বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আত্মত্যাগীর সন্ধানে(পর্ব 2/3)
।
লেখক: আল হাসান ইপু। (টাইটেল ভাইসাব)
....
- না। আমিতো আগেও বলেছি আমি ভুত নই। আর গল্পে এবং সাইকেআটিস্টরা যাকে হেলুসিনেশন বলে উরিয়ে দিতে চান তা হল নিখাদ বাস্তব। তাই আমি আপনার সামনে বাস্তব। তবে ভূতও নই।
আর অবাক হয় না নিরব। লোকটার ধরন বুঝে গেছে নিরব। কিন্তু এই রহস্যময় লোকটাকে জানতে চায় সে।
- আমি আপনার কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাকে একটু বুঝিয়ে বলুন।
- বলব। সব কিছুই যৌক্তিক। অলৌকিক কিছু না। তার আগে আপনি একটা পেকেট খুলে বিস্কুট খান। খালি পেটে মনযোগ থাকে না।
গত দুদিন আগে শেষ বারের মত কিছু খেতে পেরেছিল নিরব। আজ সকাল বেলাই খাওয়া হয়ে গেলো একেবারে অনিশ্চিত ভাবে। অচেনা এই অচেনা লোকটার প্রতি স্রদ্ধায় বুকটা ভরে গেল তার।
- অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ভাই।
- আমাকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন কেন। আপনি যদি ওটা কুরিয়ে না আনতেন তবে আপনাকে আমি এনে দিতাম না। আপনি নিজ যোগ্যতায় তা অর্জন করেছেন। কৃতিত্ব আপনার। এবার যা বলি মনযোগ দিয়ে শুনুন। আমি আপনাকে বলেছিলাম আমি আপনাকে ফলো করেছি। মনে আছে। প্রথম যখন আপনার সংঙ্গে আমার দেখা হয় তখন আমি আপনাকে পেছন থেকে হঠাৎ করে বলেছিলাম যে আপনি কি আত্মহত্যা করতে এসেছেন কিনা। তাতে আপনি ভ্যাবচেকা খেয়ে গেলেন। ভেবে দেখুন আপনাকে ঐরকম একটা শুনসান রেল লাইনের ধারে একা দারিয়ে থাকতে দেখলে যেকেউ প্রথমেই কি ভাববে। তার উপর আশেপাশে কোন বাড়িঘর নেই।
- হ্যা। এখন মনে হচ্ছে কথাটা আধিভৌতিক ছিল না। তারপর।
- তারপর আপনি আমার দিকে তাকিয়ে থেকে কিছুক্ষন এদিক ওদিক দেখলেন। আপনি আমার পায়ের দিকে তাকালেন। সম্ভবত জগিং করতে বেরিয়েছি কিনা তা অনুমান করতে চেয়েছিলেন। তারপর যেহেতু আশেপাশে কোন ঘরবাড়ি নেই তাই ভাবনায় পরে গেলেন। আমি অনুমানের উপর একটা টুক্কা মেরে দিলাম।
- এখনতো ব্যাপারটা রীতিমত হাস্যকর মনে হচ্ছে।তারপর।
- তারপর আপনাকে বললাম যে যায়গাটা খুন করার জন্যেও বেশ ভাল। আর এমন ভাবে বললাম যাতে কথাগুলো বেশ রহস্যজনক আর অদ্ভুত মনে হয়। এমনিতেই আপনি ভয় পেয়েছিলেন আমি সুযোগটা নিলাম।
- এখনতো আপনাকে
মজার মানুষ মনে হচ্ছে।
- এতটা মজা পাবেন না। তারপর আপনি আশে পাশের ঝোপ ঝাড়ের দিকে কিছু খোজার মত তাকাচ্ছিলেন। আমি ধরে নিলাম আপনি আমার আগমনের উৎস খুজছেন। আমি আপনাকে ফলো করে এসেছি এটা জানিয়ে দিলাম। যেহেতু আপনি আমাকে প্রশ্ন করেন নি কিন্তু আমি জবাব দিয়ে যাচ্ছি তাতে ঐরকম পরিবেশে ভয় পাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মুহুর্তে আপনার চেহারার পরিবর্তন হতে শুরু করলো। চোয়াল শক্ত করা শুরু করলেন। বোঝাই যাচ্ছে আপনি ভেতরে ভেতরে যুদ্ধ করছেন। ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু ভয় পেতে চান না এই রকম দিধাদন্দ। আপনি যেহেতু মৃত্যুর দুয়ারে তাই আপনার ভয় পাওয়া মানায় না। আমি সিনেমাটিক স্টাইলে পরবর্তি ডায়লগ আওরালাম।
- দারুন। তারপর।
- আপনি ঐরকম পরিস্থিতিতে ভয় পেলে আর কিসের ই বা পাবেন। আমাকে দেখে অন্তত ছিনতাইকারি মনে হয় না। তাহলে বাকি থাকল ভূত বা জ্বিন। যেহেতু আপনি মুসলিম নন। তবে কেবল ভূতের চিন্তাই মনে আসতে পারে। আর তাই আরো একটা গল্পের ডায়লগ দিয়ে দিলাম 'আমি ভূত নই'। আর হ্যা আপনার গলায় ধর্মীয় পৌতা ছিল। হয়ত পরে ওটা আপনি ছিড়ে ফেলেছিলেন অথবা ছিড়ে গেছে।
- ছিড়ে ফেলেছিলাম। মূল্যহিন মনে হয়েছিল ওটা। খাবারের অভাবে ধর্ম রক্ষা করা.....
- আচ্ছা যাই হোক, তারপর যা বলছিলাম। অনেকদিন দেহের সংঙ্গে বেশ আটসাট হয়ে কিছু থাকলে দেখবেন তার দাগ পরবে। যেমন জুতার দাগ পায়ে পরে।সার্ট এর নিচে সেন্ডোগেঞ্জি পরলে তার দাগ পরে। এটাও ঠিক সেই রকম।আপনার গলায় হালকা একটা দাগ আছে।তাছাড়া আপনার হাতে ত্রিসুল আকা আছে। ওটাও আমি লক্ষ করেছি।
- আপনি.... আপনি সত্তিই একটা জিনিয়াস। এত সাধারন জিনিস ও আপনার চোখ এরায় না।
- না। আসলে আমি খুব সুক্ষভাবে লক্ষ করি। যেটা অনেকেই খেয়াল করে না , আবার হয়ত অনেকেই এসব খেয়াল করে। আপনি যদি এরকম ভাবে দেখেন। তবে আপনার কাছেও এসব খুব সাধারন মনে হবে। অলৌকিক কিছুই না।
- তারপর।
- তারপর আর কি। আপনি যে কয়েকদিন ধরে ক্ষুধার্ত তা বুঝতে তো আর গোয়েন্দা হওয়া লাগে না।
- না এটা ঠিক আছে। কিন্তু ঐ যে আপনি বলে দিলেন বেকারির গাড়ি ঐ রাস্তা দিয়ে যাবে আর এক পেকেট বিস্কুট পরে যাবে সেট কি করে বুঝলেন।
- ও, সেটা। আ...মমমম। আমি আসলে অনুমান করেছিলাম। আপনি হয়ত খেয়াল করেননি গাড়িটা রাস্তার ওপারে একটা দোকানে বিস্কুট টিস্কুট কিছু একটা দিয়ে যাচ্ছিল। বড় একটা পলিথিন থেকে কয়েক পকেট বিস্কুট দিয়ে যখন সেটা বেকারির গাড়ির উপর রাখলো। তখন আমার কাছে মনে হল পেকেটটা পরে যেতে পারে। কোন বাধে ঝাকি খেলে পরতে পারে। তারপর রাস্তা পার হয়ে এদিকে যাবে তা আমি আগে থেকেই জানতাম। কারন আমি আগেও সকাল বেলা এইদিকে এসেছি এবং বেকারির গারিটা কোনদিকে যায় তা আমি দেখেছি। তাই ধারনা করে ঐ বাধের যায়গাটি আপনাকে দেখিয়ে দিলাম।
- এত মামুলি বিষয় আপনি লক্ষ করেন?
- হ্যা তাইতো আমি অন্যদের চাইতে আলাদা। আপনি কি কখনও আমার মত কাউকে দেখেছেন?
- না। তবে গল্পে পড়েছি। শার্লক হোমস্।
- আরে মশাই ছারুন গল্পের কথা। বাস্তব অনেক আলাদা।
- সবই তো বুঝলাম কিন্তু আপনি যে অদৃশ্য সেটা কি। এখানে কোন যুক্তি দেখাবেন।
- হা হা হা......
- এতে এত হাসার কি হল।
- দাড়ান একটু হেসে নিই। আপনি যে এত বড় ভাড়, হাসির খোরাক তা প্রথম দেখায় বুঝি নি।
- আমি আবার কি করলাম?
- আরে মানুষ কখনও অদৃশ্য হয় নাকি! আপনার কি মনে হয় আপনি একজন লোককে একজন জলজ্যান্ত মানুষ দেখিয়ে বলবেন একে দেখতে পাচ্ছেন? সে তখন কি বলবে, যদি সেই মানুষ টি চোখ টিপে দেয়। হা হা হা...
- তারমানে আপনি মজা করছিলেন। আমিতো রিতিমত দুচোখে ঝাপসা দেখছিলাম।
- হা হা হা.... ঐ ছেলেটা কি ভেবেছে জানেন, সে ভেবেছে পুরোনো বন্ধু ধাপ্পাবাজি করে মজা নিচ্ছে। আমি আপনাকে মজা করে বলেছি আমি অদৃশ্য, এই টাইপ কিছু সে ধরে নিয়েছে।
- হম...
- আবার জিগ্গেস করবেন না আমি কি করে বুঝলাম সে কি ধারনা করছে।
- না না এটা তো খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। সে এ ছাড়া আর কি ধারনা করেই বা আমাকে মিথ্যা বলতে পারে। তবে ছেলেটা জিনিয়াস সেই সময় আপনার চোখ টিপ্পনির সঠিক অর্থ টা বুঝতে পেরেছে। আর ঠিক কথাটা বলতে পেরেছে।
- হ্যা তাই। আপনার কাছে কি এমন ইন্টলিজেন্স আশা করা যায়?
- অন্তত আমি এই ভরসা দিতে পারি না।
- তা তো আপনাকে দেখলই বোঝা যায়। যাই হোক এবার আপনার গল্প বলুন।
- কোন গল্প?
- আরে আপনি কেন আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন সেই কাহিনি।
- ও.....। আসলে অনেক লম্বা ঘটনা
আপনার কি শোনার সময় হবে?
- আরে কোন ব্যাপার না। আমার কোন কাজ নেই। তবে ছোট করে বললে ভাল হয়। কারন ট্রেন আসতে বেশি সময় বাকি নেই!
- ও আচ্ছা। তবে শুনুন একেবারে সর্ট করে বলছি। আপনার মত অত ভঙিতা করব না। আমার বাবা মা বছর দের দুই আগে একসিডেন্টে মারা গেছেন। তখনো দাদার আমলের সম্পত্তি ভাগাভাগি হয় নি। দুই চাচা কোন এক কৌশলে সব হাতিয়ে নিলেন আমি একেবারে নিঃস্ব। তবে চাকরি ছিল।
এক নিঃস্বাসে বলে চলেছে নিরব আর নির্বাক শ্রোতা আগন্তুক।
- কিন্তু গত বছর খানিক হবে চাকরিটা কোন কারন ছাড়াই হারালাম। তারপর জমানো টাকা শেষ হয়ে গেল অল্প দিনে। বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে গেছি কিন্ত কেন যেন কোনটাই করতে পারিনি। কুলিগিরি করতে পারিনা ভিক্ষা করতে পারিনা, একই কারন আত্মসম্মান। কচুর সম্মান। না খেয়ে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া সহজ। আর তাই।
একরাস নিরাশার ধোয়াটে নিঃস্বাস ছেড়ে আবার বলল নিরব।
- আশা করি বুঝতে পেরেছেন?
- হ্যা বুঝলাম। চলুন হাটতে হাটতে কথা বলা যাবে।
- কেন দিকে যাবেন?
- যেদিক থেকে এসেছেন সেদিকেই চলুন।গল্প করতে করতে আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now