বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-কতক্ষন আর রাত জাগবে?
-যতক্ষন না ঘুম আসবে!
-কেনো!
-এমনি!তুমি রাত জাগছো কেনো?
-তুমি জাগো বলে!
-পাগলটা ঘুমাও!
-এখন তো ঘুম চাইলে ও আসবে না!
-কেনো!
-চা খাচ্ছি!
-এতে রাতে কেউ আবার চা খায়!
-পাগলীটাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য যে খেতে হচ্ছে!
-হিহিহি! পাগল একটা!
-সে টা ও তোমার!
.
এটা নিত্যদিনের কাহিনী !
তাদের পাগলামী এভাবেই বেড়ে উঠে!
তারা দুজন দুজনকে ভালবাসে তবে একটু অন্যরকম ভাবে তাদের পরিচয়!
শাহিদ মেয়েটিকে দেখেছিল সেই বাস স্টপে ,
তখন থেকে মেয়েটিকে ফলো করা শুরু হয় তার!
খুব ভাল স্টুডেন্ট শাহিদ ,সব কিছুতেই গোল্ডেন মার্ক ,মেয়ে নাম শুনলেই কেমন যেন করতো
কিন্তু এখন শাহিদ ও সেই ঘাটের বাসিন্ধা!খুব ভালবাসে হয়তো মেয়েটিকে!
.
প্রতিদিন বাসস্টপে শাহিদ বসে থাকতো মেয়েটিকে দেখার জন্য,
কখনো কখনো না দেখা হলে সেখানেই অনেক সময় বসে থাকত,
খুব ভালবেসে ফেলেছিল সে,আর সেটা অনূভুব ও করত সে!
সারাদিন শাহিদের ভাবনায় সেই বাস স্ট্রপের মেয়েটি!
মেয়েটির নাম ও যানে আজ অব্ধি, ছয় মাস চলে যায় শুধু মেয়েটিকে ফলোই করতো!
কখনো কখনো মেয়েটির কলেজ পর্যন্ত চলে যেত সে যদিও তার ভার্সিটী মেয়েটির কলেজের দিক দিয়ে যাওয়া যায় না!
তাই আবার পিছু ঘুরে আসতে হয়!
মেয়েটি তার দিক একটুও তাকাতো না,আর তাকালে তো এই ছয়টা মাসে অনেক কিছু হতে পারত!
শাহিদ ইদানিং কম যায় সেখানে,
আর কম যাবেই না কেন সে যে এখন মেয়েটির নেশায় আসক্ত!
আসক্ত কমাতে চাচ্ছে সে,
.
ছয়টা মাসে একটু পাত্তা পেলো না শাহিদ,আর পাত্তা পাবেই বা কি করে সে তো আর বখাটেদের মতো সোজাসোজি বলতে সাহস পাবে না!
নিত্যদিন এভাবে চলতে চলতে একদিন মেয়েটির তার সামনে এসে বসে!
শাহিদ খুব ভয় পেয়েছিল সেদিন, কারন তার এমন অভিজ্ঞতা নেই!
ভয়ে পকেট থেকে মোবাইল বের করতে যাচ্ছিল হঠাৎ মেয়েটি বলে উঠে
-পকেটেই মানাচ্ছে ,হাতে নিলে চড় ও খেতে পারেন!(মেয়েটি)
(আশেপাশে তাকিয়ে বুঝলো তাকেই বলছে)
-জ্বী আআআআমাকে কিছু বলছেন!(শাহিদ)
-আআআআআ করেন কেন?
-না মানে আমি কি কিছু ভুল করেছি?
-হ্যা করেছেন তো!
-কি করেছি?
-আমাকে ফলো করেন কেন?
-কে আপনাকে ফলো করে!
-আমি যেই হাদার সাথে কথা বলছি?
-আমি শাহিদ ,হাদা নই!
-আপনার নাম যাই হোক হাদা তে ভাল যায়!
-অপমান করা হচ্ছে!
-সে যাই ভাবেন,আমাকে ফলো করেন কেন?
-আপনি সবসময় আমার সামনে থাকেন বলে আপনার এমনটা মনে হচ্ছে!
-এবার সত্যি ই চড় খাবেন!ভাল স্টুডেন্ট হয়ে মেয়েদের পিছে ঘুরেন কেন!
-কে বল্লো আমি ভাল স্টুডেন্ট !
-আমি আপনার সব কিছুই জানি!
-জানেন তবে জিজ্ঞাসা করেন কেনো!
-আরে ভাই!তো আমাকে ফলো করেন কেনো?(রেগে)
-"Don't called me Bhaiya" (উচু সূরে)
-হাহাহা !আচ্ছা বলবোনা!
-কষ্ট হয় শুনতে(হেসে)
-তবে কেনো বলবোনা?
-আমার অনেক বোন আছে আর বোন চাই না তবে গফ একটা চাই!
-লুচ্চামী সবার মাঝে আছে আপনার মত ভদ্র কে আজ দেখে বুঝা গেল!(হিহিহি)
এই বলে মেয়েটি চলে যায়,আর শাহিদ ও বোকার মত বসে আছে!
এমন কি বল্লো যে ,মেয়েটি লুচ্চা বলে চলে গেল!
তবে কি রিলেশনে যাবে না!
শাহিদ বোকার মত মেয়েটির দিক তাকালো,
মেয়েটিও তার দিক তাকিয়ে আছে আর খুব হাসছিল!
এবার সে কনফিউজে পরে যায় ,
তবে এতদিন মেয়ে ও দেখতো ফলো করছি,আর আমার সব জানে কিভাবে?
.
সেদিন আর ভার্সিটী যাওয়া হল না তাই বাসায় চলে আসে শাহিদ!
মেয়েটি শাহিদের চিন্তা বাড়িয়ে দিল , সে অনেক চিন্তা করে একটা চিঠি লিখেছিল আর সেটা আজ যেভাবেই হোক তাকে দিতে হবে!
.
তাই পরদিন তাড়াতাড়ি বাস স্ট্রপে যায় ,কিন্তু মেয়েটি এখনো আসছে না প্রতিদিন তো তার আগে চলে আসে!
প্রায় দুই ঘন্টা পর আসে মেয়েটি!
.
মেয়েটিকে দেখে হার্ট বিট বের হয়ে যাবে এমন মনে হচ্ছিল শাহিদের তবু ও সাহস করে চিঠিটা মেয়েটার পায়ের সামনে ফেলে একটা বাসে তাড়াতাড়ি উঠে চলে যায়!
চড় খাবার ভয়ে!
মেয়েটি ও হাসছিল তার কাহিনী দেখে!
মেয়েটি পায়ের নিচ থেকে চিঠিটি তুলে ব্যাগে রেখে দিল,
শাহিদ এটা দেখেতো মহা খুশী!
কোন ভাবে শাহিদের সেদিন গেলো ,
পরদিন আবার সেই বাস স্টপে এসে শাহিদ মেয়েটিকে দেখতে পেলো!
মেয়েটি রাগী চোখে তার দিক তাকিয়ে ছিল,
সে ভয়ে অন্যদিক তাকিয়ে ছিল হঠাৎ মেয়েটি তার সামনে আসে,
সে দৌড় দিবে ভেবেছিল কিন্তু তার আগেই মেয়েটি তার হাত ধরে ফেলে
-কই যাও!(মেয়েটি)
-জ্বী মাআআআআনে একটু টয়লেট এ যেতে হতো!
(ভয়ে কি বলতে কি বলে দিয়েছে)
-চিঠি দিয়েছো কেনো?(মেয়েটি)
-সরি(শাহিদ)
-সরি কেনো?
-চিঠি দিয়েছি বলে!
-আমি তোমাকে চিঠি দেয়াতে কিছু বলেছি?
-না বলেন নি!(নিম্ন সূরে বলে পরে সে বুঝতে পারে মেয়েটি কি বলেছিল)
-তার মানে(শাহিদ)
-হ্যা তার মানে!
-আপনিও !
-না আমি এসব পারব না!
-তবে!
-তবে কেউ শিখালে তাকে বারন ও করবো না!
-(শাহিদ মহা খুশি)
-হাতটা ভাল ভাবে ধরো!কখনো ছাড়বেনা!
-আচ্ছা!
-কি আচ্ছা আপনাকে কখন ছাড়বোনা!
-আমি কি তোমার আন্টি হই যে আপনি বলছো!
-নিশ্চুপ
-প্রপোজ করো সবার সামনে!
-আআআমি!
-না অন্য কেউ এসে করবে!
-কিভাবে করে ?
-চিঠিতে তো ভালভাবেই প্রপোজ করেছ!
-সেটাতে ও তো হাত কেপেছে!
-হয়েছে হয়েছে হাদা প্রপোজ করো!
-কি বলে করবো?
-"ভালবাসি তোমায়" এটা বলে করো
-পাগলী আমি ও ভালবাসি তোমায়!
- দুষ্টটা আমাকে দিয়ে প্রোপোজ করানো হয়েছে!
-আমি ও তো সেই চিঠিতেই বলেছি!
-হয়েছে হয়েছে তোমার কাজে তুমি যাও
-আজ যাবো না শুধু তোমায় দেখব!
-আমার পরীক্ষা আছে পাগল!
-তবে তোমার নাম্বারটা তো দিয়ে যাও!
অতঃপর সে নাম্বার দিয়ে যায় আর বাসে উঠার আগে নামটা বলেছিল
-আমি ইশিতা!
অতঃপর তাদের সম্পর্ক আগাতে থাকে ,
কখন যেনো পাচটা বছর চলে যায় তাদের রিলেশনের!
দুজনই দুজনের জন্য রাত জাগতো ,
আর সারা রাত ফোনে কথা হতো!
এ যেন অন্য রকম বাস স্টান্ডের প্রেম ছিল তাদের!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now