বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মনের সুখে গান গেয়ে হাটছিলাম একা একা। হঠাৎ একটা পিচ্ছির কণ্ঠে থমকে দাঁড়ালাম:
--এই দাঁড়া...."
পেছনে ঘুরে দেখলাম একটা পিচ্ছি ভূত কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পেছনে একটা লেজ নাচনাচি করতেছে তার। আমি ভাবলাম এই পিচ্ছিটাকে এক হাতে তুলে ছুড়ে মারলে অনেক দূরে গিয়ে পড়বে।
পিচ্ছি ভূতটা আমার সামনে এসে দাঁড়াল, গর্জন করে বলল: আজ তোকে আমার হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবেনা।"
তার কথা শুনে হাসব নাকি কাঁদব বুঝতে পারলামনা। বললাম: ঐ পিচ্ছি, তোকে একটা লাথি দিলে কোথায় গিয়ে পড়বি, একবারও ভেবেছিস?"
পিচ্ছি ভূতটা "হা হা হা" করে উঠল। যেন আমার কথা শুনে খুব মজা পেয়েছে সে। তারপর সে একটা ভয়ংকর রূপ ধারণ করল। তা দেখেই আমার দেহ থেকে প্রাণটা বেরিয়ে দৌড় দিতে চাইল। নিজেকে সামলিয়ে বললাম: ঐ জানিস, ভূতের রাজা আমার শ্বশুর, তিনি জানতে পারলে তোকে শেষ করে ফেলবে।"
পিচ্ছি ভূতটা হা হা হা করে উঠল আবার। বলল: ঐ তুই জানিস, আমি ভূতের রাজার ছেলে।"
অবাক হয়ে ভাবলাম আমার শ্বশুর এত ছোট ছেলে একটা কবে পয়দা করল?" পিচ্ছি ভূতকে জিজ্ঞেস করলাম: তুই আমার শ্বশুরের কোন কালের সন্তান?"
সে জবাব দিল: কেন? তুই জানিসনা, তুই যে একটা ডিম ভেঙেছিলি, ঐ ডিমের ভেতর আমি ছিলাম। তুই আমাকে জন্মাতে দিসনি। মেরে ফেলেছিস আমাকে। আজ তোকেও মেরে ফেলব।" বলে সে ভয়ংকর ভাবে এগিয়ে এল আমার দিকে। মুখটা তার অনেক বড় হয়ে গেল হঠাৎ। একটু পর আমাকে গিলে খাবে সে। প্রচন্ড জোরে একটা চিৎকার দিয়ে উঠলাম আমি। সাথে সাথে ঘুম ভেঙে গেল আমার। যাক বাবা, বাচা গেল! এটা আসলে স্বপ্ন ছিল। ঘুমাতে গেলেই পিচ্ছি ভূতগুলো আমাকে কেবল জালায়। ওদের জালায় দেখছি ঘুমানো দায়।
আমার চিৎকার শুনে আমার বউ দৌড়ে এল। আমাকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করল: কি হল গো?"
বললাম: একটা ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেছি।"
আমার কথা শুনে বউ হেসে উঠল। আমার খুব রাগ হল। বললাম: আমার ভয় দেখে তুমি হাসছ? আর একটু হলে আমার জান বেরিয়ে যেত।
--দুঃখিত সোনা। এখন থেকে আমি তোমার বুকে থাকব আর ভয় পাবেনা।" বলেই সে আমাকে বিছানায় শুয়ে দিল, আর সে আমার বুকে শুইল।
একটু পর "দুলাভাই, কি হয়েছে? কি হয়েছে?" বলে দৌড়ে ভেতরে ঢুকল শাঁকচুন্নি।
তাকে দেখে আমার বউ এর রাগ উঠে গেল। একটা ধমক দিয়ে বলল: কিছু হয়নি, যা এখান থেকে।"
--কিন্তু, দুলাভাই চিৎকার করে উঠল যে?"
--বললাম তো কিছু হয়নি, তুই যাবি?" ভূত্নীর রাগ বেড়ে গেল। শাঁকচুন্নি চলে যাবার পর দরজা আটকিয়ে দিল সে। তারপর আমার পাশে বসে রাগটা আমার উপর ঝাড়ল। বলল: তুমিই তাকে প্রশ্রয় দিয়েছ, কিছু হলেই "দুলাভাই" বলে দৌড়ে আসে। কেন? তার দুলাভাই এর কি বউ নাই?"
বুঝলাম আমার বউ এর রাগ অনেক বেড়ে গেছে। তার রাগ কীভাবে দূর করতে হয়, তা আমার জানা আছে। বললাম: রাগলে আমার বউটাকে এত্ত সুন্দর লাগে, ইচ্ছে হয় কামড় দিয়ে খেয়ে ফেলি।"
আমার প্রশংসা শুনে বউ এর গর্জন থেমে গেল। মুখটা কালো হয়ে উঠল তার। বুঝলাম লজ্জা একটু বেশি পেয়েছে। নরম কণ্ঠে বলল সে: যাহ দুষ্ট, তুমি জাননা কারো সামনে তার প্রশংসা করতে নেই।" কথাটি বলে আমার বুকে মুখ লুকাল সে। তারপর বলল: আমাকে খেয়ে ফেললে সুন্দরী বউ পাবে কোথায়?"
বললাম: আরে এত্ত মিষ্টি একটা বউকে কি খাওয়া যায়? তাকে আদর করা যায়, ভালোবাসা যায়।" আমার পাম্পগুলো শুনে বউ এর বুকটা গর্বে ফুলে উঠল। লজ্জায় মুখটা বের করতে পারছেনা আমার বুক থেকে। আমি তাকে টেনে তুললাম। চোখ বন্ধ করে ফেলল সে। ইচ্ছে হল তখন তার লম্বা নাকটা কেটে ফেলি। এই শালির কারণে এতদিন ধরে এখানে আটকে আছি আমি।
বউ ধীরে ধীরে চোখ খুলে বলল: কাল আমার সুন্দরী প্রতিযোগীতা। এখন ঘুমাতে হবে। সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে। এসো তোমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাই।"
বললাম: না, এখন আমার ঘুম আসবেনা। মাত্র তো ঘুম ভাঙল। তুমি ঘুমাও।"
একটু পর বউ ঘুমিয়ে পড়ল।
আমি ঘর থেকে বের হলাম। সাথে সাথে কে যেন আমাকে টেনে একদিকে নিয়ে গেল। দেখলাম শাঁকচুন্নি।
--শাঁকচুন্নি তুমি??" অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
শাঁকচুন্নি বলল: দুলাভাই, আজ সারারাত আপনার সাথে প্রেম করব।
--কি বলছ এসব? তোমার আপু জানতে পারলে শেষ করে ফেলবে।
--আপু জানবেনা, আমি আপনাকে নিয়ে অনেকদূরে চলে যাব।"
ভাবলাম এই সুযোগ, এখান থেকে যাওয়ার। বললাম: শালি, চল আমরা পালিয়ে পৃথিবীতে চলে যায়।"
শালি একটু ভেবে বলল: ঠিক আছে, তবে আজ না।
--ঠিক, আছে।"
--এই কয়েকদিন পর তো আমরা আপন হব। আমি আজ থেকে তোমাকে তুমি করে বলব। আর আপু সামনে না থাকলে নাম ধরে ডাকব।"
--ঠিক আছে।" মনে মনে বললাম, আগে এখান থেকে যেতে পারি কিনা দেখি।"
শালি বলল: শুনেছি তোমাদের জগতে কিছু সিনেমা হয় , সেখানে নায়ক নায়িকার প্রেম হলে গান গাই, চলনা আমরাও নেচে নেচে গান গাই।"
মনে মনে অনেক্ষণ হাসলাম। শালি বলে কি। একটা খানদানি ছেলে হয়ে ভূতের মেয়ের সাথে নাচব? গান গাইব? বললাম: শালি, আমি গানও পারিনা, নাচতেও জানিনা।
--এই তুমি আমাকে শালি ডাকবেনা, এখন তো আপু নাই, তুমি আমাকে "জান" বলে ডাকবা।"
ভূতের মেয়ের শখ দেখে আমার মনের ভেতর হাসিটা বেড়ে গেল। মুখে বললাম: পৃথিবীতে যাওয়ার পর তোমার সব আশা পূরণ করব।"
--ঠিক আছে।"
একটু পর কে যেন ঘর থেকে বের হল। আমি আর শাঁকচুন্নি লুকিয়ে পড়লাম। দেখলাম আমার ল্যাংটা শ্বশুর বের হয়ছে। কিন্তু এখন তিনি কোথায় যাচ্ছেন?
শালিকে বললাম: শালি, তুমি ভেতরে যাও, আমি দেখছি ব্যাপারটা।"
শাঁকচুন্নি ভেতরে চলে গেল। আমি শ্বশুরের পিছু পিছু যেতে লাগলাম। শ্বশুর একটা বাড়ির কাছে গিয়ে নিচু কণ্ঠে ডাক দিল: পিশাচী...
সাথে সাথে একটা ভূতের মেয়ে দরজা খুলে বের হল। এর নাম মনে হয় পিশাচী। সে আমার শ্বশুরকে জড়িয়ে ধরে বলল: ওগো তুমি আসতে এত দেরি করলে কেন?"
শ্বশুর বলল: সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর তোমার সাথে প্রেম করতে ছুটে আসলাম।"
আড়াল থেকে সব দেখতে লাগলাম আমি। শালার শ্বশুর, বুড়ো হয়েছিস তুই, এখনও প্রেম করার সাধ মেটেনি? দাঁড়া, দেখাচ্ছি মজা।
আমার শ্বশুর পিশাচীকে ধরে তার ঠোটে কিস করতে গেল। পিশাচী লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল। আমি তখন একটা ঢিল ছুড়ে মারলাম ওদের দিকে। ঢিলটা গিয়ে পড়ল আমার শ্বশুরের খানদানি মানচিত্রে। সাথে সাথে চিৎকার করে উঠল আমার শ্বশুর। পিশাচী ভয় পেয়ে দৌড় দিল ভেতরে। আমার শ্বশুর মানচিত্রটা চেপে ধরে জোরে কাঁদতে কাঁদতে বাসার দিকে হাটতে লাগল। আমিও মনের সুখে হাটতে লাগলাম পিছু পিছু। মনে হল আজ একটা খুব ভালো কাজ করেছি।
শ্বশুর মশায় তার রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। আমি জানালার ফুটো দিয়ে দেখলাম, শ্বশুর মানচিত্রটা চেপে ধরে চেপে চেপে কান্না করতেছে। মনে মনে বললাম, খুব জব্দ করেছি শালার শ্বশুরকে। তারপর বউ এর পাশে এসে শুয়ে পড়লাম।
(চলবে..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now