বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিশির পুতুল

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X ______________________________ ছোট থেকেই নিশি তার বাবার অনেক প্রিয় ছিল । বাবার সাথে পারলে সারাদিন কাটিয়ে দেয় । বাবাকে মেয়েরা ভালবাসে কিন্তু এত বেশি হয়তো কেউ না । কেনই বা বাসবে মা হারা নিশি । নিশি কে সামলানোর জন্য তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে অবশ্য কিন্তু দুধের স্বাদ কি আর ঘোলে মেটানো যায় । তা যা হোক নিশি দুই জন প্রিয় এক বাবা তার পর তার পুতুল টা । আর পুতুলটা দেখতে অনেক সুন্দর । যখন তাকে বাসায় কিনে নিয়ে আসা হয় তখন এত সুন্দর ছিল না । নিশি নিজেই ওকে এত সুন্দর বানিয়েছে । সে নিজে তার সাজে জিনিস গুলো দিয়ে তাকে সাজিয়েছে । দেখলে মনে হয় যেন এই বুঝি কথা বলে উঠবে । তার এই দুই প্রিয়জন কে নিয়েই সকল আনন্দ উৎসব , ভালোবাসা মান , অভিমান । কিন্তু সে রাতে তার এক জন প্রিয়জন তাকে ছেড়ে চলে যায় । তার বাবা । সেদিন পুরোদিনটাই ছিল বৃষ্টি বিঘ্নিত । তবুও নিশির বাবাকে অফিস যেতে হবে । তিনি অনেক বড় মাপের ব্যাবসায়ি । দেশের বড় বড় কোম্পানির মধ্যে তার কোম্পানিও অন্যতম । তাই তাকে তো যেতেই হবে । কোনো কিছুর পরোয়া না করে বেরিয়ে পরে । নিশি তাকে অনেক বলে , যে বাবা যেও না । আজ তুমি আমার সাথেই থাকো । কিন্তু তবুও চলে যায় । সারাটা দিনই বৃষ্টি হয় , আর সারা রাতও । তিনি ঘরে ফেরে না । ফিরবেনই বা কিভাবে । নিশি অপেক্ষা করতে করতে তার প্রিন্সেস কে নিয়ে ঘুমিয়ে পরে । প্রিন্সেস আসলে তার পুতুলের নাম । আর ওদিকে ঘটে যাচ্ছে অন্য ঘটনা , নিশির বাবা :- আমাকে যেতে হবে । সেক্রেটারি :- স্যার এতো রাতে এই বৃষ্টিতে কোথায় যাবেন । - বাসায় যাব , বুঝতে পারছো না । - তবে ,,,, - তবে , কিন্তু কিছুই না । আমাকে যেতেই হবে । আমার মেয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে । বেরিয়ে পরেন তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে । গাড়ি চালাচ্ছিল তার ড্রাইভার । পেছনের ছিটে তিনি । কখন যে ঘুমিয়ে পরেছেন !! গাড়ি হঠাৎ করেই থেমে গেলো ! - কি হলো ? - কি জানি । কিছু বুঝতে পারছি না ! -মানে টা কি । - স্যার সামনে দেখেন । সামনে একটা কালো রঙ এর গাড়ি রাস্তা আটকে দাড়িয়ে । আর গাড়ির দরজার সামনে কিছু লোক দ্বারিয়ে তার গাড়ির দিকেই দেখছে । তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তার দিকে আসতে থাকে । এসে তাকে তার গাড়ি থেকে টেনে বাইবেরিয়ে আনে । আর ড্রাইভার কে বলে । লোক- এই ড্রাইভার তোমার কাজ হয়ে গেছে । এখন তুমি যেতে পার । ড্রাইভার গাড়ি রেখেই চলে যায় । এর অবশ্য যথেষ্ট কারন আছে । কোনো কথা নেই । হাতের লাঠিটা দিয়ে পিঠের ওপর । না রড । আরো একটা , আরো একটা । এভাবে চার পাঁচ জন । কিছু বলার সুযোগ দেয় না তাকে । শুধু মারতেই থাকে । তারপর একটা গুলি , দুইটা, তিনটা ......... তিনি পরে যায় । দেহে যত টুকু প্রান ছিল সেটুকু দিয়ে শুধু কাঁদে । আর ল্যাম্প পোস্টের আবছা আলোয় তিনি গাড়ির ভেতরে যা দেখে , সেটা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না । আর ভাবতে থাকে ,কেনো ? এরপর শুধু পরে থাকে তার নিথর দেহ । পর দিন বাড়িতে এতো মানুষ কেনো কিছুই বুঝে উঠতে পারে না নিশি । সবে মাত্র ঘুম থেকে উঠেছে । হাটতে হাটতে বাইরে বেরিয়ে আসে । আরে বাসায় পুলিশ ! কিন্তু কেন ? আর এতো ভির কেনো । এর কোনো উত্তর খুজে পায় না । ঐ সাদা কাপড়ে সুয়ে থাকা লোকটা কে ? সেটাও সে বুঝতে পারে না । ককেউ একজন তাকে বলল এটা তোমার বাবা । কিন্তু বাবা ওখানে সুয়ে কেন ? বাবার কাছে যেতে চায় কিন্তু কেউ যেতে দিল না । সে বলল বাবার কি হয়েছে । কেউ একজন বলল তোমার বাবা মরে গেছে । মৃত্যু কি নিশি বোঝে না । আবার কেউ তাকে বলল তোমার বাবা চলে যাচ্ছে । কোথায় , কবে আসবে? কেউ জানে না !! ওর বাবা যে মারা গেছে মরে যাওয়ে সে বুঝে না । তবুও কাঁদছে । অনেক জোরে জোরে কাঁদছে । কারন তিনি নাকি চলে যাচ্ছেন । -কোথায় ? কেউ জানে না । - কবে আসবেন ? কেউ জানে না । কেউ বলছে না তাকে । তাই সে কাঁদছে । কাঁদতে কাঁদতে চোখ লাল হয়ে গেছে । এরপর , এরপর তার বাবাকে নিয়ে যাওয়া হয় । কবর দিতে । এই কবর টা সে বোঝে । কারন তার মাও তো কবরে আছে । তার বাবা তাকে বলেছে , তোর মা এখন এখানে সুয়ে আছে , একে কবর বলে । তাহলে কি বাবা মায়ের কাছে যাচ্ছে ? কিন্তু বাবা তো বলেছে তোমার মা আর কোনো দিন আসবে না । তাহলে কি তার বাবাও আর কোনো দিন আসবে না ? সব কাজ শেষ হয়ে গেছে । আর ওদিকে ঘটছে অন্য ঘটনা । পুলিশ - অফিসের লোকজন - নিশির বাবার বন্ধু - । এদের নিয়ে । কারন এটা একটা খুনের ঘটনা । কিন্তু কারো ওপর পুলিশের সন্দেহ কাজ করছে না । কে করতে পারে এই খুন ? কোনো জবাব নেই । পরবর্তিতে , অনেক অনুসন্ধানের পর পুলিশ এই কেস বন্ধ করে দেয় । এটাকে ডাকাত দলের ঘটনা বলে চালিয়ে দেয় । আর ঐ ডাকাতদের খুজে পাওয়া যায় নি । কিন্তু এ খুন তো ডাকাতেরা করেনি !! তাহলে কি আসল অপরাধী ছাড় পেয়ে গেল ? সে কেস বন্ধ হতে হতে চার চারটে বছর কেঁটে যায় । সেই কেস এর কার্জক্রম শেষ হতে অনেক সময় অবশ্য লাগে । আর সেই কেস এর আসল অপরাধী কেও আর খুজে পাওয়া যায় না । পাবেই বা কিভাবে , সেই কেস এর কোনো সাক্ষ্য প্রমান পাওয়া যায় না , পাবেই বা কিভাবে কারন নিশির বাবার খুনের সাক্ষ্য প্রমান তো তিনি নিজেই । তাই পুলিশ মহাশয় নানা অজুহাত দেখিয়ে কেস টাই বন্ধ করে দেয় । আর এর মাঝে কেটে যাওয়া বছর গুলোর মধ্যে নিশি অনেক বড় হয় ক্লাস সিক্স এর ছাত্রি তখন নিশি । আর এতো দিন সে বিদেশেই বড় হতে থাকে , বাবা মারা যাওয়ার কিছু দিন পর তার সৎ মা বিয়ে করে ফেলে । তাই বলতে গেলে দেশে সৎ ছাড়া আপন কেউ নেই , কাকুর সঙ্গে কানাডায় থাকতে শুরু করে । সে আর তার ঐ প্রিন্সেস মানে ঐ পুতুল টা । এভাবেই দেখতে দেখতে আরো আটটে বছর চলে যায় , দ্বাদশ শ্রেনি শেষ করে ইউনিভার্সেটিতে আরো দুটি বছর । এরপর হঠাৎ কি যে হলো , তার কি যে মনে হলো সে দেশে ফির বে । দেশে ফেরার কারন সে তার চাচাকে কিছু বলে না । কিন্তু কেন !! যা হোক যেই কথা সেই কাজ । সে আবার দেশে ফিরে আসে । তার সাথে থাকে তার ঐ প্রিয় পুতুল । সব সময়ই তার সাথে থাকে , পুতুল টা । পুতুলটাকে সে অনেক ভালোবাসে । নিজের থেকেও বেশি । দেশে ফিরল সে , ফিরে প্রথমে যে কাজ করল তা অবশ্য অনেকটা অভাবনিয় । সে প্রথমেই তার বাবার কবর জিয়ারত করতে যায় । অভাবনিয় কারন , এতো বছর পর তার মনে আছে তার বাবার কথা ! সেখানে গিয়ে নিশি তার বাবাকে যা যা বলে , তা হলো , "বাবা তুমি হয়তো ভালো নেই , আমি জানি । আর এর কারনটাও আমি জানি । তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি বাবা । তুমি ভালোনেই কারন তুমি তোমার যোগ্য বিচার পাও নি । তোমার খুনের বিচার , আর তার থেকেও বড় তোমার মেয়ের থেকে তোমাকে আলাদা করার বিচার । তুমি জানো যে তারা কারা । আর আমিও জানি বাবা । তুমি কোনো চিন্তা করো না । তোমার খুনের বদলা আমি নেবো ।" পুতুল টা তখনও তার সঙ্গে ছিল । আর পুতুল টা কথা বলে উঠল :- ধন্যবাদ মা । আমি জানতাম তুই পারবি । শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছিলাম ,,,, পুতুল !! একটা পুতুল কিভাবে কথা বলতে পারে । কিন্তু পুতুল টা ঠিকই কথা বলে উঠল । তাহলে কি নিশি এজন্যই দেশে ফিরে এসেছে তার বাবার খুনের বদলা নেবে বলে । হ্যা ঠিক তাই সে তার বাবার খুনের বদলা নেবে বলেই আবার দেশে ফিরে এসেছে । বাবাকে যে সে খুবই ভালো বাসে । পরদিন সকাল । একটা বৃষ্টি বিঘ্নিত দিন । নিশি জানালার কাচের সামনে দাড়িয়ে হাসছে । সে হাসছে কেন? কারন এমনই এক বৃষ্টির দিনে সে তার বাবা কে শেষ বার দেখে । আজও সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে সারা দিন বৃষ্টি হলো সারা রাতেও বৃষ্টি । পরদিন সকালে খবর মিলে যে ****রোড এর সামনে কে যেন **** কোম্পানির ড্রাইভারকে মেরে রেখেছে । এই সেই ড্রাইভার যে তখন কার সময়ে নিশির বাবার ড্রাইভার ছিল । মনেই হচ্ছে যে খুন টা আসলে নিশি করেছে , তবে ঐ ড্রাইভারের কি দোষ ? দোষ আছে , ঐ ড্রাইভারই তাদের কথায় নিশির বাবাকে ঐ একই জায়গায় এনেছিল । এভাবেই বদলা নেওয়া শুরু হয় সে একে একে তার বাবার সেক্রেটারি , ড্রাইভার । এবং ঐ গুন্ডা গুলো যারা নিজের হাতে তার বাবাকে মারে রড দিয়ে । কিন্তু আসল অপরাধী তখনও বে লাগাম ঘুরছিল । যে নিজ হাতে গুলি করে এক , দুই , তিন , টা । যে জানালার কাচের আড়ালে ছিল । গাড়ির কাচের জানালার আড়ালে । তার পর শুরু হয় তাকে মারার প্রস্তুতি । আচ্ছা এতো সব খুন কি নিশি একা করছিল ? না , তার সাথে ছিল তার ঐ পুতুল টা । আর আসলে এই খুন গুলো ও করছিলই না । কেউ ওকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছিল । ওর বাবা ! সর্বশেষ খুন করার পালা । খুন টাও হলো শুধু জানার বিষয় , কে ছিল সেই খুনি যাকে খুন করল নিশি । জানা যাবে পরদিন সকালে । পরদিন সকালে যখন পুলিশ আসল তখন জানা গেল । জানা গেল যে দুই টা লাশ সেখানে । একটা ঐ খুনির যাকে পরিচয় দিতে হলে বলতে হবে সৎ মায়ের স্বামি তার সৎ বাবা । আরেকটু ভাল ভাবে পরিচয় দিতে হলে বলতে হবে তার বাবার ব্যাবসায়ি বন্ধু । সেই সেদিন রাতে খুন করে নিশির বাবাকে । নিশির বাবার কোম্পানির অর্ধেক মালিক ছিলেন তিনি । তাই নিশির বাবাকে খুন করে তার বউ কেই বিয়ে করে পুরো মালিক হওয়ার স্বপ্ন গঢড়ে ছিলেন সফলও হয়েছিলেন বটে । আর তার এই স্বপ্ন আজ ঘুচে গেল । সেখানে আরো একটা লাশ ছিল তার মায়ের সৎ মায়ের । নিশির বদলা পূর্ণ হলো । "বাবা আমি তোমার খুনের বদলা নিতে পেরেছি বাবা । এখন তোমার আর কোনো কষ্ট নেই বাবা , এখন তোমার আর কোনো কষ্ট নেই ।" -"না রে মা তোকে যে আর কখনো দেখতে পারব না এটাই আমার সবচেয়ে বড় কষ্ট । তবে আজ আমার বদলা পূরণ হলো । যারা আমাকে তোর কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল তাদের তুই যোগ্য শাস্তি দিতে পেরেছিস ।" পুতুলের কথা বলা বন্ধ হলো অর্থাত তার বাবা চলে গেল । এরপর , নিশি ঐ পুতুলটাকে জড়িয়ে সারা রাত কাঁদল । কাঁদতে কাঁদতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছে বলতেই পারে । পরদিন এক নতুন সকালের শুরু হয় । সকালের জানালার গ্লাস ভেদ করে ঘরে আসায় তার ঘুম ভেঙ্গে যায় । সে পুতুল টা হাতে নিয়ে দাড়ায় । আর ধীরে ধীরে জানালার কাছে এসে দাড়ায় । আর হাত দিয়ে জানালাটা স্পর্শ করে । নিশির গল্প এখানেই শেষ , এরপর সে আবার বিদেশে গিয়ে পড়াশুনো শুরু করে দেয় । আর পুরোনো স্মৃতি গুলো ভুলে গিয় , নতুন করে জীবন শুরু করে । নিশি পুলিশি ঝামেলায় পড়ে নি । বরং পুলিশ নিজেরাই এই ধারনা করছিল যে , খুনির পরবর্তী খুন বোধয় নিশি হবে । কারন একে একে তার পরিবারের সকলেই মরে গেল ! ___________________________ নিশির পুতুল । (সমাপ্ত)||


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now