বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্কুল ছুটি শেষে পান্না চত্ত্বরে ঝালমুড়ি খাচ্ছি দুই দোস্ত। রাস্তার অটো এবং রিক্সায় যাওয়া সুন্দরী মেয়ে দেখতেছি ও নিজেরাই বাজে মন্তব্য করতেছি। সাজ্জাদ একটা রিক্সা দেখিয়ে বললো,
- দোস্ত, দেখ মালডা কড়াহ! কি সুন্দর দেখ! একদম পরীর মতো!
আমি তাকায় দেখলাম,আসলেই মেয়েটা সুন্দর। চোখ দুটো অসম্ভব সুন্দর। এত্ত সুন্দর চোখ কোনো মানবীর হওয়াটা আসলেই অন্যায়। এমন চোখ হতে হয় জান্নাতের হুর পরীদের। কিন্তু মন ভেঙে গেলো যখন সাজ্জাদ বললো,
- ওই হালা ওভাবে শকুনের মতো নজর দিচ্ছিস কেন? ভাবি হবে তোর! ভাবি!
-হর শালা এনতে। ওইটা আমার।
-নাহ দোস্ত ওইটা আমার। তোরে বিড়ি খাওয়াইতেছি,ওইটার দিকে তাকাবি নাহ।
আমি আর কথা বাড়ালাম না। একটা বিড়ির (সিগারেট) দাম আমার কাছে অনেক। তাই সেটার বিনিময়েই অচেনা মেয়েটির প্রতি অধিকার ছেড়ে দিলাম।
ওর ধরানো সিগারেটটায় শেষ টান দিলাম,ফুসফুস জুড়িয়ে গেলো। যেই না জুতার তলায় সিগারেটটা ফেলে পা দিয়ে মোঁচড় দিয়ে সিগারেট নিভিয়ে সামনে তাকিয়েছি ঠিক তখনই সামনে দেখলাম ১০/১১ বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে এগিয়ে আসছে। এসে একটু দূরে দাঁড়িয়ে যাত্রীওয়ালা রিক্সাগুলোর দিকে তাকাচ্ছে। বুঝলাম রিক্সা খুঁজতেছে। মেয়েটা দেখতে অসম্ভব সুন্দর, মনে হচ্ছে কোনো রূপকথার পরীদের রাজকুমারী ভূল করে এই ধূলোমাখা পৃথিবীতে এসে পড়েছে। মেয়েটার চোখটাও মায়া দিয়ে গড়া, যেনো শুধু পৃথিবী না, সমস্ত সৃষ্টিজগতের সকল মায়া সেখানে জড়ো হয়েছে কোনো এক উদ্দেশ্যহীন মিছিলের আমজনতার মতো।
একটু ভাবসাব নিয়ে মেয়েটার কাছে গেলাম। দেখি প্রাইমারী স্কুলের ড্রেস। ভাবলাম হয় তো ফোর ফাইভে পড়ে। সুন্দর করে জিজ্ঞেস করলাম,
-এই যে বাবু, তোমার নাম কি?
সে তৎক্ষণাৎ অগ্নিদৃষ্টি দিয়ে আমাকে ভষ্ম করার চেষ্টা করে বললো,
-কেন? নাম দিয়ে কি করবেন? প্রেম করার ধান্দা তাই না?
আমি থতমত খেয়ে গেলাম। এই মাইয়া কি জ্যোতিষী নাকি? মনের কথা বুঝলো কেমনে? আর কথা না বাড়াইয়া এখান থেকে প্রস্থান করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে ভেবে হাঁটা দিলাম। সাজ্জাদ তো হাসতেছে আমার দিকে তাকাইয়া। ওর হাসিতে তাচ্ছিল্য ভরা। কি আর করবো চুপচাপ দাঁড়াইয়া আছি,পিছনে তাকানোর সাহস নাই। যদি মাইয়াডা কিছু করে,মাইরও খাইতে পারি পাবলিকের কাছে ইভটিজিং এর দায়ে। হঠাৎ পিছন থেকে মেয়েটা বললো,
- আমি প্রতিদিন ৪টার দিকে এখানে আসি। আজ প্রাইভেট ছিলো না,তাই ৩টায় আসছি। কারো যদি দরকার থাকে,সে যেনো ৪টায় আসে। যারা সময়ের কাজ সময়ে করে না,তাদেরকে ঐশী পছন্দ করে নাহ।
আমি পুরাই টাস্কি,সাজ্জাদও ঐশীর চলে যাওয়া রিক্সার দিকে একবার তাকাচ্ছে,একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে। আমি কিছু না বলে সাইকেলটা নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলাম। কি হলো তার কিছুই খুঁপড়িতে ঢুকলো না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now