বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
????
সকালে ঘুম ভেঙেছে অনেক্ষণ হয়েছে আমার। তবুও ঘুমের ভান করে থাকলাম। কারণ আজ শাঁকচুন্নির সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। আমার কোন ইচ্ছে নেই ওর সাথে ঘুরতে যাওয়ার। একটু পর শাঁকচুন্নি এল। আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলল: দুলাভাই উঠেন।"
আমি ভাবলাম, এই সুযোগ একটা থাপ্পড় মারার। ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলাম শাঁকচুন্নির গালে। সে "দুলাভাই" বলে চিৎকার করে উঠল। আমি তাড়াহুড়া করে উঠে বসলাম। বললাম: কি? কি? হয়েছে?
--আমাকে থাপ্পড় মারলেন কেন?
--হয়তো ঘুমের ঘোরে মশা মারতে গিয়ে তোমাকে মেরেছি, কিছু মনে করোনা, লক্ষী শালী আমার।" ওর গাল দুইটা টেনে দিলাম। লজ্জা পেয়ে সে বলল: যাহ দুলাভাই আমি কিছু মনে করিনি, আমি তো চড়টা ভালোবাসা হিসেবে গ্রহণ করেছি।"
আমি বললাম: ও তাই? তাহলে ওরকম করে আরেকটা চড় দিই?
--দিবেন?" বলার সময় শালির গলা কেঁপে উঠল।
--হ্যা, দেব....
--দেন তাহলে...." চোখ বন্ধ করল সে। আমি আরো জোরে একটা থাপ্পড় মেরে জিজ্ঞেস করলাম: শালি, ভালোবাসা টা কেমন?"
শালি চোখে পানি নিয়ে বলল: হ্যা দুলাভাই অনেক ভালো। চলেন এবার বের হব।
--হুমমম, চল.....
ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে বের হলাম শালির সাথে। শালিকে বললাম: শালি, আমার হাতটা ধর, আমি চোখ বন্ধ করে হাটব।
--কেন দুলাভাই?" জিজ্ঞেস করল সে।
বললাম: যাবার সময় ল্যাংটা কেউ চোখে পড়লে যাত্রা অশুভ হয়।"
আমার শ্বশুর তখন পাশে একটা চেয়ারে বসে পায়ের উপর পা তুলে দিয়ে তার খানদানি দায়িত্ব পালন করতেছে চোখে বাইনোকুলার লাগিয়ে। প্রতিদিন ভূতের মেয়েদের বগিটিজিং করা , তার একটা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে কিনা। আমার কথাটি শুনে শ্বশুর ক্ষেপে উঠল। বাইনোকুলারটা চোখ থেকে নামিয়ে বলল: ঐ রানাইয়া, এদিকে আয়।"
আমি চোখ বন্ধ অবস্থায় শ্বশুরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। শ্বশুর গর্জন করে বলল: ঐ চোখ খোল ....."
বললাম: শ্বশুর মশায়, আপনি আপনার মানচিত্রে হাত দেন। তাহলে আমি চক্ষুদ্বয় খুলিতে পারি।"
--ঐ চোখ খুলতে বলছি।" শ্বশুরের গলার আওয়াজ আরো বেড়ে গেল।
আমি ভয়ে ভয়ে চোখ খুললাম। দেখলাম শ্বশুর একটা চেয়ারে দাঁড়িয়ে আছে, আর তার মানচিত্রটা আমার চোখ থেকে মাত্র পাঁচ ইঞ্চি দূরে। ইচ্ছে হয়েছিল, একটা কামড় দিয়ে বেটার টায়ার পাম্পচার করে দিই। শ্বশুর চেয়ার থেকে নেমে বলল: খুব কাছ থেকে আমার সৌন্দর্য দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছ তুমি। এবার যাও, যাত্রা তোমার শুভ।"
মনে মনে অনেক গালি দিলাম শালার শ্বশুরকে। তারপর বেরিয়ে পড়লাম। যেতে যেতে শালিকে বললাম: শালি, তোমার আপু বাড়ি ফেরার আগেই কিন্তু আমাদের ফিরতে হবে, নইলে বুঝতেই তো পারছ, তোমার একদিন কি আমার দশ থেকে বার দিন করে ছাড়বে।"
--ঠিক আছে দুলাভাই।"
ঘুরতে ঘুরতে আমরা অনেকদূরে চলে এলাম। হঠাৎ চোখে পড়ল কিছু অন্যরকমের ভূত। তাদের পেছনে গরুর মতো একটা করে লেজ আছে। একটা ভূতের মেয়েকে দেখলাম একটা গর্তে অদ্ভুতভাবে বসে আছে লেজটা উপরে তুলে। এ কি কান্ড! এ মেয়েটা দেখছি পরিবেশ দূষণ করতেছে। শালিকে জিজ্ঞেস করলাম : শালি এরা কি গর্তে টয়লেট করে?"
শালি হেসে বলল: আরে দুলাভাই না, এরা গর্তে ডিম পাড়ে। এরা অন্যজাতের ভূত। এদেরকে বলে ডিম্বাভূত।"
শালির কথা শুনে আমার টাসকি খাওয়ার মতো অবস্থা। মাথা ঘুরে পড়ে যেতে চাইলাম, ভাগ্যিস শালি আমাকে ধরে ফেলল।
একটু পর লেজ নামিয়ে ঐ ভূতের মেয়েটা উঠে এল গর্ত থেকে। আমাদের সামনে এসে বলল: আরে শাঁকচুন্নি, তুমি হঠাৎ এখানে?
শাঁকচুন্নি বলল: পেচী, এটা আমার দুলাভাই। তুমি তো জান আমার আপু মানুষ বিয়ে করেছে।"
পেচী বলল: ও দুলাভাই! হাউ সুইট। "
আমি বললাম: ও শালি, তুমি দেখছি ইংরেজি জান?
--ঐ আর কি, তোমাদের জগতে গিয়ে দু একটা ইংরেজি শিখেছি।
--বাহ! বাহ! চমৎকার! তো শালি, ডিম তো পেড়েছ, ডিমটা একটু দেখি।"
পেচী আমাদেরকে গর্তের কাছে নিয়ে গেল। দেখলাম আমাদের ফুটবলের চেয়েও বড় একটা ডিম। পেচীকে জিজ্ঞেস করলাম : শালি, এ ডিম থেকে বাচ্চা বের হবে কবে?
পেচী বলল: দশদিন লাগবে। আর আমরা প্রতিবছরে একটা করে ডিম পাড়ি।
আমি বললাম: বাহ! বাহ! তো শালি এবার একটা প্রশ্ন করি?
--জি করেন.....
--আচ্ছা বলতো, ডিম আগে নাকি আন্ডা আগে, থুক্কু,, ডিম আগে নাকি ভূত আগে?
প্রশ্ন শুনে পেচী চিন্তায় পড়ে গেল। একবার বলল ডিম আগে, আরেকবার বলল ভূত আগে। আমি বললাম: শালি তুমি ভাবতে থাক, আর আমি তোমার ডিমটা একটু হাতে নিয়ে দেখতে পারি?
পেচী তার ডিমটা তুলে নিয়ে আমার হাতে দিল। আমি একটু নড়াচড়া করে ইচ্ছে করে ডিমটা হাত থেকে ফেলে দিলাম। ঠাস করে একটা শব্দ হল। পেচী চিৎকার করে উঠল: হায়! হায়! দুলাভাই আপনি এটা কি করলেন?
বললাম: আসলে এতবড় ডিম কখনো হাতে নিইনি তো , তাই হাত ফসকে পড়ে গেল।
শাঁকচুন্নি বলল: পেচী কিছু মনে করোনা, দুলাভাইর ভুল হয়ে গেছে।
পেচী বলল: ঠিক আছে, কিছু মনে করলামনা।
আমি শাঁকচুন্নিকে বললাম: দেখছ, আমি বলেছিলামনা, বের হওয়ার সময় ল্যাংটা কেউ চোখের সামনে পড়লে যাত্রা অশুভ হয়?" মনে মনে বললাম: যাইহোক, ডিমটা ভেঙে একটা ভূতের বাচ্চা তো কমিয়ে দিলাম।"
পেচী জিজ্ঞেস করল: ল্যাংটা কে? আপনার শ্বশুর নাকি?
--হ্যা, পুরো ভূত রাজ্যে উনি ছাড়া আর কেউ ল্যাংটা আছে নাকি?"
পেচী আমাকে একপাশে টেনে নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল: দুলাভাই, ঐ ডিমের ভেতর কার বাচ্চা ছিল জানেন?"
আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম : কার?"
--আপনার শ্বশুরের।
--কি???" অবাক হওয়ার ভান করলাম। শ্বশুরের যা চরিত্র, তাতে এটা অস্বাভাবিক কিছু না।
পেচী বলল: হ্যা দুলাভাই, উনি গতবছর এখানে এসেছিলেন। আমার দিকে কুদৃষ্টি দিয়েছিল। আমাদের রাজা বলে কিছু বলতে পারিনি।"
যাইহোক, এখানে এসে একটা তথ্য পেলাম। শ্বশুরকে এবার নাচাতে পারব।
শাঁকচুন্নিকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম, দেখলাম এন্জেল ভূত্নী আমাদের আগেই ফিরেছে। আমাকে টেনে রুমের ভেতর নিয়ে গেল। দরজা আটকায় দিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। বউ গর্জন করে উঠল: ঐ তোর বউ আমি নাকি শাঁকচুন্নি?
বললাম:- ছি ছি, শাঁকচুন্নি আমার বউ হতে যাবে কেন??"
--তাহলে তুই সারাদিন ওর সাথে কি??
--তুমি তো থাকনা, তাই ওর সাথে একটু ঘুরি, এতে রেগে যাওয়ার কি আছে?
--ঠিক আছে, কাল থেকে আমি থাকব। তুমি আর শাঁকচুন্নির সাথে যাবেনা বল?
--ওকে, যাবনা..." বলে বউকে কাছে টেনে নিলাম। একটা কিস করতে চাইলাম মনের জোরে। বউ লজ্জা পেয়ে বলল: তুমি না দিন দিন খুব দুষ্ট হয়ে যাচ্ছ। সুন্দরী বউ পেয়েছ বলে কি যখন তখন এসব করতে হবে? আমার লজ্জা করে, তুমি জাননা?"
মনে মনে বললাম: ওরে, কেমন সুন্দরী বউরে আমার! ছাড়তে পারলেই বাঁচি। মুখে বললাম: হুমম, এত সুন্দরী বউ আমার, লোভ কি সামলানো যায় বল?" বলে আবারো কিস করতে গেলাম।
--যাহহ দুষ্ট..." বলে বউ আমাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিল। তারপর হাসতে হাসতে দৌড় দিল। বুঝলাম বউ আমার লজ্জা পেয়েছে। ও চলে যাওয়ার পর দরজা বন্ধ করে দিলাম। হঠাৎ শুনলাম "কুয়া কুয়া"। উফ!! এই পিচ্ছি আপদটা আর গেলনা। ওকে কিছু করতে গেলেও স্বপ্নে এসে ভয় দেখায়। মনে মনে ভূতের ২৮ গোষ্ঠীকে উদ্ধার করে কানে হাত চেপে ঘুমিয়ে পড়লাম।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now