কিংকর্তব্যবিমূঢ়
X
আজ ছয় দিন ধরে ছোট ভাইয়ের সাথে প্রেম করতেছি ফেইক আইডির মাধ্যমে। আপনারা আমায় খারাপ ভাবতে পারেন কিন্তু এছাড়া রাফির মতো একটা বজ্জাতকে শায়েস্তা করার জন্য আর কোনো উপায় খুঁজে পাইনি। রাফি আমার একমাত্র ছোট ভাই। বড় ভাই হিসাবে বদমাইশটা আমায় কখনো একটু সম্মান দেখায়নি। বরং সর্বদা আমার উপর হুকুম জারি করে এসেছে।
"এই ভাইয়া, পানি দে, চা দে, কফি দে, মশারি টানিয়ে দে, জুতা মুছে দে, শার্ট ধুয়ে দে।"
এসব হুকুম পালন করতে করতে আমি এখন ক্লান্ত হয়ে গেছি। তারপরেও সব কিছু আমি মুখ বুঝে সহ্য করে নিয়েছি এতোদিন। কিন্ত না, গত সপ্তাহ থেকে সে যখনই আমায় দেখে সাথে সাথে জোরে জোরে অপরাধী গানটা গাইতে শুরু করে।এমনকি, আমার সামনে দিয়ে যাবে আর বলবে,
"আমি তো ভালা না, ভালা লইয়াই থাইকো।"
আমার আর সাদিয়ার ব্রেকআপই হচ্ছে এর অন্যতম কারণ। আমি প্রেম করবো, ব্রেকআপ করবো। পুরোটাই আমার ব্যাপার। তুই ছোট ভাই হয়ে এসব নিয়ে আমায় বিরক্ত করার কে! তাই অনেক ভেবে চিন্তে মিস ডায়না নাম দিয়ে একটা ফেইক আইডি খুলে ওর সাথে প্রেম করা শুরু করে দিয়েছি। আমাদের প্রেম প্রায় জমে উঠেছে। আমার বান্ধুবী নুসরাতের ছবি দিয়েছি প্রোপাইলে। রাফি তো পুরো ক্রাশ খেয়ে বসে আছে। ও নুসরাতকে কখনো দেখে নি, চিনবেও না। তাই বেচারা প্রেমে অন্ধ হয়ে গেছে এ ক'দিনের মাঝে। খুব আনন্দ হচ্ছে আমার। বদমাইশটাকে এবার একটা উচিত শিক্ষা দেওয়া যাবে। আমার এতো আনন্দের পিছনে আরেকটা কারণ আছে। সেটা হলো আম্মা আর আব্বাকে তাদের ছোট ছেলের আসল রূপটা দেখাতে পারবো বলে। এ সংসারে আমার এক পয়সার দামও নেই। রাফিই সর্বেসর্বা। কারণ রাফি পড়ালেখায় ভালো। ক্লাসে সব সময় ফাস্ট হয়। আর আমি তিনবার এইচএসসি দিয়ে এখন ঘরে হা পা নিয়ে বসে আছি। আব্বা বলেছে আমায় রিকশা কিনে দিবে সামনের মাসে। একজন শিক্ষকের ছেলে রিকশা চালাবে, এটা ভাবতে তিনি কার্পণ্য করলেন না। আম্মাকে আমি বলেছি আব্বাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে আমায় রিকশার বদলে ভ্যানগাড়ি কিনে দেওয়ার ব্যাবস্থা করতে। কিন্তু আম্মা আমার কথার পাত্তাই দিলো না। বাসার সবাই মনে করে আমার মাথায় গোবর ছাড়া আর কিছুই নেই। এবার তারাও দেখবে আমি কত বড় শার্লক হোমস। তাদের আদরের ছোট ছেলের কুকীর্তি ফাস করতে যাচ্ছি।
ছয়দিন ধরে প্রেমে করার পর আগামীকাল আমি আর রাফি প্রথমবারের মতো দেখা করতে যাচ্ছি। আগে থেকেই আমার বান্ধুবী নুসরাতকে ঠিক করে রেখেছি, কারণ নুসরাত যখন মিস ডায়না সেজে রাফির সাথে দেখা করবে তখন আমি সেটা আড়াল থেকে ভিডিও করে আব্বাকে দেখাবো। তখনই শয়তানটা জব্দ হবে। রাফি নিশ্চয়ই মিস ডায়নার জন্য গিফট কিনবে। তাই বুদ্ধি করে আব্বার পকেট থেকে এক হাজার টাকার একটা কচকচে নোট সরিয়ে রাখলাম। কারণ আব্বা যখন দেখবে পকেট থেকে এক হাজার টাকা গায়েব হয়ে গেছে তখন সেটা রাফির গাড়ে চাপানো যাবে।
রাতে রাফিকে মেসেজ দিলাম,
---বাবু, কাল তুমি কোন কালারের শার্ট পরবে?
---নীল রঙের শার্ট পরবো বাবু।
---জানো বাবু, তোমায় দেখবো সে খুশিতে আমার ঘুমই আসবে না এখন আর।
---আমারো ঘুম আসবে না।
---কেন বাবু?
---কারণ তুমি আব্বার পকেট থেকে এক হাজার টাকা চুরি করেছো, আমায় গাড়ে দোষ চাপানোর জন্য। তুমি যে আমার অপদার্থ ভাইটা সেটা তো আমি আগে থেকেই জানি বাবু। কিন্তু টাকাটা চুরি যখন করেছো আব্বাকে তো এখন জানাতেই হবে তোমাকে হাতে নাতে ধরার জন্য।
আপনারা বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, রাফির কথা শুনে আমার হাত পা বরফের মতো জমে গেলো পুরা। এতো গরম পড়তেছে তাও আমি বরফের মতো জমে আছি। কী করবো বুঝতে পারতেছি না।
©সায়মা খান পুতুল
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now