বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভূতের রাজ্যে আসার পর দিন দিন যেন কুড়ে হয়ে যাচ্ছি। কোন কাজ করতে হয়না। তাই ভাবলাম শুধু শুধু বসে না থেকে একটা কাজ করলে কেমন হয়, আমার ল্যাংটা শ্বশুরের জন্য একটা প্যান্ট সেলাই করি। আসলে শ্বশুরকে ল্যাংটা দেখলে আমার কেমন জানি লাগে। পা দুইটাকে সামলাতে কষ্ট হয়। পা দুইটা শ্বশুরকে লাথি মারার জন্য হিশফিশ করে।
যেই ভাবা সেই কাজ , বাসায় যখন কেউ থাকতনা তখন ছেড়া কাপড় জোড়া লাগিয়ে একটা প্যান্ট বানাতাম। কয়েকদিন লাগল প্যান্টটা বানাতে। এখন এটা শ্বশুরকে পরাতে হবে। শত হলেও সে আমার শ্বশুর। একটা খানদানি ছেলের শ্বশুর ল্যাংটা থাকে,, ছি ছি! লজ্জায় মাথা কেটে যায়। আমি এখানকার সবকিছু আমার মোবাইলে ভিডিও করলেও শ্বশুরের কোন কার্যকলাপ ভিডিও করতামনা। যদি কখনো এখান থেকে ফিরে যায় বন্ধুরা এটা দেখে হাসাহাসি করে বলবে: কিরে তোর শ্বশুরের মানচিত্র দেখা যায় কেন?" বন্ধুদের এমন ঠাট্টায় তখন কোথায় যাবে আমার খানদানি মর্যাদা?
যাইহোক, প্যান্টটা তৈরি করে আমি শ্বশুরকে খুঁজতে লাগলাম। দেখলাম আমার শ্বশুর খানদানি স্টাইলে বসে কিছুটা দূরে তাকিয়ে আছে। আমিও শ্বশুরের দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকালাম, দেখলাম কয়েকটা সুন্দরী ভূতের মেয়ে (দেখলে বমি আসে) সেখানে বসে আছে। আর আমার শ্বশুর চোখে বাইনোকুলার লাগিয়ে তাদেরকে "বগিটিজিং" করতেছে। এই বাইনোকুলারটা কয়েকদিন আগে আমার শ্বশুর মানুষদের ভয় দেখিয়ে নিয়ে এসেছে ভূতের মেয়েদের ভালো করে দেখার জন্য। আমাদের জগতে হলে এতদিনে ইভটিজিং এর দায়ে এর হাড়গোড় আস্ত রাখতনা। শালার ভূতের রাজ্যে কোন আইনকানুন নেই। স্বয়ং ভূতের রাজা পর্যন্ত বগিটিজিং করতেছে।
শ্বশুরকে এমন মহান কাজে ব্যস্ত দেখে ভাবলাম, আহারে বেচারার বুঝি তার মৃত বউ এর কথা খুব মনে পড়তেছে। তাই এখন আরেকটা বিয়ে করে আরো ৬৮ টা ভূত উৎপাদন করার জল্পনাকল্পনা করতেছে।
আমি কাছে গিয়ে ডাকলাম: শ্বশুর মশায়...."
শ্বশুর তার কাজে এতটাই ব্যস্ত যে আমার কথা তার কানে গেলনা। আমি তখন ভাবলাম শ্বশুরকে একটা সারপ্রাইজ দিই। প্যান্টটা তাকে পরিয়ে চলে যায়, পরে যখন দেখবে তখন খুশি হয়ে আমাকে একটা ধন্যবাদ দিলেই হবে।
আমি প্যান্টটা শ্বশুরকে পরিয়ে ঘরে এসে শুইলাম। পাশে আমার বউ এর বাচ্চাটা কুয়া কুয়া করতেছে, আমি দু'হাত দিয়ে কান চেপে চোখ বুজলাম। একটু পর তন্দ্রা নেমে এল চোখে। ঘুমের ঘুরে স্বপ্ন দেখলাম, আমার বউ এর বাচ্চাটা আমাকে টানতে টানতে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে। একটা পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে আসল সে আমাকে। তারপর আমাকে বলল: ঐ তুই আমার বাপ বলে স্বীকার কর। নইলে তোরে এখান থেকে ফেলে মেরে ফেলব। আমি ভয়ে ভয়ে বললাম, আরে লক্ষী সোনা, আমি ছাড়া তোর কে বাপ আছে বল?"
--হুমমম, মনে থাকে যেন।" আমার বাচ্চাটা আমাকে ছেড়ে দিল। ধড়পড় করে আমি ঘুম থেকে উঠতে চাইলাম। কিন্তু দেখলাম, আমার শালি এন্জেল শাঁকচুন্নি শুয়ে আছে আমার বুকে। আমি একটু কড়া করে বললাম: তুমি আমার ইজ্জত খাবে নাকি?"
শাঁকচুন্নি কাঁচুমাচু করে বলল: বাবুকে কুয়া কুয়া করে কান্না করতে দেখে এখানে আসলাম। এসে দেখলাম তুমি ঘুমের ঘোরে কাঁপতেছ, তাই তোমার বুকে শুয়ে একটু উষ্ণ করে দিলাম।"
শালির কথা শেষ হতেই পাশ থেকে বাচ্চাটা কুয়া কুয়া করে উঠল। ইচ্ছে হল তাকে গলা টিপে মেরে ফেলি, আমাকে স্বপ্নে এসে ভয় দেখানোর মজা বুঝিয়ে দিই। পরে নিজেকে সামলালাম। এটা আমার ছোট পরিবার পরিকল্পনার প্রথম সদস্য। এর সিরিয়াল ধরেই বাকি ৩৪ টা আসবে। এটাকে মারলে আমার বউ আমার আস্ত রাখবেনা।
হঠাৎ বাইরে চেঁচামেচি শুনা গেল। আমার শ্রদ্ধেয় শ্বশুর চিল্লাচিল্লি করে ভূত রাজ্যটা মাথায় তুলে ফেলতেছে। বুঝতে পারলাম আসল ঘটনাটা কি। আমি ভয়ে বের হলামনা। কিন্তু শ্বশুর নিজেই এলেন আমার ঘরে। প্যান্টটা তার হাতে, আর তিনি ল্যাংটা। যে মানচিত্রটা না দেখার জন্য এতদিন কষ্ট করলাম, সেটা আবার দেখতে হল। মাথার উপর খানদানি রাগ উঠে গেল আমার। ইচ্ছে হল শ্বশুরের মানচিত্রের উপর ব্লেড দিয়ে কেটে আমাদের বাংলাদেশটা চিহ্নিত করি। আগেই বলেছি, এখানে আমি অসহায়।
শ্বশুর রেগেমেগে এল আমার কাছে, বলল: ঐ রানাইয়ার বাচ্চা রানা, তুই আমারে এটা কি পরালি?
আমি বললাম: আরে শ্বশুর মশায়, আপনাকে প্যান্টটাতে অনেক মানায়ছিল, তাই এটা পরালাম।"
কে শুনে কার কথা। আমার শ্বশুরের রাগ আরো বেড়ে গেল। ভাগ্যিস, এই মুহূর্তে আমার বউ এসে আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
শ্বশুর চলে যাবার পর বউ আমার বুকে মাথা রাখল। মুখটা তার কালো। বুঝলাম লজ্জা পেয়েছে। বউ বলল: ওগো শুননা, আমি সুন্দরী ভূত্নী প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়ার জন্য সব ব্যবস্থা করে এলাম।"
--ওহহ, তাই নাকি? লক্ষী বউ আমার, সোনা বউ আমার। (মনে মনে বললাম, রেহাই দে বউ আমার)
বউ বলল: যাহহ দুষ্ট, এভাবে বলোনা, আমার লজ্জা করেনা বুঝি?"
--ওরে আমার লজ্জাবতী বউরে, তুমি এখানে প্রতিযোগীতায় প্রথম হলে, আমি তোমাকে পৃথিবীতে নিয়ে যাব প্রতিযোগীতা করার জন্য।"
বউ হঠাৎ রেগে তেলেবেগুনে চ্যাৎ করে উঠল। বলল: কি বললা তুমি? আবার তুমি পৃথিবীতে যেতে চাও?"
বউকে এভাবে ফোস করে উঠতে দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। বললাম: না মানে, আমি যাবনা, তোমাকেই পাঠাব মানুষের সাথে প্রতিযোগীতা করার জন্য।
--ওহ তাই বল।" বউ আমার আবারও লজ্জা পেয়ে বলল: ওগো তুমি দেখ,আমি পৃথিবীতেও প্রথম হব। তুমি তো বলেছ আমি খুব সুন্দরী। ওগো তুমি নিশ্চয়ই খুব খুশি এমন সুন্দরী বউ পেয়ে?"
--হ্যা বউ আমি খুব খুশি।" জোর করে বললাম কথাটি। মনে মনে আমি কেঁদে ফেললাম। মনের চোখ দিয়ে অবিরাম জল ঝরতেছে আমার। বউ এর সামনে তো আর কান্না করা যাবেনা। তাই মনে মনে যত পারি কান্না করি।
--আমিও খুব খুশি। এত সুন্দর একটা স্বামী পেয়ে।" বউ বলল।
আমি বললাম: আমি কিন্তু আমার বউ এর মতো এতটা সুন্দর না। আমার বউ তো একটা পরী।" কথাগুলো বলার সময় মনে হচ্ছিল কেউ বুঝি আমার মুখে হাতুড়ি দিয়ে মারতেছে।
বউ আমার কথা শুনে মুখটা এত বেশি কালো করে ফেলল, বুঝলাম সে অনেক বেশি লজ্জা পেয়েছে।
--ওগো, তুমি না খুব দুষ্ট।" বউ বলল।
--কাছে আস, আরেকটু দুষ্টামি করি।" পাম্প দেয়ার জন্য বললাম।
--যাহহহ দুষ্ট ছেলে।" বউ আমার লজ্জা পেয়ে দৌড় দিল।
আমি দরজা বন্ধ করে হু হু করে কেঁদে ফেললাম। পাশ থেকে তখন আমার বউ এর বাচ্চাটা কুয়া কুয়া করে উঠল। যেন আমাকে ভেঙ্গাতে শুরু করেছে। ইচ্ছে হল তুলে একটা আছাড় মারি। হায়রে! যতদিন যাচ্ছে, আমার জগতে ফিরে যাওয়ার আশা ততই ম্লান হয়ে হচ্ছে। জগতে ফেরা বুঝি হবেনা আমার।
.
চলবে
.
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now