বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্মত্যাগীর সন্ধানে(পর্ব 1/3)

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আত্মত্যাগীর সন্ধানে(পর্ব 1/3) ...... লেখক: আল হাসান ইপু। (টাইটেল ভাইসাব) .... নিরব বেশকিছুক্ষন ধরে সকালের ট্রেনের অপেক্ষা করছে। আরো অনেকেই অপেক্ষা করছে। কিন্তু অন্যদের সাথে তার পার্থক্য হলো, অন্যরা স্টেশনে অপেক্ষা করছে আর সে স্টেশন থেকে চার পাঁচ কিলো দূরে রেল লাইনের পাশে দাড়িয়ে। অন্যদের অপেক্ষা আর তার অপেক্ষার উদ্দেশ্যের মধ্যেও রয়েছে পার্থক্য। অন্যরা তাদের গন্তব্যে পৌছাতে চায়, আর সে চায় উপরে যেতে। একেবারে উপরে। যেখান থেকে আর নিচে নামার ব্যাবস্থা নেই। এই ক্ষুদার রাজ্যে বেচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো। "হে হে হে... । আত্মহত্যা করতে এসেছেন বুঝি।" হঠাৎ করে পিলে চমকানো হাসি দিয়ে কথা বলে উঠল এক আগন্তুক। অনেক অবাক হলো নিরব। যখন থেকে এখানে এসেছে সে একটা বিড়াল ও দেখেনি। এমনকি একটু আগেও কেউ ছিলনা। আর এত সকালে কেউ মর্নিং ওয়াক করতে আসার মত জায়গাও না এটা।কারন রেল লাইনের দু ধারে কোন বাড়িঘর নেই। তাছাড়া দুপাশের গ্রামগুলো কমপক্ষে আধকিলোমিটার দুরে দুরে অবস্থিত। লোকটার কাপর চোপর দাড়ি গোফে পাগল ধরনের। কিন্তু মনে হচ্ছে যেন খুব শিক্ষিত লোক। লোকটাকে দেখে প্রথমে কিছুটা ভড়কে গেলেও এখন চিন্তার স্রোত বয়ে যাচ্ছে নিরবের মনে, কে এই লোক। লোকটা বলে উঠে, "কেন ভাই আশেপাশে বাড়িঘর নেই বলে কি কেউ জগিং করতে এখানে আসতে পারেনা।" নিরব অবাক হয়ে গেলো লোকটার কথায়। কিকরে লোকটা ওর মনের কথা বুঝলো। "অবশ্য সকাল সকাল আত্মহত্যা করার জন্যেও যায়গাটা ভাল। আশেপাশে বাড়িঘর নেই। কেউ বিরক্ত করতেও পারবেনা, বাধাও দিতে পারবেনা। কি বলেন? হে হে হে।" হাসতে হাসতে নিরবের সব মনের কথার জবাব দিচ্ছে যেন। লোকটার হাসিতে নিরবের রক্ত হিম হওয়ার মত অবস্থা। " আবার খুন করার জন্যেও অতুলনীয়।" লোকটা কি এতক্ষন পাশের ঝোপে লুকিয়ে ছিল। হঠাত করে তাকে ঘাবড়ে দেয়ার জন্য এসেছে। কিন্তু যাই হোক সে আত্মহত্যা করতে এসেছে। তার ভয় পাওয়া মানায় না। " হে হে হে.....।আমি আসে পাসে লুকিয়ে ছিলাম না। আপনাকে অনেক্ষন ধরে ফলো করছিলাম। " কিছুক্ষন চুপ থেকে আবার বলে উঠল। "আত্মহত্যা করতে হলে ভয় পাওয়া চলে না। কি বলেন।" এবার সত্যি সত্যি ভয় পেয়ে গেল নিরব। ভূতটূত নয়তো,সে মনে মনে বলতে লাগল। কন্ঠস্বর বদলে আগন্তুক বলল, "হা হা হা....হ্যালো। আমি ভূত নই। যাই হোক. আপনার নামটা কি জানতে পারি।" নিরব কিছুটা অবাক হল। একটু পর বলল,"আমি নিরব"। -তা নিরবেই পৃথিবীর মায়া ত্যগ করতে চাইছেন নাকি। -না মানে......। আচ্ছা আপনি কি জাদুকর। মানে আপনি আমার মনের কথাগুলো সব পড়তে পারছেন। - হা হা হা। এমন কেন মনে হল। আমি ত মনোবিদও হতে পারি। - ও তার মানে আপনি মনোবিজ্ঞানি? - না আমি তা নই। - তাহলে আপনি কে? - আমি একজন অতি সাধারন মানুষ। তবে আমাকে একজন খুজুক ও বলতে পারেন। হা হা হা। - মানে? - মানে আমি খুজে বেরাই। - হা হা হা..যে খুজে তাকে বলে খুজুক! প্রথম বারের মত নিরব হেসে উঠল। - আমি আপনার মত লোক খুজে বেরাই। যাদের জিবনের মায়া নেই। যারা আত্মহত্যার মত পাপ করতে চায়। তাদের বাধা দেই। বাধা দেই মানে বুঝিয়ে বলি এটা কত বড় পাপ। তাদের ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করি। এই আর কি। -তাই এখানে এসেছেন আমাকে বাধা দিতে? কিন্তু আপনি তা পারবেন না। ঐযে ট্রেনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। সামনে আসতেই ঝাপ দেব। - না আপনার ধারনা পুরােপুরি ঠিক না। আমি যদি আপনাকে বোঝাতে ব্যার্থ হই তবে আমিই আপনাকে মরতে সাহায্য করব। দ্বিতীয়বার ভড়কে গেল নিরব। - আপনার কথার মানে কি। - মানে আপনি যদি পরে মরতে না ও চান তবুও আমি আপনাকে ধাক্কা দিয়ে ট্রেনের নিচে ফেলে দেব। হা হা হা। তবে এখন ট্রেন বেশ কাছে চলে এসেছে। আপনার কাহিনিটা বলুন শুনি আর আমি কি করে আপনার মনের কথা বুঝলাম সে রহস্যটাও জানাবো। আগে তাড়াতাড়ি লাইন থেকে নামুন। আর দুঘন্টা পর আরেকটা ট্রেন আসবে। সেটাতে আপনাকে উপরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেব। - হা হা হা.....। আপনি খুব মজা করে কথা বলেন। এখনকার মত এ চিন্তা বাদ দিলাম। আমার কথা বলার মত কোন ইচ্ছা আমার নেই। কিন্তু আপনি কি করে বুঝতে পারলেন আমার মনের কথা, তা আমি জানতে চাই। তাই আমি আপনার কথা মানলাম। এবার বলুন। - চলুন হাটতে হাটতে কথা বলা যাবে। ডান দিকে যাই। হাটতে হাটতে আগন্তুক বলা শুরু করলেন। - "আপনার মনে আমার ব্যাপারে যে রহস্যের জন্ম নিয়েছে তা আগে দূর করা উচিৎ। তাহলে বলি শুনুন। আমি একজন ছন্নছাড়া মানুষ। অনেক আগে একবার একলোককে আত্মহত্যা করা থেকে বাচিয়েছিলাম। তারপর নেশা পেয়ে বসল। মানুষের জিবন এত মূল্যবান। অথচ কিছুলোক কোন ছোট্ট একটা কারনে আবার কখনও কারন ছাড়াই আত্মহত্যা করছে। অনেকে মনে করে তার জিবনের কোন মূল্য নেই। অথচ সে জানেই না তার জিবনটা কত মূল্যবান। আমি শুধু তাদেরকে এতটুকুই বোঝানোর চেষ্টা করি যে তার জিবনের মানে কি মূল্য কতটুকু। - দেখুন আপনি ইনডায়রেকলি কথাগুলো আমাকে বলতে চাচ্ছেন।আর আমি কিন্তু আপনার কাছে এসব শুনতে চাই নি। - আহা। অস্থির হলে তো চলবে না দাদা। একটু ধৈর্য ধরতে হবে। - আপনি প্রথমে আমাকে ভাই বলছিলেন এখন বলছেন দাদা কেন? ভিতরে অবাক হওয়ার ব্যাপারটা চেপে রাখতে চাইছে নিরব। কিছুক্ষন পর আগন্তুক বলে উঠলেন। - আপনি যা ধারনা করছেন তাই, মানে আপনি হিন্দু ধর্মের এটা আমি বুঝতে পেরেছি। আর আপনারা তো ভাই না বলে দাদাই বলেন তাই না। - দেখুন আমাকে ঘাবড়ে দেয়ার চেষ্টা না করে সংক্ষেপে রহস্য শেষ করুন। - ঠিকাছে তাহলে বলছি। কিন্তু আপনাকে কথা দিতে হবে আপনার জিবনের গল্পটা আমাকে না বলে আপনি আত্মহত্যা করবেন না। - আমি রাজি। তারা হাটতে হাটতে একটা রেল ক্রসিং এর কাছে চলে এসেছে। আগন্তুক বলল,"এখানে একটু বসি।" রাস্তার পাশে একটা জায়গা দেখিয়ে বলল সে। -ঠিকাছে। সম্মতি জানাল নিরব। - একটা বিস্কুটের পেকেট ঐ বেকারির গাড়িটার উপর থেকে ঐখানটায় পরতে পারে ঔটা নিয়ে আসবেন। - কিন্তু গাড়িটাতো অন্য দিকে যাচ্ছে। কথাটা শেষ করতেই পারলনা নিরব সাথে সাথেই গাড়িটা যখন একটা রাস্তার বাধ পার হচ্ছিল তখনই গাড়িটার উপর থেকে টুপ করে একটা পলিথিন পড়ে গেলো। নিরব রীতিমত অবাক। - যান নিয়ে আসুন। স্তম্ভিত নিরব বিশ্বয় কাটিয়ে পলিথিনটা নিয়ে আসল। - এটা আপনি কি করে বুঝলেন যে পেকেটটা ঐখানে পরবে। - সেট ব্যাপার না। কিন্তু এখন যে ছেলেটা এদিক দিয়ে যাবে তাকে বলবেন সে আপনার সংঙ্গে কাউকে বসে থাকতে দেখছে কিনা। নাকি আপনি এখানে একা বসে আছেন। তা ওকে জিগ্গেস করবেন। - মানে কি! সে কি আপনাকে দেখতে পাবে না! - না আমি অদৃশ্য। - কি.... কিক... কি বলছেন এসব। - ভয় পাবেন না। তাকে জিগ্গেস করুন। তারপর নিরব সেই ছেলেটাকে আগন্তুকের কথামত জিগ্গেস করল। সে বলল সে নিরবকে ছাড়া আর কাউকে দেখতে পাচ্ছে না। নিরব এবার সব চাইতে বেশি অবাক হল। সে এখন এক অদৃশ্য লোকের সংঙ্গে বসে আছে। কথা বলছে। তবে এসব কিছু হেলুসিনেশন। নাকি সত্যি সত্যি লোকটা ভুত। সুযোগ বুঝে ঘাড় মটকে দেবে না তো।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now