বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছায়াশহর
লেখক : রাকিব হাসান
পর্ব ১০
এক পা পিছোলাম। নরম মাটিতে
পা ডেবে যাচ্ছে আমার। বাতাস
বেশ ভারী, গাছপালাগুলো স্থির,
কোনওটা একটুও নড়ছে না। মৃতের
জগতে রয়েছি আমরা। মৃতেরা
ঘিরে রেখেছে আমাদের। বরফের
মতো জমে গেছে আমার শরীর ;
অন্ধকার যেন পাক খেয়ে ঘুরছে
আমার চারপাশে। সামনের
কবরফলকগুলো যেন বনবন করে ঘুরছে
আমার চোখের সামনে। " হ্যারি!",
আমি আবার ডাকলাম। খুবই মৃদু স্বরে। "
সত্যিই কি তুমি মারা গেছ?" যেন
বহুদূর থেকে ভেসে এসে আমার
কানে এসে বাজল আমার নিজের
কথাগুলোই।
" এ জন্যেই এখানে আসতে নিষেধ
করেছিলাম", রাতের ভ্যাপসা
বাতাসে যেন ঢেউয়ের মতো
ভেসে এল হ্যারির কন্ঠ। " এত
তাড়াতাড়ি তোমাদের জানতে
দিতে চাইনি।" " কিন্তু....
কিভাবে....মানে. ...আমি....বুঝতে
পারছি না...." বলতে বলতে টর্চের
আলোয় দূরে তাকালাম। দেখলাম,
রাস্তার কাছে চলে গেছে সুজা।
এখনো কিটুকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। "
সুজা!", ফিসফিস করে ডাকতে
গেলাম সুজাকে। জোরে চিৎকার
করতে ভরসা হলো না আমার। যেন
ভয়ই আমার গলা টিপে ধরেছে।
পেটের ভেতর খামচে ধরা অনুভূতি।
" কুকুররা সব বুঝতে পারে", নীচু,
ভোঁতা স্বরে বলল হ্যারি, "
জীবন্মৃতদের চিনতে পারে। তাই
ওদেরকে আগে শেষ করে ফেলা হয়।
ওরা চিনতে পারে বলেই।" " তার
মানে....তার মানে....কিটু মারা
গেছে?", অতি কষ্টে টেনে টেনে
কথাগুলো উচ্চারণ করতে পারলাম
আমি। " হ্যাঁ", হিসহিস করে উঠল
হ্যারির কণ্ঠস্বর, " কারোর সঙ্গে কুকুর
থাকলে প্রথমেই কুকুরগুলোকে মেরে
ফেলা হয়।" " না!", চিৎকার দিয়ে
আরেক পা পিছিয়ে গেলাম আমি।
নীচু একটা স্তম্ভের গোড়ায় পা
বেধে আর একটু হলেই পড়ে
যাচ্ছিলাম আমি। কোনওমতে
নিজেকে সামলে ওখান থেকে
সরে গেলাম।
" এখনই এসব দেখে ফেলা তোমার
উচিত হয়নি, রেজা", হ্যারির চাপা
গলা আবার শোনা গেল। চেহারায়
কোনও ভাবান্তর নেই ওর, শুধু চোখের
তারায় বিষন্নতার ছোঁয়া। " এত
তাড়াতাড়ি সত্যিটা জানা উচিত
হয়নি তোমার; অন্তত আরও কয়েকটা
সপ্তাহ যাওয়া দরকার ছিল। আমিই
তোমার ঘরে থেকে তোমার ওপর
নজর রাখতাম। আমার কাজ ছিল,
সময়ের আগে প্রকৃত সত্যটা জানার
থেকে তোমাদের ঠেকিয়ে
রাখা। " আমার দিকে আরেক পা
এগোল হ্যারি। লাল হয়ে জ্বলে উঠল
ওর দু চোখ। ওর চোখ লাল আলোর সেই
রশ্মি যেন বিদ্ধ হতে লাগল আমার
চোখে।
" সেদিন জানলায় দাঁড়িয়ে কি
তুমিই আমায় দেখছিলে?", আমি
চেঁচিয়ে জানতে চাইলাম, " আমার
ঘরের জানলা থেকে?"
আবার মাথা ঝাঁকাল ও। বলল, " হ্যাঁ,
আমি তোমাদের বাড়িতেই থাকি।
তোমার ঘরে থেকে তোমার ওপর
রাতদিন নজর রাখি আমিই। " বলতে
বলতে আরও এক পা এগোল হ্যারি।
ঠাণ্ডা মার্বেল পাথরের স্তম্ভটার
কাছে নিয়ে যেতে চাইল আমায়। "
নজর রাখা আমার কাজ।"
হ্যারির জ্বলন্ত চোখের ওপর থেকে
চোখ সরিয়ে নিতে চাইলাম আমি।
চিৎকার করে ডাকতে চাইলাম
সুজাকে; কিন্তু পারলাম না। অনেক
দূরে চলে গেছে ও। আমি দাঁড়িয়ে
আছি পাথরের মূর্তির মতো। আতঙ্কে
অবশ হয়ে গেছে আমার সারা শরীর।
" তাজা রক্ত চাই আমাদের", চাপা
ভোঁতা স্বরে বলে উঠল হ্যারি। "
কি?", চেঁচিয়ে বললাম আমি, " কি
বলছ?"
" তাজা রক্ত ছাড়া আমরা থাকতে
পারি না, তাই তোমাদের মতো
জ্যান্ত মানুষদের দরকার হয়। কেন
তোমাদের এখানে ডেকে আনা
হয়েছে, বুঝতে পারছ তো? বুঝতে
পারছ এখন যে কেন তোমাদের
খাতির করে ডেকে এনে জায়গা
দেওয়া হয়েছে পুরনো বাড়িটায়?
ওটা মৃত্যুপ্রাসাদ, রেজা।"
হ্যারির কাঁধের ওপর দিয়ে
তাকালাম টর্চের আলোকরশ্মি
যেখানে অন্ধকারের গর্ভে
মিলিয়ে গেছে, সেখানে। সুজা
আসছে। এগোচ্ছে আমাদের দিকে।
' পালা, সুজা পালা' ,মনে মনে
বললাম, 'শীগগির এখান থেকে
পালা। নইলে তুইও মরবি।'
কথাগুলো শুধু ভাবছি, চিৎকার করে
বলতে পারছি না কেন?
আরও জ্বলন্ত হয়ে উঠেছে হ্যারির
চোখ। আমার ঠিক সামনে এসে
দাঁড়িয়েছে। শক্ত, দৃঢ়বদ্ধ চোয়াল।
" হ্যারি, কি করতে চাও তুমি?",
মার্বেল পাথরের স্তম্ভে পিঠ
ঠেকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম আমি। "
তোমায় শাস্তি পেতে হবে", ওর
হিসহিস করে বলা কথাগুলো
চাবুকের মতো যেন আছড়ে পড়ল
আমার গায়ে। মাটি থেকে
নিজেকে ক্রমশ শূন্যে তুলছে হ্যারি,
আমার কাছে ভেসে আসার জন্যে।
দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার। নড়াচড়া
করতে পারছি না। শ্বাস নিতে
পারছি না। চিৎকার করে ডাকতে
চাইলাম সুজাকে, পারলাম না।
আরেকটু ওপরে উঠল হ্যারি।
সাঁতারের ভঙ্গিতে মাটির সঙ্গে
সমান্তরাল করল নিজের দেহটাকে।
উপুড় করে ফেলল নিজেকে, হাওয়ায়
ভাসমান অবস্থায়। ভেসে এল আমার
মাথার ওপর। কোন অলৌকিক
শক্তিবলে দম নিতে পারছি না।
শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসছে আমার। আমি
শেষ, ভাবলাম।
খুব তাড়াতাড়ি হ্যারিদের দলে
চলে যাচ্ছি আমিও।
(চলবে....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now