বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছায়াশহর—১১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ছায়াশহর লেখক : রাকিব হাসান পর্ব ১১... তারপর হঠাৎ করেই আলো ঝিলিক দিয়ে উঠল অন্ধকারের মধ্যে। আলো পড়ল হ্যারির মুখে। উজ্জ্বল, সাদা হ্যালোজেনের লাইট। " কি ব্যাপার? ", তীক্ষ্ণ, ভীত শোনাল সুজার কণ্ঠস্বর। " কি হয়েছে ভাইয়া?" চিৎকার দিয়ে মাটিতে নামিয়ে নামল হ্যারি। " সরাও আলোটা, সরাও " তীক্ষ্ণ চিৎকার দিয়ে উঠল ও। ওর গলা দিয়ে ফিসফিসানির মতো কথাগুলো বেরলো, জানলার ভাঙা কাঁচের মধ্য দিয়ে বাতাস বয়ে যাওয়ার মতো। কিন্তু হ্যারির মুখে আলোটা ধরেই রইল সুজা। বলল, " কি হয়েছিল? কি করছিলে তুমি?" তখনো আমি দম নিতে পারছিলাম না। আলোটার দিকে তাকিয়ে বুকের ধড়াস ধড়াস কমানোর চেষ্টা করছি। দুই হাত তুলে আলো থেকে মুখ আড়াল করতে চাইছে হ্যারি। কি হচ্ছে ওর, বুঝতে পারছি না। তবে ঐ অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো ওর মুখের যা ক্ষতি করার, করে ফেলেছে। উজ্জ্বল সাদা গোল আলোটার দিক থেকে চোখ সরাতে পাচ্ছি না আমি। সেই আলোয় দেখলাম, হ্যারির গায়ের চামড়া, মাংস, সব গলে গলে পড়ছে। ভেতরের হাড় বেরিয়ে পড়ছে। চোখদুটো কোটর ছেড়ে নিঃশব্দে পড়ে গেল মাটিতে। আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে গেলেও টর্চের জোরাল আলোটা ওর মুখের দিকে ধরে রইল সুজা। বিকট হাসিতে দাঁত বের করা মাথার খুলিটার দিকে বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইলাম আমরা। কোটরের কালো গর্তদুটো এখনও যেন আমাদের দেখছে। হ্যারিকে আমাদের দিকে এক পা এগোতে দেখে চেঁচিয়ে উঠলাম। পরক্ষনেই বুঝলাম, এগোচ্ছে না। টলে পড়ে যাচ্ছে ওর কঙ্কালটা। লাফিয়ে সরে এলাম। মার্বেল স্তম্ভটার ওপর আছড়ে পড়ল কঙ্কালটার মাথা। ঠকাস করে একটা কুৎসিত শব্দ তুলে ফেটে গেল কঙ্কালটা। " চলো!", সুজা চেঁচিয়ে ডাকল আমায়, " ভাইয়া, চলো", বলে আমার হাত ধরে টেনে সরিয়ে দিতে চাইল সুজা। কিন্তু আমার শরীর আর চলছে না। হ্যারির কঙ্কালটার ওপর থেকে কিছুতেই চোখ সরাতে পারছি না আমি। ওটার গায়ে এখন চামড়া, মাংস বলতে কিচ্ছু নেই। শুধু কতগুলো হাড় পড়ে রয়েছে। " ভাইয়া, এসো "। রেজা আবার চেঁচিয়ে ডাকল। তারপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি আমি সুজার সঙ্গে রাস্তা দিয়ে দৌড়চ্ছি। প্রাণপনে। কবরফলকের সারির মাঝখান দিয়ে প্রাণপনে দৌড়ে চলেছি রাস্তার দিকে। দৌড়নোর সময় ঝাঁকি দিয়ে নাচছে আমাদের হাতের টর্চের আলোগুলো। ধূসর পাথরের ফলকগুলো অস্পষ্ট দেখাচ্ছে। পায়ের নীচে শিশিরে ভেজা নরম ঘাস। বাতাসহীন পরিবেশে ঘাম ছুটছে আমাদের সর্বাঙ্গ দিয়ে। হাঁফ ধরছে, তবু ছুটছি। " মা আর বাবাকে বলা দরকার", চেঁচিয়ে বললাম আমি, " যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পালাতে হবে এ শহর ছেড়ে।" " কিন্তু ওরা আমাদের কথা বিশ্বাস করবে না", সুজা বলল, " আমি তো চোখের সামনে দেখেও এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।" গোরস্থান ছাড়িয়ে রাস্তায় এসে পড়লাম আমরা। তবু আমাদের দৌড় থামল না। পাকা রাস্তায় আমাদের জুতোর ধুপধাপ শব্দ হতে লাগল। " কিন্তু বিশ্বাস করাতেই হবে", আমি বললাম, " বিশ্বাস না করলে জোর করে টেনে বের করে নিয়ে যেতে হবে বাড়িটা থেকে।" " কিভাবে?" " জানি না। আগে বাড়ি তো পৌঁছই। তারপর দেখা যাবে।" নীরব, নির্জন কালো রাস্তা ধরে দৌড়ে চলেছি আমরা। সামনে নেচে নেচে এগিয়ে চলেছে টর্চের সাদা আলো। রাস্তায় বাতি নেই, আশপাশের বাড়িঘরগুলোয় একটাও আলো নেই, একটা গাড়িও চলছে না। এইরকমই একটা কালো শহরে থাকতে এসেছি আমরা। কি ভয়ঙ্কর! পালানোর সময় হয়েছে। যত দেরী করব, ততই বিপদ বাড়বে। বাকি পথটা দৌড়েই বাড়ি ফিরলাম আমরা। বার বার পেছন ফিরে তাকাচ্ছি, কেউ আসছে কিনা দেখার জন্য। কাউকে দেখলাম না। আশেপাশের বাড়িগুলো, অন্ধকার, শূন্য দেখাচ্ছে। গায়ের একপাশে ব্যথা করছে আমার। তবু থামলাম না। বাড়ির সুরকি বিছানো ড্রাইভওয়েতে এসেও ছোটার গতি কমালাম না। ঝরা পাতা মাড়িয়ে এসে উঠলাম বাড়ির বারান্দায়। সদর দরজা ঠেলে ভেতরের ঘরে ঢুকেই চেঁচিয়ে ডাকলাম বাবা-মা'র উদ্দেশ্যে। " মা! বাবা! কোথায় তোমরা?" কোনও জবাব এল না। লিভিং রুমে ঢুকলাম। আলো জ্বলছে। " মা! বাবা! তোমরা কোথায়? " পুরো বাড়িটা তন্নতন্ন করে খুঁজলাম। কোথাও নেই মা- বাবা। আমার হৃদপিন্ডটা মনে হচ্ছে রেসের ঘোড়ার মতো ছুটছে। গায়ের একপাশে তীব্র ব্যথা। " পার্টিতে গেছে!", হঠাৎ মনে পড়ায় চেঁচিয়ে বলল সুজা। " আশ্চর্য! মা বাবা কি এখনো পার্টিতে আছে?" নিজের মনেই স্বগতোক্তি করল সে। লিভিং রুমে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। জোরে জোরে দম নিচ্ছি। গায়ের ব্যথা সামান্য কম মনে হল। পুরো বাড়ির আলোগুলো জ্বেলে দিলাম আমরা; কিন্তু তবু কেন জানি মনে হল, আমরা ঠিক সুরক্ষিত নই। আবার বিপদের কালো ছায়া এগিয়ে আসছে আমাদের সামনে, কোন অলক্ষ্য থেকে। ম্যানটলের ওপর রাখা ঘড়ির দিকে তাকালাম। রাত দুটো! এতক্ষনে তো চলে আসার কথা! " পার্টি থেকে ফিরে আবার কোথাও গেছে নাকি? ফোন নম্বর রেখে গেছে?", বলতে বলতে সুজা কিচেনের দিকে গেল। ওর পেছন পেছন আমিও চললাম, সব আলোগুলো জ্বেলে দিতে দিতে। কাউন্টারের ওপাশে যেখানে মা বাবা হিসেবের কাগজ আর রসিদগুলো রাখে, ওখানেই একটা রাইটিং প্যাডে নোট রেখে যায় আমাদের জন্য। কিন্তু না, প্যাডে কিছুই লেখা নেই দেখলাম। " ওদের ইমিডিয়েট খুঁজে বের করা দরকার", সুজা হাঁফাতে হাঁফাতে বলল। ওর দু'চোখ বড় বড় হয়ে উঠেছে। " এখুনি আমাদের সবাইকে পালাতে হবে এখান থেকে।" কিন্তু প্রতিবেশীর বাড়ি পার্টিতে গিয়ে মা-বাবারও কোনও বিপদ হল না তো? এই শহরে তো যতদূর দেখেছি, জানি, কেউ থাকে না। তার মানে মা বাবাও কি বিপদে পড়ল? (Continue....)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now