বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব ৯& শেষ
পরের দিন বিকালে কফির দোকানে বসে আছি তিনজন আমি, ওসি চাচ্চু আর অনিশা।
ওসি-নীল কি লাগিয়ে রেখেছো এসব।কাল রাতে কি করলে এটা।
অনিশা-ও আবার কি করেছে বাবা।
ওসি-কি করে নাই সেটা বলো।এরপর ওসি ধির কন্ঠে অনিশাকে সব বললো।
অনিশা-নীল তুমি এসব কি করছো?
নীল-আমি যা করছি ভালোই তো করছি।কেউ তো জানে না কে করছে।তাড়াছা পুলিশ যা করতে পারে নি আমি তা করেছি।
ওসি-এতো জনকে কিভাবে মারলে।
নীল-কাল রাতে আসার পথে সব ঘটে।হাসপাতালে আমি রাকিবের সাথে দেখা করতে যাই।রাকিব আসারর পথে কল করে অরিককে নিয়ে যেতে।সে রাকিবের সাথে।যেই ভাবা সেই কাজ।ফিরার পথে আমার ঘড়িটা মিসিং লাগলো।খুজতে খুজতে মর্গের সামনে চলে আসি।হঠাৎ ভিতরে নজরর যায়। দুইজন ডাক্তার আর সাথে কয়েকজন সহকারী নার্স।লাশ ঘরে তাদের কি কাজ।উঁকি মেরে যা দেখি চোখ কপালে উঠে।সদ্য মৃত যাওয়া একজন লোকের দেহের ভিন্ন অঙ্গ খুলা হচ্ছে।কাজ শেষের পর তারা বের হবে আমি লুকিয়ে পড়ি অরিককে কল দিয়ে চলে যেতে বলি আমার কাজ আছে বলে।ওদের পিছু নিই।ফ্রিজারে রাখা হয়।সবার শেষে বের হয় ডক্টর আর সহকারী গুলো।ফ্রিজার থেকে অঙ্গ নিয়ে সবাই একটা গাড়িতে উঠে বসে।আমিও পিছু নিই।পিছু নিতে নিতে একটা ছোট খাটো ফ্যাক্টোরির পিছনে আসে।সেখানে অন্য কারো হাতে দেয়।সেখানে বাহিরে খেয়াল করি কিছু এসিড রাখা।খোলা পুরা।বাঙ্গালি বলে কথা এসবের প্রতি খেয়াল নেই।ড্রামের অর্ধেকে ছিলো এসিড।সহজেই বহন করে গাড়ি সমনে আনি।খুব সাবধানে গাড়ির উপর উঠাই নিজেও উঠি।কাজ শেষে সবাই গাড়িতে ঢুকবে এই সময় সব এসিড ওদের উপর ঢেলে দিই।সেকেন্ডের মাঝে তিক্ষণ এক চিৎকার সবাই গলে যায়।
ওসি-হুম আমারও প্রমাণ আছে যে তারা রুগীদের বিভিন্ন অঙ্গ বের করে নেয়।হাসপাতালের মালিক তিনজন চলো ওদের সাথে দেখা করে আসি।
একটু পর ওনাদের সাথে দেখা হয়।
ওসি-আরে তোমরা ওয়েল্সের বন্ধু না তোমার?
রায়হান-কিরে তুই কোনো হেল্প লাগবে।
এরপর ওসি সব খুলে বললো বলে নিই আমি মেরেছি শুধু বলেছে অঙ্গ চুরি করছে।এরপর আমাকে পরিচয় করাতে নিবে আমি থামিয়ে বলি।
নীল-আমি আয়মান।
ওসি ব্যাপারটা লক্ষ্য করে আমি সরে পড়ি রুম থেকে।মাথা ব্যাথা করছে।চোখ বন্ধ করতেই একটা সাদা কালো ছবি ভেসে উঠলো তিনজন লোক আর বাবা।চোখ আবার বন্ধ বন্ধ করতে তিনটা গুলি একটা আমার হাতে লেগেছে দেখতে পারি।ধিরে ধিরে সাদা কালো ছবি গুলো রঙ্গিন হলো মনে পড়ে গেলো অতীত সেদিন রাতের ঘটনা ঘটনার পিছনের কারণ।
খুব দ্রুত ওসিকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসি।
ওসি-নীল তোমার কি হলো হঠাৎ এমন করছো কেনো?
নীল-পরে বলি পরে বলি
ওসি-কেনো নিজের পরিচয় দেও নি ওরা তো খুশি হতো
নীল-আরে চাচা ওরা তিনজনেই সে রাতে বাবা-মাকে গুলি করে। আমাকেও করছিলো হাতে লাগে।আমি পালিয়ে আসার সময় এক্সিডেন্ট হই।
ওসি-কি বলো ফরেন্সিক রিপোর্ট তো বলে আগুনে পুড়ে মারা গেছে সেখানে নাকি কোনো ক্ষতের চিহ্ননেই পাওয়া যায় নি।
নীল-ভুল রিপোর্ট দিয়েছে।
ওসি-তাহলে আমি কেসটা আবার চালু করি।
নীল-করেন।
বাসায় এসে সাওয়ার নিলাম বের হতেই অরিক ধরলো রাতে কই ছিলি।
একটু কাজ ছিলো।
-ওহ আজ কাল দেখি কাজ বেশি কই যাস।
-নিরব জায়গায়
-কেনো?
-আমি জেনে গেছিরে আমি কে।এখন কষ্ট হচ্ছে খুচ্ছি পরিবারকে
-তোর আসল নাম কি?
-নীল।
-তোর পরিবারকে কিভাবে খুজবি আমি হেল্প করি?
-লাগবে নারে আমি পারবো আর একদিন পরেই পাবো চিন্তা করিস না।
অন্যদিকে -ওই তিনজন আলোচলা করছে আয়মানকে নিয়ে।রায়হান আরমানদের কথা সন্দেহ হচ্ছে ছেলেটাকে নিয়ে। শেষ পর্যন্ত লোক লাগানো হলো।রাত এগারোটা আমি বের হলাম প্রতিশোধ নিতে।বাইকটা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।তখনেই পিছনে গাড়ি দেখলাম কালো গাড়ি আমায় ফলো করছে।হঠাৎ ধাক্কা দিতে শুরু করলো। আমি গতি বাড়িয়ে ঘুরিয়ে চিপা রাস্তা দিয়ে গিয়ে পিছু ছাড়ালাম।বাইকটা বন্ধ করে লুকিয়ে পড়লাম।হঠাৎ মনে হলো আমি গাড়িটা যখন ধাক্কা দেয় ভিতরে কোনো মেয়ে ছিলো।ভালো করে মনে করার চেষ্টা করলাম।মনে হলো ওটা অনিশা।দ্রুত বাইটা নিয়ে আবারর গাড়িটার পিছু নিলাম।নিতে নিতে একটা পুরান বাড়ি আসলাম ব্রিজের কাছে।ভিতরে ঢুকলাম পুরা অন্ধকার।হঠাৎ লাইট জ্বালানো হলো।অনিশার মাথা বন্দুক ধরে রেখেছে একটা।আরেকজনে আমার মাথায় আর আরেকজন রাশি দিয়ে হাত পা বেধে নিলো।
আরমান-তো নীল ওয়েল্স বেচে গেলে সেদিন।সেদিন মরলে ভালো হতো আজ আরো দুটো লোক মরবে।
ওসিকেও একটু পর দেখতে পেলাম।
অনিশা-নীল আই লাভ ইউ
ঠুস করে গুলি করে দিলো অনিশা আর ওসির মাথায় কিছু বুঝে উঠার আগেই।
অারমান-সময় নষ্ট করা ঠিক না একেও উড়িয়ে দিই।
রায়হান-এভাবে নয়।ওকে ডুবিয়ে মারবো।পাথর বান্দো সাথে পানিতে ডুবিয়ে মারবো লাশও কেউ পাবে না আর।
আমি তখন শুধু অনিশার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।নদীতে ফেলার আগে ঘড়িটা টান খেয়ে ব্রিজে পড়ে তারপর আর কিছু মনে নেই।
যখন দম বন্ধ হয়ে মরে যাচ্ছি তখন একটা কথা কানে আসে প্রতিশোধ নিতে হবে।
--------------;বর্তমানে-------
অরিক-এনপর কি হয়?
নীল-এরপর ব্রিজে ভাঙ্গা ঘড়টি পেয়ে পছন্দ হয় নিয়ে যায় ঠিক করতে।মরার পর না পারছিলাম মৃত্যু পরীতে যেতে না পৃথিবীতে না আত্মা হয়ে প্রতিশোধ নিতে।ফেসে যাই।পড়ে ঘড়িটার সাহায্যে পৃথিবীতে আসতে পারি অরিকের দেহে।প্রতিশোধ নিয়েই আমি মৃত্যুপুরীতে আমার অনিশা আর পরিবারের কাছে যেতে পারবো।
রকিব-সেটা আমি দেখবো নীল আমি কেসটা শেষ করবো প্রমিজ।
নীল-আমি মারতে চাই নিজ হাতে আমাকে যেতে হবে।
তান্ত্রিক-তুমি যেতে পারবে না এই দাগটা পার করতে।
নীল-হাসালেন।
হঠাৎ রাকিবের কাছে কল আসলো। মারা গেছে সরই লোকটা বাকি থাকা একজন।পুরো শরীরে কাচ।এমন কোনো জায়গা নেই কাচ নেই।
নীল একটা শান্তির হাসি দিলো।
অরিক-তুই কিভাবে?
নীল-আমি নীল নই নীল সেদিন যে আত্মাটাকে মুক্তি দেয় সেটা আমি।নীল এতোটা বোকা নয়।আসি যাচ্ছি।ধুয়া হয়ে গেলো।হঠাৎ আবার বাহির থেকে শব্দ আসলো।
নীল-বলেছিলাম মারবো নিজ হাতে মেরেছি।
আমার লাশটা ব্রিজের মাঝ বরারবর। জানাযা দিও অরিক আলবিদা।
এনপরের ঘটনা খুব ছোট লাশ তুলা হলো আর নীল মুক্তি পায়।
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now