেন লোকটা আর কেউ নয় তিনি নিজেই। নুরুজী উপর থেকেই কথা বলার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু তার মুখ থেকে কোন কথা বের হয় না। নুরুজী লক্ষ্য করছেন নিচে থাকা লোকটার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। নুরুজী অনেক চেষ্টা করেও কথা বলতে পারছেন না। তিনি ঘামা শুরু করেছেন। নিচে থাকা নুরুজীর মতো লোকটা চিৎকার করব বললেন "নুরুল তুই ভুল করলি। তুই নিজের বিপদ ডেকে আনলি । তোকে আগেই সাবধান করেছিলাম। তুই কথা শুনিস নি। তুই ভুল করলি নুরুল বড্ড বড় ভুল করলি। নুরুজী আবারো কিছু বলতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন। তিনি প্রাণপণে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন কিছু বলার জন্য। কিন্তু পারছেন না। তিনি তাকিয়ে তাকিয়ে নিচে থাকা তার মতো লোকটার হাসি দেখছেন। হাসির শব্দ বেড়েই চলেছে। সব কেমন যেনো ঘোরের মতো হয়ে যাচ্ছে। হাসিটা মিলিয়ে যাচ্ছে দূর থেকে দূরে। সামনে সব কিছু ধবধবে সাদা হয়ে যাচ্ছে। নুরুজী চোখ খুলে অনুভব করেন তার সারা ষরীর ঘেমে একাকার হয়ে গেছে। মাথাটা ঝিম মেরে আছে। মাত্র দেখা স্বপ্নটাকে স্বপ্ন মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে বাস্তব। মনে হচ্ছে তিনি এই দুনিয়াতে নেই। সব কিছু কেমন যেনো লাগছে। ঘুম কেটে গেলেও নুরুজীর ঘোর কাটেনি। তিনি বিছানা থেকে উঠে চোখে মুখে পানি দেন। বাহিরে তাকিয়ে দেখেন সকাল হয়ে গেছে। নুরুজী আর না ঘুমানোর পরিকল্পনা করেন। সকাল ৭টা বাজে। পাশের হোটেল থেকে খাবার আসবে নয়টায়। কিন্তু নুরুজীর এখুনি ক্ষুদা লেগেছে। তিনিসেটাকে পাত্তা না দিয়ে ভাবতে থাকেন কি দেখলেন তিনি? পরক্ষনেই নিজের মন কে শান্তনা দেন এগুলো কিছু না। সারাদিন এটা নিয়ে ভাবায় এমন স্বপ্ন দেখেছি। যেটা হওয়া স্বাভাবিক। আর স্বপ্ন কোন দিন সত্যি হতে পারেনা। নুরুজী স্বপ্নের কথা মাথা থেকে তাড়িয়ে দেবার চিন্তা করতে থাকেন। তখনি তার ইমনের স্বপ্নের কথা মনে পরে যায়। ছেলেটা বিপদে আছে। ওকে সাহায্য করা দরকার। তিনি আজ ই ইমনের সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন। একান্ত কিছু কথা। ইমন ছেলেটা নুরুজীর পাশে বসে আছে। আজ ছেলেটা লাল রঙের একটা শার্ট পড়ে এসেছে। চুল গুলো ও সুন্দর ভাবে ঠিক করে এসেছে। আজ ছেলেটার ভিতরের রুপ ফুটে উঠেছে। একটি ছেলে এতো সুন্দর হয় কি করে তা আসোলেই ভাববার বিষয়। নুরুজী মুখে হাসি টেনে বলেন "কি ইমন কেমন আছো?" ইমন আজ প্রথমবারের মতো আলতো করে একটি হাসি দিয়ে বলে "হ্যা ভালো আছি। আপনি? " "আমি ভালো আছি। আসতে কোন সমস্যা হয় নি তো?" ইমন কে জিজ্ঞেস করলেন নুরুজী। "নাহ। সমস্যা হয় নি। আপনি আমাকে গাড়ি ছাড়া আসতে বলেছেন আপনি কিভাবে জানলেন আমার গাড়ি আছে? আর আমার স্বপ্নের সমাধান কি হয়েছে?" "মনে হয় হয়েছে। আমার কিছু প্রমান দরকার। তাই তোমাকে ডাকা। আমি কিছু প্রশ্ন করবো।যতোটা পারো সত্যি উত্তর দিবে।" আচ্ছা অবশ্যই। বললো ইমন। -আচ্ছা ইমন তোমার আব্বু আম্মু তোমার সাথে কেমন ব্যাবহার করে? -হ্যা ভালো। তারা কোন দিন আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করেন না। -গুড। আচ্ছা তুমি যে লোকটাকে দেখো তার চেহারার হালকা বিবরন কি তুমি আমাকে দিতে পারবে? -হ্যা অবশ্যই। ইমন বর্ণনা দেয় লোকটার। নুরুজী ইমনের কথা গুলো রেকর্ড করে রাখে। ইমন নুরুজী কে জিজ্ঞেস করে এতে কি লাভ হবে? নুরুজী একটা হাসি দিয়ে বলেন "সময় হলে দেখতে পাবে। নাও জুস টা খেয়ে নাও। আর হ্যা আমি তোমার বাসায় একটু যেতে চাই।নেয়ে যাবে কি আমাকে? ইমন অস্থিরতার একটা ভাব দেখিয়ে বললো হ্যা অবশ্যই" নুরুজী ইমনের বাসাটাটা দেখে এসেছে। তিনি ভেবেছিলেন তিনি গেলে ইমনের বাবা মা ব্যাপারটা সহজ ভাবে নিতে পারবে না। অথচ ইমনের বাবা মা নুরুজী কে দেখে প্রচন্ড খুশি হয়েছে। অনেক আপ্যায়ন করেছে। এমনকি তাদের প্রতিটা রুম নুরুজী কে ঘুরিয়ে দেখেছে।যদি ইমনের কোন কাজে আসে। তারাও মনে প্রানে চায় যে ইমন সুস্থ হোক। সব হিসেব প্যাচ লেগে যাচ্ছে। নুরুজী প্রথমে ভেবেছিলো ফোনটা ইমনের বাবা করেছে। কিন্তু তাকে দেখে তেমন মনে হলো না।তাহলে ফোনটা কে করেছে। ভাবতে ভাবতে নুরুজীর মোবাইলে সে নাম্বার থেকে ফোন আসে। নুরুজী ফোনটা রিসিভভ করে না চেনার একটি ভঙ্গী করে জিজ্ঞেস করলেন কে? অপর পাশ থেকে উত্তর আসলো "অনেক বড় ডাক্তার হয়ে গেছেন তাই না। দেখি কিভাবে কি করেন। তবে আপনার পস্তাতে হবে। না করেছিলাম কথা শুনেন নি। আজ ইমনের বাসায় গিয়ে ভুলটা করছেন আপনি। অনেক পস্তাতে হবে। নুরুজী কিছুই বলে না। একটা হাসি না। ওপারে লোকটা ক্ষেপে গিয়ে কিছু খারাপ ভাষায় বকতে থাকে। নুরুজী ফোনটা কেটে দিয়ে মোবাইলটা বন্ধ করে দেয়। এই সব ফালতু ফোন কলের পিছনে বসে থেকে লাভ নেই। তার এখন অনেক কাজ। অনেক গুলো কাজ করতে হবে। আর তিনি বুঝে গেছেন ফোনের অপর পাশের লোকটা আহাম্মক ছাড়া আর কিছুই না। তিনি কিছু করতে পারবে না হুমকি ধামকি ছাড়া।কারন যারা সত্যি কিছু করার ক্ষমতা রাখে তারা ঠান্ডা মাথায় করে। বকা দিয়ে মুখ খারাপ নয়। নুরুজী আজ সকাল সকাল ই ব্যাস্ত হয়ে পরেছেন। থানায় যেতে হবে। সকালে থানা থেকে ফোন এসেছিলো। ফোনে থ্রেড দেয়া আহাম্মক টাকে সহজেই গ্রেফতার করা গেছে। নুরুজী সে লোকটার চেহারা একটু দেখতে চান। কে এই লোক। হয়তো এই লোকের ভিতর থেকেই বেরিয়ে আসবে সকল রহস্যের হিসেব। নুরুজী থানায় এসে যা দেখলেন তা দেখে তিনি মোটামুটি একটা ধাক্কা খেয়ে ফেললেন। তিনি এই দৃশ্য দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। একটি লোক থানার অসির পায়ে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। আর বাচ্চাদের মতো কান্না করছে। আর ২জন হাবিলদার লোকটার পায়ে ধরে টানা হিচড়া করছেন। কিন্তু যতো জোরে টান দিচ্ছেন লোকটা অসির পা ততো জোড়ে চেপে ধরে রাখছে। ভাবটা এমন অসি সাহেবের পায়ের ইঞ্জুরি না ঘটিয়ে তিনি পা ছাড়বেন না। অসির নাম খুব সম্ভবত মিঃ হারুন। হারুন সাহেব চিৎকার করে বলছেন "পা ছাড় ব্যাটা। আমাদের হাতে কিছু নেই। নুরুল সাহেব আসলে সব হবে। এ কথা বলায় লোকটার কান্নার বেগ বেড়ে যায়। এতোটাই বেড়ে যায় যে নাক দিয়ে সর্দি বেরুতে থাকে। কিন্তু সেদিকে লোকটার খেয়াল ই নেই। হারুন সাহেব এই দৃশ্য দেখা মাত্রই বলা শুরু করেন "ছি ছি ইয়াক। এই ব্যাটা পা ছাড়লি নাকি সেলের ভিতরে নিয়ে পেঁদানি দিবো? নুরুজী হালকা একটি কাশি দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন। হারুন সাহেব নুরুজীর দিকে তাকিয়ে বললেন ওইতো নুরুজী এসেছেন। এটা বলার সাথে সাথে যা ঘটলো তার জন্য নুরুজী মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। লোকটা হারুন সাহেবের পা ছেড়ে,হাত দিয়ে নিজের নাক পরিষ্কার করতে করতে দৌড়ে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন নুরুজীর পায়ে। বলা শুরু করলেন "স্যার আমারে ছাইড়া দেন। আমি কিছু জানিনা। আমারে বড়সাব আপনারে ফোন দিতে কইছে আমি ফোন দিছি। স্যার আমারে ছাইড়া দেন। আমি গরীব মানুষ।" লোকটা বাচ্চাদের মতো কাঁদছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে লোকটা আসোলেই সরল। একটু বেশি ই সরল। নুরুজী বললেন "আগে পা ছাড়ো। তোমাকে ছেড়ে দেয়া হবে। কিন্তু তোমাকে সত্যি সত্যি সব বলতে হবে। লোকটার কান্নার বেগ এইবার একটু কমে। তিনি মনে হয় নুরুজীর কথায় আস্বস্থ্য হয়েছেন। তিনি নুরুজীর পা টা ছেড়ে দিয়ে উঠে দাড়ান। বাচ্চাদের মতো হাত দিয়ে চোখের পানি নাকের পানি মুছতে মুছতে পুরো মুখ মাখামাখি করে ফেলেন। একদিম বিচ্ছিরি অবস্থা হয়ে যায়। নুরুজী তার পকেট থেকে একটি টিশ্যু বের করে লোকটাকে দেন ঠিক মতো পরিষ্কার করার জন্য। নুরুজী বসে আছে সামনে বসে আছে খলিল। একটু আগে জানা গেছে লোকটার নাম খলিল। লোকটা ইমন দের বাসার দারোয়ান। ইমনের বাবা ৫০০টাকার বিনময়ে খলিল কে দিয়ে ফোন করিয়েছেন। খলিল গরীব মানুষ। অতশত বুঝে না। ভেবেছে শুধুমাত্র ফোন করে যদি ৫০০টাকা পাওয়া যায় তাহলে আর ক্ষতি কি। প্রতিদিন তো আর এমন সুযোগ আসেনা। কিন্তু এই সামান্য ফোনকল যে তাকে থানা পর্যন্ত নিয়ে আসবে সেটা খলিল স্বপ্নেও ভাবেনি । নুরুজী খলিল কে ছেড়ে দিতে বলেছেন তবে সেটা ২দিন পর। এখন ছেড়ে দিলে খলিলের বিপদ হতে পারে। এটা শুনে বেচারা খলিল আবার কান্না শুরু করেছে। একটাই কথা "আমার দুইটা ছুডু মাইয়া আছে। আমি না গেলে ওরা একলা একলা ডরাইবো। খাইতে পারবো না।ঘরে বাজার নাই" নুরুজী খলিল কে অভয় দিয়ে বলেন তুমি চিন্তা করো না খলিল আমি তোমার মেয়েদের দেখে রাখবো। ইন্সপেক্টর হারুন নুরুজী কে জিজ্ঞেস করলেন "ইমনের বাবা কেন ওর ট্রিটমেন্ট বন্ধ করতে চায়? বাবা হয়ে ছেলের ক্ষতি চায় কেন? নুরুজীর মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।তিনি বললেন "কাল রাত পর্যন্ত আমার মনেও এই প্রশ্ন টা ছিলো।কিন্তু সব কিছু হাতে পেয়ে এখন সব কিছু পানির মতোই পরিষ্কার। আমি থানায় আসার আগেই জানতাম ইমনের বাবার লোক ধরা পরবে। কিন্তু সেটা কে তাই দেখার জন্য আসা আরকি।" হারুন সাহেব বললেন "তার মানে আপনি আগে থেকেই সব জানতেন? " "না সব জানতাম না। শুধু ধারনা ছিলো। আর কাল সব প্রমান হাতে পেয়েছি। "কই আমি কি দেখতে পারি" "নাহ। আগে ইমন কে দেখাবো। ইমনের বাবা মা কে দেখাবো। চাইলে আপনি আসতে পারেন আমার সাথে" ইন্সপেক্টর হারুন লোভনীয় ভাবে বলেন "এমন একটি রহস্য উন্মোচনের সাক্ষী হয়ে থাকতে পারলে মন্দ হবে না" নুরুজী একটি হাসি দিয়ে বলেন "আপনি সাথে কিছু ফোর্স নিয়ে নিন তাহলে। ওখানে অনেক কিছুই হতে পারে।" ৫ নুরুজী তার বাসায় বসে আছেন। বরাবর বসেছে ইমন ও ইমনের বাবা মা। ইমনের বাবা মায়ের মুখে কৃত্তিম হাসি স্পষ্ট। নুরুজী তাদের তোয়াক্কা না করে ইমনকে জিজ্ঞেস করলেন "ইমন তুমি কি প্রস্তুত? তোমার সব কিছুর সমাধান আমার হাতে চলে এসেছে। ইমন উত্তেজিত ভাবে বললো "হ্যা আমি প্রস্তুত। আপনি বলেন তারাতারি বলেন।" নুরুজী সামনে রাখা প্যাকেট থেকে একটি ছবি বের করলেন। ছবিটা ইমনকে দেখিয়ে বললেন "ইমন এটা কে চিনো? " ইমন না সূচক উত্তর জানিয়ে দিলো। নুরুজী হাসলেন। ইমনের মায়ের দিকে তাকালেন। তার চোখে অবিশ্বাসের দৃষ্টি। নুরুজী সেদিকে খেয়াল না করে বললেন আমি জানতাম তুমি চিনবে না। নুরুজী প্যাকেট থেকে আরো একটি ছবি বের করলেন। রক্ত মাখা চেহারার একটি ছবি।ইমন কে দেখিয়ে বললেন এটা কে চিনো? ইমন চমকিয়ে উঠে। ওর হাত পা কাপা শুরু করেছে। ইমন তোতলাতে থাকে। নুরুজী ইমন কে অভয় দিয়ে বলেন ইমন ভয় পেয়ো না। চিনো কিনা বলো। ইমন বললো হ্যা চিনি। এই লোকটাকেই আমি স্বপ্নে দেখি। ইমনের মা খেঁকিয়ে উঠলো। বন্ধ করেন এই সব। কি আলতু ফালতু কাজ এগুলো। আপনি ডাক্তার ঔষধ দিন।এইসব ছবি দেখানোর মানে কি। নুরুজী সেদিকে লক্ষ্য না করে ইমন কে বললেন "গুড। ওই রক্ত মাখা লোকটাই এই ছবির লোক। ইমন লোকটার ছবি ভালো ভাবে দেখছে। লোকটা অসম্ভব সুন্দর। ইমনের চেয়েও অনেক বেশি। ইমন ছবি থেকে মুখ সড়িয়ে নুরুজী কে লক্ষ্য করে বললো, আপনি এই ছবি গুলো কোথায় পেয়েছেন?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৯৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...