বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গোয়েন্দাগিরি ২

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান R.H (dangeor-virus) (০ পয়েন্ট)

X পরদিন লাঞ্চ-টাইম থেকে ফিরে এসে ব্যাগ খুলে এবার রীতিমত আর্তচিৎকার করে ওঠে তাহমিদ । ‘ষাঁড়ের মত চেঁচাচ্ছিস কেন ?’ বিরক্ত হয় জুয়েল । ‘আমি মোটেও চেঁচাচ্ছি না !’ ষাঁড়ের মতই চেঁচিয়ে বলে এবার তাহমিদ । ‘এইটা দ্যাখ !’ বেশ বড় একটা খাম । তার মাঝে একটা মাত্র পাতার চিঠি । সেটা বড় কথা না । চিঠিটা রক্তে লেখা । ‘তাহমিদ , এতদিন ধরে পাশে রেখেছ । বন্ধু ছাড়া আর কিছুই ভাবো নি কোনদিন । জানি আরও একটা বছর পাশে পাব তোমায় । কিন্তু আমি যে তোমায় বন্ধু ভাবতে পারি না আর । ভালোবাসি তোমায় এতটা । মুখে বলে বন্ধুত্বটা নষ্ট করে ফেলতে চাই না । তবুও তোমাকে না জানিয়ে স্বস্তি পাচ্ছি না । বন্ধুর থেকে বেশি না ভাব – আমি ভালোবেসে যাব তোমায় – আজীবন ।’ ‘আমি তো মাননীয় স্পীকার হইয়া গ্যালাম !’ নিজ ভাষায় বিড় বিড় করে জুয়েল । মোটাসোটা শরীরটা একেবারে পাথর হয়ে গেছে ঘটনার আকস্মিকতায় । ‘নাম নেই ।’ চোখ তোলে তাহমিদ। ‘কে হতে পারে ।! কে ?? জানাটা দরকার । এত পাগলামী কেন করবে ?’ একসেকেন্ড ভেবে ডাক দেয়, ‘মাননীয় স্পীকার !!’ ‘হ !’ তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয় জুয়েল । ‘এই চিঠিকে এভিডেন্স ধরে কি পাচ্ছিস ? আমাকে জানা । ’ চিঠি ধরে উলটে পালটে দেখে জুয়েল । তারপর নিরাশ হয়ে মাথা নাড়ে । ‘ডিএনএ টেস্ট করা লাগব !’ ‘বসে আছিস কেন ? করে আন !’ তাড়া দেয় তাহমিদ । ‘আমারে কি তোর সিআইডির লোক মনে হয় দেইখা ?’ ঝাড়ি মারে ওকে জুয়েল । হঠাৎ আগ্রহের সাথে খামটা তুলে নেয় । ‘তয় – এই খাম আমগোরে লীড দিবার পারে ।’ ‘খামে কোন ঠিকানা ছিল না, মি. স্পীকার ।’ ‘ওই আমারে স্পীকার কইবি না । হইয়া গেছিলাম । এখন নাই আর ।’ বলে জুয়েল গোবদা হাত দিয়ে পিঠে একটা চাপড়ও দেয় তাহমিদকে । আবার বলে তারপর, ‘ঠিকানা নাই – কথা সত্য । কিন্তু খামে গন্ধ থাইকা যায় । শুইকা দেখ !’ তাহমিদের দিকে আগ্রহের সাথে খামটা বাড়িয়ে দেয় ও । ‘আমি বাবা রক্তের গন্ধ-টন্ধ শুঁকতে পারব না ।’ নাক মুখ কোঁচকায় তাহমিদ । ‘তোর মন চাইলে তুই নাক ডুবিলে বসে থাক !’ অক্ষরে অক্ষরে তাহমিদের নির্দেশ পালন করে জুয়েল । নাকটা ডুবিয়ে চুপচাপ বসে থাকে মিনিট তিনেক । তারপর মুখ তোলে । ‘একটা বডি পারফিউমের গন্ধ পাইছি । তুই শুইকা দেখ ।’ ‘মরলেও না !’ তারস্বরে প্রতিবাদ জানায় তাহমিদ । হাতির পায়ের মত হাত দিয়ে ওকে চাপড়িয়ে উৎসাহ দেয় জুয়েল । শিড়দাঁড়া ভেঙ্গে যাওয়ার আগেই খামের গন্ধ শোঁকা উত্তম – হাত বাড়ায় তাহমিদ । একমিনিট পর মাথা তোলে । ‘গন্ধটা আমার পরিচিত । দোস্ত – কালকে তুই কাকে যেন সন্দেহের কথা বলছিলি ?’ ‘কইতাম কিন্তু রাগ করতে পারবিনা কইলাম !’ গ্যারান্টী চায় জুয়েল । ‘না করব না । বল ?’ ‘আমার তো প্রিয়াংকারে ধুমাইয়া সন্দেহ হইতেছে ।’ ‘আরে নাহ ।’ আপত্তি জানায় তাহমিদ নিজেই । ‘কাল ওকে চার্জ করেছিলাম । কিন্তু ও সবার আগেই লাঞ্চ করতে বের হয়ে যায় । আজও আমার সন্দেহ যায় নি – তাই খেয়াল করেছি – সবার আগে ও আর কেয়া বেড়িয়ে যায় ক্লাস রুম থেকে ।’ ‘আরে বলদা রে !’ তাহমিদের বুদ্ধির প্রশংসা করে জুয়েল । ‘এরা বাইর হইয়া বাইরে ছিল কোথাও আশে পাশেই – আমরা বাইর হতেই আবারও লাফায়া ঢুকছে ! ’ ‘হুম ...’ টোকা দেয় তাহমিদ টেবিলে, ‘লাফিয়ে না ঢুকলেও – আমরা যাওয়ার পরে ঢুকতেই পারে ...’ হঠাৎ জুয়েলের পাহাড়ের মত শরীরটা শক্ত হয়ে যায় । ফিসফিস করে বলে, ‘তাহমিদ, দ্যাখ !! প্রিয়াংকার ডান হাতের দিকে তাকা !’ তাকিয়ে চমকে যায় তাহমিদ । প্রিয়াংকার ডান হাতের তর্জনী পেঁচিয়ে আছে ব্যান্ডেজে । হাত কেটে গেছে ? নাকি নিজে থেকে কেটে চিঠিটা লেখেছে ও ? ✭ ‘আজ পারলে প্রিয়াংকারে একটু গুঁতায়া বাইর করার চেষ্টা কর দোস্ত ।’ সাজেশান দেয় জুয়েল ওকে । ‘মুখে কইব না যখন তখন গুতাইন্নাই লাগব । হুদাই কষ্ট পাইব ক্যান ?’ ‘হুঁ ।’ সায় দেয় তাহমিদ । ‘রক্তের চিঠিটাও কি আমি নিয়া যামু ? এভিডেন্স তো ।’ ‘না । ওটা আমার কাছেই থাকুক ।’ ‘মাইয়াটারে আবার বাসে বেশি জেরা করিস না । যদি আমাদের সন্দেহ ভুল হয় তাইলে কিন্তু ইজ্জত মার্ডার ।’ ‘আচ্ছা ।’ তাহমিদের গলার স্বর আজ পরিবর্তিত। দেখে সন্তুষ্ট হয় জুয়েল । ছেলে প্রিয়াংকাকে জেরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে । কেসটা আনসলভড থেকে যাবে এই ভয়টা ছিল ওর । বাসে উঠে ওই ব্যাপারে প্রিয়াংকাকে খোঁচানোর কোন সুযোগই পেল না আজ তাহমিদ । ‘অ্যাই তোর হাত কিভাবে কেটেছে ?’ সরাসরি প্রশ্ন করে ওকে । ‘কাল রাতে মাছ কাটতে গিয়ে । কাটাকাটি পারি না তো !’ হাই চেপে বলে মেয়েটা । ‘ওহ ।’ কি বলবে ভেবে পায় না তাহমিদ । ‘কাল সারা রাত ঘুমাইনি রে ।’ চোখ বোজে ও । ‘আমি চোখ বন্ধ করে থাকি একটু ।’ প্রিয়াংকার চোখ খোলার অপেক্ষায় থাকে তাহমিদ । কিন্তু কিসের কি ! বলতে বলতেই পাঁচ মিনিটের মাঝেই ঘুম ! ‘স্বাভাবিক । সারা রাত কেটেছ হাত ।’ মনে মনে বলে তাহমিদ । ‘গতকাল আমার সাহসী প্রেমিকা লাগবে বলাই উচিত হয় নাই । ’ মনটা খারাপ হয়ে যায় ওর । বাস তখন দাঁড়িয়ে জ্যামে । দশ মিনিটের দূরত্ব পার হতে এভাবেই লাগায় আধঘন্টা । আলতো করে প্রিয়াংকার ঘুমন্ত মাথাটা ঢলে পড়ে তাহমিদের কাঁধে । সরাতে গিয়েও সরায় না ও । খামের মধ্যে পাওয়া সুগন্ধটা তীব্রভাবে নাকে আসে ওর । ঘুমন্ত মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে আজ বড় মায়া হয় তাহমিদের । মুখ ঢেকে দেওয়া এক গুচ্ছ চুল সরিয়ে দেয় ও পরম মমতার সাথে । চলবে।।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভাই বোনের গোয়েন্দাগিরি
→ গোয়েন্দাগিরি
→ গোয়েন্দাগিরি
→ গোয়েন্দাগিরি (শেষ পর্ব)
→ গোয়েন্দাগিরি (পর্ব ১)
→ গোয়েন্দাগিরি শেষ পর্ব।
→ গোয়েন্দাগিরি-১
→ গোয়েন্দাগিরি
→ গোয়েন্দাগিরি
→ বাবুনের গোয়েন্দাগিরি-১
→ বাবুনের গোয়েন্দাগিরি-৪
→ বাবুনের গোয়েন্দাগিরি-৩
→ বাবুনের গোয়েন্দাগিরি-২
→ বাবুনের গোয়েন্দাগিরি-২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now