বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
.
অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম কিছুদিন গ্রামে কাটিয়ে আসবো। আমার বেশিরভাগ পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত কাজে লাগাতে পারিনা ৷ কিন্তু এটা কেমন করে জানি লেগে গেলো ৷ রানা অফিস থেকে ছুটি পেয়ে গেলো, আর আমরা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম বাসে করে৷ রাত ২ টায় আমরা পৌঁছালাম গ্রামে৷
.
.
বাসটা চলে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা অন্ধকারে নিমজ্জিত হলাম ৷ এখান থেকে তিন কিলোমিটার দুরে আমাদের গ্রাম। ভ্যানগাড়ি অথবা রিক্সায় যেতে হবে ৷ আশেপাশের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই আর যেখানে রিক্সা থাকার কথা সেই জায়গাটা ফাঁকা ৷ পাকা রাস্তার দক্ষিন দিক থেকে নেমে গেছে আমাদের গ্রামের রাস্তা ৷ তাই দুজন মিলে ঠিক করলাম বাকি রাস্তাটা হেঁটে গল্প করতে করতে যাবো৷ সুনসান রাস্তা দিয়ে দুজন হেটে চলেছি ৷ দুরে কোথায় যেন ঝিঁ ঝিঁ পোকা ডাকছে ৷ গা ছমছমে পরিবেশ তারপরও দুজন হেটে চলেছি ৷ আমাদের গ্রামে যেতে দুইটা বিশেষ জায়গা পার হতে হয় যেগুলো গ্রামের মানুষদের ভাষায় ভূতের আবাসস্থল ৷ এই অন্ধকার রাতে ভূত প্রেতদের কথা খুব বেশিই মনে পড়ছিলো ৷ তাই রানার হাত শক্ত করে ধরে হাটছিলাম ৷ রানা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বললো:
--ভয় পেয়োনা ৷ ভূত প্রেত বলতে কিছুই নেই ৷ বিংশ শতাব্দীর যুগে এগুলো হাস্যকর মনে হয় ৷"
.
.
তবুও আমার কেমন যেনো ভয় ভয় লাগছিলো ৷ কিছুদূর যেতেই আমরা একটা বাড়ি দেখতে পেলাম ৷ বাড়ির সামনে আলো জ্বলছিলো ৷ ভয়টা একটু কমলো আমার ৷ রানাকে বললাম,
--চলোনা ঐ বাড়িটায় যাই ৷ বাড়ির লোকদের বলে যদি রাতটা ওখানে থাকা যায়, তাহলে খুব ভালো হবে ৷ এই অন্ধকারে হাটতে আমার খুব ভয় লাগছে ৷"
.
.
আমার কথায় রানা রাজি হয়ে গেলো ৷ আমরা বাড়িটার ভেতরে ঢুকলাম ৷ ঢুকে দেখি একজন মহিলা কি যেন করছে ৷ আমাদের দেখে জিজ্ঞেস করল,
--কি চাই আপনাদের ?"
রানা বলল:
--আমরা শহর থেকে এসেছি ৷ অনেক রাত হয়ে গেছে কোনো গাড়ি পাচ্ছিলাম তাই হেটে যাচ্ছিলাম, আপনার বাড়িটা দেখে ভাবলাম যদি বাকি রাতটুকু এখানে কাটাতে পারি তাহলে খুব উপকার হতো ৷ সকালেই আমরা চলে যাব।"
.
.
আমাদের কথা শুনে মহিলাটি রাজি হয়ে গেলো ৷ আমাদের থাকার জন্য একটা রুম দেখিয়ে দিলো ৷ কিন্তু মহিলাটির মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম না ৷ মুখটা ঘোমটা দিয়ে ঢাকা ছিলো ৷ আমার কাছে কেমন যেনো অদ্ভূত লাগছিল ৷ যাই হোক, এতরাতে একটা থাকার জায়গা পেয়ে খুব ভালোও লাগছিলো ৷ অনেকটা রাস্তা হেটে খুব ক্লান্ত লাগছিলো তাই শুয়ে পড়লাম ৷ কিছুক্ষন পর হঠাৎ কেমন যেন পঁচা গন্ধ নাকে আসছিল ৷ গন্ধটা আস্তে আস্তে বেড়ে যাচ্ছিলো ৷ এমন পঁচা গন্ধে দুজনেরই ঘুম ভেঙে গেলো ৷ তাকিয়ে ঐ মহিলাটি আমাদের ঘরে ভেতরে দাড়িয়ে আছে ৷ আর পঁচা গন্ধটা পুরো ঘরটা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ৷ আমরা জিজ্ঞেস করলাম:
--আপনি এখানে দাড়িয়ে আছেন কেনো আর এই পঁচা গন্ধ কোথা থেকে আসতেছে ৷"
.
.
তারপর যা দেখলাম তার জন্য আমরা মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না ৷ মহিলাটি তার ঘোমটা সরিয়ে ফেললো ৷ কি ভয়ংকর চেহারা আর শরীর থেকে মাংসগুলি ক্ষয়ে পড়ছিলো ৷ বুঝতে বাকি রইলো না পঁচা গন্ধটা এনার শরীর থেকেই বের়োচ্ছে ৷ ভয়ে আমি রানাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করছিলাম ৷ আর আর আস্তে আস্তে পঁচা শরীরটা আমাদের দিকে এগিয়ে আসছিলো ৷ একসময় মহিলাটি তার দুই হাত দিয়ে আমাদের দুজনের গলা টিপে ধরে মুখ দিয়ে ভয়ংকর গর্জন করতে লাগলো ৷ আর বলতে লাগল,
--অনেকদিন ধরে আমি ক্ষুধার্ত ৷ আজ তোদের খেয়ে আমার খিদের জ্বালা মিটাবো ৷
.
.
আমরা প্রানপনে চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম গলা থেকে হাত সরানোর কিন্তু কিছুতেই রাক্ষুসীটার সাথে পেরে উঠতে পারছিলাম না ৷ এক সময় আমরা হাল ছেড়ে দিলাম ৷ ভাবলাম আর হয়তো এখান থেকে বেঁচে ফিরতে পারবনা ৷ ঠিক তখনই দূর থেকে আজানের ধ্বনি শুনতে পেলাম ৷ আর আজানের শব্দে রাক্ষুসীটা নিজে থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে কোথায় যেনো উধাও হয়ে গেলো সাথে বাড়িটাও ৷ আজানের পর চারদিকে আস্তে আস্তে দিনের আলো ফুটে উঠলো ৷ তখন দেখলাম আমরা শশ্মান ঘাটের কিছুটা দূরে একটা ফাকা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি ৷
(সমাপ্ত),,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now