বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পরদিন লাঞ্চ-টাইম থেকে ফিরে এসে ব্যাগ খুলে এবার রীতিমত আর্তচিৎকার করে ওঠে তাহমিদ ।
‘ষাঁড়ের মত চেঁচাচ্ছিস কেন ?’ বিরক্ত হয় জুয়েল ।
‘আমি মোটেও চেঁচাচ্ছি না !’ ষাঁড়ের মতই চেঁচিয়ে বলে এবার তাহমিদ । ‘এইটা দ্যাখ !’
বেশ বড় একটা খাম । তার মাঝে একটা মাত্র পাতার চিঠি ।
সেটা বড় কথা না ।
চিঠিটা রক্তে লেখা ।
‘তাহমিদ ,
এতদিন ধরে পাশে রেখেছ । বন্ধু ছাড়া আর কিছুই ভাবো নি কোনদিন । জানি আরও একটা বছর পাশে পাব তোমায় । কিন্তু আমি যে তোমায় বন্ধু ভাবতে পারি না আর । ভালোবাসি তোমায় এতটা । মুখে বলে বন্ধুত্বটা নষ্ট করে ফেলতে চাই না । তবুও তোমাকে না জানিয়ে স্বস্তি পাচ্ছি না । বন্ধুর থেকে বেশি না ভাব – আমি ভালোবেসে যাব তোমায় – আজীবন ।’
‘আমি তো মাননীয় স্পীকার হইয়া গ্যালাম !’ নিজ ভাষায় বিড় বিড় করে জুয়েল । মোটাসোটা শরীরটা একেবারে পাথর হয়ে গেছে ঘটনার আকস্মিকতায় ।
‘নাম নেই ।’ চোখ তোলে তাহমিদ। ‘কে হতে পারে ।! কে ?? জানাটা দরকার । এত পাগলামী কেন করবে ?’ একসেকেন্ড ভেবে ডাক দেয়, ‘মাননীয় স্পীকার !!’
‘হ !’ তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয় জুয়েল ।
‘এই চিঠিকে এভিডেন্স ধরে কি পাচ্ছিস ? আমাকে জানা । ’
চিঠি ধরে উলটে পালটে দেখে জুয়েল । তারপর নিরাশ হয়ে মাথা নাড়ে ।
‘ডিএনএ টেস্ট করা লাগব !’
‘বসে আছিস কেন ? করে আন !’ তাড়া দেয় তাহমিদ ।
‘আমারে কি তোর সিআইডির লোক মনে হয় দেইখা ?’ ঝাড়ি মারে ওকে জুয়েল । হঠাৎ আগ্রহের সাথে খামটা তুলে নেয় । ‘তয় – এই খাম আমগোরে লীড দিবার পারে ।’
‘খামে কোন ঠিকানা ছিল না, মি. স্পীকার ।’
‘ওই আমারে স্পীকার কইবি না । হইয়া গেছিলাম । এখন নাই আর ।’ বলে জুয়েল গোবদা হাত দিয়ে পিঠে একটা চাপড়ও দেয় তাহমিদকে ।
আবার বলে তারপর, ‘ঠিকানা নাই – কথা সত্য । কিন্তু খামে গন্ধ থাইকা যায় । শুইকা দেখ !’ তাহমিদের দিকে আগ্রহের সাথে খামটা বাড়িয়ে দেয় ও ।
‘আমি বাবা রক্তের গন্ধ-টন্ধ শুঁকতে পারব না ।’ নাক মুখ কোঁচকায় তাহমিদ । ‘তোর মন চাইলে তুই নাক ডুবিলে বসে থাক !’
অক্ষরে অক্ষরে তাহমিদের নির্দেশ পালন করে জুয়েল । নাকটা ডুবিয়ে চুপচাপ বসে থাকে মিনিট তিনেক ।
তারপর মুখ তোলে ।
‘একটা বডি পারফিউমের গন্ধ পাইছি । তুই শুইকা দেখ ।’
‘মরলেও না !’ তারস্বরে প্রতিবাদ জানায় তাহমিদ ।
হাতির পায়ের মত হাত দিয়ে ওকে চাপড়িয়ে উৎসাহ দেয় জুয়েল । শিড়দাঁড়া ভেঙ্গে যাওয়ার আগেই খামের গন্ধ শোঁকা উত্তম – হাত বাড়ায় তাহমিদ ।
একমিনিট পর মাথা তোলে ।
‘গন্ধটা আমার পরিচিত । দোস্ত – কালকে তুই কাকে যেন সন্দেহের কথা বলছিলি ?’
‘কইতাম কিন্তু রাগ করতে পারবিনা কইলাম !’ গ্যারান্টী চায় জুয়েল ।
‘না করব না । বল ?’
‘আমার তো প্রিয়াংকারে ধুমাইয়া সন্দেহ হইতেছে ।’
‘আরে নাহ ।’ আপত্তি জানায় তাহমিদ নিজেই । ‘কাল ওকে চার্জ করেছিলাম । কিন্তু ও সবার আগেই লাঞ্চ করতে বের হয়ে যায় । আজও আমার সন্দেহ যায় নি – তাই খেয়াল করেছি – সবার আগে ও আর কেয়া বেড়িয়ে যায় ক্লাস রুম থেকে ।’
‘আরে বলদা রে !’ তাহমিদের বুদ্ধির প্রশংসা করে জুয়েল । ‘এরা বাইর হইয়া বাইরে ছিল কোথাও আশে পাশেই – আমরা বাইর হতেই আবারও লাফায়া ঢুকছে ! ’
‘হুম ...’ টোকা দেয় তাহমিদ টেবিলে, ‘লাফিয়ে না ঢুকলেও – আমরা যাওয়ার পরে ঢুকতেই পারে ...’
হঠাৎ জুয়েলের পাহাড়ের মত শরীরটা শক্ত হয়ে যায় । ফিসফিস করে বলে,
‘তাহমিদ, দ্যাখ !! প্রিয়াংকার ডান হাতের দিকে তাকা !’
তাকিয়ে চমকে যায় তাহমিদ ।
প্রিয়াংকার ডান হাতের তর্জনী পেঁচিয়ে আছে ব্যান্ডেজে ।
হাত কেটে গেছে ?
নাকি নিজে থেকে কেটে চিঠিটা লেখেছে ও ?
✭
‘আজ পারলে প্রিয়াংকারে একটু গুঁতায়া বাইর করার চেষ্টা কর দোস্ত ।’ সাজেশান দেয় জুয়েল ওকে । ‘মুখে কইব না যখন তখন গুতাইন্নাই লাগব । হুদাই কষ্ট পাইব ক্যান ?’
‘হুঁ ।’ সায় দেয় তাহমিদ ।
‘রক্তের চিঠিটাও কি আমি নিয়া যামু ? এভিডেন্স তো ।’
‘না । ওটা আমার কাছেই থাকুক ।’
‘মাইয়াটারে আবার বাসে বেশি জেরা করিস না । যদি আমাদের সন্দেহ ভুল হয় তাইলে কিন্তু ইজ্জত মার্ডার ।’
‘আচ্ছা ।’ তাহমিদের গলার স্বর আজ পরিবর্তিত।
দেখে সন্তুষ্ট হয় জুয়েল । ছেলে প্রিয়াংকাকে জেরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ।
কেসটা আনসলভড থেকে যাবে এই ভয়টা ছিল ওর ।
বাসে উঠে ওই ব্যাপারে প্রিয়াংকাকে খোঁচানোর কোন সুযোগই পেল না আজ তাহমিদ ।
‘অ্যাই তোর হাত কিভাবে কেটেছে ?’ সরাসরি প্রশ্ন করে ওকে ।
‘কাল রাতে মাছ কাটতে গিয়ে । কাটাকাটি পারি না তো !’ হাই চেপে বলে মেয়েটা ।
‘ওহ ।’ কি বলবে ভেবে পায় না তাহমিদ ।
‘কাল সারা রাত ঘুমাইনি রে ।’ চোখ বোজে ও । ‘আমি চোখ বন্ধ করে থাকি একটু ।’
প্রিয়াংকার চোখ খোলার অপেক্ষায় থাকে তাহমিদ ।
কিন্তু কিসের কি ! বলতে বলতেই পাঁচ মিনিটের মাঝেই ঘুম !
‘স্বাভাবিক । সারা রাত কেটেছ হাত ।’ মনে মনে বলে তাহমিদ । ‘গতকাল আমার সাহসী প্রেমিকা লাগবে বলাই উচিত হয় নাই । ’
মনটা খারাপ হয়ে যায় ওর ।
বাস তখন দাঁড়িয়ে জ্যামে । দশ মিনিটের দূরত্ব পার হতে এভাবেই লাগায় আধঘন্টা ।
আলতো করে প্রিয়াংকার ঘুমন্ত মাথাটা ঢলে পড়ে তাহমিদের কাঁধে ।
সরাতে গিয়েও সরায় না ও ।
খামের মধ্যে পাওয়া সুগন্ধটা তীব্রভাবে নাকে আসে ওর ।
ঘুমন্ত মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে আজ বড় মায়া হয় তাহমিদের ।
মুখ ঢেকে দেওয়া এক গুচ্ছ চুল সরিয়ে দেয় ও পরম মমতার সাথে ।
চলবে।।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now