বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সারারাত সুখি সুখি কাপলদের সৌন্দর্যের উপমা হয়ে জেগে থাকা লাজুক চাঁদটা মাত্র বালিশে মাথা রেখেছে।এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি সেলফি স্টাইলে দিনভর হাসি মুখে চেয়ে থাকা রাগি সূর্যিটা।আমার ফোনের এলার্ম টোনে সেট করা লিংকিন পার্কের হার্ডরক গানের সুরে ঘুম ভেঙ্গে যায় জারুল গাছের মগডালে কাকের আলিশান ফ্লাটে ভাড়া থাকা শালিক পাখির।সে অনেক্ষন রাগি রাগি মুখ করে আমার দিকে চেয়ে থাকে।বেচারা নতুন বিয়ে করেছে।বউ এর হাতে বানানো এককাপ ব্লাক কফি খেয়ে উড়ে এসে বসে আমার জানালার পাশে।তারপর ঠোট দিয়ে জানলার কাচে নক করে,ঠক...ঠক...ঠক...
সেই শব্দে তখন ঘুম ভাঙে আমার।
শালিকের মতো আমার ভাগ্য এতো ভালো না।সোনালী চুড়ি পরা কোন ফর্সা হাত আমার বিছানার পাশে বেড টি নিয়ে অপেক্ষা করে না।আমি শুকনো মুখে ফ্রেশ হতে যাই।তারপর গুটি গুটি পায়ে ছাদে গিয়ে দাড়াই।ততক্ষনে ঘুম ভেঙ্গে গেছে সূর্যি মামার।সে নারকেল গাছের পাতার ফাক দিয়ে সোনারঙের ফ্লাশ মেরে আমার দিকে তাকিয়ে মিস্টি হেসে বলে,গুড মর্নিং...
.
তারপর...
আমার জীবনে শুভ সূচনা হয় আরো একটি দিনের।এলোমেলো আর বিষন্ন।সময়ের সাথে সাথে একসময় সূর্যটার মিস্টি হাসি রুপান্তরিত হয় ডিপজলের ভয়ংকর হাসিতে।আমার দিনটাও আস্তে আস্তে জীবনানন্দের রোমান্টিক কবিতার হাত ছেঁড়ে হয়ে যেতে থাকে মধুসূধনের দাতভাঙা মহাকাব্য।
.
তারপর একসময় দুধসাদা বকের ডানায় ভর করে পৃথিবীর আকাশে সন্ধ্যা নামে।সন্ধ্যায় আমার সঙ্গি ধোয়া ওঠা এক কাপ চাঁ,মাথার উপরে চক্কর দেওয়া রুপোলী রঙের চিল আর গিটারের টুংটাং....
মিটিমিটা তারা জ্বলে,
চাঁদ হেসে কথা বলে,
সন্ধ্যেরা হয়ে যায় রাত্রি...
.
রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকি।চাদের ম্লান আলোয় যক্ষা রোগির চোখের মতো জ্বলজ্বল করা নারিকেল গাছের পাতার দিকে চেয়ে ভাবি অনেক কিছু।ভাবি আমার স্বপ্নের কথা।একদিন আমি.......(না থাক,এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত।আপনাদের শুনতে হবে না।
.
তারপর মেলোডি টাইপ গান,অল্প ফেসবুকিং অথবা হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস।আমার খুব সহজেই ঘুম এসে যায়।
.
রাতে ঘুমের মাঝে আমি সাধারনত খুব সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখি।সুন্দরী কোন মেয়ের সাথে ব্যাংককের মনোরম লোকেশনে ডুয়েট গাইতেছি টাইপ।
তবে মাঝে মাঝে ব্যতিক্রম হয়।ভয়ংকর কোন দুঃস্বপ্ন দেখে গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়।সেদিন শুধু ঘুম কয়প্রকার,কি কি এবং ঘুমের সর্বশেষ প্রকারটার চিন্তা মাথায় আসে।
হুম ঠিকই ধরছেন,আমি ওইটাই বুঝাতে চাইছি।ওই ঘুম আগে হোক পরে হোক একদিন অমারও ঘুমাতে হবে।
লিংকিং পার্কের হার্ডরক বা শালিকের প্রাকৃতিক কলিংবেল; কোন শব্দেই এই ঘুম ভাঙ্গবে না।কোনদিন না।
.
তারপরও পৃথিবীতে বসন্ত আসবে।নতুন বাবা হয়ে আমার প্রতিবেশী শালিকটা ফেইসবুকে ফিলিং হ্যাপি লিখে স্ট্যাটাস দিবে।সিদ্ধার্থের গৃহত্যাগী জোছনার কাছে ম্লান হয়ে যাবে ল্যামপোস্টের সোডিয়াম লাইট।টিনের চালে বৃষ্টির রিমঝিম সংগীত হার মানাবে বেথোফেন এর সিম্ফোনীকে।ভোরের নরম রোদ লেগে চকচক করা একফোটা শিশিরকে মনে হবে বাইশ ক্যারেটের ডায়মন্ড।
.
আর এসব দেখার জন্য সেদিন শুধু আমি থাকবো না।
তবুও জীবনের শেষ পর্যন্ত জিজের সবাইকে মনে থাকবে। তাদের প্রতি ভালবাসাটা অটুট থাকবে যেমনটা আছে পূর্ণিমার চাঁদের সাথে। স্পেশাল মানুষগুলোর অবস্থান তো হৃদয়ে তাই নাম উল্লেখ না করে অবস্থান অপরিবর্তিত রাখলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now