বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আত্মত্যাগীর সন্ধানে(পর্ব 3/end) .
.
লেখক: আল হাসান ইপু। (টাইটেল ভাইসাব)
...
.. কিছুটা অবাক হয়ে নিরব প্রশ্ন করল,
- আপনি আমিকে বাধা দেবেন না!
- না। কিছু কথা বলব। কাজ হলে আর বাধা দিতে হবে না। আর যদি কথায় কাজ না হয় তবে আর বাধা দিয়েও কোন লাভ নেই।
- তাই?
নিরব যতই আগন্তুকের সাথে কথা বলছে ততই অবাক হচ্ছে। কারন এর প্রতিটি বাক্য নিরবের কাছে স্বতন্ত্র মনে হচ্ছে, একেবারে আলাদা।
- দেখুন দাদা আপনার জিবনটা খুব মুল্যবান। কিন্তু তখনই মুল্যবান যখন আপনি এর মুল্য সৃষ্টি করতে পারবেন।
- হ্যা, ঠিক বলেছেন।
নিরব নিরবে সম্মতি প্রকাশ করল মনে মনে, তারপর শব্দ করে সম্মতি উচ্চারন করল।
- কিন্তু যতক্ষন না আপনি এটাকে মুল্যবান হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন না ততক্ষন পর্যন্ত এর কোন মুল্য নেই। যেমন আপনি যদি কারো অনেক বড় উপকার করেন তবে তার কাছে আপনি অমুল্য।
- কিরকম?
- বলছি। তেমনি যদি মানব কল্যানে কাজ করেন তবে আপনি সবার কাছেই সম্মানের পাত্র। তখন আপনি বুঝতে পারবেন আপনার মুল্য কতটুকু।
- আচ্ছা।
একমনে বলে যাচ্ছে আগন্তুক। আর মনোযোগী শ্রোতার ভূমিকা পালন করছে নিরব।
- যেমন আপনি আপনার একটা কিডনি মৃত্যুপথযাত্রি কারো কাছে বিক্রি করলেন। তবে খাবারের টাকাও পেলেন। আবার সে আপনাকে নমঃ নমঃ করলো।
কথাটা শুনেই হকচকিয়ে যায় নিরব।
- ছি ছি, এসব কি বলছেন টাকার জন্য কিডনি বিক্রি করবো এতটা নীচ আমি এখনও হয়ে যাই নি। যদি দেওয়ারই হয় তবে টাকা ছাড়াই দেব। প্রয়োজনে না খেয়ে মরবো।
- বাহ বাহ বাহ। দারুন কথা। আপনি মহৎ লোকের মত কথা বলেছেন।
উপদেশ কাজে এসেছে ভেবে আনন্দে আগন্তুকের চোখজোড়া চকচক করতে থাকে।
- কিন্তু সমস্যা একটা আছে।
পরক্ষনেই চুপসে যায় আগন্তুকের চেহারা যখন নিরব সমস্যার কথা বলে।
- আবার কি সমস্যা?
- মানে আমার ভয় করে যদি অপারেসন করে কিডনি বার করার পর আমার জ্ঞান না ফেরে।
- ধুর মশাই আপনি তো মরতেই এসেছেন।
চরম বিরক্তি প্রকাশ পায় আগন্তুকের চোখে মুখে।
- ঘুমের মধ্যে আরামে মরে গেলেই বা কি সমস্যা?
বোঝানোর চেষ্টা করে আগন্তুক।
- না মানে তবুও। মরার আগে একবার পৃথিবীটা শেষ দেখা দেখব না?
- আরে অপারেশন শুরুর আগেও তো সে কাজ করা যায়।
যেকোনো উপায়ে ভাল কাজ করাতে চায় আগন্তুক। তাকে বুঝাতে হবেই। যেকোনো উপায়ে।
- যায় তবে সেক্ষেত্রে, ঐ যে এডভেঞ্চার। সেটার স্বদ তো আর পাওয়া যায় না।
কিন্তু কিছুতেই মানতে নারাজ নিরব।
- আপনি...... । আচ্ছা ঠিক আছে। আবার ধরুন, আপনি আত্মহত্যা করবেন ই যখন তাহলে দেশে অনেক কুক্ষাত সন্ত্রাসি আছে, এদের একজনকে মেরে মরে গেলেন।
কোনরকমে রাগ সামলে নিয়ে আবার বলতে শুরু কের আগন্তুক। তারপর। কন্ঠে চিনি ঢেলে আবার বলে চলে সে,
- কারন মরার ইচ্ছায় মারতে না গেলে মারতে পারবেন না। মানে সাহস নিয়ে কাজে না নামলে তো কার্য সিদ্ধি হবে না। আপনার সাহসের ফলে লোকে আপনাকে বাহবা দিবে। একঢিলে দুই পাখি শিকার। আর আপনার এডভেঞ্চরের আশা মিটে যাবে। বুদ্ধিটা কেমন হা?
এবার দারুন পন্থা আবিষ্কার করেছে আগন্তুক এবার আর না বলতে পারবে না নিরব এমনটাই ধারনা তার। দাত কেলিয়ে হেসে হেসে কথা গুলো বলে সে।
- ওরে বাবা রেরে। এটাতো ভিষন রিস্কি কাজ।
নিরব এককথায় না বলে দেয়। এতে ভ্যাবচেকা খেয়ে যায় আগন্তুক।
- ওমা ট্রেনের নিচে কি রিস্ক নেই?
- আছে, সে রিস্ক আর এ রিস্ক কি এক। ট্রেনের নিচে তো কিছু বুঝার আগেই শেষ। আর গুন্ডাদের সাথে লড়া তো জেনেশুনে। না না আমি পারব না।
নিরবের মানবো না নীতিতে অবাক হয়ে যায় আগন্তুক।
- আরে ভেবে দেখুন লোকে আপনাকে হিরো বলবে।
কি দিয়ে নিরবকে বোঝাবে সে ভেবে পায় না।
- কি যে বলেন হিরো হতে গিয়ে কি জিবনের ঝুকি নেব নাকি। আ.... আমি পারব না।
- আপনি তো মরতেই চলেছেন ঝুকির আর বাকি থাকল কি।আপনি কি শুধু শুধু মরা থেকে বীরের মত মরা বেছে নেবেন না।
- পারব না। অন্য কিছু বলুন।
কি বলবে ভেবে পায় না সে। পুনরায় ধৈর্য সঞ্চার করে বলা শুরু করে আগন্তুক।
- আচ্ছা ঠিক আছে। ধরুন আ.....আ.... আপনি মানুষকে সাহায্য করার জন্য আপনার সব যন্ত্রপাতি, মানে চোখ কিডনি লিভার ইত্যাদি যা কিছু আছে সব দান করলেন।
জানে সে এরকম কথা আগেই বলা হয়ে গেছে, কিন্তু তবুও আশা নিয়ে বলে চলে সে।
- আপনি মরতে চান কিন্তু এমন অনেকেই আছে মৃত্যু নিশ্চিত কিন্তু সে বাচতে চায়। আপনি তাকেও বাচালেন আবার নিজেও মরলেন। ভেবে দেখুন এভাবেও একক ঢিলে দ্বৈত পাখি শিকার করা যায়। অন্তত ট্রেনের চাকায় নিজের মুল্যবান সম্পদ পিষ্ট করার চাইতে ভাল।
যে করেই হোক দান করে মৃত্যু যে এভাবে আত্মহত্যার চাইতে ভাল তা বুঝাতে মরিয়া সে।
কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয় না।
নিরাস কন্ঠে বলে আগন্তুক,
-দেখুন হাটতে হাটতে আবার সেই আগের যায়গায় এসে গেছি। আপনার সুইসাইড স্পট।
- আচ্ছা একটা ব্যাপার আমি লক্ষ করলাম আপনি আমাকে প্রথমে বলেছিলেন আপনি নাকি সুইসাইড করতে আসলে তাদের বাধা দেন। কিন্তু আমাকে তো বাধা দিচ্ছেন ই না উলটো উৎসাহ দিচ্ছেন। ব্যাপারটা কি।
- আপনার মত এক দু জন মরলেও পৃথিবীতে কিছুই হবে না। তারপরও আপনাকে তো একটা ট্রেনের নিচে পরা থেকে বিরত করেছি। আর একটা ভালকাজ করার আগ পর্যন্ত বেচে থাকতে বলছি। আর কি চান।
এবার রাগ ফুটে উঠে আগন্তুকের কন্ঠে।
- অদ্ভূত!
বলে নিরব।
- আপনি আমার চাইতেও অনেক বেশি অদ্ভূত। আপনার মত এমন ভিতু লোক আমি আগে কখনো দেখিনি।
- আপনি ভুল করছেন। আমি ভিতু নই। কিন্তু কাদের জন্য আমি জিবন উৎসর্গ করবো। আর এতে আমার লাভ কি।
স্বার্থপরতা প্রকাশ পায় নিরবের কন্ঠে।
আর ধৈর্যশীল মানুষের ভুমিকায় অভিনয় করতে পারে না আগন্তুক।
- আরে, কিছু কিছু সময় নিঃস্বার্থ কাজ করতে হয়। সব সময় লাভ খুজলে চলে না। মানুষের উপকার করতে পারাটাকেই লাভ হিসেবে ধরে নিতে হয়।আপনার কি লাভ তাই না। ভারি স্বার্থপর লোক তো আপনি। আপনার মত এত স্বার্থপর লোক আমি জিবনেও দেখিনি।অবস্য এটাই স্বাভাবিক। আপনার শরিলে যে বইছে সার্থপরদের রক্ত। আপনার বাবা চাচা সব সার্থপরের দল। আপনার চাচারা সার্থের জন্য আপনাকে ত্যাগ করেছে। আপনার কাছে সার্থপরতা ছাড়া আর কি বা আশা করা যায়।
- কি করবো ভাই এই পৃথিবীটাই স্বার্থপরের জায়গা।
- সবাই স্বার্থপর না আপনার মত। আত্মত্যাগীও আছে এই পৃথিবীতে। আর আমি সেই রকম আত্মত্যগীদের সন্ধান করি।
- থামুন, আপনি যে এত নীতি কথা ছাড়ছেন, আপনি নিজে গিয়ে আত্মত্যাগ করছেন না কেন?
বিরক্তি ঝরে পরল নিরবের কন্ঠে।
- কে বলল আমি আত্মত্যাগ করছি না। আপনাকে যা যা পন্থা বলেছি তার সব গুলোই আমি নিজে করেছি নয়ত অন্যদের দিয়ে করিয়েছি।
জানিয়ে দেয় আগন্তুক।
পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে দেখে শান্ত কন্ঠে বলে উঠে নিরব,
- আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার সংঙ্গে কথা বলায় সেই ট্রেনটা মিস হয়েছিল। নয়তো এতক্ষনে নরকে.... যাই হোক আমি আমার সিদ্ধান্ত বদলেছি। আমি আর আত্মহত্যার মত পাপ করছি না। আর এসব সম্ভব হয়েছে আপনার জন্য। তাই আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। তবে দুঃখিত আপনার কোন অনুরোধ বা পরামর্শ রাখতে পারলাম না।
এইমুহুর্তে আগন্তুকের চেহারা দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। একদৃষ্টিতে সে নিরবের দিকে তাকায়। তার ক্রুর হাসিতে নিরবের অন্তরাত্মা কেপে উঠে।
- দেখো পৃথিবীতে খারাপ মানুষ থাক কোন সমস্যা নেই। ভাল মানুষ আছে তাতাে খুবি ভালো কথা। কিন্তু তোমার মত স্বার্থপর লোক থাকলে এটা খুব সমস্যা। তুমি নিজে ভাল থাকার জন্য অন্যকে বিপদে ফেলতে পারো। তাই তোমার মত লোকের এই পৃথিবীতে কোন প্রয়োজন নেই।
- তোমাকে এখন যদি বলি, ঐ যে ছেলেটাকে তুমি যে জিগ্গেস করছিলে, আমাকে দেখতে পাচ্ছে কিনা, সে সত্যি সত্যি আমাকে দেখেনি।
তাহলে তোমার কেমন লাগবে। আর যদি বলি বেকারির গাড়ি থেকে বিস্কুটের পেকেটটা আমিই ফেলে দিয়েছিলাম তাহলে। আর যদি বলি তোমার মনের কথা পরার ক্ষমতা আছে আমার তবে কেমন লাগবে। তোমার বাবা যে ফার্মে চাকরি করতেন সেখানকার এক সৎ কর্মকর্তাকে সে সরিয়ে দিয়েছিল নিজের দুর্নিতির স্কোপ তৈরি করার জন্য। তবে তোমার কেমন লাগবে।
ভয়ঙ্কর চেহারা ও ককন্ঠস্বরে কখা বলে আগন্তুক।
- নিরব বিস্মিত লোকটার সত্যিই অলৌকিক ক্ষমতা আছে।কারন তার ববাবার দুর্নিতির কথাটা সে জানত। সেই লোকটা চাকরি হারাবার পর তার বাবাকে সবার সামনে গালাগাল করেছিল। ঘটনা নিরবের সামনেই ঘটে।
কিছুক্ষন পর দেখা যায় পরবর্তি ট্রেন আসছে।নিরবের কলিজার রক্ত সুকিয়ে যাওয়া মত অবস্থা। আগন্তুক হাতের ইশারায় ট্রেনটি দেখিয়ে বলে।
- ঐ যে দেখ তোমার অগাস্তযাত্রার রথ চলে এসেছে। চল তোমাকে ওটাতে তুলে দেই।
গমগমে কন্ঠে বলে ওঠে আগন্তুক। এইমুহুর্তে পিচাশের সংঙ্গে এর কোন পার্থক্য নেই। ভয়ে নিরবের মুখ পান্ডুর হয়ে যায়।
- কি, কি বলতে চান আপনি।
- তোকে এখন আমি ঐ ট্রেনটার নিচে ফেলে দেব।
- না আপনি এটা করতে পারেন না। আমি মরতে চাই না।
খপ করে নিরবের হাতটা ধরে ফেলে আগন্তুক।
পারলে নিজেকে ছাড়া।
হালকা পাতলা এই লোকটার গায়ে যে এত জোড় তা নিরব বুঝতে পারেনি।
ট্রেন একেবারে কাছে চলে এসেছে।
লাইনের পাশে একজন লোক দেখে, ট্রেনের চালক হুইসেল বাজিয়ে সাবধান করে দেয়।
নিরবের কিছুই করার থাকে না। হুইসেলের এত আওয়াজে মাঝেও আগন্তুকের অট্টহাসি শুনতে পায় নিরব। তারপর ধাক্কা দিয়ে নিরবকে ছুড়ে দেয় সে ট্রেনের নিচে।
ট্রেনের চালক কিছুটা অবাক একটু
আগেও একটা লোকটা লাইনের পাশে দারিয়ে ছিল। অথচ হঠাৎ করেই সে ঝাপ দিলো। আশেপাশেও কাউকে দেখলেন না চালক। এত দ্রুত ঝাপ দেওয়া প্রায় অসম্ভব ঠেকল চালেক কাছে। ঘটনার আকস্মিকতায় বিস্মিত হয়ে যায় চালক।
( সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now