বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অন্তি

"অদ্ভুতুড়ে" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আল হাদী (০ পয়েন্ট)

X খোলা জানালা,মৃদ্যু বাতাস বইছে। বাতাসে জানালার পর্দা বারবার উড়া উড়ি করছে।আজ একটু বেশিই শীত পড়ছে। চাদরটা গায়ে আর একটু ভালোভাবে জড়িয়ে নিলাম।হঠাৎ দরজায় ঠক ঠক শব্দ হলো।হুমমম,,,,এই তো অন্তির আসার সময় হয়েছে। , , অন্তির সাথে আমার ৬ বছরের রিলেশন ছিল।খুব হাসিখুশি আর মায়াবি একটা মেয়ে ছিল অন্তি।৬ বছরের কত স্মৃতি,কত হাসি,কত আনন্দ আর কিছু দুষ্টু মিষ্টি প্রেমের গল্প।অন্তির গায়ের রং কালো ছিল বলে কম কথা শোনেনি ও।কিন্তু ওর গায়ের রং নিয়ে আমার কোনো সমস্যা ছিল না।ওর দুচোখের দিকে তাকিয়ে আমি হাজারো স্বপ্ন বুনেছিলাম।ওর হাতে হাত রেখে বাকিটা জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম।ভারি মিষ্টি মেয়ে ছিল কিন্তু বড্ড অভিমানী ছিল। একদিন সকালে শুনি অন্তি আত্তহত্যা করেছে।আমার পৃথিবী যেন অন্ধকার হয়ে গেল।ওর লাশটা দেখার মতো সাহস আমার হয়নি।আজও জানা হলো না যে কেনো আমারে রেখে চলে গেল। , না,ভুল বললাম, আমার অন্তি আমারে রেখে কোথাও যায়নি।ও আত্তহত্যা করেছে বলে ওর আত্তা মুক্তি পায়নি। অন্তির আত্তাকে আমি অনুভব করি।কিন্তু কখনো ওর আত্তা আমার সামনে আসেনি।আমার জন্মদিনে এখনো ও দরজার সামনে লাল গোলাপ রেখে যায়। আমার ঘড়ি,রুমাল না পেলে অদৃশ্য ও খুজে দেয়।আজ আমার জন্মদিন।তাই আমি অপেক্ষা করছিলাম।আমি জানি ঠিক রাত ১২ টায় প্রতিবারের ন্যায় আজও অন্তি আসবে। ঠকঠক আাওয়াজে দরজা খুলে দিলাম।দরজা খুলে একগুচ্ছ লাল গোলাপ পেলাম আর সাথে পেলাম একটা ছোট্ট চিরকুট।যাতে লেখা,"ভালোবাসি" , পরদিন ভার্সিটিতে গেলে তপন দৌড়ে এল।হাপাত হাপাতে বললো,"জানিস,শুভ্র আর রুহির ব্রেকাপ হয়ে গেছে।শুভ্র একদম পাগলের মতো হয়ে গেছে।" , শুভ্রর সাথে দেখা করলে দেখি সত্যি সত্যি শুভ্র পাগলের মতো হয়ে গেছে।শুভ্র রুহির উপর ব্লাক ম্যাজিক করার সিদ্ধান্ত নেয়|আমি আর তপন অনেক বারণ করি কিন্তু আমাদের কথা শুনলো না|শুভ্র আমাকে বললো,"নিজের প্রেমিকারে তো হারাইছিস,আমার প্রেমিকার কথা আমায় ভাবতে দে।" , শুভ্রোর কথা শুনে আমি মনে মনে বললাম,"না,আমি হারাইনি।আমার অন্তি আমারই আছে"। অন্তির কথা ভাবতেই দুচোখ ঝাপসা হয়ে আসলো।তপন ওর হাতটা আমার কাধে রাখতেই চোখের জল লুকিয়ে ফেললাম। , শুভ্র,তপন আর আমি বেষ্ট ফ্রেন্ড|সেই ছোটবেলা থেকেই একসাথে বড় হয়েছি। শুভ্রর জেদের কাছে আমার আর তপনকে হার মানতে হল আর অগত্য ওর ব্লাকম্যাজিকে ওকে সঙ্গ দিতে হলো| , শুভ্র ব্লাক ম্যাজিকের উপর একটা বই জোগাড় করল।বইটা একজন তান্ত্রিকের লেখা|ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার জন্য বইতে লেখা আছে-- , উপকরণ:১টি কালো বিড়াল,১টি সাদা রুমাল,শুকনো মচমচে তুলসি পাতা,৪টা মোমবাতি, একটা কলম আর একটা আয়না। , প্রণালি:অমাবস্যা রাতে রাত ১২ টায় অন্ধকার রুমে মোমবাতি ৪টা জ্বালিয়ে বিড়ালটা কে হত্যা করতে হবে। সাদা রুমালটা বিড়ালের রক্তে ভিজাতে হবে। সাদা রুমালটা রক্তে লাল করে তাতে সূরা ফাতিহা উল্টো করে লিখতে হবে| তারপর তুলসি পাতা রুমালে বেধে রুমালটা মোমবাতির উপর ধরে আয়নায় প্রতিবিম্ব ফেলতে হবে এবং যার উপর ব্লাক ম্যাজিক করা হবে তার নাম ১০১ বার বলতে হবে| , শুভ্রকে বললাম অমাবস্যা তো কাল আজ থাক|ও বললো না আজই করবো|আবারও ওর জেদের কাছে হেরে গেলাম|সব উপকরণ ওই জোগাড় করলো|রাত ১১ টার দিকে প্রচণ্ড ঝড় আর বৃষ্টি শুরু হলো|এত ঝড় বৃষ্টিতে মোমবাতি শিখা বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছে।রুমের মধ্যে এক থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হল।১২ টা বাজলে সব কাজ শুভ্র নিজেই করলো।বিড়ালটাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করার সময় বিড়ালটা একটা অদ্ভুত আওয়াজ করল যা শুনে আমাদের হৃদপিণ্ড কেঁপে গেল। |রুমালটা রক্তে ভিজিয়ে তাতে সুরা ফাতিহা উল্টো করে লিখে শেষে দেখা গেল তুলসী পাতা নাই|শুভ্র তপনকে ছাদ থেকে তুলসি পাতা আনতে বলে|তপন তুলসি পাতা আনলে আমি বললাম এখানে লেখা যে শুকনো মচমচে তুলসি পাতা লাগবে|এই পাতা গুলো তো ভেজা আর কাঁচা|শুভ্র ধমক দিয়ে সেই পাতা দিয়েই কাজ সম্পন্ন করলো|যখন রুহির নাম ধরে শুভ্র ডাকতে লাগলো তখন ঝড়ের বেগ আরো বেড়ে গেল।শুভ্র বললো যে ওর খুব খারাপ লাগছে। তারপর আমরা সবাই ঘুমাতে গেলাম| , কিছুতেই আমার ঘুম আসছিল না।শুধু অন্তির কথা মনে পড়ছিল।অন্তির কথা ভাবতে ভাবতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়লাম। , , পরদিন সকাল থেকেই শুভ্র রক্তবমি করা শুরু করলো|ও চিৎকার করছে আর বলছে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে|দুপুরের দিকে শুভ্রর অবস্থা আরও খারাপ হতে লাগলো|শরীর থেকে মাংস খসে খসে পড়তে লাগলো|তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলো|তপন ব্লাক ম্যাজিকের বইটাতে সমাধান খুজতে লাগলো|কিন্তু পেলো না|হঠাৎ বইয়ের শেষে লেখকের মানে তান্ত্রিকের ঠিকানা লেখা দেখে আমরা আর দেরি না করে শুভ্রকে তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে গেলাম। , তান্ত্রিক আমাদের দেখে বললেন তোরা যা ভুল করছিস তার কোনো মুক্তির পথ নাই|অনেক অনুরোধের পর বললেন একটা উপায় চেষ্টা করে দেখতে পারি।তোদের কারো জীবন বাজি রাখতে হবে।আজ অমাবস্যায় তোদের যেকোনো একজন কবর থেকে একটা মরার খুলি আনবি|মরাটা যেন ঠিক ১ সপ্তাহ আগের হয়।তবে মনে রাখিস ভুল করেও পেছনে তাকাবি না। পেছনে তাকালে তুই তো মরবিই সাথে তোর বন্ধুকেও আর বাচাতে পারবিনা। , আমিই গেলাম মরার খুলি আনতে| অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে হাতে একটা টর্চ লাইট।থমথমে পরিবেশ।বারবার গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাচ্ছে।যাওয়ার সময় অনেক রকম শব্দ পেলাম|বাচ্চার কান্নার আওয়াজ বার বার কানে আসছে। রাস্তার দুধারে দেখি সারি সারি লাশ ফাসিতে ঝুলছে।লাশগুলো যেন আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে।কোনো দিকে খেয়াল না করে হাটতে লাগলাম।হঠাৎ দেখি আমার সাথে সাথে একটা কালো বিড়াল হাটছে।বিড়ালটার পায়ের ছাপ রক্তের ছাপ হয়ে যাচ্ছে।ভয়ে গা ছমছম করতে লাগলো।তান্ত্রিক বারবার বলে দিয়াছিল যে পথে অনেক রকম বিপদ হতে পারে।মনে রাখবি তোর জীবন বাজি রেখে তোর বন্ধুর জীবন বাচাতে হবে। সব বাধা পেরিয়ে কবর খুড়ে মরার খুলি নিয়ে যেই দাড়িয়েছি দেখি সামনে একটা বিভৎস মানুষ দাড়িয়ে|তার গা থেকে মাংস গলে গলে নিচে পড়ছে| আমার সমস্ত শরীর শীতল হয়ে গেছে|পা যেন তুলতেই পারছিনা|এত ভয়ংকর কেউ হতে পারে।।।।।চোখ থেকে যেন আগুন ছিটকে বের হচ্ছে।বাজখাই আওয়াজে হাসতে লাগলো আর বলতে লাগলো,"পারবি না,তোর বন্ধুকে বাঁচাতে পারবি না।"শুভ্রকে বাঁচাতেই হবে ভেবে দৌড় দিলাম।পেছন থেকে নানান রকম আওয়াজ আসতে লাগলো। শুনলাম আমার প্রেমিকা অন্তি বলছে,"রাতুল আমাকে বাঁচাও,ওরা আমাকে মেরে ফেলছে"।অন্তির করুণ ডাক আর বাঁচার আকুতি আমাকে দাড়িয়ে দিল।এ ডাক উপেক্ষা করার ক্ষমতা আমার নাই। পেছনে তাকিয়ে দেখি কোথায় অন্তি?পেছনে তো কেউ নাই।সামনে ঘুরতেই একটা বিভৎস নারীমূর্তি সামনে আসলো,আমি আর সহ্য করতে পারলাম না। জ্ঞান হারালাম। , জ্ঞান ফিরতেই দেখি যে আমি শুভ্রদের ঘরে শুয়ে আছি আর বাইরে থেকে অনেকের কান্নার আওয়াজ আসছে। কান্নার আওয়াজ পেয়ে বাইরে এসে দেখি অনেক মানুষের ভীড়।ভীড় ঠেলে সামনে এগিয়ে দেখি শুভ্রের লাশ কাফনের কাপড়ে মোড়া। , পরে তপনের কাছ থেকে জানতে পারলাম যে আমার আসতে দেরী হচ্ছে দেখে তান্ত্রিক আর তপন আমাকে খুজতে যায়। রাস্তায় আমাকে অঙ্গান অবস্থায় দেখে ওরা আমাকে নিয়ে আসে।কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে।শুভ্রকে আর বাঁচানো যায়নি।বললাম আমার হাতে কোনো মাথার খুলি ছিল?তপন না বলল। , পরে তান্ত্রিক আমাকে বললো যে তোমার প্রেমিকার আত্তাই তোমাকে বাঁচিয়েছে।নইলে তুমিও মারা যেতে।ও তোমাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে চিরদিনের জন্য বিনাশ হয়ে গেছে। , বুকের ভেতর যেন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।আমি এমন এক অভাগা বন্ধু আর অভাগা প্রেমিক যে নিজের জীবন বাজি রেখেও প্রিয় ২টা মানুষকে চিরতরে হারালাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভানগড় রহস্য (অন্তিম পর্ব)
→ জিজেসদের নিয়ে সারার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন[তৃতীয় ও অন্তিম পর্ব]
→ খুন? অন্তিম পর্ব
→ রোম্যান্টিক ভালোবাসা--(অন্তিমপর্ব)
→ ভালোবাসার নীলিমা- ২য় এবং (অন্তিম পর্ব)
→ ভয়ংকর রাত অন্তিম পর্ব
→ হিমুর সাথে প্রথম সাক্ষাৎ-(অন্তিম)
→ যাদুকরী রাজকুমারীর গল্প-(অন্তিম)
→ ফাহমিদা আন্টির ২ মেয়ে (অন্তিম)
→ সকলের পিতা আদম (৬)অন্তিম পর্ব
→ কারাজানের কালো ঘোড়া—(পর্ব ৯ ও অন্তিম পর্ব )

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now